যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষদূত রাহাবার আর প্রধানমন্ত্রীর ইমামতিতে এক কাতারে ভন্ড আলেম সমাজ।। প্রতিদিন নির্যাতিত হকপন্থি আলেমগন।। কাকরাইল মারকাজ সহ একের পর এক বন্ধ হচ্ছে মারকাজ, তালা ঝুলছে মসজিদে।। আলমী শুরার বাংলাদেশী গুরু ধরাছোঁয়ার বাইরে।।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী।

ফাঁদ পেতে সে ফাঁদে সরকার নিজেই পড়েছে। শ্যাম রাখি না কুল রাখি এই অবস্থা আওয়ামী সরকারের।

“অপারেশন সিকিউর শাপলা” ৫ ও ৬ মে ২০১৩ আওয়ামী সরকার ও হেফাজত ইসলাম উভয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। ৫ ও ৬ মে’র ঘটনা এ দুটি দলের জন্য বিজয়ের বছর। উভয় দলই এ ঘটনায় জয়লাভ করেছে।

প্রসঙ্গ ক্রমে প্রশ্ন আসে হেফাজতে ইসলাম কি আওয়ামী লীগের জঙ্গী কানেকশন ? “তারা কার স্বার্থ রক্ষার্থে ৫ ও ৬ মে এর ঘটনায় হাজার হাজার নিরীহ মাদরাসার এতীম ছাএদের রক্ত ঝরিয়েছে? নাকি বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র দেখানোর জন্য ভোটার বিহীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আল্লামা তকবধারী শেখ হাসিনার ভাষায় তেঁতুল হুজুর শফি সাহেব কাজটি করেছেন? দেখে মনে হচ্ছে শফি হুজুর ভোটের রাজনীতিতে এখন মিষ্টি তেঁতুলে পরিণত হয়েছেন। এটা যদি সত্যি না হবে তাহলে ঐ ৬ মে’র ভয়াবহ রাতে হেফাজতের হাজারো নেতাদের মাঝে মাএ একজন নেতা ও শহীদ হয়েছিলেন কি? না, সেদিন কোন নেতা শহীদ হয়েছেন বলে হেফাজত সরকারকে দায়ী করেনি। তাহলে কি নেতারা আগে থেকেই সরকারী বাহিনীর অভিযানের খবর জানতেন? অবুঝ মাদরাসারার এতীম ছাএদের মাঠে নামিয়ে ঐ রাতে কোথায় ছিলেন উনারা?

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারার সঙ্গে নাকি শফী হুজুররা যান না। তাদের ১৩ দফার দফারফা শেষ! কবর রচিত হয়েছে ১৩ দফার। নারী নেতৃত্ব মেনে গনতন্ত্রের মানষ কন্যা হাসিনা বুবুর আগামী সরকারের মন্ত্রী সভার সদস্য হবার লোভে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কত টাকার বিনিময়ে শহীদের রক্ত কেনা-বেচা করলেন তেঁতুল হুজুর? তেলের সঙ্গে জলের যেমন সংমিশ্রণ ঘটে না। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে সবই মিশে যায়।

আওয়ামীলী, বিএনপি, জাতীয় পার্টি (যাএা পার্টি) ভোটের রাজনীতিতে এ সকল দুনিয়ালোভী জামাত ইসলামী আকিদার ধর্ম ব্যাবসায়ীদের নিয়ে হরহামেশাই দলভারী করে। আর শয়তান বামপন্থি নাস্তিক ইনুরা ও এদেশে মন্ত্রী হয়। যেমনটা হয়েছিল বিএনপির সময়  রাজাকার নিজামী। আগামীতে হয়তো দেখবো হেফাজত আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী! এটা নিয়ে সাধারন দাওয়াতের সাথীদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। কিন্তু যখন দেখি ধর্ম ব্যাবসায়ী এসকল লোকজন সাধারন মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেয়, মারকাজ, মসজিদ ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়। ১৯৭১ এর পর আজ অবধি দাওয়াতের সাথীদের এমন পরিস্থিতি আসে নাই। এমনকি জামাত ইসলামও এমন দুষমনি করে নাই। আওয়ামী সরকারের দোষর হেফাজতই প্রথম এই জাতীয় বিভেদ এর জন্ম দিল। আর আওয়ামী সরকার তাতে ঘি – তে আগুন লাগানোর সহায়তা করল। এদের জন্য কত রাজাকার স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির স্বপক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আলেক্সান্ডারের সেই বিখ্যাত উক্তির মত, হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এদেশ!!

সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের নেতারা হেফাজতের শফী হুজুরের কাছে কম দৌড়াননি। ভোটের রাজনীতিতে ইসলামী কার্ড এখন একতরফা হয়ে গেল। মামলাগুলো অনেকটা লাপাত্তা। বুদ্ধিজীবীরা যতই সমালোচনা করুক ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এদেশে সবাই করেন এটা প্রমাণের আর কিছু অবশিষ্ট থাকল না।

শুরুতে যে কথা বলছিলাম দু’ দলই লাভবান, কি ভাবে?

হেফাজতে ইসলাম আর আওয়ামীলীগের জঙ্গী কানেকশনে ২০১৩ এর ৫,৬ মে’র ঘটনা না ঘটালে, ভোটারবিহীন নির্বাচনে ২০১৪ এর জানুয়ারীতে ক্ষমতার মসনদে বসা অসম্ভব ছিল আওয়ামীলীগের জন্য। ২৬ মার্চ কালোরাএির পর বাংলার ইতিহাসে সবথেকে ভয়াবহ ঘটনা ছিল ২০১৩ এর ৫,৬ মে। এ ঘটনার পর থেকে ভোটার বিহীন ২০১৪ এর ইলেকশন অবধি বাংলার সাধারন ভোটারসহ অাওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো ছিল বিরাট এক আতংকের মধ্যে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০১৪ এর ভোটার বিহীন ইলেকশনে কোন গোলযোগ ছাড়াই আওয়ামীলীগ মসনদে আসে। অপরদিকে শুরু থেকে বলে আসা অরাজনৈতিক সংগঠন, নারী নেতৃত্ব বিরোধী ১৩ দফার দাবীদার হেফাজতে ইসলামের রাজনীতির মাঠে প্রকাশ্যে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আত্মপ্রকাশ ও সুবিধা আদায়ের একটি সুযোগ আসে। শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানী করে কাড়ি কাড়ি টাকা আর দুনিয়ার আখের গুছিয়ে নিলেন তেঁতুল হুজুরেরা। আগামী আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী সভার সদস্য হবার অফার তো আছেই! একেই বলে একাদশে বৃহস্পতি!!!

ভন্ড হেফাজত, খেলাফত মজলিশ, চরমোনাই, দাওয়াতুল হক সহ অওয়ামী গনতান্ত্রিক, নারী নেতৃত্বের অংশীদার ইসলামী ঐক্যজোট (বিগত খালেদা জিয়া সরকারের অংশীদার) ও তাদের পাকি দোসর আলমী শুরা, যাকাত ও ফেতরা খোর, মিথ্যা ফতোয়াবাজ, দেওবন্দের ফতোয়ার মিথ্যা ব্যাখ্যা প্রদানকারী, ধোঁকা বাজ, মিথ্যাবাদী, জামাত ইসলামীর মওদুদির আদর্শ অনুসরনকারী, রাজাকার, রাজনৈতিক গনতন্ত্রকামী আলেম, নারী নেতৃত্বের অধীনস্থ, বাম কমিউনিস্ট আকিদার শুরার পদ লোভী, সুবিধাবাদী, ইসলামের নামে সাধারন মুসলমানদের ভুল ব্যাখ্যা প্রদানকারী, কোমলমতি মাদরাসার ছাএদের বেয়াদব ও ভুল আকিদা শেখানোর কারিগর, পাকিস্তানি দালাল ওলামা নামধারী দুনিয়ালোভী ওলামা আস-সূ গন গত ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অরাজনৈতিক তাবলীগ জামাত ধবংসে এক কাতারে নেমেছে। হেফাজতসহ এসকল কতিপয় নোংরা আলেম নাম ধারী ওলামা-আস-সূ দের শুকুনী দৃষ্টি পড়েছে দাওয়াতে তাবলীগের মোবারক মেহনতের উপর। আওয়ামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা ও সরকারের মদদে তারা দেশের মসজিদ সমূহে দাওয়াতের সাথীদের উপর একের পর এক আক্রমণ করছে। দখল করছে তাবলীগের মারকাজ সমূহ। মাদরাসার কোমল মতি ছাএদের ৫ মের শাপলা চওরের নৃশংসতার মতো লেলিয়ে দিচ্ছে নিরীহ দাওয়াতের সাথীদের উপর। সম্প্রতি দখল করেছে কাকরাইল মারকাজ। দেওবন্দের কোন আলেম ওয়ার্ল্ড আমীরকে নিয়ে সামান্যতম কটু বাক্য ব্যাবহার করেছেন শোনা যায়নি। খোদ ভারতেই তাবলীগের ভিতরকার বিষয় নিয়ে যেখানে দেওবন্দের মাথা ব্যাথা নেই, সেখানে বাংলাদেশের কতিপয় ওলামা নামধারী দুই পা ওয়ালা জানোয়ার দেওবন্দের নাম বিক্রি করে যারা পেটপূজায় লিপ্ত, এদের হুংকার ও গর্জনে বাংলার বাতাস আজ দূষিত প্রায়। অবৈধ জাকাত ফিতরা খাওয়া হীন মানষিকতার লোকজনের মাথা থেকে কখনো সঠিক আচারন ও সঠিক কাজ করা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কাকরাইল মারকাজ দখল ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশঃ

একদিকে আওয়ামী সরকারের আগামী ইলেকশনের বৈধতা দিতে হেফাজতের সরকার প্রীতি, অপরদিকে মজলিসে দাওয়াতুল হক ও মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান এর প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রীতি, সরকারের বিশেষদূত জাতীয় রাজনৈতিক হিজড়া এরশাদের হাতে বায়াত গ্রহনকারী, ২৮ জুলাইয়ের ওয়াজাহাতি জোড়ের ফয়সাল, খেলাফত মজলিশ তথা ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ( সাবেক খালেদা সরকারের অংশীদার) মাওঃ মাহফুজুল হকদের মতো হেভিওয়েট ওলামা-আস-সূদের সমন্বয়ে শক্তিশালী পাকপন্থি কাকরাইলের কারী যোবায়ের, রবিউল গং গত ৮ সেপ্টেম্বরে কাকরাইল মারকাজ দখল করে নেয়। রক্তাক্ত জখম করে মাওঃ মুনির বিন ইউসুফ ও মাওঃ মোহাম্মদ উল্লাহ সাহেবকে। পিটিয়ে বের করে দেয় নজমের সাথীদের। কাকরাইলের ইতিহাসে এই প্রথম বৃহস্পতিবার অদ্য ১৩ সেপ্টেম্বর দাওয়াতের সাথীদের  শবগুজারী করতে দেওয়া হয় নাই।

কাকরাইল গেটে অবস্থান নেয় সাধারন সাথীরা। এক আজীব প্রতিবাদ। কোন সাথী ওলামা-আস-সূদের মতো রাস্তা বেরিকেড দেয় নাই। করে নাই কোন মিছিল। ভাংচুর হয় নাই। নেই কোন গালিগালা। মাইকে সাথীদের বলা হয়, মাসোয়ারার ভিওিতেই চলতে হবে, চাইতে হবে আল্লাহর দরবারে। সামান্য নোটিশে লক্ষ লক্ষ সাথীর জমায়েত। কাকরাইলে ঢুকতে না পেরে প্রথমে টিপটপ মসজিদ, পরে গুলশান মসজিদ। মসজিদে ইবাদতের মাধ্যমে রবের কাছে দাবী পেশ। এ এক অসাধারন প্রতিবাদ।

এটা কি কাকতলীয় না পূর্বপরিকল্পিত, নাকি প্রতিহিংসা? 

