নিজামুদ্দিনের আবিস্কার করা “ইজতেমা” শব্দটির ছিনতাই | অতঃপর যএতএ অপপ্রয়োগ | হেফাজতের মোড়কে ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরার পর এটির অপব্যবহারে মরিয়া “হেফাজতি” ও “কাদিয়ানী” সম্প্রদায় |

নিউইয়র্ক থেকে শেখ জামান।

ইজতেমার ঐতিহাসিক পটভূমিঃ

ইজতেমার ঐতিহ্যটি দাওয়াতে তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস আল-কান্দলভী (রহ.) তার দিল্লি, নিজামুদ্দিন মার্কাজের থেকে শুরু করেছিলেন। তাঁদের পরিবার আরবের ‘সিদ্দিক’ বংশধারার অন্তর্ভুক্ত।

মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদভি, মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) জীবনী লিখতে যেয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৩০-এর দশকে মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস আল-কান্দলভী (রহ.) মেওয়াতে প্রথম বার্ষিক ইজতেমা করেন এবং তাদের ইজতেমার জন্য এটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) নিয়মিত এই ইজতেমাগুলিতে অংশ নিতেন।

প্রথম বৃহত্তর ইজতেমা গৌরগান জেলার নূহে (অফিসিয়ালি মেওয়াত, হরিয়ানা রাজ্য) ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর ১৯৪১ (সূএঃ নদভি, ২০০৬: ১১৮) থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য প্রথম একটি ইজতেমা ছিল। নাদভির লেখা বই (২০০৬ সূএ) অনুসারে, ওই ইজতেমাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। এই ইজতেমা অনেক উপায়ে সফল হয়েছিল, বিশেষ করে এই ইজতেমা থেকেই প্রথম ভারতে একাধিক জামাত বের হবার ইতিহাস শুরু হয়েছিল। ঐ সময় ভারতের খোরজা, আলীগড়, আগ্রা, বুলন্দ শহর, মীরাথ, পানিপথ, সোনাইপথ ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় অনেক জামাত পাঠানো হয়েছিল। যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই ইজতেমা থেকে ভারতের বাইরে প্রথম তারা পাকিস্তানের করাচিতে একটি জামাত পাঠিয়েছিল।

এর পর ভারতের বাইরে, নিজামুদ্দিন মারকাজের পরামর্শে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশে) প্রথম ইজতেমা ঢাকায় ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একই বছর পরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার খুলনায় আরেকটি বিশাল ইজতেমা আয়োজন হয়েছিল। তখন থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) নিয়মিতভাবে প্রতি বছর ইজতেমা আয়োজন হয়ে আসছে। ঐ সময়ে, লালবাগ শাহী মসজিদ বাংলাদেশের তবলীগ জামায়াত কেন্দ্র ছিল। স্থান সীমাবদ্ধতার কারণে, লালবাগ শাহী মসজিদ থেকে কাকরাইলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বাংলাদেশে তাবলীগ জামায়াতের ১৯৫৪ সালের প্রথম ইজতেমাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। তবে, ১৯৬৫ সাল নাগাদ কাকরাইল মসজিদ ইজতেমার জন্য খুব ছোট হয়ে উঠেছিল। অতএব, তখন ইজতেমার জন্য একটি নতুন জায়গা সম্পর্কে চিন্তা করতে হয়েছিল। একই বছরে ঢাকার টঙ্গীতে ভেন্যু স্থানান্তর করতে হয়েছিল। তারপর থেকেই তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর নিজামুদ্দিনের পরামর্শে নিয়মিত টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন করে আসছে।

ফেতনাবাজ আলমী শুরা কতৃক ইজতেমা ছিনতাইঃ

২০১৫ সালে পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজে “আলমী শুরা” গঠনের পর, এর পরামর্শে নিজামুদ্দিন মারকাজ দখলে বিফল হয়ে “আলমী শুরা” পন্থীরা “ইজতেমা” দখলের নীলনকশা প্রনয়ণ করে। যারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বে সর্ব প্রথম নিউইয়র্কে নিজামুদ্দিনের মারকাজ ” মসজিদ আল-ফালাহ” দখল হয় ২০১৬ সালে। এবং তাদেরই প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে আমেরিকার “পেনসিলভানিয়া” তে ঘরোয়া পরিসরে বিশ্বে প্রথম ফেতনার হাইজ্যাক “ইজতেমা” অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলমী শুরার প্রথম সারির নেতা মাওলানা ইব্রাহিম দেওলাকে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। আলমী গুরু আমেরিকা প্রবাসী ড. আওয়ালের এই সফলতায়, পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজের পরামর্শে তাকে ২০১৭ সালে ঢাকার বিশ্ব ইজতেমা দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারই প্রচেষ্টায় এ বছর “হেফাজতের মোড়কে” সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বিশ্বে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজামুদ্দিনের “ইজতেমা” হাইজ্যাক হয়। সরকারী সহায়তায় যার সফল সমাপ্তি জন্য ফেব্রুয়ারির ১৫ ও ১৬ তারিখের অপেক্ষা করতে হবে। তারা নিজামুদ্দিন মানে না, অথচ নিজামুদ্দিনের ইজতেমা ছিনতাই করে কি প্রতিষ্ঠা করতে চায়? কি তাদের উদ্দেশ্য? তারা কি “ইজতেমার” অপপ্রয়োগ করছেন না? ছিনতাই করে অপরের ধনে সাময়িক ধনী হওয়া যায়। ময়ূরীর পেখম লাগিয়ে কাক কখনো ময়ূর হতে পারে না। আলমী শুরার বাংলার খলনায়কগন যতই “হেফাজতি মোড়কে” প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করেন না কেন, আল্লার রহমত হকের সাথেই ইনশাআল্লাহ।

“হেফাজতি” ও “কাদিয়ানী” ভাই ভাই। ছিনতাই করা ইজতেমার অপপ্রয়োগ বন্ধ চাই।

ইসলামের দুষমন পান্জাবের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মিথ্যা নবুয়তের দাবী করে খতমে নবুওয়তকে অস্বীকার করেছে। তার অনুসারীরা আহমদীয়া মুসলিম জামাত নাম দিয়ে কাদিয়ানী মতবাদ সৃষ্টি করে সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করছে। পাকিস্তানেই হলো কাদিয়ানীদের মূল আস্তানা। ওখান থেকে এ সম্প্রদায়ের বিশ্বব্যাপী আন্দোলন ও প্রতিপালনের কাজ পরিচালিত হয়।

ঠিক একই ভাবে “আলমী শুরার” উৎপত্তি পাকিস্তানে। তাদের কাজও মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়া। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “হেফাজতি” সম্প্রদায়ের আশ্রয়ে পাকপন্থি “আলমী শুরা”। হেফাজতি সম্প্রদায়ের মুসলমানদের ধারনা হেফাজত ছাড়া অন্য মতের মুসলমানরা মুসলমানই না। সম্প্রতি তাবলীগের মূলধারার অনুসারীদেরকে তারা অমুসলিম ও কাফের আখ্যা দিয়েই চুপ থাকেননি, রীতিমতো ধমীয় কাজে তাদের বাধা প্রদান, মসজিদে তালা, খুন-জখম সহ নৃশংসভাবে জুলুম করছে। তাদের চরিত্র, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের থেকেও জঘন্য। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতো আজ তাদেরও অমুসলিম ঘোষনা করা সময়ের দাবী।

ইসলাম বিশেষ কোনো জাতি বা জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর নাম নয়। কিন্তু আমরা দেখছি, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতো দেশে “হেফাজতি” সম্প্রদায়ের অশুভ উত্থান।

হেফাজতি মোড়কে “আলমী শুরার” ইজতেমার আদলে দেশে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আগামী ২২,২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি এ ইজতেমা করার ঘোষনা দিয়েছে।

পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের ইজতেমা বন্ধে সরকার যদি পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে সরকার কেন নিজ উদ্দেগ্যে পাকিস্তানী “আলমী শুরার” ইজতেমা বন্ধে ভয় পায়?

কিন্তু সরকার করছে উল্টো। দেশের নব্য জঙ্গি গোষ্ঠী “হেফাজতি” শক্তিকে সরকারও ভয় করে। যেটা জঙ্গি নেতা মামুনুল হকের কথায় ফুটে উঠেছে। তারপরও সরকারকে বলি, জঙ্গিদের এ সকল জঙ্গিবাদ বন্ধ না করলে একদিন এরা আপনারই অস্তিত্বই ধ্বংস করে দিবে। দেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের রক্ষা করা সরকারেরই দায়িত্ব।

ফিতনা ইজতেমা নিয়ে হেফাজতি গুরু “শফির” ম্যাসেজঃ

IMG-20190209-WA0032.jpg

Advertisements

আনসারের ব্যবচ্ছেদ, মদীনা থেকে মেওয়াত।

আনসারের ব্যবচ্ছেদ, মদীনা থেকে মেওয়াত।

লেখকঃ শামীম হামিদী।

আনসারদের নিয়তিই এমন। তাঁদের সঠিক মূল্যায়ন আল্লাহ এবং আম্বিয়াগণ ছাড়া কেউ করতে পারে না। আনসারগণ শুধু দিয়েই যান। এঁরা নিতে জানেন না। এঁদের কেউ মূল্যায়ন করে না। আনসাররা লাঞ্ছনা ছাড়া কিছু পায় না। যুগে যুগে এটাই দেখা গেছে।

Photo Editor-20180629_132254.jpg

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্য আনসারদের আগেই সতর্ক করে গিয়েছিলেন যে তোমাদের এই দুর্গতি হবে। তখন করণীয় জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা জবাব পেলেন, আমার সাথে পুনরায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত সবর কর।

Photo Editor-20180629_131501.jpg

মেওয়াতীদের অবস্থাও এরচেয়ে ব্যতিক্রম কিছু হয় নি। তাঁরা অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নুসরত করতে পারেন নি। কপাল খারাপ সেই যুগটাই তাঁরা পাননি। তবে সুযোগ পাওয়া মাত্র তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাজের নুসরত করেছিলেন। আর কপাল এই জন্যই পুড়েছে। তাঁদের কপালে অপবাদ ছাড়া কিছু জুটেনি। এখন অভিযোগ গুরুতর। এঁরা নাকি সন্ত্রাসী। মারকাজে বড় বড় আলেমদের উপরে হামলার অভিযোগ। তাঁদের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে আলেমগণ মারকাজ ছেড়ে ভেগেছেন।

তোরা হাল চাষ করে খেতিস তাই তো ভালো ছিলি। তোরা এই নবুয়তের কাজের নুসরাত করতে গেলি ক্যান! এবার ঠ্যালা সামলা!!

