“হেলিকপ্টারে চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল,…..অবশেষে মর্দ ফেতনা ইজতেমা পৌঁছিল” | বিশ্ব ইজতেমা ধ্বংসের জন্য হেফাজতের তেঁতুল হুজুরকে ইতিহাস স্মরন রাখিবে।

শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে।

“ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল,
কিছু দূর গিয়া মর্দ রওনা হইল।
ছয় মাসের পথ মর্দ ছয় দিনে গেল!
লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার,
শুমার করিয়া দেখি পঞ্চাশ হাজার।”

……ছোটবেলায় কবিতার কথাগুলো বুঝতে অনেক কষ্ট হতো। আগুন ছাড়া যেমন পানি সিদ্ধ হয় না, তেমনি ভিলেন বা খলনায়ক ছাড়া নায়কের অস্তিত্ব ও ইমেজ তেমন পোক্ত হয় না। ভিলেন যত শক্ত হবে, নায়ক তত পোক্ত হবে। ফেতনা যেমন ফেতনাবাজদের পোক্ত করে, তেমনিভাবে ফেতনার ফলে হকের আলো উজ্জীবিত হয়ে আরো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়। বাতিল না থাকলে হকের মূল্যায়ন সম্ভব নয়। অন্ধকার আছে বলেই আলোর কদর হয়। মিথ্যা আছে বলেই সত্য এতো দামী।

এই সমাজে হেফাজতে ইসলামের মতো বা তেঁতুল হুজুরের মতো কিছু আছে বিধায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও “শেখ হাসিনাকে” তেঁতুলের কদর করতে হয়। পুলিশ মন্ত্রী ও রিলিজিয়াস মন্ত্রীকেও সিরিয়াস হতে হয়।

উপরের কবিতার লাইনের মতোই ফেতনাবাজদের “ফেতনার ইজতেমার” জনক ভন্ড বাবা “তেঁতুল হুজুর শফি” সূদুর চট্টলার রাঙ্গুনিয়া থেকে ঘোড়ার বদলে হেলিকপ্টারে চড়িয়া…চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে টঙ্গীর বাটা গেটে অবতরণ করেন। অতঃপর হেলিকপ্টার থেকে নেমে সরকারি দলের তথা গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের গাড়ীতে সওয়ার করিয়া অবশেষে নিজ পায়ে হাটিয়া আল্লামা তকবদারী শফী ফেতনার ইজতেমা মাঠ ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে দুই দিনের সফর দুই ঘন্টায় শেষ করে অদ্য জুম্মার নামাজের পর মূল ময়দানে এসে হাজির হন।

যুদ্ধক্ষেত্রে যখন সৈন্যরা আহত হয়ে পড়ে যায়, তখন দূর হতে মনে হতো মারা গেছে। অধিকন্তু যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সৈন্যদের মৃত্যু বা আহত হওয়ার সংখ্যাটি যথার্থভাবে জানা সম্ভব ছিল না। তাই বহুলাংশে অনুমানের উপর ভিত্তি করে মৃতদের সংখ্যা ঘোষণা করা হতো। বর্তমানেও এমন দেখা যায়। সেই মধ্যযুগে বিষয়টি ছিল আর অধিক অনুমানভিত্তিক। তাই লাখ লাখ সৈন্য মারা গেছে মনে হলেও পরবর্তীকালে প্রকৃত সংখ্যার কমবেশি হয়ে যেত।

শফি সাহেব ময়দানে আসার পূর্বে এমন তথ্যই জেনে আসেন যে, কোটি কোটি দেশী-বিদেশী মানুষের উপস্থিতিতে তুরাগ নদীর পাড় উপচে পড়েছে, কিছু মানুষ নদীর পানিতেও অবস্থান নিয়েছে।

আসলে শুমার শেষে দেখেন, সবই তার হেফাজতি মাদরাসার দেশীয় সৈন্য বাহিনী। আর দেশী-বিদেশিসহ সকল শুমার করিয়া দেখেন পঞ্চাশ হাজার। আরো সত্যতা পান যে, গতকাল তুরাগ নদীর পাড়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হওয়ায়, কিছু মানুষ ঝাপ দিয়ে নদীতে পড়ে।

এই শফি সাহেবেরই অবদান আজকের বাংলাদেশের “শেখ হাসিনার” সরকার। ঠিক তেমনিভাবেই এই শফি সাহেবের জন্য ধ্বংস হলো আমাদের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক বিশ্ব ইজতেমা। রচিত হলো প্রহসনমূলক দেশীয় লোকাল ব্রান্ডের “জাতীয় ইজতেমা”।

খলনায়ক মানে ভিলেন। ভয়ংকর কেউ। কিছু কিছু বাংলা শব্দ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইংলিশ হয়ে যায়। যেমন কেদারা হয়েছে চেয়ার, দূরালাপনী হয়েছে ফোন। ভিলেন তেমনই। ভিলেন বাস্তবে থাকে, মুভিতে থাকে, নাটকে থাকে, যাত্রাপালায় থাকে। ভিলেন মানেই ভয়ংকর কেউ। কোনোভাবেই পজিটিভ না, নেগেটিভ, শয়তানি করাই যার কাজ। হেন খারাপ কাজ নাই, যা ভিলেন করে না। খুন-লুটপাট থেকে সবকিছুই। বাংলার জমিনে “শফি” সাহেব, মাহফুজুল হক, মামুনুল হক, মাহমুদুল হাসান, কারী যোবায়ের, ড. আওয়ালদের মতো ভিলেন আছে বলেই হক ওয়ালাদের মার খেতে হয়।

Advertisements

Leave a Reply