ইজতেমা আয়োজন ঘিরে আবারও “বর্গী এলো দেশে”। মারাঠা, পাক ও দেশীয় বর্গীদের সহায়তায় সরকার। অবশেষে কথা রাখেনি সরকার। মারাঠা বর্গী “আলমী শুরা” ফেতনার প্রধান “আহমদ লাট” ঢাকায়। ফ্রি টিকিটে ফেতনার ইজতেমায় বিদেশিরা।

শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে।

ভূমিকাঃ

পরিবর্তন প্রকৃতির নিয়মেরই অঙ্গ। মানুষ চাই পরিবর্তন – নিজেদেরই স্বার্থে। আর মানুষ যখন জোর করে নিজেদের স্বার্থে কোন পরিবর্তন আনে, প্রকৃতি সেই পরিবর্তনে সায় নাও দিতে পারে।

প্রকৃতির এমনই একটা নিয়মেই অতি শৃঙ্খলা ও নিয়মের মধ্যে বাংলাদেশে চলে আসছিল “বিশ্ব ইজতেমার” আসর। গত বছর ২০১৮ থেকে, যে নিয়মে হঠাৎ করে স্বার্থান্বেষী মানুষের নিজেদের স্বার্থ প্রকাশিত হয়ে পড়ে। স্বার্থের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে একটি বিশেষ মহল। যুদ্ধ করে দেশ দখল, ক্ষমতা দখল, চর দখল করার মতই, আবারও দেশে নব বর্গীর আক্রমণ হয়েছে “বিশ্ব ইজতেমার” আয়োজনকে ঘিরে। অশান্ত হয়ে পড়েছে দেশ। নিরীহ মুসলমানদের উপর গত ১ বছর ধরে চলছে অসভ্য “নব বর্গিদের” জুলুম ও অত্যাচার। ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

(“ছবি বিশ্ব ইজতেমার বদলে জোর করে পরিবর্তন “আলমী শুরার” ইজতেমা”)

ঐ যুগে ভারতবর্ষের মারাঠা বর্গীর প্রধান ও আধ্যাত্মিক নেতা শিবাজী, “মারাঠা বর্গী”দের একটি শিক্ষা ভালোভাবেই দিয়েছিলেন, আর তা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা অর্থাৎ “মুসলমান হিন্দুর শত্রু”

আর এখনকার “নব বর্গি” নেতাদের শিক্ষা আরও ভয়ংকর, আর তা হল, অতিমাত্রার সাম্প্রদায়িকতা অর্থাৎ “মুসলমান মুসলমানের শত্রু“।

তবে এবার “মারাঠা বর্গী” একা নয়, সংগে আছে পাকিস্তানি ও দেশী বর্গী। আর সেই আমলে অসভ্য “মারাঠা বর্গিদের” ঘোড়া, অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ জোগান দিতেন ওই সময়ের সম্রাট। যেমনটা এখন বাংলাদেশ সরকারের আশ্রয়ে আছে “নব বর্গিদের দল”, ভোগ করছে সকল রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা। আর নব বর্গিদের অত্যাচারের মাএাও যাচ্ছে বেড়ে নিরীহ মুসলমানদের উপর।

আসুন আবারো জেনে নিই মারাঠা বর্গিদের ইতিহাসঃ

মারাঠা বর্গিদের নিষ্ঠুর অত্যাচারে এ দেশের মানুষ এক সময় এত আতঙ্কগ্রস্ত ছিল যে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কান্না থামানোর জন্য এখনও বাংলার মায়েরা বর্গিদের ত্রাসকে মনে করিয়ে আওড়িয়ে থাকেনঃ

“ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
বর্গি এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে।”

সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাট সহ বেশ কিছু এলাকা জুড়ে এক নতুন জাতির আবির্ভাব হয়। আর সে জাতির নাম হল মারাঠা জাতি। মারাঠা জাতি ছিল যাযাবর ও দস্যু প্রকৃতির। আর এ দস্যুবৃত্তির জন্য মারাঠারা চিরদিনের জন্য ইতিহাসে কুখ্যাত ছিল। তারা অতর্কিত বিভিন্ন গ্রাম ও শহরবাসীদের উপর চড়াও হয়ে দখল, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ, খুন-খারাবি করতো।আসলে বর্গি হলো অষ্টাদশ শতাব্দীর লুটতরাজপ্রিয় অশ্বারোহী মারাঠা সৈন্যদলের নাম। ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত দশ বছর ধরে বাংলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে নিয়মিতভাবে লুটতরাজ চালাত বর্গিরা। বর্গিহানা এই সময় একপ্রকার বাৎসরিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।

দশ বছরের মতো বর্গিরা নিয়মিত বাংলায় লুটতরাজ চালায়। সমসাময়িক ঐতিহাসিকগণ বর্গিসন্ত্রাস এবং বর্গিদের অতর্কিত আক্রমণ পদ্ধতির সামনে নবাব বাহিনীর অসহায়তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন।

মারাঠি বর্গিরা অভিযানে যাওয়ার সময় কেবলমাত্র একটি সাত হাত লম্বা কম্বল ও বর্শা নিয়ে বের হত। এই বর্শাকে মারাঠি ভাষায় বলা হত বরচি। এই নাম থেকেই ধনগররা বারগির বা বর্গা ধনগর বা বর্গি নামে পরিচিত হয়।

মারাঠা জাতির রক্তের ইতিহাসে মিশে আছে গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসঃ

যেহেতু মারাঠারা প্রধানতঃ ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের অধিবাসীদের অন্তভূক্ত। যারা এখনও ইতিহাসে “মারাঠা বর্গী” নামে পরিচিত। সেহেতু ভারতের ইতিহাসে এ অঞ্চলের মানুষদের রক্তের সাথে “বিশ্বাসঘাতকতার” ইতিহাস মিশে আছে। তাই কখনো কখনো ভারতবর্ষের এ অঞ্চলের কোন কোন মানুষদের বড় বড় বিশ্বাসঘাতকতার কাজে জড়িত হবার দৃষ্টান্তও ইতিহাসে দেখা যায়। যেমনটি ধরুন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা। গুজরাটের আদি অধিবাসী। ভারতবর্ষের ইতিহাসে মুসলমানদের নিধন ও অত্যাচারের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর নাম নরেন্দ্র মোদি। তার সময়ে সবচেয়ে ভারতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানরা। ভারতের আাদালত ব্যাবহার করে একের পর পর মুসলিম ও কোরান বিরোধী আইন পাশ করে নিচ্ছে। কোরানের আইন তিন তালাক প্রথা রোধ করা হয়েছে। কোরান ও সুন্নাহ বিরোধী সমকামিতাকে বৈধ করা হয়েছে। বৈধতা দেওয়া হয়েছে পরকীয়া প্রেমের। ভারতের বাবরি মসজিদের অধিকার থেকে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে আইন পাশ করানো হয়েছে, আদালত দিয়ে বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত রায়ে বলানো হয়েছে, নামাজ পড়তে মসজিদের প্রয়োজন নাই। মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া রোধে গো-হত্যা আইনের নামে মুসলমানদের উপর জুলুম করা হচ্ছে।

পাঠক হয়তো চিন্তা করছেন, ইজতেমা বিষয় রিপোর্ট করতে যেয়ে কেন এসব অপ্রাসঙ্গিকতা? এর সবই প্রাসঙ্গিক। এবার আসা যাক আসল বিষয়েঃ

ভারতের হিন্দু প্রধানমন্ত্রী মিঃ নরেন্দ্র মোদি ঐ যুগে ভারতবর্ষের মারাঠা বর্গীর প্রধান ও আধ্যাত্মিক নেতা শিবাজীর “মারাঠা বর্গী”দের উদ্দেশ্যে দেওয়া শিক্ষাটি যথাযথ ভাবেই রপ্ত করেছেন, আর তা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা অর্থাৎ “মুসলমান হিন্দুর শত্রু”। আর যে কারনে দুনিয়াজুড়ে মুসলিম নিধন সহ ভারতের রাজধানী দিল্লীর অতি নিকটেই শত বছর আগে গড়ে ওঠা সারা দুনিয়ায় মুসলমানের এক হওয়ার সংগঠন নিজামুদ্দিন বস্তির “তাবলীগ জামাত” ধবংসে মরিয়া ভারতের হিন্দু সরকার ও তার দোসর ইসরায়েলের টাকায় বাছাই কৃত “বর্গির দল” আজ ভারতবর্ষ সহ দুনিয়াজুড়ে বিশেষ এক মিশনে নেমেছে

বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে অনেক অনেক বিভক্তি। মুসলিম উম্মাহ অনেক বড় আর বিস্তৃত। হাজারো মত পথ, আন্দোলন, সংগঠন, জামাত উম্মতের মধ্যে বিদ্যমান। আর এই সমস্ত বৈচিত্রকে গ্রহণ করে সারা দুনিয়ার চার মাযহাবের সমস্ত উম্মতকে নিয়ে চলনেওয়ালা এক মোবারক সংগঠন তথা একটি ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল জামাত হলো “তাবলীগ জামাত”।

সারা দুনিয়ায়জুড়ে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল বৃহত্তর এই মোবারক জামাতের সংগঠনটি ধ্বংস করাই মুসলিম বিরোধীদের প্রধান টার্গেট। আর এ জন্য “মুসলিম বিরোধী বিশেষ চক্রটি” এই সংগঠনের মধ্যে থেকে কিছু নিবেদিত প্রাণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে এই সংগঠন থেকে বের করে এবং সংগঠনটির বিকল্প হিসাবে বিরোধী একটি বিশেষ দলকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। যারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে পাকিস্তানে গঠিত হয় আসল দাওয়াতে তাবলীগের প্রতিষ্ঠান “তাবলীগ জামাত” বিধ্বংসী “আলমী শুরা”। বিশ্বব্যাপী ঘোষনা করা হয়, “মারাঠা বর্গী” মহারাষ্ট্র গুজরাটের অধিবাসী নিজামুদ্দিনের পুরাতন মুরব্বি “আহমদ লাট” নিজামুদ্দিন থেকে বেরিয়ে গেছে। তাই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আর এক বর্গীদেশ “পাকিস্তানের” সহায়তায় গঠন করা হয় ফেতনায়ে খবিসা “আলমী শুরার”। আর এ কাজে প্রকাশ্য সহায়তা করে ভারতের “দারুল উলুৃম দেওবন্দ”। আর বিশ্বাসঘাতক ভারতের মারাঠি-গুজরাটি ” আহমেদ লাট”, ইব্রাহিম দেওলা, পাকিস্তানের বর্গীনেতা মাওলানা ফাহিম-খুরশিদ-তারিক জামিল, বাংলাদেশের দেশীয় বর্গী ড.আওয়াল-করি যোবায়ের গং-হেফজতি শফি-মাহফুজ গং, দওয়াতুল হকের মাহমুদুল হাসানদের দায়িত্ব দেেওয়া হয় তাবলীগ ধ্বংসের।      

