মূলধারার তাবলীগের পক্ষ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ।

Photo_1549587355778.png

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ টঙ্গী ময়দানে আসন্ন ইজতেমার বিষয় নিয়ে মিডিয়ার কাছে ১০ সিদ্ধান্ত বিষয়ক বক্তব্যের ৯ নম্বর সিদ্ধান্তটি “অপ্রাসঙ্গিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়। ইজতেমার সাথে যুক্ত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ১০ দফা যৌথ চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, মূলত টঙ্গী ময়দানে সুষ্ঠুভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। সেখানে “বিদেশি মেহমান কারা আসবেন বা আসবেন না”-তা ঐ বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল না। তাছাড়া ইজতেমায় মাওলানা সাদ সাহেবের না আাসার ব্যাপারে কোন মন্ত্রণালয়ের কোন সরকারি সিদ্ধান্ত হয় নাই, বরং তাবলীগের বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ সাহেবকে ইজতেমাতে আসার ব্যাপারে দাওয়াত প্রদান করা হলে তিনি জানান, “বাংলাদেশে আসার বিষয়ে কোন সম্মানজনক পরিবেশ তৈরী না হলে তিনি আসতে আগ্রহী নন।”

হেফাজত ইসলামকে খুশি করার জন্য এটি মন্ত্রীর নিজস্ব মতামত বলে মনে করা হয়।

“বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ” আসন্ন ইজতেমায় অংশ নিবে না মর্মে ইজতেমার সাথে যুক্ত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ১০ দফা যৌথ চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। যার ভিডিও সংযুক্তঃ

 

Advertisements

টঙ্গী ইজতেমা | এ যেন আর একটি রায়বেন্ড ইজতেমা | একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ | সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশে পাকপন্থি আলমী শুরার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ীঃ শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে। 

আসুন জেনে নিই গোড়ার কথা, কিভাবে শুরু হয়েছিল আলমী শুরার ফেতনার ইতিহাসঃ

যদিও “আলমী শুরার” প্রথম উৎপত্তি ২০১৫ সালে পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে। তথাপিও প্রথমদিকে পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশের কোথাও তাদের কোন সফলতা আসে নাই। সারা দুনিয়ায় কোথাও এখনও অবধি খোলামাঠে বড় পরিসরে একটিও বড় ইজতেমা করার ইতিহাস ফেতনাবাজ “আলমী শুরার” ইতিহাসে লেখা হয় নাই। এমনকি রায়বেন্ড মারকাজেও নেই। আর আলমী গুরু আহমদ লাট ও ইব্রাহিম দেওলার পূন্যভূমি খোদ ভারতের মাটিতেও তাদের কোন ঠাঁই নেই।

এমনকি তাদের কোন সুনির্দিষ্ট মারকাজও নেই। সম্প্রতি তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে মারকাজ নিয়ে টানাপোড়েন। ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশে তাদের “নেরুল মারকাজ” নাকি পাকিস্তানের “রায়বেন্ড মারকাজ” তাদের কেন্দ্রীয় মারকাজ হবে এনিয়ে শুরু হয়েছে “আলমী শুরার” ভারত ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের কোন্দল। যেকারনে গত বছরের শেষেরদিকে রায়বেন্ড মারকাজে ভাই আবদুল ওহাবের মৃত্যুর পরও জানাজায় অংশ নিতে যাননি আলমী শুরার প্রধান নেতা আহমদ লাট বা ইব্রাহিম দেওলার কেউই।

তাছাড়া সম্প্রতি পাকিস্তানে ভাই আবদুল ওহাবের মৃত্যুর পর কাজ্জাব ফাহিম ও মাওলানা তারিক জামিলের মধ্যে শুরু হয়েছে কোন্দল। কাজ্জাব ফাহিমের পছন্দ মতো আমীর নিযুক্ত করা হয়েছে রায়বেন্ড মারকাজে, যে আমীর কিনা কথিত শুরা সদস্যের অন্তভূক্ত নন। সারা পাকিস্তান জুড়ে ভেঙে গেছে “আলমী শুরার” অস্তিত্ব। হক আলেম সমাজ এগিয়ে এসেছে পুরাতন নিজামুদ্দিনের মেহনতকে আগের অবস্থানে নিতে।