২৮ জুলাই, ২০১৮ মোহাম্মদপুরের ওয়াজাহাতি জোড় বাংলার মুসলমান ও দাওয়াতের মেহনতের সাথীদের সামনে এদের সরুপ বেরিয়ে পড়েছে। ধোঁকাবাজদের ধোঁকায় আর কেউ আসছে না দেখে অবুঝ মাদ্রাসার ছাএদের দিয়েই মজমা ভরছে। তাদের লেলিয়ে দিয়ে মারকাজ ও মসজিদ সমূহ দখল করছে। 

দিনাজপুরের সফল ইজতেমা শেষ হতে না হতেই ঢাকা এবং নোয়াখালীতে হামলা। দিনাজপুরে ফিৎনায়ে খবিসা আলমী শূরার ব্যর্থতার পরে গা জালুনি থেকেই এই হামলা। মসজিদে মসজিদে তালা। 

ধরাছোঁয়ার বাইরে বাংলাদেশের “আলমী শুরার” গুরুঃ

এমন মনে হচ্ছে যে আলমী শুরা, আলমী মারকাজ, আলমী ফিতনা, আলমী বিদ্রোহী ইত্যাদির ঠিকাদারি বাঙালী ড. আওয়ালকে গত আনুমানিক ২ বছর আগে আমেরিকার নিউইয়র্কে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জন্য দেওয়া হয়েছে। যখন থেকে আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়েছে, তখন থেকে দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে ভালবাসা, মহব্বত ও যোগাযোগ কমতে শুরু করেছে। মাসওয়ারার আগে ও পরে মাসওয়ারা না করার বিধান রসূল(সাঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত। যা দাওয়াতে তাবলীগে সব সময় চলে আসছে। এর ফলে দাওয়াতে তাবলীগে সামান্য ৩ দিন সময় দিয়ে এক নতুন সাথীর দিলও আল্লাহতালার রহমতে পরিবর্তন হয়, তার দিলে অচেনা আর এক সাথীর জন্য ভালবাসা, মহব্বত পয়দা হয়। অথচ যখন গত ২ বছর আগে প্রথম নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড প্রথম আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়, তখন অবস্থা দেখা গেল আইয়ামে জাহেলিয়াত এর যুগ এসেছে। নিউইয়র্কে নিযামুদ্দিনের মারকাজ “মসজিদ আলফালাহ” রাতারাতি বনে গেল আলমী ফেৎনার প্রথম ওয়ার্ল্ড মারকাজ। মসজিদ আলফালায় তরতিবের বাইরে মাসওয়ারার আগে-পরে মাসওয়ারা। নিউইয়র্কের ব্রনক্স, ওজোনপার্ক, কুইন্স এলাকার সদ্য আলমী শুরা বনে যাওয়া দাওয়াতের সাথীগন নিযামুদ্দিনের অনুসারী বলে চলা সাথীদের সহিত এক মসজিদে একই কাতারে পাশাপাশি দাড়িয়ে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিল। ভালবাসার পরিবর্তে মুসলমানে, ভাইয়ে-ভাইয়ে ঘৃনা শুরু হলো। বক্তব্য- পাল্টা বক্তব্য, মারকাজ দখল তথা মসজিদ দখল, হিংসা, চোখরাঙানী, গীবত, মিথ্যাচার ইত্যাদি হয়ে উঠলো নিত্য দিনের আমল। মুখথুবড়ে পড়ল ১০০ বছরের মোবারক মেহনত। তরতিবের বাইরে আগাছার মতো আলমী শুরা ঘরনার নতুন মারকাজ হিসাবে খ্যাতি পেল ব্রনক্স সেন্ট পিটারসের “বাইতুল মামুর” মসজিদ, যেখানে আলফালাহর মতো অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হলো নিযামুদ্দিনের সাথীদের।

আমেরিকা প্রবাসী এই ড. আবদুল আওয়াল ই সারা দুনিয়াতে প্রথম ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক এর মারকাজ দখল করেন এবং ২০১৭ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় আলমী শুরার প্রথম এস্তেমা করেন। নিচের ভিডিও টি শুনুনঃ

