ইজতেমা আয়োজন ঘিরে আবারও “বর্গী এলো দেশে”। মারাঠা, পাক ও দেশীয় বর্গীদের সহায়তায় সরকার। অবশেষে কথা রাখেনি সরকার। মারাঠা বর্গী “আলমী শুরা” ফেতনার প্রধান “আহমদ লাট” ঢাকায়। ফ্রি টিকিটে ফেতনার ইজতেমায় বিদেশিরা।

শেখ জামান, নিউইয়র্ক থেকে।

ভূমিকাঃ

পরিবর্তন প্রকৃতির নিয়মেরই অঙ্গ। মানুষ চাই পরিবর্তন – নিজেদেরই স্বার্থে। আর মানুষ যখন জোর করে নিজেদের স্বার্থে কোন পরিবর্তন আনে, প্রকৃতি সেই পরিবর্তনে সায় নাও দিতে পারে।

প্রকৃতির এমনই একটা নিয়মেই অতি শৃঙ্খলা ও নিয়মের মধ্যে বাংলাদেশে চলে আসছিল “বিশ্ব ইজতেমার” আসর। গত বছর ২০১৮ থেকে, যে নিয়মে হঠাৎ করে স্বার্থান্বেষী মানুষের নিজেদের স্বার্থ প্রকাশিত হয়ে পড়ে। স্বার্থের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে একটি বিশেষ মহল। যুদ্ধ করে দেশ দখল, ক্ষমতা দখল, চর দখল করার মতই, আবারও দেশে নব বর্গীর আক্রমণ হয়েছে “বিশ্ব ইজতেমার” আয়োজনকে ঘিরে। অশান্ত হয়ে পড়েছে দেশ। নিরীহ মুসলমানদের উপর গত ১ বছর ধরে চলছে অসভ্য “নব বর্গিদের” জুলুম ও অত্যাচার। ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

(“ছবি বিশ্ব ইজতেমার বদলে জোর করে পরিবর্তন “আলমী শুরার” ইজতেমা”)

ঐ যুগে ভারতবর্ষের মারাঠা বর্গীর প্রধান ও আধ্যাত্মিক নেতা শিবাজী, “মারাঠা বর্গী”দের একটি শিক্ষা ভালোভাবেই দিয়েছিলেন, আর তা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা অর্থাৎ “মুসলমান হিন্দুর শত্রু”

আর এখনকার “নব বর্গি” নেতাদের শিক্ষা আরও ভয়ংকর, আর তা হল, অতিমাত্রার সাম্প্রদায়িকতা অর্থাৎ “মুসলমান মুসলমানের শত্রু“।

তবে এবার “মারাঠা বর্গী” একা নয়, সংগে আছে পাকিস্তানি ও দেশী বর্গী। আর সেই আমলে অসভ্য “মারাঠা বর্গিদের” ঘোড়া, অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ জোগান দিতেন ওই সময়ের সম্রাট। যেমনটা এখন বাংলাদেশ সরকারের আশ্রয়ে আছে “নব বর্গিদের দল”, ভোগ করছে সকল রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা। আর নব বর্গিদের অত্যাচারের মাএাও যাচ্ছে বেড়ে নিরীহ মুসলমানদের উপর।

আসুন আবারো জেনে নিই মারাঠা বর্গিদের ইতিহাসঃ

মারাঠা বর্গিদের নিষ্ঠুর অত্যাচারে এ দেশের মানুষ এক সময় এত আতঙ্কগ্রস্ত ছিল যে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কান্না থামানোর জন্য এখনও বাংলার মায়েরা বর্গিদের ত্রাসকে মনে করিয়ে আওড়িয়ে থাকেনঃ

“ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
বর্গি এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে।”

সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাট সহ বেশ কিছু এলাকা জুড়ে এক নতুন জাতির আবির্ভাব হয়। আর সে জাতির নাম হল মারাঠা জাতি। মারাঠা জাতি ছিল যাযাবর ও দস্যু প্রকৃতির। আর এ দস্যুবৃত্তির জন্য মারাঠারা চিরদিনের জন্য ইতিহাসে কুখ্যাত ছিল। তারা অতর্কিত বিভিন্ন গ্রাম ও শহরবাসীদের উপর চড়াও হয়ে দখল, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ, খুন-খারাবি করতো।আসলে বর্গি হলো অষ্টাদশ শতাব্দীর লুটতরাজপ্রিয় অশ্বারোহী মারাঠা সৈন্যদলের নাম। ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত দশ বছর ধরে বাংলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে নিয়মিতভাবে লুটতরাজ চালাত বর্গিরা। বর্গিহানা এই সময় একপ্রকার বাৎসরিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।

দশ বছরের মতো বর্গিরা নিয়মিত বাংলায় লুটতরাজ চালায়। সমসাময়িক ঐতিহাসিকগণ বর্গিসন্ত্রাস এবং বর্গিদের অতর্কিত আক্রমণ পদ্ধতির সামনে নবাব বাহিনীর অসহায়তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন।

মারাঠি বর্গিরা অভিযানে যাওয়ার সময় কেবলমাত্র একটি সাত হাত লম্বা কম্বল ও বর্শা নিয়ে বের হত। এই বর্শাকে মারাঠি ভাষায় বলা হত বরচি। এই নাম থেকেই ধনগররা বারগির বা বর্গা ধনগর বা বর্গি নামে পরিচিত হয়।

মারাঠা জাতির রক্তের ইতিহাসে মিশে আছে গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসঃ

যেহেতু মারাঠারা প্রধানতঃ ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের অধিবাসীদের অন্তভূক্ত। যারা এখনও ইতিহাসে “মারাঠা বর্গী” নামে পরিচিত। সেহেতু ভারতের ইতিহাসে এ অঞ্চলের মানুষদের রক্তের সাথে “বিশ্বাসঘাতকতার” ইতিহাস মিশে আছে। তাই কখনো কখনো ভারতবর্ষের এ অঞ্চলের কোন কোন মানুষদের বড় বড় বিশ্বাসঘাতকতার কাজে জড়িত হবার দৃষ্টান্তও ইতিহাসে দেখা যায়। যেমনটি ধরুন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা। গুজরাটের আদি অধিবাসী। ভারতবর্ষের ইতিহাসে মুসলমানদের নিধন ও অত্যাচারের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর নাম নরেন্দ্র মোদি। তার সময়ে সবচেয়ে ভারতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানরা। ভারতের আাদালত ব্যাবহার করে একের পর পর মুসলিম ও কোরান বিরোধী আইন পাশ করে নিচ্ছে। কোরানের আইন তিন তালাক প্রথা রোধ করা হয়েছে। কোরান ও সুন্নাহ বিরোধী সমকামিতাকে বৈধ করা হয়েছে। বৈধতা দেওয়া হয়েছে পরকীয়া প্রেমের। ভারতের বাবরি মসজিদের অধিকার থেকে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে আইন পাশ করানো হয়েছে, আদালত দিয়ে বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত রায়ে বলানো হয়েছে, নামাজ পড়তে মসজিদের প্রয়োজন নাই। মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া রোধে গো-হত্যা আইনের নামে মুসলমানদের উপর জুলুম করা হচ্ছে।

পাঠক হয়তো চিন্তা করছেন, ইজতেমা বিষয় রিপোর্ট করতে যেয়ে কেন এসব অপ্রাসঙ্গিকতা? এর সবই প্রাসঙ্গিক। এবার আসা যাক আসল বিষয়েঃ

