ওয়ার্ল্ড তাবলীগ আমীর মাওঃ সা’দ সাব দাঃবাঃ এর ইমারতের ঐতিহাসিক পটভূমি।

মাওঃ সা’দ সাহেব এর ইমারতের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ

লেখকঃ মুফতি ইয়াহ্ ইয়া মাহমুদ দাঃবাঃ

হজরত মাওঃ ইনামুল হাসান রহঃ প্রায় ত্রিশ বছর যাবত আমীর ছিলেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে একবার রাইবেন্ডের সফরে তাশরীফ নিয়ে গেলেন। সেখানে দাওয়াতের সাথী বৃন্দ্ মাওঃ যুবায়েরুল হাছান সাহেব কে উনার পরবর্তী আমীর নিযুক্ত করার পরামর্শ দিলেন।হজরত বললেন এই ফয়সালা নিজামুদ্দীন মার্কাযে হবে। এইখানে না।

কারন দাওয়াতের বড় বড় বিষয় গুলো ফয়সালা নিজামুদ্দীন মার্কাযেই হতে হয়। নিজামুদ্দীন মার্কাযে এসে হজরতজী একজন প্রবীন ও বিচক্ষন বুযুর্গ হজরত মাওঃ ওবাইদুল্লাহ খাঁন বালিয়াভী রহঃ এর সাথে উক্ত বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন হজরতজী আমি তো ত্রিশ বছর যাবত আপনার সুহবতে আছি। আপনাকে কখনো সীরতের বাহিরে কিছু করতে দেখিনি। তাই আমার অভিমত হলো, আপনি এই ব্যাপারেও সীরতের উপরেই অটল থাকুন। সীরাত বলছে হজরত উমর ফারুক রাঃ তাঁর ওফাতের পূর্বে ছয় জনের একটা শুরা গঠন করে ছিলেন এবং এই হুকুম ও করেছিলেন যে তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে একজন কে আমীর হিসেবে নির্ধারণ করে নিও।

এর পর ১৯৯৩ সালে যখন হজরতজী রহঃ হজ্বের সফরে ছিলেন, সারা দুনিয়ার জিম্মাদারসাথীগণ একত্রিত হলেন। তিনি তাদের সামনে এই প্রস্তাব রাখেন এবং আট জনের এক শুরা বানান। তাঁরা হলেনঃ

(১) মাওঃ ইজহারুল হাসান সাহেব – ভারত
(২) মাওঃ যুবায়েরুল হাসান সাহেব – ভারত
(৩) মাওঃ ওমর সাহেব পালন পূরী সাহেব – ঐ
(৪) মাওঃ সাঈদ আহমদ খাঁন সাহেব – মদিনা
(৫) মুফতী জয়নুল আবেদীন সাহেব – পাকিস্তান
(৬) হাজী আঃ ওহাব সাহেব – পাকিস্তান
(৭) ভাই আফজাল হোসেন সাহেব – পাকিস্তান
(৮) হাজী আঃ মুক্বীত সাহেব – বাংলাদেশ।

হজরত রহঃ এই আটজন কে হজ্বের পরে নিজামুদ্দীনের মাশওয়ারায় একত্রিত হতে বলেন। উনারা যখন একত্রিত হলেন, হজরতজী রহঃ আটজন থেকে বৃদ্ধি করে দশ জন করলেন,এর মধ্যে এক জন ছিলেন মাওঃ সা’দ সাহেব, অপর জন হলেন মিয়াজী মেহরাব সাহেব রহঃ। হজরতজী রহঃ তাদেরকে তখন বলেন, আমীর মারা গেলে আপনারা নিজেদের মধ্যে এক জন আমীর বানিয়ে নিবেন। যেমন করেছেন এবং বলেছেন হজরত উমর ফারুক রাঃ।

প্রকাশ থাকে যে, হজরতজী মাওঃ ইনামুল হাসান রহঃ এর উক্ত বানানো শুরা পরবর্তী আমীর নির্ধারন করার উদ্দ্যশ্যে হয়ে ছিল ।
এখন এই প্রোপাগান্ডা শুরু করা এবং উক্ত হজরতজীকে পরোক্ষো ভাবে মানহানী করা যে, তিনি সীরত থেকে বিচ্যুত হয়ে শুরার নিকট দায়িত্ব অর্পন করে গিয়েছেন, এটা মিথ্যা অপবাদ।

নিজেদের অবস্হান প্রমান করার জন্যে এই কথিত আলমী শুরা গং মাওঃ ইলিয়াস রহঃ এর মালফুজাতের অপব্যাখ্যা করার প্রয়াস পাচ্ছে যে, তিনি শুরার মাধ্যমে এ মেহনত কে চালাতে ছেয়েছেন। যদি তাই হত তাহলে তিনি তাঁর পরবর্তীতে হজরত মাওঃ ইউসুফ সাহেব রহঃ কে আমীর বানালেন কেন? একজন অজ্ঞ লোকও তাদের এই যুক্তির প্রতারণা বুঝতে পারবে। তারা কাকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে ? হজরতজী মাওঃ ইনআমুল হাসান রহঃ এর ওফাতের পর তারঁ বাছাইকৃত শূরাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে ভাই আফজাল সাহেব রহঃ ভিসা পাননি। বাকি নয়জন জড়ো হন এবং অনবরত তিন দিন ধরে মাশওয়ারা করেন।
এখন এই কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত যে, এই মাশওয়ারার উদ্দেশ্য হলো একজন আমীর মনোনীত করা। হাজী আঃ ওহাব হতে অধিক বুঝার প্রয়োজন নেই। এক বছর পূর্বে হাজী সাহেবের একটি ক্লিপ what’s app এ ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন। “হজরতজীর ওফাতের পর আমরা মাশওয়ারার জন্য একত্রিত হই”।