কাজ্জাবদের অভিযোগ বড় মারাত্মক। শুধু এ জামানাতেই নয়, মেওয়াতীরা নাকি সব জামানাতেই ফিৎনা করেছেন। এঁরা নাকি হজরতজী ইনআমুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহির জিম্মাদারী পাওয়ার সময়েও ফিৎনা করেছেন। এঁরাই নাকি মিছিল পোস্টারিং অবরোধ করে সাদ সাহেবকে কথিত ফয়সাল শূরায় ঢুকিয়েছেন। এখন অভিযোগ এঁরা মেরে কেটে কথিত আলমী শূরার বড় বড় হাস্তীদের নিজামুদ্দিন থেকে বের করে দিয়েছেন। এই অভিযোগ গুলো বাইরের কেউ নয়, এমন সাথীরাই করছে, যাদের একসময় মেওয়াতীরাও জান মাল দিয়ে নুসরত করেছেন। সাথে কিছু আওলাদে মুবাল্লিগ। আবার এমন লোকও আছে যাদের নামের সাথে ‘আলেম’ ট্যাগ আছে।

কত আশ্চর্য মিল! মদীনা এবং মেওয়াত। দুটোই বাংলা ‘ম’ এবং আরবী উর্দু ‘মীম’ দ্বারা শুরু। জাহেরের সাথে বাতেনী মিলও আছে। মদীনার আনসারদের সাথে খারাপ ব্যবহার যারা করেছে তারাও বাইরের কেউ নয় বরং আপন লোক, মুসলমানই ছিল। সাহাবাদের আওলাদগণের মধ্যে ছিল। তাঁদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করা হত। গালাগালিও করা হত। আবার ব্যঙ্গও করা হত যে, তোরা গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নালিশ করিস।

নবুয়তের এই মহান মেহনতের ধরণ সব যুগেই মোটামুটি একই রকম ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বড় বড় নেতাদের কাছে মেহনত করতেন, এই আশায় যে, এরা কবুল করে নিলে সাধারণ মানুষও সহজেই কবুল করবে। কিন্তু খুব অল্প মানুষই কবুল করেছিল। শেষ পর্যন্ত আনসারগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহায়তায় এগিয়ে আসল। তাঁরা খুব ধনী ছিলেন না। মাদীনার আবহাওয়া ছিল বেশ গরম। বসবাসের খুব উপযোগী ছিল না। তাঁদের নিজেদেরই থাকার ব্যবস্থা তেমন ভালো ছিল না। কিন্তু এরপরও তাঁরা জান প্রাণ উজাড় করে দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নুসরত করেছেন। যা ছিল তাই অর্ধেক অর্ধেক করে মুহাজির ভাইদের দিয়েছেন। অনাহারে, অর্ধাহারে থেকেছেন, শীতে কষ্ট করেছেন, বিভিন্ন যুদ্ধে বিপদে তাঁরাই সামনে থেকেছেন, ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের ঠাট্টা ব্যঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে নুসরত ত্যাগ করেন নি। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। সীরতের কিতাব থেকে দেখে নেয়া যেতে পারে।

কিন্তু এর বিপরীতে আনসারগণ কিছুই পাননি। খেলাফত কুরাইশদের হক। হুনাইনের যুদ্ধে গনিমতের মাল তাঁদের না দিয়ে মক্কা বিজয়ের পরে ইসলাম গ্রহণ করা নওমুসলিমদের দেয়া হয়েছে। তাঁরা শুধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়েই সন্তুষ্ট থেকেছেন।

ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহিও এই কাজের শুরুর দিকে বড় বড় আলেমদের কাছে যেতেন। এই কাজের নকশা বুঝাতেন। কেননা তিনি বিশ্বাস করতেন এই কাজের মূল জিম্মাদারী আলেমদেরই। তাঁরা এই জিম্মাদারী গ্রহণ করে নিলে খুব দ্রুত এই কাজ উম্মতের মধ্যে ছড়াবে। উম্মত খুব দ্রুত ফায়দা পাবে। কিন্তু দুঃখজনক যে, হাতে গোনা কয়েকজন বাদে তিনি তেমন সারা পান নি। ঠিক এ সময়ে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আনসার হিসাবে মেওয়াতীদের কবুল করলেন। এখানে আমার তুলনামূলক আলোচনা উদ্দেশ্য নয়। শুধু ধারাটা বুঝানোই উদ্দেশ্য।

মদীনার আনসারদের মতোই মেওয়াতীদেরও কিছুই ছিল না। বিশেষ করে ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি যা চাচ্ছিলেন, ইলম; মেওয়াতীরা ছিল একেবারেই গন্ডমূর্খ। গরীব এবং মদীনার আনসারদের মতোই কৃষিজীবী। মেওয়াত এলাকাও মদীনার মতোই বেশ গরম। মদীনার আনসারগণ যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়ে খুশি হয়ে গিয়েছিল, মেওয়াতীরাও তাই। দ্বীন ও দুনিয়া অত ভাল না বুঝলেও এক মাওলানা ইলিয়াসকে বুঝেছিল। রহিমাহুমুল্লাহ। সেই থেকেই মেওয়াতীরা এই কাজের সাথে ছায়ার মত লেগে আছে। মেওয়াতীদের ছাড়া এই কাজ সংজ্ঞায়িত করাই মুশকিল। হজরতজীর মালফুজাত এবং জীবনী যারা পড়েছেন তারা জানেন মেওয়াতীদের তিনি কত ভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এই মূর্খ মেওয়াতীরাই ছিল এই কাজের বুনিয়াদ। এঁদের জান মাল নিয়ে আল্লহর রাস্তা বের হওয়া দেখেই ক্বারী তৈয়্যব সাহেব রহিমাহুমুল্লাহ বলে ছিলেন, ইলিয়াস তুমি তো অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছ। এই মূর্খ মেওয়াতীদের দেখেই হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানুভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছিলেন, দলীলের দরকার নেই। আমি তো দেখতেই পাচ্ছি। মেওয়াতীদের মূর্খতাই কাজে লাগিয়েছে অনেক বড় বড় আলেমদের।

সর্বযুগেই এই কাজের আমীর থেকে শুরু করে সাধারণ সাথী, সবাইকে এরা প্রাণ উজাড় করে দিয়ে ভালোবেসেছে, নুসরত করেছে। আজও এই ধারা অব্যাহত আছে। কিছুদিন আগে আমাদের এক সাথী মেওয়াত সফর করে এসে বললেন, আমি যে আল্লাহর মেহমান এই উপলব্ধিটা এসেছে মেওয়াত সফরের পরে। শুধু আল্লাহর মেহমান, এতটুকু কথার উপরে মেওয়াতীরা যে নুসরত করলো, তাতে আমারও মনে হয়েছে আমি আল্লাহর মেহমান হয়েছি বলেই এমন সম্মান পেয়েছি। তিনি বলেন এর আগে আমি ভারতের অন্যান্য অঞ্চল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ বিশ্বের বহু দেশ সফর করেছি। এমন উপলব্ধি কখনো হয়নি।

আমি ২০০৩ সালে এক জামাতের সাথে চলছিলাম। ঐ জামাতের আমীর ছিলেন হাজী রুস্তম আলী। বাগেরহাট সদরেই বাসাবাটী এলাকায় তাঁর বাসা ছিল। বাগেরহাটের সাথীরা বলতে পারবেন তিনি এখনো হায়াতে আছেন কিনা। তিনি আমার তাবলীগের উস্তাদ। তিনি তাবলীগের বহু পুরাতন সাথী। অনেক গল্প শুনিয়েছিলেন পুরানো মুরুব্বীদের। এক মুজাকারায় তিনি আমাদের তাঁর মেওয়াত সফরের কারগুজারী শুনাচ্ছিলেন। কোন মহল্লাতে জামাত ঢুকলেই ছোট ছোট শিশুরা দৌঁড়ে আসে। জামাত যে ধরতে পারবে জামাত তার। তার পরিবার মেহমানদারী করবে। অনেক অভিভাবক নাকি নিজ পরিবারের হেরে যাওয়া শিশুদের বকাও দিতেন, আরেকটু জোরে দৌঁড়াতে পারলি না? অনেকদিন কোন জামাতের মেহমানদারী করতে পারি না।

আমীর সাহেবদের জামাত ঐ এলাকায় যতদিন রুখ ছিল নিজেরা রান্না করতে পারছিলেন না। একদিনও বাজারে যেতে পারেন নি। যত জরুরত মহল্লার আনসার সাথীরাই পূরণ করে দিতেন। একদিন তাঁরা অনেক কষ্ট করে এক রকম জোর করেই মেহমানদারী বাতিল করে বাজারে যান। কিন্তু কিছুই কিনতে পারছিলেন না। কারণ তাঁরা পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন। তাই মুসলমান দোকানে গেলেও দাম দিতে পারছিলেন না, বরং হাদিয়া হিসাবে পাচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে এক হিন্দুর দোকানে গেলেন। কেনাকাটার পরে দোকানী খোশগল্প শুরু করলো। তোমাদের তো বাহিরের লোক মনে হচ্ছে… তোমরা কারা? যখন শুনলো যে জামাতে এসেছে বিষ্ময় প্রকাশ করলো যে, তোমরা বাজারে কেন? স্থানীয় মুসলমানরা তোমাদের দাওয়াত দেয় নি! তখন বললো, আচ্ছা আজ তাহলে তোমরা আমার মেহমান। তোমাদের থেকে দাম নিব না। অনেক চেষ্টা করেও নাকি দাম দিতে পারেন নি। ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি মেওয়াতে এমনই মেহনত করে গেছেন, আল্লহু আকবার, হিন্দুরা পর্যন্ত আল্লহ রাস্তার মেহমানদের নুসরতকারী বনে গেছে।