ভারতের হিন্দু প্রধানমন্ত্রী মিঃ নরেন্দ্র মোদি ঐ যুগে ভারতবর্ষের মারাঠা বর্গীর প্রধান ও আধ্যাত্মিক নেতা শিবাজীর “মারাঠা বর্গী”দের উদ্দেশ্যে দেওয়া শিক্ষাটি যথাযথ ভাবেই রপ্ত করেছেন, আর তা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা অর্থাৎ “মুসলমান হিন্দুর শত্রু”। আর যে কারনে দুনিয়াজুড়ে মুসলিম নিধন সহ ভারতের রাজধানী দিল্লীর অতি নিকটেই শত বছর আগে গড়ে ওঠা সারা দুনিয়ায় মুসলমানের এক হওয়ার সংগঠন নিজামুদ্দিন বস্তির “তাবলীগ জামাত” ধবংসে মরিয়া ভারতের হিন্দু সরকার ও তার দোসর ইসরায়েলের টাকায় বাছাই কৃত “বর্গির দল” আজ ভারতবর্ষ সহ দুনিয়াজুড়ে বিশেষ এক মিশনে নেমেছে

বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে অনেক অনেক বিভক্তি। মুসলিম উম্মাহ অনেক বড় আর বিস্তৃত। হাজারো মত পথ, আন্দোলন, সংগঠন, জামাত উম্মতের মধ্যে বিদ্যমান। আর এই সমস্ত বৈচিত্রকে গ্রহণ করে সারা দুনিয়ার চার মাযহাবের সমস্ত উম্মতকে নিয়ে চলনেওয়ালা এক মোবারক সংগঠন তথা একটি ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল জামাত হলো “তাবলীগ জামাত”।

সারা দুনিয়ায়জুড়ে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল বৃহত্তর এই মোবারক জামাতের সংগঠনটি ধ্বংস করাই মুসলিম বিরোধীদের প্রধান টার্গেট। আর এ জন্য “মুসলিম বিরোধী বিশেষ চক্রটি” এই সংগঠনের মধ্যে থেকে কিছু নিবেদিত প্রাণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে এই সংগঠন থেকে বের করে এবং সংগঠনটির বিকল্প হিসাবে বিরোধী একটি বিশেষ দলকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। যারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে পাকিস্তানে গঠিত হয় আসল দাওয়াতে তাবলীগের প্রতিষ্ঠান “তাবলীগ জামাত” বিধ্বংসী “আলমী শুরা”। বিশ্বব্যাপী ঘোষনা করা হয়, “মারাঠা বর্গী” মহারাষ্ট্র গুজরাটের অধিবাসী নিজামুদ্দিনের পুরাতন মুরব্বি “আহমদ লাট” নিজামুদ্দিন থেকে বেরিয়ে গেছে। তাই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আর এক বর্গীদেশ “পাকিস্তানের” সহায়তায় গঠন করা হয় ফেতনায়ে খবিসা “আলমী শুরার”। আর এ কাজে প্রকাশ্য সহায়তা করে ভারতের “দারুল উলুৃম দেওবন্দ”। আর বিশ্বাসঘাতক ভারতের মারাঠি-গুজরাটি ” আহমেদ লাট”, ইব্রাহিম দেওলা, পাকিস্তানের বর্গীনেতা মাওলানা ফাহিম-খুরশিদ-তারিক জামিল, বাংলাদেশের দেশীয় বর্গী ড.আওয়াল-করি যোবায়ের গং-হেফজতি শফি-মাহফুজ গং, দওয়াতুল হকের মাহমুদুল হাসানদের দায়িত্ব দেেওয়া হয় তাবলীগ ধ্বংসের।      