অথচ ভিন্ন চিএ বাংলাদেশে। আসন্ন বাংলাদেশ ইজতেমাটি দিয়েই হয়তো বাংলাদেশ সরকার তাদের ইতিহাসে জায়গা করে দিচ্ছে। অথচ প্রতিদিন পৃথিবীর কোথাও থেমে নেই নিজামুদ্দিন অনুসারীদের ইজতেমা। দুনিয়া জোড়া হাজারো বড় বড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাধিক দেশে। সেই ১০০ বছরের পুরনো ধারায় নিজামুদ্দিনের তরতিবে ও নিজামুদ্দিন আলমী মারকাজের আমীরের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে বাধাহীন অতিক্রম করে চলছে এ বিশাল মেহনতটি। কোথাও কোন সরকারি হস্তক্ষেপের নজির নেই। এমনকি পাকিস্তানেও নেই। আর ভারত সরকারতো রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে “বুলন্দ শহর” ও “আওরঙ্গবাদ” এর মতো গ্রিনিচ বুকে নাম ওঠানোর মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমাবেশ নামক ইজতেমার নিরাপত্তা দিতে।

পৃথিবীতে ফেতনাবাজ ” আলমী শুরার” ছোট্ট পরিসরে আনুষ্ঠানিক ও প্রথম সফলতা আসে আমেরিকার নিউইয়র্ক থেকে।

আলমী শুরা, আলমী মারকাজ, আলমী ফিতনা, আলমী বিদ্রোহী ইত্যাদির ঠিকাদারি বাঙালী ড. আওয়ালকে গত আনুমানিক ৩ বছর আগে আমেরিকার নিউইয়র্কে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জন্য দেওয়া হয়েছিল। যখন থেকে আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়েছিল, তখন থেকে আমরা নিউইয়র্কবাসী দাওয়াতের সাথীরা একটি বিশেষ স্লোগান আলমী গুরু ড. আওয়ালের মুখে খুব বেশী শুনতে পেতাম, স্লোগানটি ছিল, “এ কাজ মিলেমিশে করতে হবে। আসুন আমরা মিলেমিশে দাওয়াতের কাজ করি।” যদিও এ স্লোগানটি ছিল ধোঁকা। যা সম্প্রতি গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের মুখে একাধিকবার শোনা যায়। অবশেষে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে যার সফলতা গড়ায় ফেতনাবাজ “আলমী শুরার” ঘরে।

এই ফেতনার মেহনত শুরুর পর দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে ভালবাসা, মহব্বত ও যোগাযোগ কমতে শুরু করেছে। মাসওয়ারার আগে ও পরে মাসওয়ারা না করার বিধান রসূল(সাঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত। যা দাওয়াতে তাবলীগে সব সময় চলে আসছে। এর ফলে দাওয়াতে তাবলীগে সামান্য ৩ দিন সময় দিয়ে এক নতুন সাথীর দিলও আল্লাহতালার রহমতে পরিবর্তন হয়, তার দিলে অচেনা আর এক সাথীর জন্য ভালবাসা, মহব্বত পয়দা হয়। অথচ যখন গত ৩ বছর আগে প্রথম নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড প্রথম আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়, তখন অবস্থা দেখা গেল আইয়ামে জাহেলিয়াত এর যুগ এসেছে। নিউইয়র্কে নিযামুদ্দিনের মারকাজ “মসজিদ আলফালাহ” রাতারাতি বনে গেল আলমী ফেৎনার প্রথম ওয়ার্ল্ড মারকাজ। মসজিদ আলফালায় তরতিবের বাইরে মাসওয়ারার আগে-পরে মাসওয়ারা। নিউইয়র্কের ব্রনক্স, ওজোনপার্ক, কুইন্স এলাকার সদ্য আলমী শুরা বনে যাওয়া দাওয়াতের সাথীগন নিযামুদ্দিনের অনুসারী বলে চলা সাথীদের সহিত এক মসজিদে একই কাতারে পাশাপাশি দাড়িয়ে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিল। ভালবাসার পরিবর্তে মুসলমানে, ভাইয়ে-ভাইয়ে ঘৃনা শুরু হলো। বক্তব্য- পাল্টা বক্তব্য, মারকাজ দখল তথা মসজিদ দখল, হিংসা, চোখরাঙানী, গীবত, মিথ্যাচার ইত্যাদি হয়ে উঠলো নিত্য দিনের আমল। মুখথুবড়ে পড়ল ১০০ বছরের মোবারক মেহনত। তরতিবের বাইরে আগাছার মতো আলমী শুরা ঘরনার নতুন মারকাজ হিসাবে খ্যাতি পেল ব্রনক্স সেন্ট পিটারসের “বাইতুল মামুর” মসজিদ, যেখানে আলফালাহর মতো অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হলো নিযামুদ্দিনের সাথীদের।