পাঠক পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা। গুজরাটের আদি অধিবাসী। ভারতবর্ষের ইতিহাসে মুসলমানদের নিধন ও অত্যাচারের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর নাম নরেন্দ্র মোদি। তার সময়ে সবচেয়ে ভারতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানরা। ভারতের আাদালত ব্যাবহার করে একের পর পর মুসলিম ও কোরান বিরোধী আইন পাশ করে নিচ্ছে। কোরানের আইন তিন তালাক প্রথা রোধ করা হয়েছে। কোরান ও সুন্নাহ বিরোধী সমকামিতাকে বৈধ করা হয়েছে। বৈধতা দেওয়া হয়েছে পরকীয়া প্রেমের। ভারতের বাবরি মসজিদের অধিকার থেকে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে আইন পাশ করানো হয়েছে, আদালত দিয়ে বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত রায়ে বলানো হয়েছে, নামাজ পড়তে মসজিদের প্রয়োজন নাই। মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া রোধে গো-হত্যা আইনের নামে মুসলমানদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। গত ২০১৬ থেকে এতগুলো মুসলিম বিরোধী আইন পাশ করানো হয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের ” দারুলউলুম দেওবন্দ” কি একটি ফতোয়াও ইস্যু করেছে? অথচ এই মোদী সরকারের দালাল, মোদীর একান্ত ঘনিষ্ঠ কতিথ মুফতি “ওজাহাত কাসেমী” দিয়ে বিশ্ব আমীরের বিরুদ্ধে কাট-পিস বয়ান নিয়ে “ফতোয়া” নামক বান দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলমানদের জামাত “তাবলীগ জামাত” ধ্বংসের পথে বর্গীদের সাথে হাত মিলালো “দারুলউলুম দেওবন্দ”।

(ছবি ওজাহাত কাসেমী)

ফেতনার ইজতেমায় অবশেষে ঢাকায় মারাঠা গুজরাটি বর্গী আহমেদ লাট সহ পাকিস্তানি বর্গীদের দলঃ

(ছবি মারাঠা গুজরাটি আহমদ লাট)

কথা রাখেনি সরকার। সরকারের সমথর্ন ও হেফাজত ইসলামের মোড়কে আন্তজার্তিক ভাবে স্বীকৃতি পেল “ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরা”।

ফেতনার ইজতেমায় অবশেষে ঢাকায় পৌঁছিয়েছে মারাঠা গুজরাটি বর্গী আহমেদ লাট, পাকিস্তানি বর্গী মাওলানা খুরশিদ।

ফেতনার ইজতেমার মাঠ ভরাট করা হয়েছে মাদরাসা পড়ুয়া দেশীয় হেফাজতি মারাঠা বর্গী দিয়ে। মারাঠি বর্গিরা অভিযানে যাওয়ার সময় কেবলমাত্র একটি সাত হাত লম্বা কম্বল ও বর্শা নিয়ে বের হত। আর এখন দেশীয় হেফাজতি বর্গীরা মারাঠা বর্গীর আদলে লেখাপড়ার পরিবর্তে সাত হাত লম্বা বাঁশ নিয়ে ঘুরে আর মাথার লম্বা পাগড়িকে ব্যাবহার করে।

আর বিদেশ থেকে ফ্রি বিমানের টিকিট দিয়ে ফেতনার ইজতেমার মাঠে আনা হয়েছে কয়েকজন বিদেশি বর্গী।

সরকারের পুলিশ মন্ত্রী ও রিলিজিয়াস মন্ত্রীর কুটকৌশলে প্রকৃত কোন বিদেশি ইজতেমার মাঠে নেই। যেখানে মূলধারার তাবলীগের ইজতেমা ২৫-৩০ হাজারের বেশি বিদেশি মেহমান শরিক হন, সেখানে বিশ্ব আমীরের অনুপস্থিতিতে ও নিরাপত্তার আশংকায় বিদেশি মেহমানদের আসার ভাঁটা পড়েছে। মুখ তুবড়ে পড়েছে দীর্ঘ দিনের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য “ওয়ার্ল্ড ইজতেমা”। সম্মিলিত ভিনদেশী ও দেশীয় বর্গী বাহিনীর ছোবলে আজ হেদায়েতের পূণ্য ভূমি ” তুরাগ নদীর পাড়”।    

 

 

Advertisements

মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের উপর হেফাজতের উপর্যুপরি তান্ডবের ফলে, আসন্ন ইজতেমা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যে সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগের এক আদেশ জারী।

Photo_1549900323612.png

আসন্ন ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইজতেমা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যে দিয়ে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজনৈতিক অধিশাখা-৬, অদ্য এক বিশেষ আদেশ জারী করে।

গত ১ বছর যাবত জঙ্গি গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের উপর্যুপরি সন্ত্রাসী হামলায় দেশে দাওয়াতে তাবলীগের নিরীহ অনুসারীগন, তাদের মসজিদ আবাদী মেহনতে দারুণ ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের মোড়কে পাকপন্থি “আলমী শুরারা” একের পর এক মসজিদ ও মারকাজ দখল, দেশী-বিদেশী জামাতকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া, ওজাহাতি জোড়ের নামে তাবলীগের জেলায় জেলায় ইজতেমাতে বাঁধা, খুন-জখম সহ নানা ভাবে হয়রানি করে চলেছে।

সরকারের স্বরাষ্ট্র ও রিলিজিয়াস মন্ত্রীর সরাসরি ইন্ধনেই এ সকল অন্যায় কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরা। অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরা সাংবাদিক সম্মেলনসহ নানাভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অবশেষে অদ্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগ এক অফিস আদেশ জারী করে। তাবলীগের দেশী-বিদেশী অনুসারীরা যেন সকল রকম “হেফাজতি” হয়রানি থেকে নিরাপদে ইজতেমায় শরিক হতে পারে, তার জন্য এমন আদেশ জারী হয়েছে।

নিজামুদ্দিনের আবিস্কার করা “ইজতেমা” শব্দটির ছিনতাই | অতঃপর যএতএ অপপ্রয়োগ | হেফাজতের মোড়কে ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরার পর এটির অপব্যবহারে মরিয়া “হেফাজতি” ও “কাদিয়ানী” সম্প্রদায় |

নিউইয়র্ক থেকে শেখ জামান।

ইজতেমার ঐতিহাসিক পটভূমিঃ

ইজতেমার ঐতিহ্যটি দাওয়াতে তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস আল-কান্দলভী (রহ.) তার দিল্লি, নিজামুদ্দিন মার্কাজের থেকে শুরু করেছিলেন। তাঁদের পরিবার আরবের ‘সিদ্দিক’ বংশধারার অন্তর্ভুক্ত।

মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদভি, মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) জীবনী লিখতে যেয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৩০-এর দশকে মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস আল-কান্দলভী (রহ.) মেওয়াতে প্রথম বার্ষিক ইজতেমা করেন এবং তাদের ইজতেমার জন্য এটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) নিয়মিত এই ইজতেমাগুলিতে অংশ নিতেন।

প্রথম বৃহত্তর ইজতেমা গৌরগান জেলার নূহে (অফিসিয়ালি মেওয়াত, হরিয়ানা রাজ্য) ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর ১৯৪১ (সূএঃ নদভি, ২০০৬: ১১৮) থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য প্রথম একটি ইজতেমা ছিল। নাদভির লেখা বই (২০০৬ সূএ) অনুসারে, ওই ইজতেমাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। এই ইজতেমা অনেক উপায়ে সফল হয়েছিল, বিশেষ করে এই ইজতেমা থেকেই প্রথম ভারতে একাধিক জামাত বের হবার ইতিহাস শুরু হয়েছিল। ঐ সময় ভারতের খোরজা, আলীগড়, আগ্রা, বুলন্দ শহর, মীরাথ, পানিপথ, সোনাইপথ ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় অনেক জামাত পাঠানো হয়েছিল। যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই ইজতেমা থেকে ভারতের বাইরে প্রথম তারা পাকিস্তানের করাচিতে একটি জামাত পাঠিয়েছিল।

এর পর ভারতের বাইরে, নিজামুদ্দিন মারকাজের পরামর্শে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশে) প্রথম ইজতেমা ঢাকায় ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একই বছর পরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার খুলনায় আরেকটি বিশাল ইজতেমা আয়োজন হয়েছিল। তখন থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) নিয়মিতভাবে প্রতি বছর ইজতেমা আয়োজন হয়ে আসছে। ঐ সময়ে, লালবাগ শাহী মসজিদ বাংলাদেশের তবলীগ জামায়াত কেন্দ্র ছিল। স্থান সীমাবদ্ধতার কারণে, লালবাগ শাহী মসজিদ থেকে কাকরাইলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বাংলাদেশে তাবলীগ জামায়াতের ১৯৫৪ সালের প্রথম ইজতেমাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। তবে, ১৯৬৫ সাল নাগাদ কাকরাইল মসজিদ ইজতেমার জন্য খুব ছোট হয়ে উঠেছিল। অতএব, তখন ইজতেমার জন্য একটি নতুন জায়গা সম্পর্কে চিন্তা করতে হয়েছিল। একই বছরে ঢাকার টঙ্গীতে ভেন্যু স্থানান্তর করতে হয়েছিল। তারপর থেকেই তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর নিজামুদ্দিনের পরামর্শে নিয়মিত টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন করে আসছে।

