মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের উপর হেফাজতের উপর্যুপরি তান্ডবের ফলে, আসন্ন ইজতেমা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যে সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগের এক আদেশ জারী।

Photo_1549900323612.png

আসন্ন ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইজতেমা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যে দিয়ে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজনৈতিক অধিশাখা-৬, অদ্য এক বিশেষ আদেশ জারী করে।

গত ১ বছর যাবত জঙ্গি গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের উপর্যুপরি সন্ত্রাসী হামলায় দেশে দাওয়াতে তাবলীগের নিরীহ অনুসারীগন, তাদের মসজিদ আবাদী মেহনতে দারুণ ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের মোড়কে পাকপন্থি “আলমী শুরারা” একের পর এক মসজিদ ও মারকাজ দখল, দেশী-বিদেশী জামাতকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া, ওজাহাতি জোড়ের নামে তাবলীগের জেলায় জেলায় ইজতেমাতে বাঁধা, খুন-জখম সহ নানা ভাবে হয়রানি করে চলেছে।

সরকারের স্বরাষ্ট্র ও রিলিজিয়াস মন্ত্রীর সরাসরি ইন্ধনেই এ সকল অন্যায় কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরা। অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরা সাংবাদিক সম্মেলনসহ নানাভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অবশেষে অদ্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগ এক অফিস আদেশ জারী করে। তাবলীগের দেশী-বিদেশী অনুসারীরা যেন সকল রকম “হেফাজতি” হয়রানি থেকে নিরাপদে ইজতেমায় শরিক হতে পারে, তার জন্য এমন আদেশ জারী হয়েছে।

Advertisements

নিজামুদ্দিনের আবিস্কার করা “ইজতেমা” শব্দটির ছিনতাই | অতঃপর যএতএ অপপ্রয়োগ | হেফাজতের মোড়কে ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরার পর এটির অপব্যবহারে মরিয়া “হেফাজতি” ও “কাদিয়ানী” সম্প্রদায় |

নিউইয়র্ক থেকে শেখ জামান।

ইজতেমার ঐতিহাসিক পটভূমিঃ

ইজতেমার ঐতিহ্যটি দাওয়াতে তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস আল-কান্দলভী (রহ.) তার দিল্লি, নিজামুদ্দিন মার্কাজের থেকে শুরু করেছিলেন। তাঁদের পরিবার আরবের ‘সিদ্দিক’ বংশধারার অন্তর্ভুক্ত।

মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদভি, মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) জীবনী লিখতে যেয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৩০-এর দশকে মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস আল-কান্দলভী (রহ.) মেওয়াতে প্রথম বার্ষিক ইজতেমা করেন এবং তাদের ইজতেমার জন্য এটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) নিয়মিত এই ইজতেমাগুলিতে অংশ নিতেন।

প্রথম বৃহত্তর ইজতেমা গৌরগান জেলার নূহে (অফিসিয়ালি মেওয়াত, হরিয়ানা রাজ্য) ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর ১৯৪১ (সূএঃ নদভি, ২০০৬: ১১৮) থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য প্রথম একটি ইজতেমা ছিল। নাদভির লেখা বই (২০০৬ সূএ) অনুসারে, ওই ইজতেমাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। এই ইজতেমা অনেক উপায়ে সফল হয়েছিল, বিশেষ করে এই ইজতেমা থেকেই প্রথম ভারতে একাধিক জামাত বের হবার ইতিহাস শুরু হয়েছিল। ঐ সময় ভারতের খোরজা, আলীগড়, আগ্রা, বুলন্দ শহর, মীরাথ, পানিপথ, সোনাইপথ ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় অনেক জামাত পাঠানো হয়েছিল। যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই ইজতেমা থেকে ভারতের বাইরে প্রথম তারা পাকিস্তানের করাচিতে একটি জামাত পাঠিয়েছিল।

এর পর ভারতের বাইরে, নিজামুদ্দিন মারকাজের পরামর্শে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশে) প্রথম ইজতেমা ঢাকায় ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একই বছর পরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার খুলনায় আরেকটি বিশাল ইজতেমা আয়োজন হয়েছিল। তখন থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) নিয়মিতভাবে প্রতি বছর ইজতেমা আয়োজন হয়ে আসছে। ঐ সময়ে, লালবাগ শাহী মসজিদ বাংলাদেশের তবলীগ জামায়াত কেন্দ্র ছিল। স্থান সীমাবদ্ধতার কারণে, লালবাগ শাহী মসজিদ থেকে কাকরাইলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বাংলাদেশে তাবলীগ জামায়াতের ১৯৫৪ সালের প্রথম ইজতেমাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। তবে, ১৯৬৫ সাল নাগাদ কাকরাইল মসজিদ ইজতেমার জন্য খুব ছোট হয়ে উঠেছিল। অতএব, তখন ইজতেমার জন্য একটি নতুন জায়গা সম্পর্কে চিন্তা করতে হয়েছিল। একই বছরে ঢাকার টঙ্গীতে ভেন্যু স্থানান্তর করতে হয়েছিল। তারপর থেকেই তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর নিজামুদ্দিনের পরামর্শে নিয়মিত টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন করে আসছে।

