ঢাকা ইজতেমা ২০১৯ | মানবসভ্যতার এক ভয়ংকর কালো অধ্যায় | নিঃসন্দেহে আবু জেহেল দেখলে লজ্জিত ও শিহরিত হয়ে উঠতো |

তাবলীগ জামাতের কোন অনুসারী মতামতের জন্য দায়ী নহেন এবং অন লাইন পোর্টালটির সহিত তাবলীগের কোন সম্পর্ক নেই। মতামতের জন সম্পাদক দায়ীঃ

শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে।

প্রারম্ভিকাঃ প্রাসঙ্গিক কিছু কথা।

অত্যাচারী শাসকেরা ধরার বুকে অসাম্য ও অন্যায়ের দাবানলে দ্বগ্ধ করে “বণীআদম”কে পদপিষ্ট করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে চরম নিষ্ঠুরতম পথ বাছাই করে নেয়। ফেরাউন ছিলেন প্রাচীন দুনিয়ার নিষ্ঠুরতম স্বৈরশাসক। তিনি নিজেকে পুরো দুনিয়ার মালিক বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন-“আনা রাব্বুকুমুল আলা”। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে নমরুদ সহ অনেকে। ক্ষমতার উত্তাপ সবাই সহ্য করতে পারেনা। তাই ক্ষমতার উত্তাপে সবাইকে জ্বালিয়ে ছারখার করে ফেলতে চায়। তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে খুব কম মানুষ।

ঠিক তেমনিভাবে ৫৪ তম বিশ্ব ইজতেমার পরিবর্তে বাংলাদেশ ১ম জাতীয় ইজতেমা”র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের একচোখা নীতির ফলে তাবলীগের মূলধারার অনুসারীদেরকে সহ্য করতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। সরকারের অতি উৎসাহে পাকপন্থি “আলমী শুরা” ও তাদের দোসর হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, দাওয়াতুল হক, বেফাকদের সম্মিলিত বর্বরতা ও জঘন্যতা আইয়ামে জাহেলিয়াত এর বর্বরতা ও জঘন্যতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। যে কোন বিবেকবান মানুষ শুনলে বা দেখলে শিহরিত হয়ে উঠবে। এমনকি সেই জামানার আবু জেহেল, আবু লাহাব, উতবা গনও এই সকল ঘটনা দেখলে লজ্জিত ও শিহরিত হতে বাধ্য হতো।

যেমনটি “ঢাকা ইজতেমা ২০১৯” এর তারিখ নির্ধারণসহ সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম অসমতা ও একচোখা নীতির অনুসরণ সহ জোরপূর্বক নিরীহ তাবলীগের মূলধারার অনুসারীদের উপর “অসাম্য ও অন্যায়” সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের হোম ও রিলিজিয়াস মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। পুলিশ মিনিস্ট্রি ও রিলিজিয়াস মিনিস্ট্রির সিরিয়াস অ্যাকশানে পুরা দেশের মুসলিম উম্মাহ আজ স্পষ্টই বিভক্ত হয়েছে। হেফাজত ইসলামের “হেফাজতে” দেওয়া হয়েছে জাতীয় ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ। পুরো দেশের জনগণকে উপেক্ষা করে গুটিকয়েক মানুষের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান ও ধর্ম মন্ত্রী জনাব এডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ। আমাদের ঐতিহ্য “বিশ্ব ইজতেমা”র কবর রচনা করে এই বছর প্রথম বারের মতো “বিশ্ব ইজতেমা”র বদলে আয়োজন করা হলো “জাতীয় ইজতেমা”। হেফাজত নেতা মাওলানা শফি, তার অনুগত খেলাফত মজলিস নেতা মাহফুজুল হক, দাওয়াতুল হক নেতা মাওলানা মাহমুদুল হাসান, ও কতিপয় বেফাক নেতাদের পরামর্শে ধ্বংস করা হলো বিশ্বের ঐতিহ্যের “বিশ্ব ইজতেমা”। পাকপন্থি “আলমী শুরা” কে দেওয়া হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বব্যাপী “আলমী শুরার” আন্তর্জাতিক চক্রের ২০১৬ সালের টার্গেটের সফলতা এনে দিল বাংলাদেশ সরকার। ফেতনাবাজ খবিসা পাকপন্থি “আলমী শুরার” আন্তর্জাতিক চক্রের ২০১৬ সালের দায়িত্বপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের বহুল আলোচিত লোমহর্ষক ঘটনা “হলি আর্টিজান” মামলার দায় হইতে কৌশলে বেঁচে যাওয়া বিশ্বের নামকরা গোপন এজেন্সির হোতা, আমেরিকা প্রবাসী ড. আওয়াল ও বাংলাদেশী আলমী শুরার পাকিস্তানি এজেন্ট কারী যোবায়ের গংদের, হেফাজত ইসলাম ও তার উপরে বর্ণিত সহযোগী, দেওবন্দ ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় প্রথম আন্তর্জাতিক সফলতায় খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে আলমী শুরার ঘরনায়। এসকল ঘটনার কোনটিই হয়তো দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবগত নন।