এমন আরো একটা কারগুজারী শুনেছিলাম,২০০৬ সালের ইজতেমার আগে। আমি এক জামাতে ছিলাম। আমরা ছিলাম তিন জন বাঙালী, দুই জন সাউথ আফ্রিকান এবং চার জন ফিলিপিনো। আমীর সাহেব ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার। ডারবান মারকাজের শূরা। তিনি কারগুজারী শুনালেন, তিনি একদফা মেওয়াত সফর করছিলেন। সেখানে ইজতেমা হচ্ছিল। তাঁরা নগদ উসূল করে ময়দানে তাশরীফ আনলেন। খুবই উৎসাহ উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশ। এস্তেকবালের ব্যপক এন্তেজাম। কি দেশী, কি বিদেশী সবাইকেই সমান তালে এস্তেকবাল করা হচ্ছিল। ঠান্ডা পানি, সফট ড্রিংকস, তরমুজ, বরফ মিশানো শরবত কত আয়োজন!

এর মধ্যে ছোট্ট একটা মেয়ে, ৮-১০ বছর বয়স হবে, এক হাতে একটা এলুমিনিয়ামের জগ, আরেক হাতে এলুমিনিয়ামের গ্লাস নিয়ে পানি বিক্রি করছে। জগ এবং গ্লাস দুটোই পুরানো এবং দাগ যুক্ত। আমীর সাহেব বলেন, অনেককে আমরা নগদ উসুল করে নিয়ে এসেছিলাম। সবাইকে ঠিক ঠিক জায়গায় পৌঁছাতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছিল। আমি অনেকক্ষন যাবৎ লক্ষ করছিলাম যখনই নতুন কোন জামাত আসে, মেয়েটি দৌড় দিয়ে তাদের কাছে যায়। কিন্তু কেউ তার পানি নেয় না। আমি অবাক হচ্ছিলাম, মেয়েটি এখানে কিভাবে পানি বিক্রি করবে? এখানে ফ্রি ফ্রি ঠান্ডা বরফ দেয়া পানীয় পাওয়া যাচ্ছে। কোল্ড ড্রিঙ্কস পাওয়া যাচ্ছে। কে তার এই ময়লা জগের পানি খাবে?

আমীর সাহেব বললেন, আমার একটু মায়া হল। আমি মেয়েটিকে ডাকলাম। ওর হাত থেকে গ্লাসটা নিলাম। রোদের তাপে ততক্ষণে ওর পানি গরম হয়ে গিয়েছিল। এমন গ্লাসে পানি পানে আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। চোখ বুঝে পুরোটা এক নিঃশ্বাসে পান করে ফেললাম। পরে আরেক গ্লাস নিলাম। এটাও একই ভাবে পান করে ফেললাম। এরপর পুরো জগটাই নিলাম। পুরো জগের পানি মাথায় ঢাললাম। মেয়েটাকে জগ গ্লাস ফিরিয়ে দিয়ে একশ রুপির একটি নোট দিলাম। মেয়েটা দুই হাত এবং মাথা নাড়ছে। মুখে কিছু একটা বলছে। আমি ভাবলাম হয়ত মেয়েটি বলছে যে, তার কাছে খুচরা নেই। আপনি হাত নেড়ে নেড়ে বুঝাতে চাইলাম সবটাই নাও। খুচরা ফেরত দিতে হবে না। ব্যর্থ হয়ে অবশেষে একজন মুতারজিম (অনুবাদক) নিলাম।

মেয়েটি বলছে সে পানি বিক্রি করতে আসেনি। তার বাবা স্থানীয় তাবলীগের সাথী ছিলেন। কিছুদিন হয় মারা গেছেন। ভাইবোনের মধ্যে এই মেয়েটিই সবার বড়। বিধবা মায়ের ধারণা তার স্বামী বেঁচে থাকলে তিনিও এই ইজতেমাতে শরীক হতেন, আগত মেহমানদের খিদমত করতেন। তাই স্বামীর পক্ষ থেকে মেয়েকে পাঠিয়েছেন। সদ্য বিধবা গরীব এই মহিলা কি দিয়ে নুসরত করবেন! আল্লহর মেহমানদের তাই শুধু পানিই পেশ করেছেন।

বলতে বলতে আমীর সাহেবের দু চোখ বেয়ে পানি পড়ছিল। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটাকে টাকাটা দিয়ে পারিনি। বলেছি, হাদিয়া হিসাবে নাও। মেয়েটার একটাই কথা, আল্লাহর রাস্তায় বিনিময় নেয়ার নিয়ম নেই। বিনিময় তো আল্লাহ দিবেন।

আমীর সাব খুব আবেগের সাথে বলে বসেন, বিশ্বাস কর! এই মেয়েটা আমার তাবলীগের উস্তাদ। আমি পুরো সফরে যা হাসিল করেছি তারচেয়ে অনেক বেশি হাসিল করেছি এই মেয়েটার থেকে। আল্লহু আকবার। এতটুকুন মেয়ে! এই কথা কোথা থেকে শিখলো? আল্লাহর রাস্তার মেহমানদের খেদমতের জন্য তার কি প্রচেষ্টা, কি আকুতি! দৌঁড়ে দৌঁড়ে একেকটা জামাতের কাছে যেত যদি তার খেদমতের দ্বারা কেউ একটু উপকৃত হয় এই আশায়।

বন্ধুরা এভাবেই মেওয়াতের পুরুষ মহিলা এমনকি বাচ্চারাও এই মেহনতের নুসরত করে এসেছে যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আমি জানিনা, হয়তোবা এখন এতো উচ্ছ্বাস নেই। কিন্তু এরপরও মেওয়াত এখনো, এই এত বছর পরেও স্পেশাল। অনেকের কাছে মেওয়াতের অনেক কারগুজারী শুনেছি। মেওয়াতে গেলে নাকি মনে হয় নিজের আপন ভুবনে এসেছি। মেওয়াত সফরের দ্বারা নবুয়তের এই মহান মেহনতের একজন কর্মী হিসাবে যে পরিমাণ আত্মবিশ্বাস হাসিল হয়, তা আর কোন ভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। হাজী আব্দুল ওয়াহাব দামাত বারকাতুহুম বার বার মেওয়াতের ফাজায়েলে বলতেন এবং মেওয়াত সফরের তারগিব দিতেন। বলতেন মেওয়াতের পথে প্রান্তরে এই মেহনতের নূর ছড়িয়ে আছে।

কিছুক্ষণ আগেই বলছিলাম, কিছুদিন আগে আমাদের মালয়শিয়া থেকে এক জামাত মেওয়াত সফর করে এসে কারগুজারী শুনালো, সেখানে সব সময়েই মেহমানদারী হয়েছে। সাধারণত মেহমানদারীর আইটেম খুব আহামরি কিছু হত না। কিন্তু আমাদের জন্য ওদের ব্যাকুলতা দেখেই ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে আমরা তাদের বিশেষ মেহমান। পারলে সবকিছু দিয়ে দেয় আমাদের। তারা কারগুজারীতে আরো বলেছেন, আমরা যে কদর পেয়েছি কোন দেশের রাষ্ট্রীয় মেহমানও এতো কদর পায় কিনা সন্দেহ।

আমি জানিনা বন্ধুরা আপনারা কারা কারা মেওয়াত সফর করেছেন। আমি একাধিক জামাতের কাছে শুনেছি মেওয়াত সফরের পরে যে পূর্ণতা অনুভব হয়, তাতে মনে হয়, এতদিন আল্লহর রাস্তায় সফরই করিনি।

কিন্তু এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম জান প্রাণ উজাড় করে দিয়ে এই মহান মেহনতের আমীর থেকে সাধারণ সাথী সবার নুসরত করে মেওয়াতীরা কি পেয়েছে???
কিছুই না।

বন্ধুরা আগেই বলেছিলাম নিয়তি বলেন বা বৈশিষ্ট্য বলেন, আনসারীরা কিছুই পায় না। মেওয়াতীরাও কিছুই পায়নি। বাহবাও জুটেনি এদের কপালে। এরা কখনও আমীরও হয়নি। আলেম হলেও এদের কপালে ‘মাওলানা’ উপাধিও জোটে না। এদের দৌঁড় ‘মিয়াজী’ পর্যন্তই।

হ্যাঁ, একটা জিনিস এদের জুটেছে।
তা হল অপবাদ।
মিথ্যা অপবাদ।
এরা নাকি সন্ত্রাসী।

মাওলানা সাদ সাহেবের হুকুমে পুরা নিজামুদ্দিন মারকাজে এরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। আনসারদের এমনই কপাল। এদের বিরুদ্ধে এমন অপবাদ নতুন নয়। মদীনার আনসারদের কপালেও জুটেছিল সমসাময়িক খলিফা তথা বাদশাহদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অপবাদ।