ফেতনাবাজ আলমী শুরা কতৃক ইজতেমা ছিনতাইঃ

২০১৫ সালে পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজে “আলমী শুরা” গঠনের পর, এর পরামর্শে নিজামুদ্দিন মারকাজ দখলে বিফল হয়ে “আলমী শুরা” পন্থীরা “ইজতেমা” দখলের নীলনকশা প্রনয়ণ করে। যারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বে সর্ব প্রথম নিউইয়র্কে নিজামুদ্দিনের মারকাজ ” মসজিদ আল-ফালাহ” দখল হয় ২০১৬ সালে। এবং তাদেরই প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে আমেরিকার “পেনসিলভানিয়া” তে ঘরোয়া পরিসরে বিশ্বে প্রথম ফেতনার হাইজ্যাক “ইজতেমা” অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলমী শুরার প্রথম সারির নেতা মাওলানা ইব্রাহিম দেওলাকে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। আলমী গুরু আমেরিকা প্রবাসী ড. আওয়ালের এই সফলতায়, পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজের পরামর্শে তাকে ২০১৭ সালে ঢাকার বিশ্ব ইজতেমা দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারই প্রচেষ্টায় এ বছর “হেফাজতের মোড়কে” সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বিশ্বে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজামুদ্দিনের “ইজতেমা” হাইজ্যাক হয়। সরকারী সহায়তায় যার সফল সমাপ্তি জন্য ফেব্রুয়ারির ১৫ ও ১৬ তারিখের অপেক্ষা করতে হবে। তারা নিজামুদ্দিন মানে না, অথচ নিজামুদ্দিনের ইজতেমা ছিনতাই করে কি প্রতিষ্ঠা করতে চায়? কি তাদের উদ্দেশ্য? তারা কি “ইজতেমার” অপপ্রয়োগ করছেন না? ছিনতাই করে অপরের ধনে সাময়িক ধনী হওয়া যায়। ময়ূরীর পেখম লাগিয়ে কাক কখনো ময়ূর হতে পারে না। আলমী শুরার বাংলার খলনায়কগন যতই “হেফাজতি মোড়কে” প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করেন না কেন, আল্লার রহমত হকের সাথেই ইনশাআল্লাহ।

“হেফাজতি” ও “কাদিয়ানী” ভাই ভাই। ছিনতাই করা ইজতেমার অপপ্রয়োগ বন্ধ চাই।

ইসলামের দুষমন পান্জাবের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মিথ্যা নবুয়তের দাবী করে খতমে নবুওয়তকে অস্বীকার করেছে। তার অনুসারীরা আহমদীয়া মুসলিম জামাত নাম দিয়ে কাদিয়ানী মতবাদ সৃষ্টি করে সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করছে। পাকিস্তানেই হলো কাদিয়ানীদের মূল আস্তানা। ওখান থেকে এ সম্প্রদায়ের বিশ্বব্যাপী আন্দোলন ও প্রতিপালনের কাজ পরিচালিত হয়।

ঠিক একই ভাবে “আলমী শুরার” উৎপত্তি পাকিস্তানে। তাদের কাজও মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়া। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “হেফাজতি” সম্প্রদায়ের আশ্রয়ে পাকপন্থি “আলমী শুরা”। হেফাজতি সম্প্রদায়ের মুসলমানদের ধারনা হেফাজত ছাড়া অন্য মতের মুসলমানরা মুসলমানই না। সম্প্রতি তাবলীগের মূলধারার অনুসারীদেরকে তারা অমুসলিম ও কাফের আখ্যা দিয়েই চুপ থাকেননি, রীতিমতো ধমীয় কাজে তাদের বাধা প্রদান, মসজিদে তালা, খুন-জখম সহ নৃশংসভাবে জুলুম করছে। তাদের চরিত্র, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের থেকেও জঘন্য। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতো আজ তাদেরও অমুসলিম ঘোষনা করা সময়ের দাবী।

ইসলাম বিশেষ কোনো জাতি বা জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর নাম নয়। কিন্তু আমরা দেখছি, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতো দেশে “হেফাজতি” সম্প্রদায়ের অশুভ উত্থান।

হেফাজতি মোড়কে “আলমী শুরার” ইজতেমার আদলে দেশে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আগামী ২২,২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি এ ইজতেমা করার ঘোষনা দিয়েছে।

পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের ইজতেমা বন্ধে সরকার যদি পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে সরকার কেন নিজ উদ্দেগ্যে পাকিস্তানী “আলমী শুরার” ইজতেমা বন্ধে ভয় পায়?

কিন্তু সরকার করছে উল্টো। দেশের নব্য জঙ্গি গোষ্ঠী “হেফাজতি” শক্তিকে সরকারও ভয় করে। যেটা জঙ্গি নেতা মামুনুল হকের কথায় ফুটে উঠেছে। তারপরও সরকারকে বলি, জঙ্গিদের এ সকল জঙ্গিবাদ বন্ধ না করলে একদিন এরা আপনারই অস্তিত্বই ধ্বংস করে দিবে। দেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের রক্ষা করা সরকারেরই দায়িত্ব।

ফিতনা ইজতেমা নিয়ে হেফাজতি গুরু “শফির” ম্যাসেজঃ

IMG-20190209-WA0032.jpg

মূলধারার তাবলীগের পক্ষ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ।

Photo_1549587355778.png

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ টঙ্গী ময়দানে আসন্ন ইজতেমার বিষয় নিয়ে মিডিয়ার কাছে ১০ সিদ্ধান্ত বিষয়ক বক্তব্যের ৯ নম্বর সিদ্ধান্তটি “অপ্রাসঙ্গিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়। ইজতেমার সাথে যুক্ত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ১০ দফা যৌথ চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, মূলত টঙ্গী ময়দানে সুষ্ঠুভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। সেখানে “বিদেশি মেহমান কারা আসবেন বা আসবেন না”-তা ঐ বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল না। তাছাড়া ইজতেমায় মাওলানা সাদ সাহেবের না আাসার ব্যাপারে কোন মন্ত্রণালয়ের কোন সরকারি সিদ্ধান্ত হয় নাই, বরং তাবলীগের বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ সাহেবকে ইজতেমাতে আসার ব্যাপারে দাওয়াত প্রদান করা হলে তিনি জানান, “বাংলাদেশে আসার বিষয়ে কোন সম্মানজনক পরিবেশ তৈরী না হলে তিনি আসতে আগ্রহী নন।”

হেফাজত ইসলামকে খুশি করার জন্য এটি মন্ত্রীর নিজস্ব মতামত বলে মনে করা হয়।

“বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ” আসন্ন ইজতেমায় অংশ নিবে না মর্মে ইজতেমার সাথে যুক্ত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ১০ দফা যৌথ চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। যার ভিডিও সংযুক্তঃ

 

টঙ্গী ইজতেমা | এ যেন আর একটি রায়বেন্ড ইজতেমা | একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ | সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশে পাকপন্থি আলমী শুরার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ীঃ শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে। 

আসুন জেনে নিই গোড়ার কথা, কিভাবে শুরু হয়েছিল আলমী শুরার ফেতনার ইতিহাসঃ

যদিও “আলমী শুরার” প্রথম উৎপত্তি ২০১৫ সালে পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে। তথাপিও প্রথমদিকে পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশের কোথাও তাদের কোন সফলতা আসে নাই। সারা দুনিয়ায় কোথাও এখনও অবধি খোলামাঠে বড় পরিসরে একটিও বড় ইজতেমা করার ইতিহাস ফেতনাবাজ “আলমী শুরার” ইতিহাসে লেখা হয় নাই। এমনকি রায়বেন্ড মারকাজেও নেই। আর আলমী গুরু আহমদ লাট ও ইব্রাহিম দেওলার পূন্যভূমি খোদ ভারতের মাটিতেও তাদের কোন ঠাঁই নেই।

এমনকি তাদের কোন সুনির্দিষ্ট মারকাজও নেই। সম্প্রতি তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে মারকাজ নিয়ে টানাপোড়েন। ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশে তাদের “নেরুল মারকাজ” নাকি পাকিস্তানের “রায়বেন্ড মারকাজ” তাদের কেন্দ্রীয় মারকাজ হবে এনিয়ে শুরু হয়েছে “আলমী শুরার” ভারত ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের কোন্দল। যেকারনে গত বছরের শেষেরদিকে রায়বেন্ড মারকাজে ভাই আবদুল ওহাবের মৃত্যুর পরও জানাজায় অংশ নিতে যাননি আলমী শুরার প্রধান নেতা আহমদ লাট বা ইব্রাহিম দেওলার কেউই।

তাছাড়া সম্প্রতি পাকিস্তানে ভাই আবদুল ওহাবের মৃত্যুর পর কাজ্জাব ফাহিম ও মাওলানা তারিক জামিলের মধ্যে শুরু হয়েছে কোন্দল। কাজ্জাব ফাহিমের পছন্দ মতো আমীর নিযুক্ত করা হয়েছে রায়বেন্ড মারকাজে, যে আমীর কিনা কথিত শুরা সদস্যের অন্তভূক্ত নন। সারা পাকিস্তান জুড়ে ভেঙে গেছে “আলমী শুরার” অস্তিত্ব। হক আলেম সমাজ এগিয়ে এসেছে পুরাতন নিজামুদ্দিনের মেহনতকে আগের অবস্থানে নিতে।

অথচ ভিন্ন চিএ বাংলাদেশে। আসন্ন বাংলাদেশ ইজতেমাটি দিয়েই হয়তো বাংলাদেশ সরকার তাদের ইতিহাসে জায়গা করে দিচ্ছে। অথচ প্রতিদিন পৃথিবীর কোথাও থেমে নেই নিজামুদ্দিন অনুসারীদের ইজতেমা। দুনিয়া জোড়া হাজারো বড় বড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাধিক দেশে। সেই ১০০ বছরের পুরনো ধারায় নিজামুদ্দিনের তরতিবে ও নিজামুদ্দিন আলমী মারকাজের আমীরের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে বাধাহীন অতিক্রম করে চলছে এ বিশাল মেহনতটি। কোথাও কোন সরকারি হস্তক্ষেপের নজির নেই। এমনকি পাকিস্তানেও নেই। আর ভারত সরকারতো রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে “বুলন্দ শহর” ও “আওরঙ্গবাদ” এর মতো গ্রিনিচ বুকে নাম ওঠানোর মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমাবেশ নামক ইজতেমার নিরাপত্তা দিতে।

পৃথিবীতে ফেতনাবাজ ” আলমী শুরার” ছোট্ট পরিসরে আনুষ্ঠানিক ও প্রথম সফলতা আসে আমেরিকার নিউইয়র্ক থেকে।