 

দুনিয়ার ক্ষণকালের ক্ষমতা বা অক্ষমতা দিয়ে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করে কিছু মানুষকে মানবতার কল্যাণে বাছাই করতে চান। সে বাছাই পরীক্ষায় অনেকে অঙ্কুরে ঝরে যায়। ক্ষমতান্ধ হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে অবিবেচকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশ, জাতি ও সমাজের উপর নিজের নিষ্ঠুরতাকে চাপিয়ে দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। আর যারা অক্ষম তারা শাসকবর্গের আশ্রয়ে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হয়, তাদেরকেও আল্লাহ ক্ষমতা না দিয়ে তাদের মনের অবস্থা নিরীক্ষণ করতে চান। ঠিক তেমনিভাবে দাওয়াতে তাবলীগের মূলধারার নিরীহ অনুসারীদের মনের অবস্থা নিরীক্ষণ করতে চান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা। তাই এ সকল বিপদ মোকাবেলায় অসীম ধৈর্যের সাথে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অনুগ্রহ ও রহমত চেয়ে এস্তেমায়ীভাবে মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের “১ম বাংলাদেশ জাতীয় ইজতেমা (১৭,১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)” শত বাধা ও বিপত্তির মধ্যে দিয়ে অদ্য শেষ হতে চলেছে। কিছু সময়ের মধ্যে আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া একদিকে ত্রিপক্ষীয় নজিরবিহীন ষড়যন্ত্রের ও অন্যদিকে বেদনা বহুল ত্যাগের এই ইজতেমার।

 

২০১৯ জাতীয় ইজতেমা হাইলাইটসঃ

(১) নিজামুদ্দীন মার্কাজ এ যাবত কালের সকল বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করে আসছে। সেই ঘোষণা অনুসারে ২০১৯ সালের জন্য ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাসে এই প্রথম কোন রাজনৈতিক সরকারের হস্তক্ষেপে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অজুহাত তুলে, ইজতেমার তারিখ পরিবর্তন হয়। যদিও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জানুয়ারী মাসে হয়েছিল এবং একই মাসে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন হয়েছিল।

(২) ইজতেমা নিয়ন্ত্রণে সরকারের স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহিত ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরার গোপন আঁতাত। দেওবন্দ এর পরামর্শের অজুহাত তুলে “দেওবন্দ সফরের” নাটক রচনা।

(৩) ওয়াজাহাতি জোড় ও দেওবন্দ নাটকের পান্ডুলিপির রুপকার এবং সরকারের রাজনৈতিক দোসর হেফাজতে ইসলাম ও তাদের সহযোগীদের ইজতেমা নিয়ে নীল নকসা প্রনয়ণ। ত্রিপক্ষীয় কুটকৌশলে ধরাশায়ী মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরা।

(৪) ইজতেমা নিয়ে ত্রিপক্ষীয় জোটের গোপন মিশন শুরু। প্রথম প্রতিপক্ষ ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরা। ২য় প্রতিপক্ষ হেফাজত ইসলাম ও তাদের সহযোগী দল। তৃতীয় প্রতিপক্ষ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রী। যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত নহেন।

(৫) ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা নিয়ে দফায় দফায় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংগে মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের ও ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরার অনুসারীদের বৈঠক।

(৬) মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে জোরপূর্বক একসাথে মিলেমিশে ইজতেমা করার বিষয়ে সরকারের চাপ প্রয়োগ।