আমেরিকা প্রবাসী এই ড. আবদুল আওয়াল ই সারা দুনিয়াতে প্রথম ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক এর মারকাজ দখল করেন এবং ২০১৭ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় আলমী শুরার ছোট্ট পরিসরে প্রথম ঘরোয়া এস্তেমা করেন। যেখানে ভারতের ইব্রাহিম দেওলাকে আনা হয়।

২০১৬ এর সফলতার পর এই ড. আওয়াল ২০১৭ এর ওয়ার্ল্ড এস্তেমায় মাওঃ সাদ সাহেবের ঢাকায় আগমন ঠেকাতে এক মিশনে নামেন, যেটা বিফল হওয়ায় আবারও ২০১৮ তে হেফাজত, দাওয়াতুল হক ও খেলাফত মজলিশকে কাজে লাগিয়ে মাওঃ সাদ সাহেবকে ঢাকা ত্যাগে বাধ্য করেন। আমরিকা প্রবাসী এই ড. আওয়ালকে নিয়ে দাওয়াতে তাবলীগের মাঝে হাজারো রহস্য। নিউইয়র্ক এ দাওয়াতুল হকের মুফতি জামালুদ্দিন ও মুফতি রুহুল আমিনকে কাজে লগিয়ে ২০১৬ সাল থেকে নিউইয়র্ক সহ বাংলাদেশে এই মোবারক মেহনত ধবংসে তার ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাবলীগের মেহনতের বাইরের অনেক আলেমকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আলমী শুরার ব্যানারে এনে ওলামাদের দল ভারীতে কূটকৌশলের আশ্রয় নেন।

যেভাবে বাংলাদেশে এ মেহনত ধ্বংস শুরু হলোঃ

গত বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারি ২০১৮ থেকেই খোদ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তথা জনাব আসাদুজ্জামান খাঁন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্লপ্ত ভূমিকায় বাংলাদেশে মূলধারার তাবলীগ নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছে ৭১ সালের পরাজিত হানাদার দখলদারদের দোসর “হেফাজত ইসলাম” এর ভন্ড তেঁতুল হুজুর খ্যাত শফি, তার অনুসারী ওলামা-আস-সূ ফয়জুল্লাহ, খেলাফত মজলিশের ওলামা-আস-সূ মাহফুজুল হক, তার সহোদর বাংলার বিড়াল খ্যাত ওলামা-আস-সূ মামুনুল হক, ফতোয়াবাজ ওলামা-আস-সূ মুনসুরুল হক, আবদুল মালেক, চটি বাবা ওলামা-আস-সূ ওবায়েদুল্লাহ ফারুক, ওয়াজ মাহফিলের নামে লন্ডন -আমেরিকা চষে বেড়িয়ে নিজ পকেট ভারীতে পারদর্শী জর্দাপুরী খ্যাত ওলামা-আস-সূ ওলিপুরী গং। যারা স্ব-ঘোষিত পাকি আলমী শুরার বাংলার মীরজাফর হেভিওয়েট ওলামা-আস-সূ যোবায়ের গংদের শক্তিশালী করার এক মিশন নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছে। আর এদের সকলের পিছনে রয়েছে অদৃশ্য এক শক্তি। যে অদৃশ্য শক্তি পৃথিবী জুড়ে এই মোবারক মেহনত ধবংসের খেলায় মেতে উঠেছে।