আলমী শুরা, আলমী মারকাজ, আলমী ফিতনা, আলমী বিদ্রোহী ইত্যাদির ঠিকাদারি বাঙালী ড. আওয়ালকে গত আনুমানিক ৩ বছর আগে আমেরিকার নিউইয়র্কে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জন্য দেওয়া হয়েছিল। যখন থেকে আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়েছিল, তখন থেকে আমরা নিউইয়র্কবাসী দাওয়াতের সাথীরা একটি বিশেষ স্লোগান আলমী গুরু ড. আওয়ালের মুখে খুব বেশী শুনতে পেতাম, স্লোগানটি ছিল, “এ কাজ মিলেমিশে করতে হবে। আসুন আমরা মিলেমিশে দাওয়াতের কাজ করি।” যদিও এ স্লোগানটি ছিল ধোঁকা। যা সম্প্রতি গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের মুখে একাধিকবার শোনা যায়। অবশেষে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে যার সফলতা গড়ায় ফেতনাবাজ “আলমী শুরার” ঘরে।

এই ফেতনার মেহনত শুরুর পর দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে ভালবাসা, মহব্বত ও যোগাযোগ কমতে শুরু করেছে। মাসওয়ারার আগে ও পরে মাসওয়ারা না করার বিধান রসূল(সাঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত। যা দাওয়াতে তাবলীগে সব সময় চলে আসছে। এর ফলে দাওয়াতে তাবলীগে সামান্য ৩ দিন সময় দিয়ে এক নতুন সাথীর দিলও আল্লাহতালার রহমতে পরিবর্তন হয়, তার দিলে অচেনা আর এক সাথীর জন্য ভালবাসা, মহব্বত পয়দা হয়। অথচ যখন গত ৩ বছর আগে প্রথম নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড প্রথম আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়, তখন অবস্থা দেখা গেল আইয়ামে জাহেলিয়াত এর যুগ এসেছে। নিউইয়র্কে নিযামুদ্দিনের মারকাজ “মসজিদ আলফালাহ” রাতারাতি বনে গেল আলমী ফেৎনার প্রথম ওয়ার্ল্ড মারকাজ। মসজিদ আলফালায় তরতিবের বাইরে মাসওয়ারার আগে-পরে মাসওয়ারা। নিউইয়র্কের ব্রনক্স, ওজোনপার্ক, কুইন্স এলাকার সদ্য আলমী শুরা বনে যাওয়া দাওয়াতের সাথীগন নিযামুদ্দিনের অনুসারী বলে চলা সাথীদের সহিত এক মসজিদে একই কাতারে পাশাপাশি দাড়িয়ে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিল। ভালবাসার পরিবর্তে মুসলমানে, ভাইয়ে-ভাইয়ে ঘৃনা শুরু হলো। বক্তব্য- পাল্টা বক্তব্য, মারকাজ দখল তথা মসজিদ দখল, হিংসা, চোখরাঙানী, গীবত, মিথ্যাচার ইত্যাদি হয়ে উঠলো নিত্য দিনের আমল। মুখথুবড়ে পড়ল ১০০ বছরের মোবারক মেহনত। তরতিবের বাইরে আগাছার মতো আলমী শুরা ঘরনার নতুন মারকাজ হিসাবে খ্যাতি পেল ব্রনক্স সেন্ট পিটারসের “বাইতুল মামুর” মসজিদ, যেখানে আলফালাহর মতো অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হলো নিযামুদ্দিনের সাথীদের।

আমেরিকা প্রবাসী এই ড. আবদুল আওয়াল ই সারা দুনিয়াতে প্রথম ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক এর মারকাজ দখল করেন এবং ২০১৭ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় আলমী শুরার ছোট্ট পরিসরে প্রথম ঘরোয়া এস্তেমা করেন। যেখানে ভারতের ইব্রাহিম দেওলাকে আনা হয়।

২০১৬ এর সফলতার পর এই ড. আওয়াল ২০১৭ এর ওয়ার্ল্ড এস্তেমায় মাওঃ সাদ সাহেবের ঢাকায় আগমন ঠেকাতে এক মিশনে নামেন, যেটা বিফল হওয়ায় আবারও ২০১৮ তে হেফাজত, দাওয়াতুল হক ও খেলাফত মজলিশকে কাজে লাগিয়ে মাওঃ সাদ সাহেবকে ঢাকা ত্যাগে বাধ্য করেন। আমরিকা প্রবাসী এই ড. আওয়ালকে নিয়ে দাওয়াতে তাবলীগের মাঝে হাজারো রহস্য। নিউইয়র্ক এ দাওয়াতুল হকের মুফতি জামালুদ্দিন ও মুফতি রুহুল আমিনকে কাজে লগিয়ে ২০১৬ সাল থেকে নিউইয়র্ক সহ বাংলাদেশে এই মোবারক মেহনত ধবংসে তার ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাবলীগের মেহনতের বাইরের অনেক আলেমকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আলমী শুরার ব্যানারে এনে ওলামাদের দল ভারীতে কূটকৌশলের আশ্রয় নেন।

যেভাবে বাংলাদেশে এ মেহনত ধ্বংস শুরু হলোঃ

গত বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারি ২০১৮ থেকেই খোদ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তথা জনাব আসাদুজ্জামান খাঁন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্লপ্ত ভূমিকায় বাংলাদেশে মূলধারার তাবলীগ নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছে ৭১ সালের পরাজিত হানাদার দখলদারদের দোসর “হেফাজত ইসলাম” এর ভন্ড তেঁতুল হুজুর খ্যাত শফি, তার অনুসারী ওলামা-আস-সূ ফয়জুল্লাহ, খেলাফত মজলিশের ওলামা-আস-সূ মাহফুজুল হক, তার সহোদর বাংলার বিড়াল খ্যাত ওলামা-আস-সূ মামুনুল হক, ফতোয়াবাজ ওলামা-আস-সূ মুনসুরুল হক, আবদুল মালেক, চটি বাবা ওলামা-আস-সূ ওবায়েদুল্লাহ ফারুক, ওয়াজ মাহফিলের নামে লন্ডন -আমেরিকা চষে বেড়িয়ে নিজ পকেট ভারীতে পারদর্শী জর্দাপুরী খ্যাত ওলামা-আস-সূ ওলিপুরী গং। যারা স্ব-ঘোষিত পাকি আলমী শুরার বাংলার মীরজাফর হেভিওয়েট ওলামা-আস-সূ যোবায়ের গংদের শক্তিশালী করার এক মিশন নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছে। আর এদের সকলের পিছনে রয়েছে অদৃশ্য এক শক্তি। যে অদৃশ্য শক্তি পৃথিবী জুড়ে এই মোবারক মেহনত ধবংসের খেলায় মেতে উঠেছে।

যারই ধারাবাহিকতায় অদৃশ্য শক্তি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ এর বর্তমান প্রধানকে ব্যাবহার করে। ভারতের মোদী সরকারকে ঘনিষ্ট ওলামা-আস-সূ মুফতি খ্যাত কাজ্জাব “ওজাহাত কাসেমী” কে দিয়ে তাবলীগের বিশ্ব আমীর হযরত মাওলানা সাদ সাব দাঃবাঃ এর বিরুদ্ধে কাটপিস বয়ান দিয়ে ফতোয়া চেয়ে এই মোবারক মেহনতের ধবংসের সূচনা করে।

অদৃশ্য শক্তি পাকিস্তানের কতিপয় ওলামা-আস-সূ ও ভারতের গুজরাট এর জনাব আহমদ লাট কে তাদের আইডল হিসাবে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করলেও, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজ দখলে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন কৌশল খুঁজতে থাকে। এমনকি পাকিস্তানেও তারা সুবিধা করতে না পেরে, ভারত ও পাকিস্তানের পর তারা বাংলাদেশ কে বেছে নেয়।

বাংলাদেশ কে ব্যাবহারে অদৃশ্য শক্তি প্রথম খুঁজে পায় নিউইয়র্ক শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ডিজিটাল আাই,ডি প্রোজেক্টের উপদেষ্টা, পরীক্ষিত তাবলীগের সাথী, সাবেক আমেরিকার নাসার প্রকৌশলী, বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকদের একজন জনাব ড. আবদুল আওয়াল সাহেবকে।

নিউইয়র্ক শহরে তাবলীগের সাথীদের খুবই কাছের মানুষ ছিলেন এই ড. আওয়াল। একই সংগে দাওয়াতের কাজের সুবাদে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। তাছাড়া ড. আওয়াল Bangladesh Youth Environmental Initiative (BYEI) এর Advisory Board এর সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে রয়েছে সখ্যতা। এ সকল বিষয় বিবেচনায় অদৃশ্য শক্তি ড. আওয়ালের সহায়তায় প্রথম সফলতা পায়। শুরু হয় বিশ্ব ব্যাপী আলমী শুরার অফিসিয়াল সফলতা। পৃথিবীর মধ্যে প্রথম নিউইয়র্ক শহরের মারকাজ দখলের মধ্য দিয়ে ফেতনা বাজ আলমী শুরা তাদের কব্জায় নেয় নিজামুদ্দিনের মারকাজ মসজিদ ” আল-ফালাহ”। ২০১৭ সালে পৃথিবীর প্রথম আলমী শুরার সফল ইজতেমাও করেন এই ড. আওয়াল আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া, যেখানে মাওঃ ইবরাহীম দৌলা সাহেবকে ভারত থেকে আনা হয়। ২০১৭ সালে কানাডার অন্টারিও তে পাকিস্তানের মাওঃ তারিক জামিল সাহেবকে দিয়ে আলমী শুরার প্রথম সফল জোড় করান এই ড. আওয়াল। একের পর এক সফলতার পর ড. আওয়ালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গীর মাঠ দখল ও বিশ্ব ইজতেমায় আমীর মাওঃ সাদ সাহেবের বাংলাদেশ আগমন ঠেকানোর।

ড. আওয়াল আমেরিকার নিউজার্সির একজন সিনেটর এর চিঠি ব্যাবহার করে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমায় আমীর মাওঃ সাদ সাহেবের ভিসা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্ত ভিসা বন্ধ করতে না পারায় ড. আওয়াল ঐ বছরই হেফাজত আমীর শফি সাহেবের সাথে দেখা করেন। এবং তার নিজ ছেলের পক্ষের আত্মীয় খেলাফত মজলিশের মাহফুজুল হক ও মামুনুল হকদের সহ হেফাজত নেতাদের সাথে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা বন্ধ করার জন্য একাধিক কৌশল নেন। যেটা ২০১৭ বিশ্ব ইজতেমার পর আমেরিকা ফিরে মসজিদ আল-ফালাহ তে নিজ মুখে বয়ান করেন। এ কাজে নিউইয়র্ক শহরের দাওয়াতুল হকের মুফতি জনাব জামাল উদ্দিন তাকে সহায়তা করেন। আর একই সময়ে দাওয়াতুল হকের বাংলাদেশের আমীর মাহমুদুল হাসান সাহেবকেও ব্যাবহার করেন। জানা যায়, জনাব মাহমুদুল হাসান সাহেব ও নিউইয়র্ক এর মুফতি জামাল উদদীন পরস্পর আত্মীয়। আর অন্যদিকে খোদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পীর সাহেব হলেন জনাব মাহমুদুল হক সাহেব।