২০১৬ এর সফলতার পর এই ড. আওয়াল ২০১৭ এর ওয়ার্ল্ড এস্তেমায় মাওঃ সাদ সাহেবের ঢাকায় আগমন ঠেকাতে এক মিশনে নামেন, যেটা বিফল হওয়ায় আবারও ২০১৮ তে হেফাজত, দাওয়াতুল হক ও খেলাফত মজলিশকে কাজে লাগিয়ে মাওঃ সাদ সাহেবকে ঢাকা ত্যাগে বাধ্য করেন। আমরিকা প্রবাসী এই ড. আওয়ালকে নিয়ে দাওয়াতে তাবলীগের মাঝে হাজারো রহস্য। নিউইয়র্ক এ দাওয়াতুল হকের মুফতি জামালুদ্দিনকে কাজে লগিয়ে ২০১৬ সাল থেকে নিউইয়র্ক সহ বাংলাদেশে এই মোবারক মেহনত ধবংসে তার ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাবলীগের মেহনতের বাইরের অনেক আলেমকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আলমী শুরার ব্যানারে এনে ওলামাদের দল ভারীতে কূটকৌশলের আশ্রয় নেন।

দাওরা পাস আলেম আর ইফতা পড়ে মুফতি হলেই কেউ ফেরেস্তা হয়ে যায় না…..

দাওরা পাস হয়েও মিথ্যা বললে কবিরা গুনাহ হয়…..
বেগানা নারীদের সাথে টকশো করলে জ্বিনাকারী বলে গণ্য হয়……
সেলফী তুলে ফেসবুকে আপলোড দিলেও গুনাহ হয়…..
ফাহেশা নারীকে আমির সাহেব বা প্রধান নেতা বা দেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র পদ্ধতিতে নির্বাচন করা ও তাদের নেতৃত্ব মানা, হারাম…..
আল্লামা তকমা বা লকব লাগিয়ে এসব করলেই জায়েজ হয়ে যায় না……
কন্টাক্ট করে টাকা নিয়ে কুরআনের আলোচনা করতে করতে এদের আজ এ অবস্থা……
ইলমের মানে এটা নয় যে ইলম বিক্রি করে টাকা কামাবে……??

“হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাঃ এজন্যই বলে গেছেন ইলম বিক্রি করে যারা টাকা কামাবে তাদের পূর্বে বেশ্যারা জান্নাতে যাবে”

“আর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন আমার উম্মতের নিকৃষ্ট আলেমগণ হলো নিকৃষ্ট মাখলুক”

এবং এটাও বলেছেন, জাহান্নাম উদ্ভোধন করাই হবে উলামায়ে সূ দের দিয়ে…….!!

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাঃ বলেন, আমার সবচে বেশি ভয় হয় এই উম্মতের উলামায়ে সূ দের ব্যাপারে…..

হাসান বসরী রহঃ বলেন, যদি কোন আলেমকে আমির উমারাদের (রাজাবাদশা) কাছে যাতায়াত করতে দেখ তাহলে তাকে চোর বলে সাক্ষী দাও…….

এখন প্রশ্ন হলো উলামায়ে সূ কারা………..???
কোন দাওরা পাস আলেম কি কখনো বলবে সে উলামায়ে সূ……. (??)
বা কোন আওম মানুষ কি কখনো কোন আলেমকে উলামায়ে সূ বলতে সাহস পাবে…(?)
কখনো নয়,

তবে সত্য হলো নবিজী সাঃ এর হাদিস……এদের মাঝেই রয়েছে উলামায়ে সূগণ…….!!!
যাদের বিষয়ে উপরে বলা হলো…….!!

আক্বলবানরা ঠিকই উলামায়ে সূদের সহজেই চিনতে পারেন…….!!!!

সব বয়ানে দরবারি আলেমসমাজ একটা হাদিসের অল্প একটু বয়ান করে নিজের সম্মান বৃদ্ধি করতে চায়,
“আল উলামা ওয়ারশাতুল আম্বিয়া” আলেমগণ নবির ওয়ারিশ……কিন্তু পরের অংশটি বলে না, যেখানে নবীজি সাঃ বলেছেন, আম্বিয়া আঃ গণ দিনার দেরহাম অর্থাৎ টাকা পয়সার ওয়ারিশ বানান না….এই কথাটা লুকিয়ে রাখে এজন্য যে পাবলিক যদি প্রশ্ন করে যে তাহলে আপনারা ওয়াজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা কেন নিচ্ছেন……আর বাংলাদেশ এর বাইরে আমেরিকা, লন্ডনসহ উন্নতদেশে ওয়াজ করে ফান্ড রাইজিং এর নামে ডলার, ইউরো কামিয়ে কি করছেন….???