বাস্তব কথা হল, নিজামুদ্দিন মারকাজে কোন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি। যাঁরা নিজামুদ্দিন থেকে চলে গিয়েছেন তাঁরা কখনো এই অভিযোগ করেন নি। তাঁদের বারবার জিজ্ঞাসা করলেও ইতিবাচক উত্তর দেননি। সর্বশেষ কিছুদিন আগে ওয়াসিফ ভাই কথিত আলমী শূরার বরাবর খোলা চিঠিতে পরিষ্কার ভাষায় এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন। সেই চিঠির উত্তর আজ পর্যন্ত মিলে নি। কারণ খুবই স্পষ্ট, এমন কোন ঘটনা ঘটেই নি।

সত্য কথা হল, মদীনায় যেমন কিছু মুনাফিক ছিল তেমনি মেওয়াতেও সামান্য কিছু আছে। এমন আশ্চর্য মিল! দ্বীনের মেহনত, নুসরত বুঝি এমনই হয়। পুরাই খাপে খাপ মিলে যায়। এমনই এক মুনাফিকগোত্রীয় ছিল ইয়াসিন মেওয়াতী। সাদ সাহেবের খাদেম পর্যন্ত ছিল।

সাদ সাহেবের পরম বন্ধু, সুহৃদ, সহযোগী, নির্ভরযোগ্য ছায়া ছিলেন মাওলানা যুবায়েরুল হাসান সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি এই মহান মেহনতের অন্যতম জিম্মাদার; খুবই আলা দরজার বুযুর্গ এবং আহলে কাশফ। এই মেহনতের শত্রুরা যতই মরাকান্না করুক, আসল কথা হল তিনি সাদ সাহেবকে তাঁর পূর্বসূরিদের মতোই যোগ্য অভিভাবকদের মত আগলে আগলে রেখেছিলেন সারাটা জীবন। তাইতো তিনি বেঁচে থাকতে কেউ একটা টু শব্দ পর্যন্ত করার সাহস পায়নি। এর একটা বড় প্রমাণ হল, তিনি যতদিন হায়াতে ছিলেন তখন কেউ এই কথিত আলমী শূরার দাবি উঠায় নি। এখন যে অভিযোগের সয়লাব বইছে এর ছিটেফোঁটাও তখন দেখা যায় নি। কারণ ওরা খুব ভালোভাবেই জানত, তিনি মাওলানা সাদ সাহেব তথা এই মহান মেহনতের অতন্দ্র প্রহরী। হিমালয় সম দেয়াল। এই পর্বত ডিঙিয়ে সাদ সাহেবকে স্পর্শ করা যাবে না। এজন্যই ওরা অপেক্ষা করছিল তাঁর মৃত্যুর জন্য। তিনি ইন্তেকাল করতে না করতেই ওরা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মরণ কামড় বসানোর জন্য। দেরি করেনি। অথচ তিনি হায়াতে থাকতে এরা এমন ভাবে চুপ করেছিল যে এদের অস্তিত্বই টের পাওয়া যায় নি।

এ আরেক কথা। ইনশাআল্লাহ এ ব্যাপারে আরেকটা পোস্ট দেয়ার নিয়ত রাখি। তিনি এই মুনাফিকী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ইয়াসিনকে চিনে ফেলেন। তিনিই নির্দেশ দেন ইয়াসিনকে সরিয়ে দিতে। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন ইয়াসিন আর আশে পাশে ঘেঁষার সাহস পায়নি। তাঁর ইন্তেকালের পর আরেক দফা হামলা চালায়। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে মারকাজে হামলা চালিয়ে সাদ সাহেবকে বন্দী ও মারকাজ দখল করার পরিকল্পনা ছিল ওদের। কিন্তু এই মেহনতের মহান আনসার মেওয়াতীদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সাচ্চা আনসার হিসাবেই কবুল করেছেন। কিছু মেওয়াতী নজমের সাথী ওদের কয়েকজনকে দেখেই চিনতে পারেন যে এরা ইয়াসিনের লোক। তাই অন্যান্য তরতিবের সাথী এবং সাধারণ মুসুল্লিদের সহযোগীতায় এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেন। উল্লেখ্য নিজামুদ্দিনে সব সময়েই মেওয়াত থেকে প্রচুর সাথী বিভিন্ন নজমের তরতিবে কাজ করেন। মেওয়াতীরা কোন কারণে দিল্লীতে আসলে নিজামুদ্দিনেও এসে ঘুরে যায়। এছাড়া আল্লাহর রাস্তায় সফর করার উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিদিনই মেওয়াত থেকে জামাত আসে। তাছাড়া ঐদিন খবর পেয়েও প্রচুর মেওয়াতী সাথীরা চলে আসেন। নিজামুদ্দিন থেকে মেওয়াত খুব বেশী দূরে নয়।

এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে আলমী শূরার সমর্থকগণ একে একে মারকাজ ছেড়ে চলে যান। এটাই হয়ত ছিল ওদের মারকাজ দখলের চূড়ান্ত অভিযান। ব্যর্থ হবার পরে হয়ত বুঝে যায় যে মারকাজ দখল করা যাবে না। এবং এভাবে চাপ দিয়ে মাওলানা সাদ সাহেবকে ‘আলমী শূরা’ মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না। হতাশ হয়ে আলাদা মেহনত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা বের হয়ে যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাঁরা চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। কিন্তু মেওয়াতীদের দ্বারা কথিত নিগৃহীত হবার অভিযোগ কেউ করেন নি।

একই ভাবে মেওয়াতীদের চাপে মাওলানা সাদ সাহেবকে ১৯৯৫ সালে তিন জিম্মাদারের একজন বানানো হয় বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, এটা একদিকে যেমন মিথ্যা অন্যদিকে আমাদের আকাবিরদের বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর তোহমত। আমাদের আকাবিরগণ সকলেই খুবই আমানতদার ছিলেন। কোন চাপে পড়ে খিয়ানত করার মানুষ তাঁরা নন। নবুয়তের এই মহান মেহনতে খেয়ানত করার চেয়ে শাহাদাতের পেয়ালা পান করা তাঁদের জন্য অনেক সহজ ছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে এবং মহান আনসার মেওয়াতীদের বিরুদ্ধে আজ যারা ঐ সময়ে খেয়ানতের অভিযোগ উঠাচ্ছে তাদের অনেকের তখন জন্মই হয়নি।

বর্তমানে অস্থিরতার কারণে ঐ সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীরা আজ অনেকেই মুখ খুলছেন। যাঁদের সাথে এই মেহনতের কোন স্বার্থ জড়িত নেই। যেমন কিছুদিন আগে আমরা শেইখ আব্দুল ওয়াহিদ মালিক মাদানী দামাত বারকাতুহুম এর চিঠি এবং মাওলানা ইউসুফ মুত্বলা দামাত বারকাতুহুম এর বক্তব্য পেয়েছি। কোথাও মেওয়াতীদের উল্লেখ নেই। তাহলে কি তাঁরা সবাই সত্য গোপন করেছেন? নাউযুবিল্লাহ। এমন কল্পনা করাও তাঁদের বিরুদ্ধে অপবাদের সামিল।

বিশেষ করে আব্দুল ওয়াহিদ মাদানী দামাত বারকাতুহুম খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে সেই কয়দিনের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। সেখানে শোকের পরিবেশ ছিল। আন্দোলনের পরিবেশ ছিল না। তিনি প্রথম দিন হাজির হতে পারেন নি। তিনি পৌঁছেছেন জানাযা হয়ে যাওয়ার পরে, রাতের বেলা। তিনি নিজের চোখে দেখা এবং অন্যান্য বুজুর্গদের থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করে সম্পূর্ণ ঘটনা জেনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি নিজেই বলেন যে, একক ভাবে কারো থেকে পুরা ঘটনা পুরাপুরি জানা যায় না। তাই তিনি এত লোকের থেকে জিজ্ঞেস করে জেনেছেন। আফসোস আজ কাজ্জাবের দল কিছুটা এক দুই জনের থেকে শুনে আরো কিছু রঙ মিশিয়ে প্রচার করে বেড়াচ্ছে। কিছু সরলপ্রাণ সাথী এতে ধোঁকাও খাচ্ছেন। আল্লাহ হেফাজত করুন।

আব্দুল ওয়াহিদ মাদানী এতই পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন যে, মাওলানা ইজহারুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহির মই বেয়ে নামার ঘটনাও বাদ যায় নি। অথচ এই সাধারণ ঘটনাটি অন্য কোন বর্ণনায় আসেনি। তিনি কতটা আমানাতদারীর সাথে সম্পূর্ণ ঘটনা লিখতে চেয়েছেন। অথচ সেখানে মেওয়াতীদের কোন উল্লেখই নেই। কারণ খুবই স্বাভাবিক, এসব ঘটনা বাস্তবে ঘটেনি। বরং এগুলোর উৎপাদন হয়েছে কাজ্জাবদের মস্তিষ্কে। এসব কাল্পনিক ঘটনার উৎপাদন এবং প্রচার প্রসারের সাথে যারা জড়িত, তারা খোলাফায়ে রাশেদার পরের জামানার আনসারদের উৎপীড়নকারীদেরই উত্তরসূরী।

এই মহান মেহনতের দ্বারাই সারা দুনিয়াতে দ্বীন ছড়িয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই কাজের নুসরাতের জন্য আনসারদের ব্যবহার করেছেন। তাই যারা এই মেহনতের শত্রু ছিল, আনসারগণও তাদের শত্রু ছিলেন। এক সময় এই কাজ উম্মতের মধ্য হতে হারিয়ে যায়। আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহির দ্বারা এই কাজ আবারো জিন্দা করেছেন। সেই থেকেই ইসলামের শত্রুরা বারবার ছোবল হেনেছে এই মেহনত মিটিয়ে দেয়ার জন্য। আমরা আগেও বিভিন্ন পোস্টে এটা দেখেছি। মেওয়াতেও আনসারগণ ওদের শত্রু হবে… এতে অবাক হবার কি আছে? দুঃখ একটাই তাগুত সব সময় মুসলমানদেরই ব্যবহার করেছে ইসলামের ভিত্তি ধ্বংস করার কাজে।

বন্ধুদের কাছে অনুরোধ একটাই।

বৈশিষ্ট্য গুলো মিলিয়ে রাখুন, এদের চিনে রাখুন। তাগুত চেনার চিরন্তন আলামত, এরা আনসারদের শত্রু হয়।

আলেম বনাম তাবলীগ; কয়েকটি প্রশ্ন ও অপ্রিয় উত্তরঃ

www.banglatruenews24.com
উলামা আস-সু

লেখকঃ আব্দুল বাকী আরজান।

কিছু বাস্তবতা যা আমরা সবাই জানি !! কিন্তু বলার বা বুঝার কেউ নাই, সব দোষ নাকি হযরতজী মাওঃ সাদ সাহেবের।😰😰😰 তাহলে এতো গুলি গুণ কাদের!!!