যারই ধারাবাহিকতায় অদৃশ্য শক্তি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ এর বর্তমান প্রধানকে ব্যাবহার করে। ভারতের মোদী সরকারকে ঘনিষ্ট ওলামা-আস-সূ মুফতি খ্যাত কাজ্জাব “ওজাহাত কাসেমী” কে দিয়ে তাবলীগের বিশ্ব আমীর হযরত মাওলানা সাদ সাব দাঃবাঃ এর বিরুদ্ধে কাটপিস বয়ান দিয়ে ফতোয়া চেয়ে এই মোবারক মেহনতের ধবংসের সূচনা করে।

অদৃশ্য শক্তি পাকিস্তানের কতিপয় ওলামা-আস-সূ ও ভারতের গুজরাট এর জনাব আহমদ লাট কে তাদের আইডল হিসাবে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করলেও, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজ দখলে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন কৌশল খুঁজতে থাকে। এমনকি পাকিস্তানেও তারা সুবিধা করতে না পেরে, ভারত ও পাকিস্তানের পর তারা বাংলাদেশ কে বেছে নেয়।

বাংলাদেশ কে ব্যাবহারে অদৃশ্য শক্তি প্রথম খুঁজে পায় নিউইয়র্ক শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ডিজিটাল আাই,ডি প্রোজেক্টের উপদেষ্টা, পরীক্ষিত তাবলীগের সাথী, সাবেক আমেরিকার নাসার প্রকৌশলী, বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকদের একজন জনাব ড. আবদুল আওয়াল সাহেবকে।

নিউইয়র্ক শহরে তাবলীগের সাথীদের খুবই কাছের মানুষ ছিলেন এই ড. আওয়াল। একই সংগে দাওয়াতের কাজের সুবাদে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। তাছাড়া ড. আওয়াল Bangladesh Youth Environmental Initiative (BYEI) এর Advisory Board এর সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে রয়েছে সখ্যতা। এ সকল বিষয় বিবেচনায় অদৃশ্য শক্তি ড. আওয়ালের সহায়তায় প্রথম সফলতা পায়। শুরু হয় বিশ্ব ব্যাপী আলমী শুরার অফিসিয়াল সফলতা। পৃথিবীর মধ্যে প্রথম নিউইয়র্ক শহরের মারকাজ দখলের মধ্য দিয়ে ফেতনা বাজ আলমী শুরা তাদের কব্জায় নেয় নিজামুদ্দিনের মারকাজ মসজিদ ” আল-ফালাহ”। ২০১৭ সালে পৃথিবীর প্রথম আলমী শুরার সফল ইজতেমাও করেন এই ড. আওয়াল আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া, যেখানে মাওঃ ইবরাহীম দৌলা সাহেবকে ভারত থেকে আনা হয়। ২০১৭ সালে কানাডার অন্টারিও তে পাকিস্তানের মাওঃ তারিক জামিল সাহেবকে দিয়ে আলমী শুরার প্রথম সফল জোড় করান এই ড. আওয়াল। একের পর এক সফলতার পর ড. আওয়ালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গীর মাঠ দখল ও বিশ্ব ইজতেমায় আমীর মাওঃ সাদ সাহেবের বাংলাদেশ আগমন ঠেকানোর।

ড. আওয়াল আমেরিকার নিউজার্সির একজন সিনেটর এর চিঠি ব্যাবহার করে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমায় আমীর মাওঃ সাদ সাহেবের ভিসা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্ত ভিসা বন্ধ করতে না পারায় ড. আওয়াল ঐ বছরই হেফাজত আমীর শফি সাহেবের সাথে দেখা করেন। এবং তার নিজ ছেলের পক্ষের আত্মীয় খেলাফত মজলিশের মাহফুজুল হক ও মামুনুল হকদের সহ হেফাজত নেতাদের সাথে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা বন্ধ করার জন্য একাধিক কৌশল নেন। যেটা ২০১৭ বিশ্ব ইজতেমার পর আমেরিকা ফিরে মসজিদ আল-ফালাহ তে নিজ মুখে বয়ান করেন। এ কাজে নিউইয়র্ক শহরের দাওয়াতুল হকের মুফতি জনাব জামাল উদ্দিন তাকে সহায়তা করেন। আর একই সময়ে দাওয়াতুল হকের বাংলাদেশের আমীর মাহমুদুল হাসান সাহেবকেও ব্যাবহার করেন। জানা যায়, জনাব মাহমুদুল হাসান সাহেব ও নিউইয়র্ক এর মুফতি জামাল উদদীন পরস্পর আত্মীয়। আর অন্যদিকে খোদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পীর সাহেব হলেন জনাব মাহমুদুল হক সাহেব।