তারপরও হায়াতুস সাহাবার বরকতে জেনারেল
শিক্ষিতরাও সাহাবা জীবনে পড়ে সঠিক আমল গুলো চিনে ফেলেছে……!!

আর এই সঠিক চিনে ফেলাই জম হয়ে দাঁড়িয়েছে….!!

হক্ব আর বাতিল আজ সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট…

হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে

হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব মানব সৃষ্টির প্রথম থেকে চলে এসেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। হকপন্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন আল্লাহর নবী এবং যুগের শ্রেষ্ঠ মানবগণ আর বাতিলপন্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছে সমকালীন শাসক গোষ্ঠী এবং সমাজপতিরা। হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্বের কয়েকটি দৃষ্টান্তঃ

১. হযরত নূহ (আঃ) এর সাথে তৎকালীন সমাজপতিদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছিল। পবিত্র কুর্‌আনে নয়জন সমাজপতির কথা উল্লেখ আছে। তারা হযরত নূহ (আঃ)কে প্রস্তর মেরে হত্যা করার ভয় দেখায়।
২. হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সাথে খোদাদ্রোহী বাদশাহ নমরুদের দ্বন্দ্ব হয়। নমরুদ হযরত ইব্রাহীম (আঃ)কে হত্যা করার জন্য প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে।
৩. হযরত সালেহ (আঃ) এর সাথে সামুদ জাতির সমাজপতিদের সাথে সংঘর্ষ হয়। আর এ জাতির লোকেরা আল্লাহর উটনীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।
৪. হযরত হুদ (আঃ) এর সাথে আদ সম্প্রদায়ের সমাজপতিদের সাথে মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব এবং সংঘর্ষ হয়।
৫. হযরত শোয়াইব (আঃ) এর সাথে আহলে মাদায়েনের সমাজপতিদের দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ হয়।
৬. হযরত লুত (আঃ) এর সাথে কাওমে লুতের সমাজপতিদের সাথে দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ হয়।
৭. হযরত মুসা (আঃ) এর সাথে মিসরের খোদাদ্রোহী বাদশাহ ফেরাউনের মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ হয়।
৮. হানানী নবীর সাথে তৎকালীন রাজা আসার দ্বন্দ্ব হয় এবং সে আল্লাহর নবীকে জেলখানায় পাঠায়।
৯. হযরত ইলিয়াস (আঃ) এর সাথে তৎকালীন বাদশাহ আখীয়ারের দ্বন্দ্ব হয় এবং সে আল্লাহর নবীকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়।
১০. হযরত দাউদ (আঃ) এর সাথে অত্যাচারী বাদশাহ জালুতের যুদ্ধ হয়।
১১. হযরত মিকাইয়া নবীর সাথে বাদশাহ আবু যাবারের দ্বন্দ্ব হয় এবং সে আল্লাহর নবীকে জেলে পাঠায়।
১২. হযরত জাকারিয়া (আঃ) এর সাথে তৎকালীন বাদশাহ ইউওয়াসের দ্বন্দ্ব হয় এবং সে আল্লাহর নবীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।
১৩. হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর সাথে তৎকালীন বাদশাহ হীরোদেশের দ্বন্দ্ব হয় এবং সে আল্লাহর নবীকে হত্যা করে।
১৪. হযরত ঈসা (আঃ) এর সাথে তৎকালীন ইহুদী এবং রোমীয় শাসক প্লাতিন এর সাথে মতবিরোধ হয়। আর তারা আল্লাহর নবীকে হত্যা করার জন্য একটা ঘরে বন্দী করে রাখে। পরে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে আসমানে উঠিয়ে নেন।
১৫. মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে তৎকালীন কাফের কুরাইশ, পারস্য এবং রোমান শাসকদের সাথে দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ হয়। কাফেররা দারুন নাদওয়া বৈঠকে আল্লাহর নবীকে হত্যা করার চক্রান্ত করে। আল্লাহর নবী ১০ বছরে ৮৭/৮৯/১১০ টি যুদ্ধ করেন কাফেরদের সাথে।
১৬. হযরত ওমর, হযরত ওসমান, হযরত আলী ও হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ)কে তৎকালীন দুষ্কৃতিকারী এবং শাসক গোষ্ঠী হত্যা করে।
১৭. গত শতাব্দীতে মিশরে আল্লামা সাইয়েদ শহীদ কুতুব, আবুল ফাত্তাহ ও হাসানুল বান্না সহ অনেক আলেমকে ফাঁসি দিয়ে এবং চক্রান্ত করে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী হত্যা করেন।
১৮. বর্তমানে তাগুত শক্তি আলেম ওলামা সহ ইসলামপন্থীদের উপর কিরূপ আচরণ করতেছে, তা আপনাদের কারো অজানা থাকার কথা নয়।