পাঠক পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা। গুজরাটের আদি অধিবাসী। ভারতবর্ষের ইতিহাসে মুসলমানদের নিধন ও অত্যাচারের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর নাম নরেন্দ্র মোদি। তার সময়ে সবচেয়ে ভারতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানরা। ভারতের আাদালত ব্যাবহার করে একের পর পর মুসলিম ও কোরান বিরোধী আইন পাশ করে নিচ্ছে। কোরানের আইন তিন তালাক প্রথা রোধ করা হয়েছে। কোরান ও সুন্নাহ বিরোধী সমকামিতাকে বৈধ করা হয়েছে। বৈধতা দেওয়া হয়েছে পরকীয়া প্রেমের। ভারতের বাবরি মসজিদের অধিকার থেকে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে আইন পাশ করানো হয়েছে, আদালত দিয়ে বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত রায়ে বলানো হয়েছে, নামাজ পড়তে মসজিদের প্রয়োজন নাই। মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া রোধে গো-হত্যা আইনের নামে মুসলমানদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। গত ২০১৬ থেকে এতগুলো মুসলিম বিরোধী আইন পাশ করানো হয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের ” দারুলউলুম দেওবন্দ” কি একটি ফতোয়াও ইস্যু করেছে? অথচ এই মোদী সরকারের দালাল, মোদীর একান্ত ঘনিষ্ঠ কতিথ মুফতি “ওজাহাত কাসেমী” দিয়ে বিশ্ব আমীরের বিরুদ্ধে কাট-পিস বয়ান নিয়ে “ফতোয়া” নামক বান দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলমানদের জামাত “তাবলীগ জামাত” ধ্বংসের পথে বর্গীদের সাথে হাত মিলালো “দারুলউলুম দেওবন্দ”।

(ছবি ওজাহাত কাসেমী)

ফেতনার ইজতেমায় অবশেষে ঢাকায় মারাঠা গুজরাটি বর্গী আহমেদ লাট সহ পাকিস্তানি বর্গীদের দলঃ

(ছবি মারাঠা গুজরাটি আহমদ লাট)

কথা রাখেনি সরকার। সরকারের সমথর্ন ও হেফাজত ইসলামের মোড়কে আন্তজার্তিক ভাবে স্বীকৃতি পেল “ফেতনায়ে খবিসা আলমী শুরা”।

ফেতনার ইজতেমায় অবশেষে ঢাকায় পৌঁছিয়েছে মারাঠা গুজরাটি বর্গী আহমেদ লাট, পাকিস্তানি বর্গী মাওলানা খুরশিদ।

ফেতনার ইজতেমার মাঠ ভরাট করা হয়েছে মাদরাসা পড়ুয়া দেশীয় হেফাজতি মারাঠা বর্গী দিয়ে। মারাঠি বর্গিরা অভিযানে যাওয়ার সময় কেবলমাত্র একটি সাত হাত লম্বা কম্বল ও বর্শা নিয়ে বের হত। আর এখন দেশীয় হেফাজতি বর্গীরা মারাঠা বর্গীর আদলে লেখাপড়ার পরিবর্তে সাত হাত লম্বা বাঁশ নিয়ে ঘুরে আর মাথার লম্বা পাগড়িকে ব্যাবহার করে।

আর বিদেশ থেকে ফ্রি বিমানের টিকিট দিয়ে ফেতনার ইজতেমার মাঠে আনা হয়েছে কয়েকজন বিদেশি বর্গী।

সরকারের পুলিশ মন্ত্রী ও রিলিজিয়াস মন্ত্রীর কুটকৌশলে প্রকৃত কোন বিদেশি ইজতেমার মাঠে নেই। যেখানে মূলধারার তাবলীগের ইজতেমা ২৫-৩০ হাজারের বেশি বিদেশি মেহমান শরিক হন, সেখানে বিশ্ব আমীরের অনুপস্থিতিতে ও নিরাপত্তার আশংকায় বিদেশি মেহমানদের আসার ভাঁটা পড়েছে। মুখ তুবড়ে পড়েছে দীর্ঘ দিনের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য “ওয়ার্ল্ড ইজতেমা”। সম্মিলিত ভিনদেশী ও দেশীয় বর্গী বাহিনীর ছোবলে আজ হেদায়েতের পূণ্য ভূমি ” তুরাগ নদীর পাড়”।    

 

 

Advertisements

Leave a Reply