ইত্যাদি বিষয় কাজে লগিয়ে ২০১৭ সালের বিফলতা ২০১৮ সালের সফলতা বয়ে আনে। রাতারাতি হিরো বনে যান আলমী গুরু ড. আওয়াল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাজে লাগিয়ে ভারতে ফিরিয়ে দেন ওয়ার্ল্ড আমীর মাওঃ সাদ সাহেবকে।

দেওবন্দ এর মুফতী আবুল কাসেম বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেন যে, “আমরা মাওলানা সাদ সাহেবের রুজুর উপরে সন্তুষ্ট নই এবং তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে প্রান্ত সীমায় আছেন। তাই আপনাদের দায়িত্ব তাঁকে টঙ্গী ইজতেমায় বাধা দেয়া।” এর উপরে ভিত্তি করেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাওলানা সাদ সাহেবকে ফেরত পাঠানো হয়।

মাওলানা আরশাদ মাদানী সম্পূর্ণ ব্যাপারে মুফতী আবুল কাসেম সাহেবকে পূর্ণ সমর্থন দেন। তিনি ভারতেই অবস্থান করতে থাকেন, তবে তাঁর ভাই মাওলানা আসজাদ মাদানীকে বাংলাদেশে পাঠান। এবং বিভিন্ন মজমাতে হাজির হয়ে সাদ সাহেবের বিরোধীদের সহযোগিতার (মাওলানা সাদ সাহেবের আগমন বাধাগ্রস্থ করা) দায়িত্ব দেন।

এছাড়া বাংলাদেশের মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের রাস্তায় নামাতে তিনি তাঁর ভাইকে ব্যবহার করেন।

এই সকল ধারাবাহিকতায় আলমী শুরা “ওজাহাতি জোড়ের” নামে মাদ্রাসার ছাএদের দিয়ে একের পর এক মসজিদ, মারকাজ দখল শুরু করে। কাকরাইল মারকাজে মাওঃ যোবায়ের ও সৈয়দ ওসিফুল ইসলাম কে নিষিদ্ধ করলেও, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ পাহারায় মাওঃ যোবায়ের কে কাকরাইল মসজিদে আসা যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। একের পর এক বাধার মুখেও সরকারের উচ্চ মহল, তাবলীগের মূলধারার সাথীদের সহযোগিতা না করে, উৎসাহিত করতে থাকে হেফাজতের ছএছায়ায় থাকা আলমী শুরাদের।

এমতাবস্থায় ধর্ম মন্ত্রণালয় গত বছরে একটি সুন্দর পরিপএ জারী করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরদিন পরিপএটির অকাল মৃত্যু ঘটে। কাকরাইলে জ্যামার বসানো সহ মূলধারার শুরাদের মারপিটের বিষয়েও সরকারের নিরবতা জাতিকে ভাবিয়ে তোলে।

জেলায় জেলায় সফল ইজতেমা বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই পক্ষের সাথে বৈঠক করেন। বিশ্ব ইজতেমা সহ জেলা ইজতেমা, ওজাহাতি জোড়, ওয়াজ-মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তাবলীগের মূলধারার সাথীগন সব মেনে নিলেও, ওজাহাতি জোড় চলতেই থাকে।

