জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার একটি জামাতের কারগুজারি।

Photo Editor-20190314_111317.jpgলেখকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম মিলন

নিজ জেলায় চলতি জামাতের জিম্মাদার, আমার প্রিয় বড় ভাই ও মুরুব্বি জনাব মোস্তফা কামাল সাহেব গত রাতে ফোন দিয়ে আমাকে বলছেন, মিলন, আজকে মাদারগঞ্জের এই এই কারগুজারী। এ ব্যাপারে একটু নিউজ করলে ভাল হয়। তাই সাথে সাথে লিখে ফেললাম —–

ওও আমার মাওলা! ওও আমার রব্ব! ওওও আমার আল্লা—–হ্ ! আমরাতো এত সুসংবাদ পাওয়ার উপযুক্ত নই !

কিভাবে আমরা যে আপনার শুকরিয়া আদায় করবো, তাতো জানিই না!
শুধু বলি, আলহামদুলিল্লাহ ! আলহামদুলিল্লা–হ ! আলহামদুলিল্লা—হ !

কথিত আলমী শুরা পক্ষীয়দের বলি,
আপনারা আর কত লজ্জিত হবেন? কত অপদস্থ হবেন? আর কত ছোট হবেন? খোদার কসম আপনাদের লজ্জা আমাদেরও লজ্জা ! এবার থামুন প্লিজ ! নিছক জিদের বশবর্তী হয়ে হককে আপনারা নিভাতে পারবেন না, ইনশাআল্লাহ।

আপনারা কি ভুলে গেছেন, মজলুমদের সাথে যে স্বয়ং আল্লাহ থাকেন? এবং আহংকারীকে আল্লাহ অপদস্থ করেন? আর আল্লাহর জন্য যারা ছোট হয়, আল্লাহ তাঁকে বড় করেন?

আপনারাই না কত জায়গায় বয়ান করেন, মহান আল্লাহ সংখ্যাধিক্যের দিকে তাকান না। আল্লাহ তাআলার কাছে এখলাসের খুব মূল্য। এখলাসওলাদের সাথেই আল্লাহ থাকেন। তাহলে সব সময়, সব জায়গায় সংখ্যার ঝনঝনানি প্রদর্শণ করেন কেন? আপনারা কি কিতাবে পড়েননি, সেই বদরের যুদ্ধের ইতিহাস? পড়েন নাই সেই হুনায়েনের যুদ্ধের ইতিহাস? নাকি, নিছক তা বয়ান বক্তিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ? এক্বীন নাই কি তাতে? – মাপ চাই !!
এগুলো আমাদের রাগের বহিঃপ্রকাশ নয়, শুধুই বুক ভরা ব্যাথার বহিঃপ্রকাশ!

কয়টা বলবো, আপনাদের ডাহা মিথ্যাচার, মিথ্যা সংখ্যার বড়াই, আমাদের প্রতি জঘন্য ধরণের অবজ্ঞা, সবকিছুই আজ আমাদের ইমান বর্ধকের কারণ হয়েছে। আমরা যেন মহান আল্লাহতাআলার ক্বুদরত, মদত ও সাহায্যকে স্বচোক্ষে দেখছি। অন্যায়ভাবে আপনারা যতই আমাদের নীচু করতে চাচ্ছেন, যেন ততই আল্লাহ আমাদের উঁচু করছেন আর আপনারা ততই নীচু হচ্ছেন। কিন্তু আপনাদের নীচু হওয়াটা আমাদের কখনোই কাম্য নয়!

আলহামদুলিল্লাহ ! জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানা শহরে তাবলীগের মূল ধারার ৩ টি জামাত বর্তমানে চলছে এবং কথিত শুরা পক্ষীয়দের একটি জামাতও শহরে নেই।

গতকাল ঢাকা শ্যামলীর একটি ছাত্র জামাত মাদারগঞ্জ মেইন শহরের কথিত জমহুরদের পেটের ভিতরের একটি মসজিদে রোখে আসলে উনারা তেলেবেগুনে জ্বলে যান। এবং উনাদের পূর্ব রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে মোটরসাইকেলের বহর বারবার প্রদর্শন করতে থাকেন। এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ জামাতকে বের করে দেয়ার পায়তারা চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয় তাবলীগের মূল ধারার সাথী ও সাধারণ মুসল্লীরা এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ৪ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব, পৌর মেয়র মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ও প্রশাসনকে অবগত করে। পরিশেষে টিএনও মহোদয়ের স্বউদ্যোগে উভয় পক্ষের ৫ জন করে ডাকেন। সেখানেও জমহুরগণ বেহুদা সংখ্যাধিক্যের প্রদর্শন করতে ভুলেন নি ! কিন্তু মহান আল্লাহ আমাদের পক্ষে থাকার কারণে প্রশাসন ও উচ্চ মহলের দ্বীলে আমাদের প্রতি রহম ঢেলে দেন।

আল্লাহ যেন প্রশাসন, উচ্চ মহল ও সকল সাচ্চা দ্বীনের সাহায্যকারীকে উপযুক্ত পুরস্কারে পুরস্কৃত করেন। আমীন।

ফয়সালা হয়, অবশ্যই ছাত্র জামাত ঐ মসজিদেই ৩ দিন থাকবে। এবং ভবিষ্যতে কোন জামাতকে কেউ কোন মসজিদ থেকেই বের করে দিতে পারবে না।

মাদারগঞ্জে রোখে আসা উভয়পক্ষের জামাতকে রোখের সুষ্ঠু বন্টনের জন্য উভয়পক্ষেরই একজন একজন করে দু’জনে বসে সিদ্ধান্ত নিবে। কোন কারণে উনারা দু’জন ব্যার্থ হলে থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ও টিএনও মহোদয়ের সহযোগিতা নিয়ে ফয়সালা করবেন।

জনাব মোস্তফা কামাল সাহেবের নিজ জেলার জামাতটি মির্জা আজম এমপি মহোদয়ের বাড়ীর মসজিদে থাকার সুবাদে আজ বৃহস্পতিবার পুরা মাদারগঞ্জ থানার মূল ধারার সাথীদের আছর থেকে এশার পর পর্যন্ত এখানে জোড় ডাকা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাননীয় এমপি মহোদয়ের বাড়ীর মসজিটিই মাদারগঞ্জ থানার তাবলীগের মূলধারার বর্তমান মার্কাজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

Advertisements

Leave a Reply