এভাবে যুগে যুগে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা তারই মনোনীত বান্দাদেরকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন। আর এতে তারা নিজেদের জান-মাল কুরবানীর মাধ্যমে সফলকাম হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, ”আমি তোমাদেরকে (ঈমানদারগণ) অবশ্যই পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, দুর্ভিক্ষ, জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি এবং ফল ফসলাদির বিনষ্টের মাধ্যমে। এমতাবস্থায় যারা ধৈর্য ধারণ করবে, তাদের জন্য রয়েছে (জান্নাতের) সুসংবাদ।” (সূরা বাকারা, আয়াত নং-১৫৫)
আর মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা মুমিনদেরকে অভয় দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ”তোমরা মনমরা হয়ো না, চিন্তিতও হয়ো না; তোমরাই হবে বিজয়ী যদি তোমরা সত্যিকারের ঈমানদার হও।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং -১৩৯)

Advertisements

3 thoughts on “যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষদূত রাহাবার আর প্রধানমন্ত্রীর ইমামতিতে এক কাতারে ভন্ড আলেম সমাজ।। প্রতিদিন নির্যাতিত হকপন্থি আলেমগন।। কাকরাইল মারকাজ সহ একের পর এক বন্ধ হচ্ছে মারকাজ, তালা ঝুলছে মসজিদে।। আলমী শুরার বাংলাদেশী গুরু ধরাছোঁয়ার বাইরে।।

  1. Many of the things mentioned here are presumptive and imaginary. Dr Awal has believed in someway and has chosen his path and he has all the rights to do that. He has tried to promote his idea to enhance the work of Dawah. This is specially true when world Markaz in Nizamuddin was going on wrong path. Mowlana Saad sb had done so much damage to the work, himself being GUMRAH (misguided), had done so many mistakes and stood against the core principles of the work of Tabligh. For example (1) he has misinterpreted the Quran, who is a greater GUMRAH than the one who misinterpretes Quran? (2) he has discussed ‘mas’ala’ which is forbidden in Tabligh (3) he ignored mashwara and unilaterally introduced new things in Tabligh (4) he went against Jamhur Ulama worldwide and so many more.
    Dr Awal did not start the Shura Idea he only liked and join with it. And this joined the world Tabligh community except some brothers who are so desperate that whatever happens to Tabligh don’t care but they must save Mow Saad; this is so sad.
    Mow Saad’s world is shrinking; he can’t go to Pakistan, he can’t go to Bangladesh, he can’t talk to Arabs in Medina ( had to stay in Hotel) and there is fight in his own Masjid; not to mention that Darul Uloom Dewband against him, Hathazari against him; I wonder how long can he survive alone being a lone wolf! May Allah guide us all, May he save the work of Dawah.

  2. মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেবের ‘প্রতি’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রীতি থাকতে পারে তাইবলে “হযরতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রীতি বলা এবং হযরত কর্তৃক কাকরাইল দখল করা বলা” মারাত্মক তোহমৎ। হযরত এর সাথে সম্পৃক্ত নন

  3. Those who thinks of other’s misguideness and bad comments to those tested ulamas who are sacrificing generation after generation to promot the deen and the work of deen of Allah according to the sirat and sunna of Rasul (sl.) and his sahaba (RA)they are ìn great denger and will face Allah’s wrath very soon. Every body will be accountable inforont of Allah according to his knowledge and ability. So plz don’t think to bad comment rather make effort & pray all the times to make Ummat united. “MAY ALLAH SWT. MAKE ALL UMMAT OF OUR BELOVED PRORHET SALLALLAHUALAIHI WASALLAM ONE AND RIGHTIOUS”

Leave a Reply