(৭) মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নিজামুদ্দিন মারকাজের বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ সাহেবের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার জন্য সরকারের কূটকৌশল অবলম্বন করা।

(৮) হেফাজতে ইসলাম, তাদের সহযোগী ও মাদরাসার ছাএদের ইজতেমা ময়দানে অংশগ্রহণ এবং সরকারী কোন বৈঠকে যোগদানে বিরত রাখা হবে এমন মিথ্যা সরকারি প্রতিশ্রুতি প্রদান।

(৯) বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ সাহেব ইজতেমায় না এলে, প্রতিপক্ষ আহমদ লাট বা ইব্রাহিম দেওলা ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবেনা বলে সরকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রদান।

(১০) জোরপূর্বক মিলেমিশে ইজতেমায় ব্যর্থ হয়ে পৃথক ভাবে কোন বিরতি ছাড়া ইজতেমার তারিখ ঘোষণা।

(১১) সরকারী ছুটির দিনে এবং প্রথম দুই দিন ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরাকে ইজতেমার অনুমতি প্রদান। সেই মোতাবেক ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ও শনিবার তারিখ ঘোষণার পরও ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকাল থেকে “আলমী শুরা” কে ময়দানে প্রবেশের অনুমতি প্রদান।

(১২) সরকার কতৃক প্রতিশ্রুতি প্রদানের পর প্রতিশ্রুতি ভংগ। ইজতেমার ময়দানের প্রস্তুতি সহ, ময়দানের ৮০ শতাংশ মজমা ভরাট করা হয় হেফাজত ইসলাম ও তাদের সহযোগী এবং মাদরাসা পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বিপুল পরিমান ছাএদের দিয়ে।

(১৩) সরকার কতৃক প্রতিশ্রুতি প্রদানের পর প্রতিশ্রুতি ভংগ। ইজতেমার জন্য আহমদ লাট, ইব্রাহিম দেওলার ভিসা প্রদান।

(১৪) বিরতিহীন ইজতেমার ফলে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের চরম অসমতা ও প্রতিকূল মুহূর্তে ময়দানে প্রবেশ করানো এবং পুরা একদিন ময়দান প্রস্তুতিতে লাগিয়ে রাখা।

(১৫) ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেতনাবাজ আলমী শুরারা ময়দান ত্যাগের পূর্বে ৪ দিনের গচ্ছিত নোংরা আবর্জনা সারা ময়দানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে।

(১৬) বিদেশি মেহমানদের বাথরুমের পানির সংযোগ নষ্ট ও কমোডের ভেতর মাটি দিয়ে ভরাট করে বাথরুম ব্যাবহারের অনুপযোগী করা।

(১৭) বিদেশি মেহমানদের জন্য রুটি তৈরির চুলা সমূহ সম্পূর্ণ রুপে ভেংগে ফেলানো।

(১৮) অজু করার জায়গার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিভিন্ন মটর অকেজো করা।

(১৯) বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

(২০) টয়লেটের জন্য বরাদ্দকৃত ৩১ টি মটর অকেজো করা।

নব্য আবু জেহেলদের এ সকল সম্মিলিত বর্বরতা ও জঘন্যতা আইয়ামে জাহেলিয়াত এর বর্বরতা ও জঘন্যতাকে হার মানিয়েছে। আবু জেহেলরা কাবা শরীফের পবিত্রতা ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিল, তাদের বর্বরতা জঘন্যতম হলেও কাবা শরিফের বিষয়ে তাদের ভীতি ছিল, তারা কাবা শরিফের পবিত্রতা নষ্ট করেছে বলে ইতিহাসে পাওয়া যায় নাই।

অথচ হেদায়েতের পূণ্য ভূমি “টংগির ময়দান” কে গত ১লা ডিসেম্বর ২০১৮ তে রক্তে রঞ্জিত করেই তারা ক্ষান্ত হয় নাই। টংগির ময়দান নিয়ে রাজনীতির পাশাপাশি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেতনার ইজতেমা শেষে সেখানে লণ্ডভণ্ড করে রেখেছে। ময়দানের সবখানেই তাদের বর্বরতা ও হিংসার ছোবল রেখে গেছে। যা দেখলে আসল আবু জেহেলও লজ্জায় শিহরিত হয়ে উঠতো।

Advertisements