ইত্যাদি বিষয় কাজে লগিয়ে ২০১৭ সালের বিফলতা ২০১৮ সালের সফলতা বয়ে আনে। রাতারাতি হিরো বনে যান আলমী গুরু ড. আওয়াল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাজে লাগিয়ে ভারতে ফিরিয়ে দেন ওয়ার্ল্ড আমীর মাওঃ সাদ সাহেবকে।

দেওবন্দ এর মুফতী আবুল কাসেম বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেন যে, “আমরা মাওলানা সাদ সাহেবের রুজুর উপরে সন্তুষ্ট নই এবং তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে প্রান্ত সীমায় আছেন। তাই আপনাদের দায়িত্ব তাঁকে টঙ্গী ইজতেমায় বাধা দেয়া।” এর উপরে ভিত্তি করেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাওলানা সাদ সাহেবকে ফেরত পাঠানো হয়।

মাওলানা আরশাদ মাদানী সম্পূর্ণ ব্যাপারে মুফতী আবুল কাসেম সাহেবকে পূর্ণ সমর্থন দেন। তিনি ভারতেই অবস্থান করতে থাকেন, তবে তাঁর ভাই মাওলানা আসজাদ মাদানীকে বাংলাদেশে পাঠান। এবং বিভিন্ন মজমাতে হাজির হয়ে সাদ সাহেবের বিরোধীদের সহযোগিতার (মাওলানা সাদ সাহেবের আগমন বাধাগ্রস্থ করা) দায়িত্ব দেন।

এছাড়া বাংলাদেশের মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের রাস্তায় নামাতে তিনি তাঁর ভাইকে ব্যবহার করেন।

এই সকল ধারাবাহিকতায় আলমী শুরা “ওজাহাতি জোড়ের” নামে মাদ্রাসার ছাএদের দিয়ে একের পর এক মসজিদ, মারকাজ দখল শুরু করে। কাকরাইল মারকাজে মাওঃ যোবায়ের ও সৈয়দ ওসিফুল ইসলাম কে নিষিদ্ধ করলেও, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ পাহারায় মাওঃ যোবায়ের কে কাকরাইল মসজিদে আসা যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। একের পর এক বাধার মুখেও সরকারের উচ্চ মহল, তাবলীগের মূলধারার সাথীদের সহযোগিতা না করে, উৎসাহিত করতে থাকে হেফাজতের ছএছায়ায় থাকা আলমী শুরাদের।

এমতাবস্থায় ধর্ম মন্ত্রণালয় গত বছরে একটি সুন্দর পরিপএ জারী করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরদিন পরিপএটির অকাল মৃত্যু ঘটে। কাকরাইলে জ্যামার বসানো সহ মূলধারার শুরাদের মারপিটের বিষয়েও সরকারের নিরবতা জাতিকে ভাবিয়ে তোলে।

জেলায় জেলায় সফল ইজতেমা বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই পক্ষের সাথে বৈঠক করেন। বিশ্ব ইজতেমা সহ জেলা ইজতেমা, ওজাহাতি জোড়, ওয়াজ-মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তাবলীগের মূলধারার সাথীগন সব মেনে নিলেও, ওজাহাতি জোড় চলতেই থাকে।

টঙ্গীর ময়দানে মূলধারার তাবলীগ সাথীদের ৫ দিনের জোড় বন্ধ করার জন্য মাদরাসার ছাএদের দিয়ে ওলামা-আস-সূ গন ২ সপ্তাহ যাবত টঙ্গীর মাঠ গেট বন্ধ করে পুলিশী সহয়তায় দখলদার বাহিনীর মতো দখল করে থাকে অথচ নিরহ মূলধারার সাথীগন যখন গত ৩/৪ দিন আগে সরকারের সহায়তা চেয়ে ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করলেন, প্রধান মন্ত্রীর সরাসরি সহায়তা কামনা করলেন, যখন দেশী-বিদেশী পএিকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ পেল, তার পরও সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরব, কিন্তু কেন? কেন সরকার কোন ব্যাবস্থা নিলেন না বরং হেফাজত জংগীদের পুলিশ পাহারার ব্যাবস্থা করে দিলেন? মূলধারার সাথীগন যখম জোড়ের জন্য সমবেত হলো, পুলিশ পাহারায় হেফাজত গুন্ডারা ঝাপিয়ে পড়ল নিরীহ তাবলীগের অনুসারীদের উপর, ১লা ডিসেম্বরের ঐ নারকীয় হামলায় ২ জন নিরীহ তাবলীগের মূলধারার অনুসারীকে হত্যা করা হলো, জখম হলো অনুমান ২০০ এর অধিক।

এসবের মানে কি? সরকারের জংগী কানেকশন এই চরমপন্থী হেফাজত। তাদের দিয়েই সরকার আগামীতে দেশ শাসন করতে চায়।

কাজ্জাব কারী যোবায়েরঃ

মাওঃ জোবায়ের, সাবেক আহলে শুরা, কাকরাইল মারকাজ (নিজামুদ্দিন), বর্তমান ফেতনায়ে খবিশা পাকপন্থি “আলমী শুরা” এর বাংলাদেশী এজেন্ট।

গত জানুয়ারি ২০১৮ টংগি বিশ্ব ইজতেমায় তিনি নিজেই নিজের প্রকৃত পরিচয় দাওয়াতে তাবলীগের সাথীসহ সারা দুনিয়ার মুসলমানদের সামনে তুলে ধরেন। এর পরও আজ অবধি নিজেকে “আহলে শুরা” কাকরাইল পরিচয় দিয়ে আসছেন।

কে তাকে আহলে শুরার গৌরবান্বিত পরিচিত দিয়েছিলেন? কোন মেহনত তাকে এত উঁচুতে উঠিয়েছিল? মুন্তাখাব হাদীসের মতো দাওয়াতে তাবলীগের মহামূল্যবান বইটির বাংলা অনুবাদের এত বিরল সম্মান কে তাকে এনে দিয়েছিল?

আমাদের সকলেরই উওরসমূহ জানা আছে।

এত বড় প্রতারনা ও ধোঁকাবাজির পরও কি ভাবে এখনও তিনি সেই পুরানো পরিচয় দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরেন? একবারও কি তিনি তার বর্তমান পরিচয় কি তা নিয়ে ভাবেন না?

গত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তার স্বাক্ষরিত নিজেকে আহলে শুরা, কাকরাইল মারকাজ দাবীর বিষয়টা হাস্যকর। তিনি কাকরাইল মারকাজের কেউ নন। কাকরাইল মারকাজের জন্ম যেহেতু নিজামুদ্দিন থেকে, আর তার আহলে শুরার পদবিও নিজামুদ্দিন থেকে, সেহেতু পাকি আলমী শুরার এজেন্ট হিসাবে তার কোন চিঠির গুরুত্বও দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের কাছে নেই। তছাড়া তার মিথ্যাচার সরকারের মিথ্যাচারকেও ছাড়িয়ে গেছে। সরকার আসন্ন ফেতনার ইজতেমার তারিখ “আলমী শুরার” জন্য ফেব্রুয়ারি ১৫ ও ১৬ ঘোষনা করলেও, কারী যোবায়ের সেই তারিখ ১৪,১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করে চিঠি ইস্যু করেন।

টঙ্গী ইজতেমা ও রায়বেন্ড ইজতেমা, একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠঃ

যখন নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে জামাত রায়বেন্ড যায় তাঁদের অনেক রকম শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা হয়। এসব শর্ত গ্রহণ করার পরই কেবল তাঁরা সীমিত পরিসরে অংশ নিতে পারেন।

সারা দুনিয়া দেখেছে রায়বেন্ড ইজতেমার কোন অংশে নিজামুদ্দিনের কোন সাথীকে কোন বয়ান দেয়া হয় নি। সব আমল ফিৎনায়ে খবিসা আলমী শূরার প্রবক্তাগণই করেছেন। এবং সম্পূর্ণ নাটকের কুশীলব ছিলেন মৌলভী খুরশীদ, মৌলভী ফাহিম গং।

গত ২০১৮ টঙ্গী ইজতেমাতেও নিজামুদ্দিনের কেউ ছিলেন না। সব উমুর আলমী শূরার লোকেরাই চালিয়েছেন, যেমনঃ কারী যুবায়ের, মাওলানা ফারুক, মাওলানা রবিউল হক; যাদের সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন মুফতী নুমানী সাহেব, মাওলানা আরশাদ মাদনী এবং মাওলানা আসজাদ মাদানী।

২০১৯ এর আসন্ন ইজতেমা তারই ধারাবাহিকতা। তবে এবার “সরকারি কূটকৌশল” বাড়তি সুবিধা হিসাবে ফেতনাকারীদের ফেতনা বাড়াতে “আগুনে ঘি ঢালার” কাজ করবে।

সরকারের বৈরী আচরণের শিকার মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরাঃ

সরকারের চাপে জোর করে মিলেমিশে ইজতেমায় মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের প্রবলতর আপওির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত বদলালেও, সরকারের তরফ থেকে সকল প্রকার সুযোগ পেয়েছে ফেতনায়ে খবিসা পাকপন্থি “আলমী শুরা”। সরকারি ছুটির দিনে ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ও শনিবার তাদের ফিতনার ইজতেমার সুযোগ করে দেয় সরকার।

বিগত ২৪/১/২০১৯ তারিখ পুলিশ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কৌশলে ধরাশায়ী করেছেন মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের। যেখানে মূলধারার মুরব্বিদের কৌশলে পুলিশ মন্ত্রী “বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ” আসন্ন ইজতেমায় অংশ নিবে না মর্মে ইজতেমার সাথে যুক্ত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ১০ দফা যৌথ চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।

যৌথ ১০ দফার চুক্তিনামার ৩ নম্বর দফায় মাঠ সজ্জায় দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেতনাবাজ “আলমী শুরা” কে।

যৌথ ১০ দফার চুক্তিনামার ৮ নম্বর দফায় ফেতনাবাজ “আলমী শুরা” দের জন্য সুনির্দিষ্ট ভাবে “হাজী কাম্প” তাদের বিদেশি মেহমানদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, মূলধারার তাবলীগের অনুসারী বিদেশি মেহমানদের বিষয়ে কোন সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। যেটা সম্পুর্ন সরকারের বৈরী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