উক্ত মাশওয়ারায় মাওঃ সা’দ সাহেব রায় দিলেন যে, যদি আমাকে আমীর বানানো হয় তাহলে মাওঃ যুবায়ের সাহেবের লোকজন সরে যেতে পারে, আর যদি তাঁকে আমীর বানানো হয় তাহলে আমার লোক জন কষ্ট পেয়ে সরে যেতে পারে। এধরনের অভিমত তখনই আসতে পারে যখন মাশওয়ারার উদ্দেশ্য হয় আমীর বানানোর। অন্যথায় একজন মানুষ কেন এমন অভিমত দিবেন? তা ছাড়া যদি শূরার হাতেই যিম্মাদারী অর্পন করা হয়ে থাকে, তাহলে এ তিন দিনের মাশওয়ারায় তাঁরা ঠিক কোন কাজটা করেছিলেন? এই শূরাদের ফয়সাল ছিলেন মিয়াজী মেহরাব সাহেব। তিন জনের রায় ছিল মাওলান যুবায়েরুল হাসান আমীর হতে পারেন। আর তিন জনের রায় ছিল মাওঃ সা’দ সাহেবের দিকে। মাওঃ সা’দ সাহেবের রায় ছিল যাকেই আমরা আমীর ফয়সালা করিনা কেন, সমস্যা হবে। মাওঃ যুবায়ের সাহেব চুপ ছিলেন এবং হাজী আঃ ওহাব সাহেব, মাওঃ ইজহারুল হাসান সাহেব কে বলেন যে, এখন চুপ থাকার সময় নয় আপনার অভিমত ব্যাক্ত করুন। তৃতীয় দিন মিয়াজী মেহরাব সাহেব মসজিদে প্রবেশ করে ঘোষনা দিলেন যে, এখন থেকে এই তিন জন কাজ আগে বাড়াবেনঃ (১) মাওঃ ইজহার, (২) মাওঃ যুবায়ের, (৩) মাওঃ সা’দ। যেহেতু কোন ঐক্যমত হয়নি, তিনজন আমীর বাছাই করা হল। “লোকে জিজ্ঞাসা করে, মাওঃ সা’দকে কে আমীর বানিয়েছেন”? আমরা বলি মিয়াজী মেহরাব সাহেব রহঃ তাঁকে নিজামুদ্দীন মার্কাযের চার দেয়ালের মধ্যেই আমীর বানিয়েছিলেন।

বড়ই পরিহাস যে,এখন যারা আপত্তি তুলছেন, তারা ফয়সালার সময় উপস্হিত ছিলেন। এখন কেন তারা প্রশ্ন তুলছেন? এ ফয়সালা হবার কয়েক মাস পর মাওঃ ইজহারুল হাসান রহঃ ইন্তেকাল করেন। এর পর প্রায় আঠারো বছর হজরতজী মাওঃ সা’দ সাহেব এবং মাওঃ যুবায়েরুল হাছান রহঃ এই মেহনতের যিম্মাদারিতে ছিলেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে একটি তারতীব করে নেন, পর্যায়ক্রমে ফয়সালা করতেন। যখনই কোন জটিল গুরুত্ব পুর্ণ বিষয় আসতো যেই ফয়সাল থাকুন, অন্যজনের সাথে পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নিতেন না। উদাহরণঃ মাওঃ যুবায়ের সাহেব রহঃ এক দফা ফয়সাল ছিলেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ উমুর এসেছিল যে,একটি বিশেষ দেশ এই উমুরের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফয়সালা করতে অনুরোধ জানান। সে সময়ে হজরতজী মাওঃ সা’দ সাহেব কান্ধালা ছিলেন। মাওঃ যুবায়েরুল হাসান সাহেব রহঃ বর্তমানের হজরতজী মাওঃ সা’দ সাহেব না ফেরা পর্যন্ত তিন দিনের ও অধিক সময় যাবৎ ফয়সালা স্থগিত রাখেন। মাওঃ যুবায়েরুল হাসান সাহেব রহঃ ২০১৪ ইং সালে ওফাত ফরমান। এতে বর্তমান হজরতজী মাওঃ সা’দ সাহেবই সিদ্ধান্ত গ্রহীতা হিসেবে থেকে যান। এ হল হজরতজী মাওঃ সা’দ সাহেবের ইমারতের ঐতিহাসিক পটভূমি। তবে সংগ্রহকৃত অধমের এ পোষ্টটি ঐ সকল বন্ধুদের উপকারে আসবে যারা উনার ইমারতের বিষয়ে কিছুটা দুদোল্যমান অবস্হায় আছেন, আশা করি উনাদের দিল সাফ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা বিদ্বেষ ব্যাধিতে প্রচন্ড ভাবে আক্রান্ত হয়ে আছেন, হয়তো অধমের পোষ্টে তাদের বিদ্বেষ ব্যাধি আরো অনেক বেড়ে যাবে।

অনেক পুরাতন ইংলান্ডের এক দাওয়াতের সাথী মুফতী মেহবুব সাহেবের পান্ডুলিপি থেকে এ তথ্য গুলো আমি সংগ্রহ করেছি ।
يضل به كثيرا ويهدي به كثيرا
وماعلينا الاالبلاغ

Advertisements

Leave a Reply