ফেতনাবাজ আলমী শুরা কতৃক ইজতেমা ছিনতাইঃ

২০১৫ সালে পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজে “আলমী শুরা” গঠনের পর, এর পরামর্শে নিজামুদ্দিন মারকাজ দখলে বিফল হয়ে “আলমী শুরা” পন্থীরা “ইজতেমা” দখলের নীলনকশা প্রনয়ণ করে। যারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বে সর্ব প্রথম নিউইয়র্কে নিজামুদ্দিনের মারকাজ ” মসজিদ আল-ফালাহ” দখল হয় ২০১৬ সালে। এবং তাদেরই প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে আমেরিকার “পেনসিলভানিয়া” তে ঘরোয়া পরিসরে বিশ্বে প্রথম ফেতনার হাইজ্যাক “ইজতেমা” অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলমী শুরার প্রথম সারির নেতা মাওলানা ইব্রাহিম দেওলাকে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। আলমী গুরু আমেরিকা প্রবাসী ড. আওয়ালের এই সফলতায়, পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজের পরামর্শে তাকে ২০১৭ সালে ঢাকার বিশ্ব ইজতেমা দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারই প্রচেষ্টায় এ বছর “হেফাজতের মোড়কে” সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বিশ্বে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজামুদ্দিনের “ইজতেমা” হাইজ্যাক হয়। সরকারী সহায়তায় যার সফল সমাপ্তি জন্য ফেব্রুয়ারির ১৫ ও ১৬ তারিখের অপেক্ষা করতে হবে। তারা নিজামুদ্দিন মানে না, অথচ নিজামুদ্দিনের ইজতেমা ছিনতাই করে কি প্রতিষ্ঠা করতে চায়? কি তাদের উদ্দেশ্য? তারা কি “ইজতেমার” অপপ্রয়োগ করছেন না? ছিনতাই করে অপরের ধনে সাময়িক ধনী হওয়া যায়। ময়ূরীর পেখম লাগিয়ে কাক কখনো ময়ূর হতে পারে না। আলমী শুরার বাংলার খলনায়কগন যতই “হেফাজতি মোড়কে” প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করেন না কেন, আল্লার রহমত হকের সাথেই ইনশাআল্লাহ।

“হেফাজতি” ও “কাদিয়ানী” ভাই ভাই। ছিনতাই করা ইজতেমার অপপ্রয়োগ বন্ধ চাই।

ইসলামের দুষমন পান্জাবের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মিথ্যা নবুয়তের দাবী করে খতমে নবুওয়তকে অস্বীকার করেছে। তার অনুসারীরা আহমদীয়া মুসলিম জামাত নাম দিয়ে কাদিয়ানী মতবাদ সৃষ্টি করে সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করছে। পাকিস্তানেই হলো কাদিয়ানীদের মূল আস্তানা। ওখান থেকে এ সম্প্রদায়ের বিশ্বব্যাপী আন্দোলন ও প্রতিপালনের কাজ পরিচালিত হয়।

ঠিক একই ভাবে “আলমী শুরার” উৎপত্তি পাকিস্তানে। তাদের কাজও মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়া। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “হেফাজতি” সম্প্রদায়ের আশ্রয়ে পাকপন্থি “আলমী শুরা”। হেফাজতি সম্প্রদায়ের মুসলমানদের ধারনা হেফাজত ছাড়া অন্য মতের মুসলমানরা মুসলমানই না। সম্প্রতি তাবলীগের মূলধারার অনুসারীদেরকে তারা অমুসলিম ও কাফের আখ্যা দিয়েই চুপ থাকেননি, রীতিমতো ধমীয় কাজে তাদের বাধা প্রদান, মসজিদে তালা, খুন-জখম সহ নৃশংসভাবে জুলুম করছে। তাদের চরিত্র, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের থেকেও জঘন্য। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতো আজ তাদেরও অমুসলিম ঘোষনা করা সময়ের দাবী।

ইসলাম বিশেষ কোনো জাতি বা জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর নাম নয়। কিন্তু আমরা দেখছি, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতো দেশে “হেফাজতি” সম্প্রদায়ের অশুভ উত্থান।

হেফাজতি মোড়কে “আলমী শুরার” ইজতেমার আদলে দেশে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আগামী ২২,২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি এ ইজতেমা করার ঘোষনা দিয়েছে।

পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের ইজতেমা বন্ধে সরকার যদি পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে সরকার কেন নিজ উদ্দেগ্যে পাকিস্তানী “আলমী শুরার” ইজতেমা বন্ধে ভয় পায়?

কিন্তু সরকার করছে উল্টো। দেশের নব্য জঙ্গি গোষ্ঠী “হেফাজতি” শক্তিকে সরকারও ভয় করে। যেটা জঙ্গি নেতা মামুনুল হকের কথায় ফুটে উঠেছে। তারপরও সরকারকে বলি, জঙ্গিদের এ সকল জঙ্গিবাদ বন্ধ না করলে একদিন এরা আপনারই অস্তিত্বই ধ্বংস করে দিবে। দেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের রক্ষা করা সরকারেরই দায়িত্ব।

ফিতনা ইজতেমা নিয়ে হেফাজতি গুরু “শফির” ম্যাসেজঃ

IMG-20190209-WA0032.jpg