Photo_1549566069248.png

ইতিহাসের একালের চার মীরজাফরঃ

বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশ বিষয়ে বিশ্ব ইজতেমার জন্ম লগ্ন থেকেই আলমী মারকাজ নিজামুদ্দিন এর তরতীব অনুসরন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় কাজ্জাব মাওঃ যোবায়ের এর ভূমিকা এমনই যে, উনি নিজেকেই দাওয়াতে তাবলীগের বিশ্ব আমীর ভাবা শুরু করে দিয়েছেন। পৃথিবী জুড়ে “আলমী শুরার” কয়টি ইজতেমায় তিনি বয়ান করেছেন? উওর আসবে “জিরো”.. ০০০০! তারপরও তিনি “হিরো”…কে বানালো তাকে “হিরো”? এই সরকারের ছএছায়ায় কাজ্জাব যোবায়ের আজ হিরো। আলমী শুরার ইতিহাসে ড. আওয়াল আর তার নমটি উজ্জ্বল হয়ে লেখা থাকবে। যেমনটি বাংলার ইতিহাসে “মীরজাফর” এর নামটি লেখা হয়ে আছে। আর তার সংগে খলনায়কের সহযোগী হিসাবে ইতিহাসে লেখা থাকবে বাংলার পুলিশ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও রিলিজিয়াস মন্ত্রী আবদুল্লাহ এর নাম, যেমনটি লেখা আছে ঘসেটি বেগমের নাম। (১) ড. আওয়াল, (২) কারী যোবায়ের, (৩) পুলিশ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, (৪) রিলিজিয়াস মন্ত্রী আবদুল্লাহ গন ইতিহাসের এ কালের মীরজাফর হিসাবে দাওয়াতে তাবলীগের অনুসারীদের নিকট স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

তিন ধোঁকার কবলে নিজামুদ্দিনের অনুসারীদের আসন্ন ইজতেমা। আজকের মাসোয়ারায় কতিপয় বিষয় উপস্থাপন জরুরি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ীঃ শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে।    

বিশ্ব ইজতেমার বদলে জাতীয় ইজতেমা। কোন বিরতি না দিয়েই দুই প্লাস দুই, মোট ৪ দিনে একনাগাড়ে একই মাঠে, সম্পূর্ণ ভিন্ন মতের দুই ধারার এই ইজতেমা শেষমেশ শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই। একমাত্র মহান আল্লাহ পাকের কুদরতি শক্তির উপর নির্ভর করতে হবে।

তিন ধোঁকার কবলে নিজামুদ্দিন অনুসারীদের আসন্ন ইজতেমাঃ

(১) ফেতনায়ে খবিসা পাকপন্থি “আলমী শুরার” ধোঁকা।  

(২) জঙ্গি গোষ্ঠী “হেফাজতে ইসলাম”, তাদের দোসর ” দাওয়াতুল হক”, “বেফাক” এর কথিত জমহুরদের ধোঁকা ।  

(৩) রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রীর ধোঁকা। 

Photo_1549439444924.png

সরকার প্রথম থেকেই মিলেমিশে ইজতেমার জন্য জোর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। জঙ্গি গোষ্ঠী “হেফাজতে ইসলাম”, তাদের দোসর ” দাওয়াতুল হক”, “বেফাকের বলে বলীয়ান ফেতনায়ে খবিসা পাকপন্থি “আলমী শুরা”-কে বাংলার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রী প্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। যে কারনে গত ১ বছরে মূলধারার তাবলীগের অনুসারীরা সরকারের কাছে নালিশ দিয়েও কোন প্রতিকার পায় নাই। গত ১ বছরে কাকরাইল মারকাজ সহ দেশের একাধিক মারকাজ দখল, মসজিদে দাওয়াতের কাজে এমনকি নামাজ পড়তেও বাধা প্রদান, জামাত বের করে দেওয়া, খুন, জখম ইত্যাদি জঘন্যতম কাজ সরকারের নাকের ডগায় সংঘটিত হলেও, কোন প্রতিকার নেই।

এমতাবস্থায় সরকারের চাপে জোর করে মিলেমিশে ইজতেমায় মূলধারার তাবলীগের অনুসারীদের প্রবলতর আপওির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত বদলালেও, সরকারের তরফ থেকে সকল প্রকার সুযোগ পেয়েছে ফেতনায়ে খবিসা পাকপন্থি “আলমী শুরা”। সরকারি ছুটির দিনে ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ও শনিবার তাদের ফিতনার ইজতেমার সুযোগ করে দেয় সরকার। ছুটির দিন থাকায় যে সকল সুবিধা তারা ভোগ করবেঃ

(১) যেহেতু তাদের ওয়াজাহাতি ফিতনা ইজতেমা প্রথম, সেহেতু মাঠে প্রবেশের বাড়তি সুযোগ।

(২) সরকারি ছুটির দিনে অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, এবং সরকারি ভাবে মিলমিশে ইজতেমার ঘোষনায়, সাধারণ মুসলমানদের “আলমী শুরার” ফেতনার বিষয়ে ধারনা না থাকায়, অপ্রত্যাশিতভাবে ধোঁকায় পড়ে বিশ্ব ইজতেমা মনে করে বেশী মানুষের সমগম হবে। যেটাকে পুঁজি করে ফেতনাবাজরা তাদের নড়াচড়া আরও বেগবান হবে।

(৩) অনেক বিদেশি মেহমানও সরকারের মিলেমিশে ইজতেমার ঘোষনায় ধোঁকায় পড়ে তাদের ইজতেমায় যোগ দিবে।

(৪) দেশ-বিদেশ থেকে “আলমী শুরার” হেভিওয়েট নেতাদের দোড়-ঝাপ বেড়ে যাবে।

আলমী গুরু আমেরিকা প্রবাসী ড. আওয়ালের সবথেকে বড় সফলতার পুরস্কার আসন্ন আলমী শুরার ফেতনার ইজতেমা।

অপরদিকে কোন বিরতি ছাড়াই ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারির সাধারন কাজের দিনে রবিবার ও সোমবারের ইজতেমা, মূলধারার নিজামুদ্দিন অনুসারীদের জন্য অনেকটা “হুদাইবিয়ার সন্ধির “ মতো। আল্লাহ পাকের গায়েবি মদদের জন্য বেশীর থেকে বেশী কান্না কাটি ও ধৈর্য ধরতে হবে। নিচের বিষয় সমূহ আজকের জাতীয় মাসোয়ারায় উপস্থাপন করা যেতে পারেঃ

(১) যেহেতু কোন বিরতি ছাড়াই ১৭ তারিখের নিজামুদ্দিন অনুসারীদের ইজতেমায় ৬৪ জেলার সাথীদের অংশ নিতে হবে, সেহেতু দূর থেকে আগত সাথীদের থাকার ব্যবস্থা করা।

(২) ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখের পর যেহেতু কাকরাইল মারকাজ, ফেতনাবাজ “আলমী শুরার” দখলে চলে যাবে, সেহেতু বিদেশি মেহমানদের ইজতেমায় অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

(৩) আলমী শুরার পরবর্তী চক্রান্ত বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

(৪) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রীর ষড়যন্ত্র বিষয়ে সম্ভব হলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি অবহিত করা প্রয়োজন।

অস্বস্তিকর স্বস্তি’তে এক বছর পার হতে যাচ্ছে। যদিও গত ওয়ার্ল্ড এস্তেমা ২০১৮ এর আগে ৫ দিনের টংগি জোড় ২০১৭ থেকে যা এদেশে শুরু হয়েছিল। ইতিমধ্যেই দাওয়াতে তাবলীগ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন হতে চলছে। ইমেজ সংকটে পড়েছে কতিথ জমহুর ওলামা-আস-সূগন।

ভন্ড হেফাজত, খেলাফত মজলিশ, সহ অওয়ামী গনতান্ত্রিক, নারী নেতৃত্বের অংশীদার ইসলামী ঐক্যজোট (বিগত খালেদা জিয়া সরকারের অংশীদার), নারীলোভী ও রাজনৈতিক হিজড়া এরশাদের হাতে বায়াত গ্রহণকারী দুনিয়ালোভী ইসলামী দল ও তাদের পাকি দোসর আলমী শুরা, যাকাত ও ফেতরা খোর, মিথ্যা ফতোয়াবাজ, দেওবন্দের ফতোয়ার মিথ্যা ব্যাখ্যা প্রদানকারী, ধোঁকা বাজ, মিথ্যাবাদী, জামাত ইসলামীর মওদুদির আদর্শ অনুসরনকারী, রাজাকার, রাজনৈতিক গনতন্ত্রকামী আলেম, নারী নেতৃত্বের অধীনস্থ, বাম কমিউনিস্ট আকিদার শুরার পদ লোভী, সুবিধাবাদী, ইসলামের নামে সাধারন মুসলমানদের ভুল ব্যাখ্যা প্রদানকারী, কোমলমতি মাদরাসার ছাএদের বেয়াদব ও ভুল আকিদা শেখানোর কারিগর, পাকিস্তানি দালাল, ওলামা আস সূ-দের শেকায়েতী “ওজাহাতি জোড়” বাংলার জমিনে কতিথ জমহুরদের তড়িৎ পতনের ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে ইনশাআল্লাহ।

এই ওজাহাতি জোড় না হলে হয়তো একটু বেশী সময় লাগতো বাংলার জমিনে আসল ও নকল তাবলীগ চিনতে, নিজামুদ্দিনের অনুসারী হকপন্থি ওলামা ও মেহনতের আওয়াম সাথীদের।

১০০ শত বছরের তাবলীগের ইতিহাসে এমন তাবলীগ কোথাও কেউ কি দেখেছেন? এ যেন নতুন এক পথ। রাজনীতিই যার উদ্দেশ্য। নকল এক তাবলীগ।

১০০ শত বছরের পুরাতন আসল তাবলীগ আজ অবধি তার নিজস্ব পুরাতন গতিতে এগিয়ে চলছে। শুরুর থেকেই নিজামউদ্দিন যার মারকাজ। আমীর যে কাজের রাহাবার। মানুষকে দুনিয়ামুখী থেকে আখেরাতমুখী করাই যে কাজের উদ্দেশ্য।