আলেম বনাম তাবলীগ; কয়েকটি প্রশ্ন ও অপ্রিয় উত্তরঃ

প্রশ্নঃ প্রথাগত আলেমদের চেয়ে কি গাইরে আলেমরা তাবলীগ বেশি বুঝে? নইলে তারা এই সমস্ত আলেমদের কথা মেনে নিচ্ছে না কেন?

উত্তরঃ আসলে এখানে কমবেশির কোন ব্যপার নাই। বরং নিঃসংকোচে আপনি বলতে পারেন ” এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা তাবলীগের ‘ত’ও বুঝে না”।

প্রশ্নঃ বলেন কি? তাহলে এত বছর মাদরাসায় পইড়া তারা কী শিখেছেন?

উত্তরঃ কী শিখেছেন সেটার তালিকা হয়তো অনেক বড়। তবে তাদের না শেখা ছোট তালিকার কয়েকটি লাইন হলোঃ
তারা ‘আখলাক’ শিখেন নি। অথচ যার ‘আখলাক’ নাই তার কিছুই নাই।
তারা ‘সবর’ শিখেন নি। অথচ ‘সবর’ হলো শত্রুর মোকাবেলায় শক্তিশালী ঢাল।
তারা ‘একতা’ শিখেন নি। তাই প্রতি বছরই মুহতামিমদের টানাপোড়ণে নতুন নতুন মাদ্রাসার প্রজনন হচ্ছে। আর ইসলামী দলগুলি ভেঙ্গে ভেঙ্গে নতুন নতুন দলের প্রজনন হচ্ছে।
অথচ ঐক্য ছাড়া আল্লাহর মদদ ও নুসরত অসম্ভব।
অথচ দেখুন, ৯৮ বছর তাবলীগ চলে আসছে ‘আখলাক’ দ্বারা। অথচ এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা তাবলীগ দখল করতে চাইছে ফতুয়া ও গালাগালি দ্বারা।
তাবলীগিরা এযাবৎ সকল বিরোধিতার মোকাবেলা করেছে ‘সবর’ দ্বারা। অথচ এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা নিজেদের দাবী চাপিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার ছাত্র ভাড়া করে সহিংস কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
প্রায় ১ শতাব্দীকাল ধরে টুকরো টুকরো দলমতকে একতার বন্ধণে বেঁধে এক উম্মত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছিলো। আর তখনি এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা একের পর এক ফতুয়া মেরে উম্মতকে আবারো খণ্ড-বিখণ্ড করার অপচেষ্টা শুরু করা হয়েছে।

এই সবগুলো সমস্যা নিয়ে যদি একটু ভাবেন তাহলে সুস্পষ্ট বুঝতে পারবেন যে, আসলে এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা ১০-১৫ বছর মাদরাসায় কাটালেও তারা দ্বীন ও দ্বীনের মেযাজ শিখে নাই। শিখতে পারে নাই।

প্রশ্নঃ কেন? যে শিক্ষা একজন সাধারণ মানুষ ৪ মাসে শিখে ফেলছে সেখানে এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা এটা ১৫ বছরেও শিখতে পারছে না কেন?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর “তাফসীরে উসমানী”তে সুন্দরভাবে দেওয়া আছে।
সুরা আনকাবূতের শেষ আয়াতের তাফসীরে লেখা হয়েছে “যারা দ্বীনের জন্য মেহনত করবে তাদের সামনে আল্লাহ তা’আলা দ্বীনের এমন কিছু জিনিস খুলবেন যা আর কেউ বুঝবে না”।
এখানেও তাই ঘটেছে।

সর্বশেষ প্রশ্নঃ এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরাও কিছুনা কিছু মুজাহাদা তো করছেন। ‘কওমী মাদরাসার ডাল’ তো মুজাহাদার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

উত্তরঃ হ্যাঁ। তারাও কষ্ট করেন এটা সত্য। কিন্তু উক্ত আয়াত বলছে “যারা আমার (আল্লাহর) জন্য মুজাহাদা করবে…..। অথচ তাদের মুজাহাদা হয়ে থাকে ‘ভালো আলেম হয়ে একটি ভালো বেতনের চাকুরীর জন্য’। আল্লাহর জন্য নয়। সাহাবাদের জিন্দেগী থেকে যদি মুজাহাদার উদাহরণ খুঁজি তাহলে দেখা যাবে তারা নিজের জান-মাল কুরবানীর মাধ্যমে মুজাহাদা করেছেন।

পক্ষান্তরে এই আলেমরা মাদরাসা থেকে পাশ করার পর জান-মাল কুরবানীর পরিবর্তে জান-মাল কামানোর ধান্দায় মালকোঁচা দিয়ে নামেন। মুহতামিমের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা, শাইখুল হাদীসের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা (সপ্তাহে ৩দিন), সুরেলা বক্তার হেলিকপ্টার ও অন্যান্য খরচ বাদে ২ ঘন্টার সর্বনিম্ন রেট ৫০ হাজার টাকা।
সকল সমীকরণ মিলিয়ে আপনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য হবেন যে, এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা যতটুকু কোরবানী ও মুজাহাদা করেন সেটা নিছক বিনিয়োগ মাত্র। উদ্দেশ্য থাকে, খালি কোনমতে পাশটা করতে পারলেই সুদে-আসলে সব উসূল করে ছাড়বো।
তাই বলা যায়, তাদের অধিকাংশই কখনো আল্লাহর জন্য মুজাহাদা করেন না। তবে যারা ছাত্রজীবন থেকেই আল্লাহ জন্য জান-মাল কুরবানী দিয়ে আসছেন কিংবা ইখলাসের সাথে কুরবানীর নিয়ত করে নিজেদেরকে গড়ে তুলেছেন তারাই বর্তমানে এই পৃথিবীতে নায়েবে নবী ও ওয়ারিছে নবীর প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাঁরাই ওলামেই হাক্ক।
তাই আসুন, আলেম দেখলেই লাফ মেরে তোয়াজ শুরু না করে দেই। বরং তাহকীক করে দেখি, তিনি কি রক্ষক আলেম নাকি ভক্ষক?

তোমরা ঐসমস্ত লোকের কথা শুন যারা বিনিময় নেয়না। 💵
এই কথাটা কোন মাহফিলে শুনা যায়না। কারন……😜😜
👌
আর””?
এখন হেতেরাই বলে বেড়াইতেছে যে””?
হজরত ইলিয়াস রহঃ দেওবন্দের আলেম ছিলেন,,
তাই এ’ দাওয়াতের কাজ আলেমরাই চালাবে”!😇😇😇

এবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন শাড়ীর ডিজাইনে আল্লাহর নাম “الله”!

FB_IMG_1523544620439.jpgআল্লাহ্ (الله) – আল্লাহ্ (The Greatest Name)।

‘আল্লাহ’ শব্দটি বিশ্বস্রষ্টা ও প্রতিপালকের সম্পূর্ন খাস নাম এবং এই পবিত্র নাম দ্বারা আল্লাহর পাক জাতের শক্তি ও মহিমা প্রকাশ পায়।

আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো অতিশয় মোবারক ও পবিত্র।

আল্লাহতালা বান্দাকে তাঁর সুন্দর সুন্দর নামের জিকির বা আমল করার কথা বলেছেন। রাসুল সা: হাদিসে আলাদা আলাদাভাবে আল্লাহতালার নামগুলোর আমল করার ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহর গুণবাচক সব নামের আমলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত।

অথচ আমাদের দেশে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন শাড়ির ডিজাইনে আল্লাহর নাম “الله” এসেছে। এখানে খুব পরিস্কারভাবে আল্লাহ শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মের ত্রিশুলের মতো করে উপরে এঁকে দিয়ে নিচে আল্লাহ শব্দের ব্যবহার দ্বারা এদেশে এরা আল্লাহকে পরাজিত প্রমাণ করতে চায়। শুরুতে আলিফ এবং শেষে হা অক্ষরটি ব্যবহার করে বুঝানো হয়েছে এটা ইচ্ছাকৃত। দুই পাশেই আলিফ থাকলে বুঝতাম, ডিজাইনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত। সাধ্যমতো যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করা দরকার। তাদের গ্রেপ্তার করে বিচার করা দরকার বলে মনে করি। আপনি কি একমত?

এই ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজ করেছে ফ্যাশন হাউস ‘বিবিয়ানা’।

* লেভেল ৭, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ঢাকা।
* তেজগাঁও গুলশান লিংক রোড ঢাকা।
* বীর উত্তম, মীর সাখয়াত সড়ক- ঢাকা।
* লেভেল ৫, আফমি প্লাজা চট্রগ্রাম।
* বীরবিক্রম ইয়ামিন কমপ্লেক্স কুমার পাড়া সিলেট।

 

 

প্রতিবাদ করুন, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন।

 

 

ভিডিওটেপ দেখুন ও বেশী বেশী সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থায় শেয়ারের মাধ্যমে এরকম জঘন্য কাজকে প্রতিবাদ করুন।

 

ইশ্ যদি তাবলীগ জামাতটা কোন ফসলী জমি হতো!