টঙ্গীর ময়দানে মূলধারার তাবলীগ সাথীদের ৫ দিনের জোড় বন্ধ করার জন্য মাদরাসার ছাএদের দিয়ে ওলামা-আস-সূ গন ২ সপ্তাহ যাবত টঙ্গীর মাঠ গেট বন্ধ করে পুলিশী সহয়তায় দখলদার বাহিনীর মতো দখল করে থাকে অথচ নিরহ মূলধারার সাথীগন যখন গত ৩/৪ দিন আগে সরকারের সহায়তা চেয়ে ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করলেন, প্রধান মন্ত্রীর সরাসরি সহায়তা কামনা করলেন, যখন দেশী-বিদেশী পএিকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ পেল, তার পরও সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরব, কিন্তু কেন? কেন সরকার কোন ব্যাবস্থা নিলেন না বরং হেফাজত জংগীদের পুলিশ পাহারার ব্যাবস্থা করে দিলেন? মূলধারার সাথীগন যখম জোড়ের জন্য সমবেত হলো, পুলিশ পাহারায় হেফাজত গুন্ডারা ঝাপিয়ে পড়ল নিরীহ তাবলীগের অনুসারীদের উপর, ১লা ডিসেম্বরের ঐ নারকীয় হামলায় ২ জন নিরীহ তাবলীগের মূলধারার অনুসারীকে হত্যা করা হলো, জখম হলো অনুমান ২০০ এর অধিক।

এসবের মানে কি? সরকারের জংগী কানেকশন এই চরমপন্থী হেফাজত। তাদের দিয়েই সরকার আগামীতে দেশ শাসন করতে চায়।

কাজ্জাব কারী যোবায়েরঃ

মাওঃ জোবায়ের, সাবেক আহলে শুরা, কাকরাইল মারকাজ (নিজামুদ্দিন), বর্তমান ফেতনায়ে খবিশা পাকপন্থি “আলমী শুরা” এর বাংলাদেশী এজেন্ট।

গত জানুয়ারি ২০১৮ টংগি বিশ্ব ইজতেমায় তিনি নিজেই নিজের প্রকৃত পরিচয় দাওয়াতে তাবলীগের সাথীসহ সারা দুনিয়ার মুসলমানদের সামনে তুলে ধরেন। এর পরও আজ অবধি নিজেকে “আহলে শুরা” কাকরাইল পরিচয় দিয়ে আসছেন।

কে তাকে আহলে শুরার গৌরবান্বিত পরিচিত দিয়েছিলেন? কোন মেহনত তাকে এত উঁচুতে উঠিয়েছিল? মুন্তাখাব হাদীসের মতো দাওয়াতে তাবলীগের মহামূল্যবান বইটির বাংলা অনুবাদের এত বিরল সম্মান কে তাকে এনে দিয়েছিল?

আমাদের সকলেরই উওরসমূহ জানা আছে।

এত বড় প্রতারনা ও ধোঁকাবাজির পরও কি ভাবে এখনও তিনি সেই পুরানো পরিচয় দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরেন? একবারও কি তিনি তার বর্তমান পরিচয় কি তা নিয়ে ভাবেন না?

গত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তার স্বাক্ষরিত নিজেকে আহলে শুরা, কাকরাইল মারকাজ দাবীর বিষয়টা হাস্যকর। তিনি কাকরাইল মারকাজের কেউ নন। কাকরাইল মারকাজের জন্ম যেহেতু নিজামুদ্দিন থেকে, আর তার আহলে শুরার পদবিও নিজামুদ্দিন থেকে, সেহেতু পাকি আলমী শুরার এজেন্ট হিসাবে তার কোন চিঠির গুরুত্বও দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের কাছে নেই। তছাড়া তার মিথ্যাচার সরকারের মিথ্যাচারকেও ছাড়িয়ে গেছে। সরকার আসন্ন ফেতনার ইজতেমার তারিখ “আলমী শুরার” জন্য ফেব্রুয়ারি ১৫ ও ১৬ ঘোষনা করলেও, কারী যোবায়ের সেই তারিখ ১৪,১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করে চিঠি ইস্যু করেন।

টঙ্গী ইজতেমা ও রায়বেন্ড ইজতেমা, একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠঃ

যখন নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে জামাত রায়বেন্ড যায় তাঁদের অনেক রকম শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা হয়। এসব শর্ত গ্রহণ করার পরই কেবল তাঁরা সীমিত পরিসরে অংশ নিতে পারেন।

সারা দুনিয়া দেখেছে রায়বেন্ড ইজতেমার কোন অংশে নিজামুদ্দিনের কোন সাথীকে কোন বয়ান দেয়া হয় নি। সব আমল ফিৎনায়ে খবিসা আলমী শূরার প্রবক্তাগণই করেছেন। এবং সম্পূর্ণ নাটকের কুশীলব ছিলেন মৌলভী খুরশীদ, মৌলভী ফাহিম গং।