নকল তাবলীগের নতুন আবিষ্কার “ওজাহাতি জোড়”। পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট, মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং, রাজনৈতিক নেতাদের স্টাইলে বয়ানের পরিবর্তে উচ্চস্বরে, অহংকারে, গীবত ও মিথ্য-শেকায়েতী ভাষন, দেখে নেওয়ার হুমকি ইত্যাদি ইত্যাদি। মাদরাসার ছাএদের দিয়ে ময়দান দখল, মসজিদ দখল, মারকাজ দখল, মসজিদ-মারকাজে তালা, মাশোয়ারার আগে মাশোয়ারা, মাশোয়ারার ফয়সালা সভা শুরুর আগেই লিফলেট আকারে মুড়ির ঠোঙার ন্যায় বিতরন। আল্লাহর রাস্তায় বের হবার তাশকিলের পরিবর্তে, মুসলমানের জাহান্নামে নেওয়ার তাশকিল

যেহেতু মুমিন ধোঁকা দেয় না এবং সেহেতু মুমিন ধোঁকা খায় না। সহজ, সরল দাওয়াতের সাথীগন যেহেতু হেফাজতের মতো রাস্তা অবরোধ, ভাংচুর, দেশ ও সরকারকে জিম্মি করতে জানে না। জানেনা হুংকার ও গলাবাজি করে মাঠ গরম করতে, সেই কারনে সরকারের কাছে তারা বোকা। আর যে করনে সরকার তাদের বোকামির সুযোগে ধোঁকার পথে ঠেলে দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।

 

Tongi Ijtema, is not an Ijtema, it is likely a Treaty with Mainstream Tabligh Followers, like a very little taste of another Hudaibiya Treaty | The opposition are jointly by the Government of Bangladesh, Militant group Hefazat-e-Islam and Pakistan-based “Alami Shura”

What is Ijtema and how it came?

The tradition of Ijtema was initiated by Muhammad Ilyas al-Kandhlawi from it’s headquarters Nizamuddin Markaz, Delhi, India.

The Ijtema is non-political, and therefore it draws people of all persuasion. Prayer is held for the spiritual adulation, exaltation and welfare of the Muslims community.

This immensely popular program gives the people of the different countries an opportunity to interact with Muslims from other countries.

Moulana Abul Hasan Ali Nadvi mentioned in a biography of Moulana Ilyas that, in the 1930s, they used to have the annual ijtema at Mewat and they had a fixed place for ijtema. Moulana Ilyas used to take part in these ijtemas regularly. The biggest ijtema was held at Nuh of the district of Gourgano from 28 to 30 November 1941 (Nadvi, 2006:118). That was the notable Ijtema in terms of participating number of devotees. According to Nadvi (2006), there were about 20-25 thousand people in that ijtema. This ijtema was successful in many ways; one of them are to be able to send many jamaats to the various places in India such as Khorza, Aligarh, Agra, Buland city, Mirath, Panipath, Sonipath etc. In April 1943, they had sent a jamaat in Karachi (a major city of Pakistan). The first Ijtema held in East Pakistan (now Bangladesh) was in 1954 in Dhaka, the capital of Bangladesh. Later that year they had organised another massive ijtema in Khulna, a south-west district of Bangladesh. Since then they have been organising ijtema every year in a regular basis. During this time, the centre of Tabligh Jama’at in Bangladesh was based on the Lalbagh Shahi Mosque. Due to limitation of space, they had to move to the current location at Kakrail. Background of Tabligh Jama’at in Bangladesh, In 1954 there were about 15-20 thousands participants took part in the first ijtema. However, by 1965 even Kakrail had become too small for the ijtema. Therefore, they had to think about a new place for the ijtema. In the same year, they had to shift the venue at Tongi near Dhaka. Since then, Tabligh Jama’at has been regularly organising ijtema at Tongi.

The Bishwa Ijtema is an annual gathering of Muslims in Tongi, by the banks of the River Turag, in the outskirts of Dhaka, Bangladesh. It was one of the largest peaceful gatherings in the world but World Ijtema has lost its heritage since last 2018.

World Ijtema must be done under the supervision of World Markaz Nizamuddin and through ensuring secure participation of the world Amir. World Ijtema must be free from conflict and politics and everyone’s participation must be secure.

But What happening now?

Tongi Ijtema 2019 | Forcibly imposed | Another horrible conspiracy in history |

The Tablighi Jama’at was founded in 1926 in Mewat, India, by Maulana Muhammad Ilyas, an Islamic scholar.

Tablighi centre and the de facto headquarters of the movement in the Indian capital Delhi Nizamuddin.

The Tabligh presents itself as a selfless, apolitical, multi-ethnic entity.

Its followers participate in its activities only on a part-time basis – and estimates range as widely as 80 million-120 million.

Tabligh’s roots pre-date the partition of South Asia — perhaps this is why it manages to attract hundreds of thousands of devotees to their Ijtema every year in Tongi (Bangladesh), Nizamuddin (India) and Raiwind (Pakistan).

The notion of da’wah pervades most of the Muslim world as well as countries that have a significant Muslim populace.

Not only has Tabligh weathered many storms during the 90-plus years of its history, it remains one of the fastest-growing religious movements whose influence has been felt across this country and indeed elsewhere too.

But some differences played out in public only recently. There is a rebel group escaping from Nizamuddin and set up their 13-member advisory council, which was created in Pakistan Raiwind Markaz in the year of 2015. This is a group of high political luxuries and power greedy people. This group are leading by Darul Uloom Deoband. Darul Uloom Deoband in their fatwa, Maulana Saad (TJ World Amir) is accused of disrespecting the scholars and earlier prophets and putting forward “unacceptable” new interpretations of the concepts of the Quran and Sunnah.

What Maulana Sa’ad said, “To teach deen [religion] for a wage is to sell deen,” he is quoted as saying on another occasion. “People who commit zina [adultery] will enter jannah [paradise] before those who teach Quran for a wage.” and some others topics, which was not proved against Maulana Sa’ad.

Throughout the Muslim world, Darul Uloom Deoband has lost his image. Even in India, their followers have decreased. Only Bangladesh is their resort. Since Bangladesh follows Deoband, they are easily utilizing Bangladesh. In addition, the events of 1971’s defeat are remembered for Pakistan.

And the same time the Pakistan supporters “Hefazat-e-Islam” have a good ties of the government of Bangladesh, so that Pakistan-based “Alami Sura” used the Hefazat-e-Islam to control the Ijtema.

From the begging about Tongi Ijtema 2019, Forcibly imposed by the Bangladesh Government Home and Religious Affairs Ministry. Another horrible conspiracy in history. Pakistan-based “Alami Shura” and their Bangladeshi counterpart “Hefazat-e-Islam” behind the conspiracy. Bangladesh Government has a militant connection with “Hefazat-e-Islam”, and for that Bangladesh government supports them. The government trying to arrange the upcoming Ijtema according to the formula given by “Hefazat-e-Islam”.

Where did the so-called “Alami Shura” get Ijtema? They do not know where their house, where their home. Do they know what their origin is? Do they have any Markaz or any Amir? So why they trying to capturer Nizamuddin properties?

Seems the BD government is trying heart and soul to implement agenda of Alami Shura in tricky way.

Because of the firm determination of Nizamuddin followers (to obeyed the Nizamuddin Markaz Mashawara), the BD Government finally changed the decision.

Biased behavior of the government of Bangladesh

Although the mainstream Tabligh followers have objected to the behavior of the government since the beginning. The government was silent even after the killing of innocent Tabligh’s followers, mosque lock, Markaz and mosque occupation by the “Hefazat-e-Islam”.

Proof of Bangladesh government’s ruthless role is found, when permission is given to Ijtema for Fitan-e-Khabisa “Alami Sura” on public holidays (February 15-16, Friday and Saturday) in the country.

And the opposition thinks, the BD government allocated the weekdays to followers of Tabligh’s (February 17-18, Sunday and Monday). Which is very sad.

Tongi Ijtema treaty, like another Hudaibiya treaty.

In the worst behavior of the BD government, the followers of Tabligh may enjoying a very little taste and victory like the Treaty of Hudaibiya. Allah helps only from the oppression of the oppressor.

BREAKING NEWS | Tongi Ijtema on February 17 and 18, 2019 | Finally the Nizamuddin tour brings the success of Bangladesh National Ijtema.

The final meeting about Ijtema 2019, was held at 4pm, today at Bangladesh Religious Affairs Ministry.

After Completing the meeting it was decided that there will be no combined Ijtema, with Pakistan-based “Alami Sura”, and it will be ” Bangladesh National Ijtema” instead of “World Ijtema”. Both group will be participate separately and organised single Ijtema.

The followers of “Nizamuddin” are truth and the followers of Pakistan-based “Alami Sura” are falsehood. So it’s the conflict of Truth with falsehood. The conflict between truth and false is inevitable.

In such a situation, Ijtema combined with “Alamir Shura”, on the one hand, is risky, on the other hand, immoral.

On January 29-30, 2019, mainstream Tabligh’s elders went in Delhi Nizamuddin to decide whether to take part in Ijtema in conjunction with militant Hefazat groups under the Pakistani Alami Sura. At that time Nizamuddin decided that Ijtema will not be combined, but Ijtema has to be single.

World Ijtema must be done under the supervision of World Markaz Nizamuddin and through ensuring secure participation of the world Amir. World Ijtema must be free from conflict and politics and everyone’s participation must be secure. Though it’s not sure either World Amir or Nizamuddin Jama’at will be participate. And also upcoming Ijtema declared as a “Bangladesh National Ijtema” from the Bangladesh government.

Tongi Ijtema 2019, Forcibly imposed by the Bangladesh Government Home and Religious Affairs Ministry. Another horrible conspiracy in history. Pakistan-based “Alami Shura” and their Bangladeshi counterpart “Hefazat-e-Islam” behind the conspiracy. Bangladesh Government has a militant connection with “Hefazat-e-Islam”, and for that Bangladesh government supports them. The government trying to arrange the upcoming Ijtema according to the formula given by “Hefazat-e-Islam”.

Because of the firm determination of Nizamuddin followers (to obeyed the Nizamuddin Markaz Mashawara), the BD Government finally changed it’s decision (instead of forcibly imposed).

Nizamuddin followers will start Bangladesh National Ijtema on Sunday February 17th, after Fajr.

Ijtema will continue for two days (February 17-18, 2019) and final Dua will be held on Monday February 18th, after Isha. Kakrail Nizamuddin Shura Syed Wasiful Islam will be under the overall supervision of Ijtema.

On the other hand, Pakistan-based “Alami Shura” will leave the Ijtema Ground at the end of their Fitna Ijtema on the 16th, after Asar. (Pakistan-based Alami Sura Fitna Ijtema on February 15-16).

