দুনিয়া বিমুখ একজন দেওবন্দী হকপন্থি ওলামার সন্ধানে।

মাওঃ ওলি উল্লাহ আরমান। 

photo editor-20180919_130031244676065..jpgphoto editor-20180919_1300521161770691..jpgphoto editor-20180919_1301141381529206..jpgphoto editor-20180919_130136654139820..jpgছবিগুলি একজন শতবর্ষী দেওবন্দী আলেমের বাড়ির৷ বিস্ময়ে চোখ কচলাতে হবে না৷ আপনি ভুল দেখছেন না, সত্যিই এটা একজন যুগশ্রেষ্ঠ নিভৃতচারী আলেমের বাড়ি৷

এই বাড়িতে যিনি বাস করতেন, কিছুদিন আগে তিনি ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন৷
জীবনের অন্তিম নিঃশ্বাসটুকু তিনি এখানেই নিয়েছেন৷

পৈত্রিক সূত্রে এর মালিক ছিলেন হজরত মাওলানা শায়েখ মুহাম্মদ নোমান সাহেব রহঃ৷
তিনি বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক, শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ এর হাতেগড়া ছাত্র, মুরিদ ও খলীফা৷

আপনার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তাই না? বছর তিনেক আগে প্রথম তার এই ঝুঁপড়ি দেখে আমিও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, এতোবড় একজন ওলিআল্লাহ এমন একটি ঘরে থাকেন, যার একাংশ পানিতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বানানো হয়েছে৷ উপরে জংধরা জীর্ণশীর্ণ টিন৷ যার জাগায় জাগায় ছিদ্র হয়ে গেছে৷ বাঁশের চাঁচ দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে৷ ছোট্ট এই ঝুঁপড়ির ভেতরে ভাঙ্গাচোড়া তক্তার একখানা খাট আছে, যার উপর আমার মতো ওজনের কেউ বসলে ঘুনেধরা কাঠের পায়াগুলি ক্যাচক্যাচ করে আর্তনাদ করে ওঠে৷

দুনিয়া বিমুখ ওলি-দরবেশদের কতো অবিশ্বাস্য গল্প শুনেছি পড়েছি৷ কিন্তু সদ্য দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া শায়েখ মুহাম্মদ নোমান রহঃ এর এই জীর্ণ কুটির দেখলে দুনিয়ার কোনো দরবেশের দুনিয়া বিমুখতার কথাকে আর গল্প মনে হবে না৷

শায়েখ ছিলেন ইলম-আমল-মুজাহাদার পাশাপাশি উপমহাদেশে ওলামায়ে দেওবন্দের সোনালী ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী৷

সবক ইফতিতাহ, ইখতিতামসহ বছরে চার/পাঁচবার আমাদের নতুনবাগ জামিয়ায় আসতেন৷ বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তার মুর্শিদ শায়খুল ইসলাম মাদানী রহঃ এর আপোসহীন দূরদর্শী ভূমিকা, খণ্ড/অখণ্ড ভারত প্রসঙ্গে ওলামায়ে কেরামের বিভক্তি, ১৯৪৭ এর পর উভয় পাকিস্তানে নিজ অনুসারী শিষ্য, শাগরেদদের বাস্তবমুখী নির্দেশনা সব তার মুখস্থ ছিলো৷

সর্বশেষ নতুনবাগ জামিয়ার উদ্যোগ, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে গত এপ্রিল-মে মাসে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পরিচর্যায় তিনি কিছুটা সুস্থ হন৷ মে মাসের দুই তারিখ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পটিয়া নিজ বাসভূমে চলে যান৷ যাবার আগে একদিন মসজিদে দোয়া করার জন্য বললে তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে লম্বা সময় তাকওয়া ও তাযকিয়ার উপর বয়ান করেন৷

আল্লাহ তার সকল মেহনত কবুল করেন৷ তাকে জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করেন৷ আমাদেরকেও দুনিয়াবিমুখ জিন্দেগী দান করেন৷

 

Advertisements

Leave a Reply