গত ২০১৮ টঙ্গী ইজতেমাতেও নিজামুদ্দিনের কেউ ছিলেন না। সব উমুর আলমী শূরার লোকেরাই চালিয়েছেন, যেমনঃ কারী যুবায়ের, মাওলানা ফারুক, মাওলানা রবিউল হক; যাদের সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন মুফতী নুমানী সাহেব, মাওলানা আরশাদ মাদনী এবং মাওলানা আসজাদ মাদানী।

২০১৯ এর আসন্ন ইজতেমা তারই ধারাবাহিকতা। তবে এবার “সরকারি কূটকৌশল” বাড়তি সুবিধা হিসাবে ফেতনাকারীদের ফেতনা বাড়াতে “আগুনে ঘি ঢালার” কাজ করবে।

সরকারের বৈরী আচরণের শিকার মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরাঃ

সরকারের চাপে জোর করে মিলেমিশে ইজতেমায় মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের প্রবলতর আপওির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত বদলালেও, সরকারের তরফ থেকে সকল প্রকার সুযোগ পেয়েছে ফেতনায়ে খবিসা পাকপন্থি “আলমী শুরা”। সরকারি ছুটির দিনে ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ও শনিবার তাদের ফিতনার ইজতেমার সুযোগ করে দেয় সরকার।

বিগত ২৪/১/২০১৯ তারিখ পুলিশ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কৌশলে ধরাশায়ী করেছেন মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের। যেখানে মূলধারার মুরব্বিদের কৌশলে পুলিশ মন্ত্রী “বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ” আসন্ন ইজতেমায় অংশ নিবে না মর্মে ইজতেমার সাথে যুক্ত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ১০ দফা যৌথ চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।

যৌথ ১০ দফার চুক্তিনামার ৩ নম্বর দফায় মাঠ সজ্জায় দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেতনাবাজ “আলমী শুরা” কে।

যৌথ ১০ দফার চুক্তিনামার ৮ নম্বর দফায় ফেতনাবাজ “আলমী শুরা” দের জন্য সুনির্দিষ্ট ভাবে “হাজী কাম্প” তাদের বিদেশি মেহমানদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারী বিদেশি মেহমানদের বিষয়ে কোন সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। যেটা সম্পুর্ন সরকারের বৈরী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

Photo_1549566069248.png

ইতিহাসের একালের চার মীরজাফরঃ

বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশ বিষয়ে বিশ্ব ইজতেমার জন্ম লগ্ন থেকেই আলমী মারকাজ নিজামুদ্দিন এর তরতীব অনুসরন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় কাজ্জাব মাওঃ যোবায়ের এর ভূমিকা এমনই যে, উনি নিজেকেই দাওয়াতে তাবলীগের বিশ্ব আমীর ভাবা শুরু করে দিয়েছেন। পৃথিবী জুড়ে “আলমী শুরার” কয়টি ইজতেমায় তিনি বয়ান করেছেন? উওর আসবে “জিরো”.. ০০০০! তারপরও তিনি “হিরো”…কে বানালো তাকে “হিরো”? এই সরকারের ছএছায়ায় কাজ্জাব যোবায়ের আজ হিরো। আলমী শুরার ইতিহাসে ড. আওয়াল আর তার নমটি উজ্জ্বল হয়ে লেখা থাকবে। যেমনটি বাংলার ইতিহাসে “মীরজাফর” এর নামটি লেখা হয়ে আছে। আর তার সংগে খলনায়কের সহযোগী হিসাবে ইতিহাসে লেখা থাকবে বাংলার পুলিশ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও রিলিজিয়াস মন্ত্রী আবদুল্লাহ এর নাম, যেমনটি লেখা আছে ঘসেটি বেগমের নাম। (১) ড. আওয়াল, (২) কারী যোবায়ের, (৩) পুলিশ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, (৪) রিলিজিয়াস মন্ত্রী আবদুল্লাহ গন ইতিহাসের এ কালের মীরজাফর হিসাবে দাওয়াতে তাবলীগের অনুসারীদের নিকট স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।