Nizamuddin v. Alami Shura | Tongi Ijtema can be a terrible tragedy in history.

By Editor : Sheikh Zaman, New York.  

Completely two different groups of different views are in one stage for a big gathering.

Nizamuddin v. Alami Shura:

Who are the Nizamuddin?

The Tablighi Jama’at was founded in 1926 in Mewat, India, by Maulana Muhammad Ilyas, an Islamic scholar.

Tablighi centre and the de facto headquarters of the movement in the Indian capital Delhi Nizamuddin. Maulana Saad Kandhalvi it’s Amir. Maulana Saad Kandhalvi is the great-grandson of Maulana Muhammad Ilyas, the founder of the Tabligh movement and the grandson of its second ameer.

Tabligh’s roots pre-date the partition of South Asia — perhaps this is why it manages to attract hundreds of thousands of devotees to their Ijtema every year in Tongi (Bangladesh), Nizamuddin (India) and Raiwind (Pakistan). Not only has Tabligh weathered many storms during the 90-plus years of its history, it remains one of the fastest-growing religious movements whose influence has been felt across this country and indeed elsewhere too.

The Tabligh presents itself as a selfless, apolitical, multi-ethnic entity. Da’wah it’s main purposes. Da’wah encourages Muslims to train their thoughts on inner reform and spiritual cleansing. The notion of da’wah pervades most of the Muslim world as well as countries that have a significant Muslim populace.

It’s followers participate in its activities only on a part-time basis – and estimates range as widely as 80 million-120 million.

Who are the “Alami Sura”?

It is the rebel group escaping from Nizamuddin. Which was created in Pakistan Raiwind Markaz in the year of 2015. The key figure in the Aalmi Shura was mainly Pakistan-based and have set up their 13-member advisory council, It’s played out in public only recently.

It’s doesn’t have any Amir and don’t have any headquarters. But they try to capturer Raiwind Markaz, Pakistan and the very recent they announced, Nerul Markaz, Jama Masjid Rd, Vighnahar Co-Operative Housing Society, Sector 15, Nerul, Navi Mumbai, Maharashtra 400706, India will be it’s headquarters.

Pakistan-Based “Alami Sura’s” have political purpose, the conflict of interest and the will of seizing power from Mainstream Tabligh.

To managed by Darul Uloom Deoband, they brought fatwa from Darul Uloom Deoband and accused World Tabligh Amir Maulana Saad of disrespecting the scholars and earlier prophets and putting forward “unacceptable” new interpretations of the concepts of the Quran and Sunnah. Although they could not prove any allegation against Maulana Sa’ad. They are deceiving Muslims by cutting down some statements of Maulana Saad. And they are using Deoband in this work.

Tongi Ijtema can be a terrible tragedy in history.

The Government of Bangladesh announced a date for forcefully uniting two opposing parties to make a national Ijtema (From February15-17, 2019). But in reality, it is not possible to put together of the two different groups in one place. This may be the BD Government’s immaturity, Or The Government trying to establish a special group.

Is it possible to make a very large gathering by combining two conflicting groups of different opinions at the same time in one place?

What could be the problem?

(1) Sabotage:

Since the Bangladesh government has banned the participation of Ijtema for the “Hefazat-e-Islam” and “Quami Madrasa” students, then a third party, including the banned group, could cause sabotage in such a big gathering.

Because the mainstream Tablighi followers, are very simplicity, so any spy of Pakistan’s “Alami Shura” could cause sabotage in such a big gathering.

Even an enemy party of the government can make the government in jeopardy by sabotaging the situation.

(2) Conflict:

The followers of “Nizamuddin” are truth and the followers of Pakistan-based “Alami Sura” are falsehood. So it’s the conflict of Truth with falsehood.

So the conflict between truth and false is inevitable.

(3) Confusion:

Since the followers of Nizamuddin have an Amir as their leader in the light of the Qur’an and Sunnah, and there is no Amir of “Alami Shura”, they have no ability to obey one leader.

If there is no leadership, then there will be extreme chaos. As a result, a large assembly can become depleted.

(4) Final Dua:

Such a big gathering the final Dua has been arranged by the world Amir on the last day.

Meanwhile, there can be a final dispute with the special Dua of the last day.

(5) Nazam (Service):

A large gathering of the country. There are at least 54 types of services. Each service have an Amir, whom everyone obey. Because “Alami Shura” doesn’t have any Amir, how they will be provide services? Specially the Foreign Guest and their passport, money, security etc.

(6) Khitta’s Amir:

A large gathering of 64 districts of the country. There will be 64 Khitta (Zone) and some Foreign Guest Khitta. Each Khitta’s have an Amir. Everyone obey the Amir. Because “Alami Shura” doesn’t have any Amir, how they will obey an Amir?

(7) Space crisis:

For the past few years, World Ijtema has been organized in two phases. 64 districts of the country are divided into two parts.

Despite the lack of space, the traffic jam was tied in more than 20 miles area. In the absence of the place, the condition of the sanitation system also very poor and bad. Now, where will the people of 64 districts be?

(8) Final Mashawara and Decession:

This is the first intervention of any political government in the history of Ijtema.

Tabligh Jama’at have taken all decisions from their own Mashawara.

The World Amir would decide on how to work in all the countries, with the determination of the next World Ijtema date. If World Amir will not attend the upcoming Ijtema, who will be decided all those matters?

The first Ijtema was hijacked in the year of 2018. Since then, chaos continues. In the past, there was not a slight disturbance in the field of the world Ijtema. When the politics entered in Tabligh from “Alami Sura”, the beginning of the chaos started. Starts bleeding at the ground of Ijtema. The killers started killing innocent people of Tabligh Jama’at.

Many more bloodshed are waiting. The government’s must take proper steps.

If the government does not organize two different Ijtema for two different groups, the government will have to bear its responsibility.

The role of Pakistan’s highest Islamic scholars about Karachi upcoming Ijtema 2019 | What is the role of the so-called Islamic scholars of Bangladesh about upcoming Bangladesh Ijtema 2019?

Editorial : By Sheikh Zaman, New York, USA.

Karachi Tableghi Ijtema 2019 Update:

Karachi Tablighi Ijtema will start from 31st Jan 2019 after asar and dua will be held on 3rd Feb after asar. Ijtema Ground is almost ready.

Location : Orangni Town, Gulshan e bahar, Karachi, Pakistan.

The role of Pakistan’s highest Islamic scholars about Karachi Ijtema:

The annual three-day congregation of Tabligh Jamaat is set to start in Karachi’s Orangi Town on January 31, prominent Deobandi clerics from across the country gathered last week at the Jamia Daruluoom seminary to chalk out a strategy to save the Tabligh Jamaat from longstanding disputes that have split the apolitical and proselytising organisation in Bangladesh as well as Pakistan.

The Tabligh Jama’at, which concentrates on individual piety, has split in recent years over leadership issue, especially in Bangladesh and Pakistan. The differences among the leaders turned into violent clashes during Bangaldesh’s Bishwa Ijtema in early December over establishing dominance, killing several members and injuring hundreds others.

Showing their concerns over the situation the Tablighi Jamaat facing in specific countries and to save the organisation from such a situation in Pakistan, Mufti Rafi Usman, principal of the Jamia Darul Uloom seminary, convened a meeting to discuss the situation.

Jamia Darul Uloom Karachi’s Mufti Taqi Usmani, Darul Uloom Haqqani Nowshera’s Maulana Anwar ul Haq, Jamia tur Rasheed Karachi’s Mufti Abdul Rahim, Jamia Farooqi Karachi’s Maulana Dr Muhammad Adil, Jamai Binori Town’s Maulana Imadadullha, Jamia Binoria Karachi’s Maulana Noman Naeem and Darul Uloom Farooqia’s Maulana Qazi Abdul Rasheed were prominent among the clerics who attended the meeting.

The participants showed their concerns over the violent clashes in Tablighi Ijtima in Bangladesh and agreed to send a joint well-wishing message from the religious scholars to the Jamaat’s four centres in Pakistan.

They also said that they would play their role to save the organsiation from such a situation and continue their support and patronage of the Tablighi Jamaat in Pakistan. They also said that the organisation’s Pakistan leaders should become impartial in the crisis and not issue any statement in favour of any faction outside the country.

In a separate statement, Mufti Muhammad Naeem, the principal of the Jamia Binoria, demanded of the Sindh government to provide security to the gathering that would start on January 31 in Orangi Town nieghbourhood.

Tens of thousands of people are expected to attend the three-day congregation that will end on February 3. Naeem also said that the provincial government should chalk out a plan for providing basic civic facilities, such as water and electricity, and transportation for the guests attending the congregation.

Most of the Islamic Scholars, are God fearing people and they teach and propagate the correct knowledge of Islam. It is because of them that we get the correct understanding of Islam and we should be very thankful to them. May Allah give them the best reward.

Photo Editor-20190130_165814.jpg

What is the role of the so-called Islamic scholars of Bangladesh?

Bangladesh government announced National Ijtema instead of Bishwa Ijtema. The upcoming Bangladesh National Ijtema will start from February 15-17, 2019. However, there is a doubt whether the Ijtema will be held at this time because of the country’s so-called Ulama.

The division of Muslim Ummah into various sects (FIRQAH) has caused so much grief that some time the concerned Muslims wonder what is wrong with us? At present, in many areas of the world the survival of Muslims is becoming very critical such as Bangladesh.

Bangladeshi so-called Ulama and Madrasah students are fighting against Muslims because of difference of opinions on very minor issues. It is a pity and sad.

Just because of some minor differences Bangladeshi Muslims are so deeply divided that most often they forget the actual problems of Muslim Ummah (nation). This is what Satan and enemies of Muslims want from Muslims.

The most unfortunate aspect of this division is that the people who claim that they have the knowledge of Islam such as Moulvees (Imams of Mosques) and Muslim scholars are responsible for this division. They are the one who dwell on these differences in every Jum’a speech (Khutba), in other speeches and in their writings. These religious scholars have turned away many Muslims from Mosques and confused them about Islamic beliefs. These religious scholars have influenced their followers so deep that these people do not hesitate to fight in side Mosques with other Muslims, declare other Muslims Kafir (non-believer), Mushrik (a person who finds partner for God) or Bid’atee (innovator in Islam).

May Allah protects us from such so-called Islamic scholar. Those who are involves with religious trade and politics.

The true Islamic scholars are the scholars of truth (Ulama-e-Haq) while, the scholars who has created this division are false scholars (Ulama-e-Soo).