#সাথিরা_পড়ার_অনুরোধ_শেষ_পর্যন্ত

মাওলানা সাদ সাহেব দাঃ বাঃ কে নিয়ে আর কত ”””” ????

আগে বললেন, উনি আলেম নয়।

এখন শুনি, উনি বড় আলেম। আগে পড়াতেন আবু দাউদ শরীফ, এখন পড়ান বুখারী শরীফ।

আবার বললেন, উনিতো কারো থেকে খেলাফত পাননি, অথচ বয়াত করেন ?

এখন শুনি, উনি সর্বোচ্য সিলসিলার সবর্জন স্বীকৃত দুইজন মহান বুজর্গ ব্যক্তিত্বের খেলাফত প্রাপ্ত ।

বলা হলো উনি ফাঁকি দিয়ে টোরিষ্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন।
সর্বোচ্য তাহ্কিক করে দেখা গেলো, না, উনি তাবলিগী ভিসা নিয়েই এসেছেন।

শুনলাম, , উনি মনগড়া জঘন্য কথা বলে ফেলেছেন, কি বলেছেন? কোরআন শিক্ষাদানের বিনিময় গ্রহনকারীর চেয়ে নাকি ফাহেসা মহিলা আগে জান্নাতে চলে যাবে !
কি জঘন্য কথা!!!!
এখন শুনি, না, এটা উনার কথা না, বরং হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন।

আরেকটা কথা বলে ফেলেছেন, কি সেটা? হযরত মুসা আঃ এর ব্যাপারে !
এটাও উনি কোন্ প্রেক্ষাপটে কোথায় কাকে বলেছেন? কি বুঝাতে
চেয়েছেন? তাহ্কিক করেছেন কি একটু?
এক বড় আলেম বললেন, আল্লাহ তাআলাই মুসা আঃ কে কালামেপাকে বলেছেন, ‘তোমাকে কিসে ত্বরা করেছে ‘? হজরত মুসা আঃ- এর ঘটনা বলা ভুল, যারা বলেন তাদের কথায় ১৫টা তাফসির কিতাব ও হজরত ইবনে আব্বাস রাঃ সহ আরও অনেকেই ভুল হয়ে যেতে পারে । বিজ্ঞ আলেম বলেন, হজরতের এক একটি কথা অনেক অনেক কিতাব এ আছে।
অর্থাৎ এটাও উনার নিজস্ব কথা নয়।

ভারতের বিখ্যাত মাদ্রাসা সাহারাণপুর থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উনার তথাকথিত বিতর্কিত কথার জবাব উনার পক্ষেই দিয়েছেন।
হ্যাঁ, বলতে পারেন প্রেক্ষাপট আবার কি?
শুনোন তাহলে, কাকরাইলের ২য় তলায় আমি মিম্বরের কাছাকাছি বসা। এশা বাদ হাফেজ মাওলানা যোবায়ের সাহেব দাঃবাঃ হায়াতুস সাহাবা পড়ে তর্জমা করলেন, ‘ আমার যতটুকু মনে আছে —
‘ রমজান মাসে এক সাহাবি দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছেন। আফসোস করতে করতে রাসুল সাঃ এর নিকট আসলেন। রাসুল সাঃ বললেন, তোমাকে কাফ্ফারা হিসাবে একাধারে ৬০ টি রোজা রাখতে হবে। হুজুর এটাতো আমার দ্বারা সম্ভব না। তাহলে ৬০টি ফখির খাওয়াও। হুজুর এটাও আমার সামর্থ্য নাই। তাহলে এই পরিমাণ দান কর। হুজুর এই পরিমান দান করারওতো আমার সামর্থ্য নাই। হুজুর সাঃ নিজের ঘর থেকে কিছু আটা বা খাদ্য বের করে তাঁর হাতে দিয়ে বললেন, এগুলো গরীবদের মধ্যে বিতরণ কর । – হুজুর মক্কা মদিনাতে আমার মত গরীব মনে হয় আর কেউ নাই। ঠিক আছে তাহলে তুমিই খাওগা। বুঝা গেলো, একই মসলা ব্যক্তির অবস্থাভেদে পরিবর্তন হয়।

হ্যাঁ মানুষ মাত্রই ভুল হতেই পারে। ৫ জন প্রতিনিধি দলের মধ্যে একজন আমার কাছের শ্রদ্ধাভাজন আলেমের সহিত কথা বলে যা বুঝলাম। উনি উত্তম তরিকায় রুজু করেছেন। এই প্রতিনিধি দল দারুল উলুম দেওবন্দ এবং নিজামুদ্দিনে যা দেখে এসেছেন ও বলে এসেছেন, বাংলাদেশে এসে রহস্যজনক কারণে ইনারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
আমাদের জামালপুর জেলার অন্যতম আলেম, আল্লামা শফি দাঃবাঃ সাহেবের এর সুযোগ্য খলিফা, জামালপুরের জেলা তাবলিগের শুরা, জামিয়া দারুল উলুম, পুলিশ লাইনের সুযোগ্য মোহতামিম, বড় মসজিদ জামালপুরের সম্মানীত খতিব, জামালপুরের সবচেয়ে বড় ও ছোট প্রায় ৮০ টি কওমী মাদ্রাসার সুযোগ্য সভাপতি জনাব মুফতি আব্দুল্লাহ সাহেব দাঃবাঃ বলেন যে, আমি এক আলেমকে বললাম , যেহেতু উনি আপনাদের মতে আপত্তিকর কথার উপর রুজু করেছেন, তাহলে এখন সমস্যা কি? উত্তরে ঐ জিদখোরা আলেম নাকি বলেছেন, না তাঁর রুজু আদায় হবে না, তাহলে কি করতে হবে? তাকে নিজামুদ্দিন থেকে চলে যেতে হবে। মুফতি সাহেব তাকে নাকি বলেছেন, কিতাবে তৌবা /রুজুর কথা শুনেছি, কিন্তু তা করতে নিজের বাড়ী ছেড়ে দিতে হবে এরকম কথাতো কিতাবে পাইনি !!
উনি হাটহাজারী মাদ্রাসার এক উস্তাদের নিকট ফোন করেছেন, উস্তাদ বলেছেন, আল্লামা শফি সাহেব দাঃবাঃ বার্ধক্যজনীত কারণে তিনজন খাদেমের নিকট বন্দী। কেমন? ঐ তিন জন খাদেম যা বলবে তাই করবেন। মেখল মাদ্রাসার মোহতামিম সাহেবও গিয়ে সাক্ষাত লাভ করতে পারেন নাই, ফিরে যেতে হয়েছে । হেলিকপ্টার দাড়ানো, ঐ তিনজন যদি বলে, আপনাকে এখন উঠা যাবে না, ঐটাই ঠিক। সারা দুনিয়ার মানুষ মিলেও উঠাতে পারবেনা। উস্তাদ বিজ্ঞ আলেম বলেন, কি পরিমাণ টাকার খেলা যে চলতেছে কল্পনা করতে পারবানা ! এই মাজুর ব্যক্তি কিছুই জানেননা, অথচ খাদেমদের ব্যবসা গরম!
মুফতি আব্দুল্লাহ সাহেব আরো বলেন যে, এক আলেমকে দেখলাম, হযরত মাওঃ সাদ সাহেব দাঃবাঃ এর কুৎসা রচনার একটা বই হাসিমুখে বিতরণ করছে, তো আমি বললাম, হাসতেছেন কারণ কি? দরকার ছিলতো কাঁদার ! উনি বুঝালেন পরে খুব আফসোস করলেন।

আমাদের জামালপুর জেলা মার্কাজের ইমাম ও খতীব, জামালুল উলুম পাথালিয়া মাদ্রাসার সুযোগ্য মোহতামিম, ২২ গ্রামের কোযগর ঈদগাহ মাঠের ইমাম এবং মরহুম আল্লামা মুফতি আমিনী রঃ এর একসময়কার কাছের মানুষ জনাব মুফতি মুনিরুল ইসলাম সাহেব দাঃবাঃ বলেন যে, ‘মিলন ভাই আসলে কি বলমু, আপনিত যানেন সারা দুনিয়ার যে কয়টা দেশে আমাকে আল্লাহ পাক সফর করতে দিছেন, সব জায়গায় হযরত মাওলানা সাদ সাহেবের ক্বওলই বেশী বলি, আপনিওতো আমার সাথে দুই একটা দেশে সফরে গেছেন। উনি বলেন, ‘ ওয়াসীবুল ইসলাম ভাই বলেন আর মাওলানা যোবায়ের সাহেব হুজুর বলেন এবং আহলে শুরা হযরতদের মধ্যে যারাই আছেন তাঁদের পাহাড়সম কোরবানির কাছে আমার মত তিন টেহার মুফতির কাম বাজে নাই। আর নিজামুদ্দিনে যারা আছেন ও ছিলেন তাঁদের কোরবানির কথা আমরা বলে কখনো শেষ করতে পারবো না। তাদের ব্যাপারে যারা সমালোচনা করে, আসলে তাঁরা চরম বেয়াদব।

আমি মনে করি, ইনারা যাতে না মিলে যায়, সেজন্য ইনাদের মাঝখানে কিছু তৈলাক্ত মানুষ আছে, যাদের কাজ তেল মারা। বড়দের বিভক্তির কারণে তৈলাক্তদের একটা পজিশন হইছে। এরা উনাদের মত উঁচু তবকার বুজুর্গদের সামনে বেয়াদবের মত বসতে পারে। কিন্তু বড়রা মিলে গেলে এই সমস্ত দালালদের উনাদের জুতার উপরেও বসার জায়গা হবে না। তাই তারা মিলতে দিচ্ছে না।

শুনেন মিলন ভাই একটা বাস্তব কথা বলি, নব্বইয়ের দশকে আমিনী সাহেব রঃ এর লালবাগ মাদ্রাসা এবং আল্লামা আজিজুল হক সাহেবের মাদ্রাসার মাঝামাঝি জায়গায় এক ভন্ড পীরের মজমা হবে, হযরতদ্বয় বললেন, না এটা হতে দেয়া যায় না। প্রতিহত করা হবে।
মুফতি মুনির সাহেব বলেন যে, আমরা সাত আট হাজার ছাত্র অমুক জায়গায় অবস্থান করতে ছিলাম, মুফতি আমিনী রঃ আমাকে নাস্তার আগে আগে গিয়ে বললেন যে, তোরা কত জন আইছস? নাস্তার জন্য কত লাগবো? আমি একটা এমাউন্ট বললে উনি আরো বাড়তি এমাউন্ট আমাকে দিয়ে দিলেন।
এরই মধ্যে আল্লামা আজিজুল হক রঃ উক্ত মসজিদে আসলেন, উনি যেমনি জুতা খুলে মসজিদে পা রাখছেন, মুফতি আমিনী সাহেব দৌড়িয়ে গিয়ে আল্লামা সাহেবের জুতা হাতে নিলেন। আল্লামা সাহেব বললেন, এই ফজলু তুমি জুতা হাতে নিছ কেন? একটা ছাত্রকে দেও। অামিনী সাহেব বলেছেন, না হুজুর আজকে একটা সুযোগ পাইছি!
আল্লামা আজিজুল হক সাহেব তখন আবেগে মুফতি আমিনী সাহেবকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন , আসলে দেখ ফজলু, আমার বুকটা যদি ফাইড়া দেখাইতে পারতাম, তুমাকে আমি কতটুকু ভালবাসি ! তাহলে ঠিকই বুঝতা। শুন তোমার আর আমার মাঝখানে কিছু লোক আছে, যারা আমাদের মিলে যাওয়া পছন্দ করেনা।

এখন এক ভাইয়ের এক গল্প বলে লেখা শেষ করি —

উনি এলাকার বড় ভাই।

ছেলেরা ও ছেলেদের বাবারা সকলেই উনাকে বড় ভাই বলে ডাকেন।
মহান আল্লাহ উনাকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দান করেছেন।

তিনি কোন ফসল বা গৃহ পালিত পশুর দিকে তাকিয়ে যদি বলেন, বাহ্ ফলনটা তো বেশ হয়েছে! বলদটাতো খুব সুন্দর! তাহলেই খাল্লাস !! কাম হইছে!!!

পরদিন দেখা যাবে ফসলটা আগুনে জ্বলসে গেছে! হালের বলদটা মরে মরে অবস্থা।
এমনি উনার কেরামতি!
এমন বড় ভাই সব এলাকাতে দু’এক পিস থাকেন।
গ্রামের মানুষ তাদের বদ নজর থেকে ফল ফসল রক্ষা করতে ফসলী ক্ষেতে পুরাতন ঝাড়ু, ভাঙ্গা পাতিল, ছেড়া জুতা ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখেন।

সৌভাগ্য বশতঃ! আমাদের ””””” অঙ্গনে এমনসব বড় ভাইদের উৎপাৎটা একটু বেশী।

এবার এদের সু নজর(!) পড়েছে তাবলীগ জামাতের উপর।

বড় ভাইয়েরা যখন দেখেই ফেলেছেন, কিছু একটা হবেই। এমনটা বিশ্বাস না করলে তাদের প্রতিভার প্রতি অবিচার করা হবে।

ইশ্ যদি তাবলীগ জামাতটা কোন ফসলী জমি হতো!

দু একটা ঝাড়ু গোটা বিশেক ভাঙ্গা হাড়ি পাতিল তুরাগ তীরে লটকিয়ে দেয়া যেতো!!

#কালেক্টেড

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম মিলন

এক চিল্লা, তিন চিল্লা, এক সাল, তিন দিন কোথা থেকে আসল?

আমরা ইন্দোনেশিয়ায় সফরে গেলাম।
যে মসজিদে আমাদের রুখ পড়ল, সেই মসজিদের পাশেই একজন শায়েখ ছিলেন।
তিনি মদিনা ইউনিভার্সিটি ও জামেয়া আযহার থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
স্থানীয় সাথিরা আগেই তার সম্পর্কে আমাদেরকে অবগত করেছেন- উনি তাবলিগ ও তাবলিগের কাজের ধরন-পদ্ধতি পছন্দ করেন না।

আমি তার সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করলাম।
স্থানীয় সাথীরা আমাকে শায়েখের কাছে নিয়ে গেলেন।

আমি কিছু হাদিয়া-তুহফা নিয়ে তার সাথে সাক্ষাত করলাম।
সালাম ও কুশলাদি বিনিময়ের পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন-
কোন উদ্দেশ্যে আপনারা ইন্দোনিশিয়ায় এসেছেন?
– আমরা ইন্দোনিশিয়ায় এসেছি আপনাদের যিয়ারত করার জন্য।
– বর্তমানে কোথায় আছেন?
– ওমুক মসজিদে আছি।

– তাহলে কি আপনারা দাওয়াতে তাবলিগের উদ্দেশ্যে এসেছেন?
– জ্বি শায়েখ।

– আপনারা দাওয়াতে তাবলিগের মধ্যে একচিল্লা, তিনচিল্লা, একসাল ইত্যাদি কোথায় পেলেন? এটা কি শরী’আতের মধ্যে অতিরিক্ত করন নয়?
– (মুফতি মনিরুল ইসলাম শায়েখের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিজেই প্রশ্ন করলেন)
আপনি কোথায় লেখাপড়া করেছেন?
– মদিনা ইউনিভার্সিটি ও জামিয়া আযহার মিশরে।
– আপনার লেখাপড়া শেষ করতে কত বছর সময় লেগেছে?
– সর্বমোট ষোলো বছর লেখাপড়া করেছি। চার বছর মদিনা ইউনিভার্সিটিতে, দু’বছর জামেয়া আযহারে।
অবশিষ্ট দেশে করেছি।

– শায়েখ, মদিনা ইউনিভার্সিটিতে চার বছরের কমে কোর্স করা সম্ভব ছিল না? জামিয়া আজহারে দু’বছরের কম কোর্স করা সম্ভব ছিল না?
দেশে দশ বছরের কম পড়াশোনা করা সম্ভব ছিল না?
– এটা একটা কোর্স। তার চেয়ে কম সময়ে করা সম্ভব ছিল না। করলেও সার্টিফিকেট বা পূর্ণাঙ্গতা অর্জন হতো না।
– এটা কি দিনের মধ্যে অতিরিক্ত করা নয়?
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আল্লাহর রাসূল ﷺ থেকে কোর্স মোতাবেক এলেম অর্জন করেছেন কি? যদি না করে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এটা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি।

– তুমি কি জানো না! ফাতওয়ায়ে আলমগিরির মধ্যে এ’কথা লেখা আছে, কল্যাণমূলক কাজের জন্য সময়কে নির্দিষ্ট করা জায়েয।
– জ্বি শায়েখ জানি। তাহলে দাওয়াতে তাবলিগ কি কল্যাণমূলক কাজ নয়? আপনার মতামত কি?

– (শায়েখ মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন) এভাবে তো কোনদিন চিন্তা করিনি।
তুমি তো সত্যই বলেছ। যেহেতু দাওয়াতে তাবলিগ কল্যাণমূলক কাজ, সেহেতু সেখানে বিভিন্ন কোর্স- একচিল্লা ,তিনচিল্লা, একসাল ইত্যাদি জায়েয হওয়ার কথা! তুমি আমার চোখ খুলে দিলে!

সেই শায়েখ আমাদের সাথে তিনদিন মসজিদে ছিলেন। উনি আমাদের কথা গুরুত্বসহকারে শুনেছেন। আমাদেরকেও বিভিন্ন নসিহত করেছেন।
(আল্লাহু আকবার)
এভাবেই একজন শাইখের চোখ আল্লাহ তায়ালা খুলে দিয়েছেন।

(মুফতি মনিরুল ইসলাম দা. বা. )

যেই ভাইদের উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা, তাদের উদ্দেশ্যে আমার আর কিছু বলার নেই।
আল্লাহ তায়ালা যদি সেই ভাইদেরকে সুপথপ্রাপ্ত করতে চান; তাহলে এই ‘কারগুজারিই’ তাদের জন্য যথেষ্ট।fb_img_15220377698491134427102.jpg

জীবনকে বদলে দেওয়ার মত ড. বিলাল ফিলিপসের ১০ উক্তি

জীবনকে বদলে দেওয়ার মত ড. বিলাল ফিলিপসের ১০ উক্তি
.
ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস। ইসলাম ধর্মের একজন নিবেদিত প্রচারক। ১৯৪৬ সালের ৬ জানুয়ারি জ্যামাইকায় এক খ্রিস্টান পরিবারে তার জন্ম। বড় হন কানাডায়। জন্মসূত্রে নাম ছিল ডেনিস ব্র্যাডলি ফিলিপস।
.
১৯৭২ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুসলিম হওয়ার পর মদীনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক থিওলজিতে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কাতারে বসবাসরত আছেন।
.
ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপসের বিখ্যাত উক্তিগুলোর মধ্য থেকে এখানে ১০টি তুলে ধরা হল-
.
১. ফর্সা আর সৌন্দর্য কখনোই এক কথা নয়। ফর্সা কেবল চামড়ার মধ্যে ফুটে উঠলেও সৌন্দর্য ফুটে উঠতে প্রয়োজন আল্লাহর আনুগত্য ও উত্তম চরিত্র।
.
২. আমরা যা শিখছি তা যদি আমাদের বিশ্বাসের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, আল্লাহর কাছাকাছি আমাদের নিয়ে যেতে না পারে, আমাদের বিশ্বাসকে আরো মজবুত করতে না পারে- তাহলে এর অর্থ হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্যে, নিয়তে ভুল আছে।
.
৩. আপনি যেদিন উপলব্ধি করবেন ইসলামের জন্য কী বিশাল পরিমাণ কাজ করা প্রয়োজন অথচ হাতে কতটা কম সময়, সেদিন বুঝতে পারবেন ছুটির দিন কাটানোর মতো কোনো সময় নেই।
.
৪. আপনার জীবনের জন্য আপনার পরিকল্পনা থেকে আল্লাহর পরিকল্পনাই উত্তম।
.
৫. যেখানে আপনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, সেখানে চিন্তিত হওয়ার কোনো মানে হয় না। প্রয়োজন শুধু একটু ধৈর্যধারণ করা…।
.
৬. আপনি কি মনে করছেন এমন কেউ নেই যাকে আপনার ব্যক্তিগত কথা ও দুশ্চিন্তাগুলো শেয়ার করবেন? তাহলে আপনি শ্রেষ্ঠ শ্রবণকারীর আল্লাহ তা’আলাকেই ভুলে গেছেন।
.
৭. আপনি যাই করেন না কেন এই দুনিয়ার মানুষদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। তাই দুনিয়ার সব মানুষকে খুশি করার মিথ্যা আশা ছেড়ে তাদের সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে চেষ্টা করুন।
.
৮. একাকীত্ব সবসময়ই একটু বিরক্তিকর মনে হয়। তবে যে তাঁর প্রভুর (আল্লাহর) আনুগত্য করে সে কখনো একাকীত্ব অনুভব করে না।
.
৯. মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণের চেয়ে মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
.
১০. আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত প্রতিটা বিষয়ই আপনার প্রতি সুবিচার। প্রয়োজন শুধু আপনাকে তাঁর প্রতি আস্থাশীল ও নির্ভরশীল হওয়া এবং তাঁরই উপর ভরসা করা।

ওলামা হজরতগনের প্রতি একজন মুর্খ তাবলীগওয়ালার খোলা চিঠি

আমার নাম হোসাইন মিয়া।আমি চট্টগ্রাম শহরে রিক্সা চালাই। বস্তিতে পরিবারসহথাকি। জীবনের বিশাল একটা অংশ গাফলতিতে কেটে গেছে। আমারই বস্তির আরেকরিক্সাওয়ালা ভাইয়ের মেহনতে আমার জীবনের এই পরিবর্তন।
হজরত, আমাকেবুঝানোর জন্য কোন আলিম আসেন নি। কোন আলিমের কাছে দ্বীন শেখার আমার সুযোগইহয় নি। আমার এই রিক্সাওয়ালা ভাই আমাকে প্রায় অশুদ্ধ কয়েকটা সুরাশিখিয়েছে। এই সুরা দিয়েই আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। জামাতে প্রতিবারতিনদিন দিতে গেলে শুদ্ধ করার চেষ্টা করি। তাও অামারই মতো কোনমতে পাঠকারীঅন্য কোন তাবলীগি ভাইয়ের কাছ থেকে।
ছোটবেলা থেকে আলিম-ওলামার সাথেআমার সম্পর্ক এই এতটুকু যে, কখনও পেটে ব্যথা শুরু হয়ে গেলে হুজুরের হাতেদশটাকা গুঁজে দিয়ে পানিপড়া নিয়েছি। ঘরে কখনও মুরগি জবাই করতে হলে কোনহুজুরের হাতে দশটাকা গুঁজে দিয়ে জবাই করিয়েছি। ছোটবেলা মাসে পঞ্চাশ টাকাদিতে হবে বলে বাবা-মা মক্তবে দেন নি।
একটা অশুদ্ধ কালিমাই আমার দাদীরকাছে শেখা। কোন হুজুর কখনও শুদ্ধ করে দিতে আসেন নি। কত হুজুরকে রিক্সা করেটেনে নিয়ে গেছি, কখনও মহব্বত করে নামাজ পড়ার কথাও বলেন নি। ফলে দ্বীনেরনিসবতে কোন আলিমের সাথে সম্পর্কও গড়ে উঠে নি।
হজরত, আপনারা মনে কষ্টনেবেন না। ঠিক কথাটি বলতে গেলে দ্বীন যতটুকু শিখেছি, তা আমার মতো জাহেলআওয়ামদের কাছেই শিখেছি। শুধু আমি না, আমার মতো শত শত হোসেন মিয়া। জানতামইনা আলিম কি জিনিস, এই আওয়ামদের সাথে তাবলীগে গিয়েই শিখেছি, যার মাঝে তিনপ্রকারের ইকরাম নেই, সে রসুলের উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়- বড়কে সম্মানকরা, ছোটকে স্নেহ করা, আলিম-ওলামাকে তাজীম করা।
হজরত, রাগ করবেন না।তাবলীগের একটা কাম ছিলো বলেই আমার মতো শত শত হোসেন মিয়া দ্বীন পেয়েছে।আপনারা আলিম, আপনাদের দ্বীনের জন্য মহব্বত করি, মাদ্রাসায় দ্বীন শিখানোহয় বলে মাদ্রাসাকে মহব্বত করি, কিন্তু তাবলীগের এই কাজটাকে জানের চেয়েবেশি মহব্বত করি। যে সমস্ত জাহেল আওয়ামেরা হাতে-পায়ে ধরে তাবলীগে নিয়েগেছে তাদেরও জানের চেয়ে বেশি মহব্বত করি। মহব্বতের ক্ষেত্রে এভাবেই আমিএখনও জাহেলই রয়ে গেছি।
হজরত, আমি সাদ সাবকে চিনি না, ওয়াসিফ সাবকেকিংবা জোবায়ের সাবকে চিনি না, আমার বস্তির জিম্মাদার শামশু মিয়াকে চিনি।শামশু মিয়া আমাকে ইজতিমায় নিয়ে গেছে। বয়ান-টয়ান কিছু বুঝি নি, কিন্তুএতগুলো মানুষ, এত বড় প্যান্ডেল, এতগুলো ল্যাট্রিন আর এতগুলো বাঁশের খুঁটিগুনে সুবহানাল্লাহ পড়ে চিল্লায় চলে গেছি। ঠিক একই অবস্থা আমার মতো শত শতহোসাইন মিয়ার। চিল্লা দিয়ে দ্বীনের গুরুত্ব বুঝেছি, নামাজ-রোযা ধরেছি।আমার মতো মুর্খ মানুষ আর কি বুঝবো।
ইজতিমায় কারা বয়ান করে, কি বয়ানকরে বুঝি না, এতটুকু বুঝি, এরা আল্লাহ ও রাসুলের কথা বলছে। না বুঝলেওকথাগুলি শুনি আর এক লাফে চিল্লার জন্যে দাঁড়াই।
আপনারা আলিম মানুষ।অনেক কিতাবপত্রও লিখেন। আমরা মুর্খ মানুষ কিতাব পড়ি টড়ি না। হয়তো আপনারকিতাবের দশ-বারো হাজার কপি ছাপা হয়। কিছু মানুষ পড়ে। আমরা মুর্খ মানুষদেরএতে কোন ফায়দা নেই। আমরা শামশু মিয়ার সাদাসিধে বয়ান শুনে কাঁদি আরদ্বীনের জন্য আগ্রহ পাই।
ব্যস! আমাদের দ্বীন এতটুকু। আপনি আমার এইঅবস্থা শুনে আমাকে মন্দ বললেও আমার আর কিছু করার নেই। আমাদের শেষ পর্যন্তঅবলম্বন এই শামশু মিয়াই।
আমরা কাকরাইল চিনি। কাকরাইল থাকুক এটি আমরাচাই, টঙ্গি ইজতিমা চিনি, ইজতিমায় আসতে চাই। আপনাদের লিফলেটের ভাষাও আমরাবুঝি না। দলিলও বুঝি না।
আমরা আম মানুষ। তাবলীগই আমাদের অবলম্বন। এই মেহনতের ক্ষতি আমরা কিভাবে বরদাশত করবো, এই মেহনতের বদনাম আমরা কেমনে সইবো।
আপনারা হয়তো অনেক কিছুর বিরুদ্ধে সরব। আমরা এতকিছু বুঝি না। আমরা কেবলএতটুকু চাই, আমাদের মুরুব্বিগন এক থাকুন, মারকাজে বসে আমাদের নিগরানি করুন।
আপনারা যাই করেন, আমার মতো হোসাইন মিয়াদের কথা মাথায় রাখিয়েন।কারন আমরা জানি, আমাদের কাছে এই জাহেল তাবলীগওয়ালারা ছাড়া আর কেউ আসবেনা।
আপনারা তাবলীগের কল্যাণ চান। ভালো কথা। কল্যাণকামনা দেখাতে গিয়েমেহনতটা যেন বরবাদ না হয়। আপনাদের হিকমত ও কৌশলের কারণে যদি আমরা হোসাইনমিয়ারা বঞ্চিত হই, কিয়ামতের ময়দানে কিন্তু আপনাদের দেখে নিবো। আল্লাহরদরবারে আপনাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানাবো। বলবো, হে আল্লাহ! এরা তো আমাদেরকখনও শিখায়ও নি, উল্টো আমাদের হেদায়াতের ময়দানটাকে সমালোচনার বাণে নষ্টকরেছে।
আপনি দ্বীনের কল্যাণকামনা করুন, কিন্তু হোসাইন মিয়াদের কথাএকটু মনে রাখিয়েন, নইলে আপনার ইসলাহ-প্রচেষ্টায় বাতিলই খুশি হবে, ইহুদি-নাসারা খুশিতে নাচবে।আর ইসলাম এক কোনায় বসে চোখের জল ফেলবে।
ইতি
হোসাইন মিয়া, এক মুর্খ তাবলীগওয়ালা।

এই পোস্টটি সংগ্রহ করা হয়েছে Abdul BaqiArjan হতে।26195611_1774684786159181_4796314702402726453_n-480x4401809250374.jpg