সাবা গ্রুপ জানান দিচ্ছে ওরা এখনো মরে নি।

লেখকঃ শামীম হামিদী

সাবা গ্রুপ জানান দিচ্ছে ওরা এখনো মরে নি।

◆ প্রথমেই হাদীস থেকে কয়েকটি নসীহত। তাবলীগ যেহেতু করি, এই সবক প্রথম দিনই পেয়েছি, সব নসীহত আমার জন্য।

১. মুমিন ধোঁকা খায় না, ধোঁকা দেয় না।
২. কারো মিথ্যাবাদী হবার জন্য এটাই যথেষ্ট যে কারো কথা শুনেই প্রচার করে।

ফ্লাশব্যাক,
১. গত শনিবারের কথিত অজাহাতি জোর। এই জোড় কাকরাইলের শূরা হযরতগণ এবং সাধারণ সাথীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়া।

fb_img_15327851333911865304567.jpg
২. মুহতারাম আব্দুল মালেক সাহেব হাফিজহুমুল্লাহ কর্তৃক কিছু অসত্য তথ্য উপস্থাপন যা মুম্বাইয়ের এক সাথী এবং আল্লামা আবুল কাসেম নুমানী দামাত বারকাতুহুম এর ফোনকলে স্পষ্ট হয়ে যাওয়া।

 

৩. ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে দেওবন্দের নামে জাল ফতোয়া ছড়িয়ে পড়া এবং সাধারণ সাথীদের দ্বারা বিনা তাহকীকে ভাইরাল হওয়া।

২৮ জুলাই ২০১৮ দেওবন্দ  ফতোয়া

৪. উল্টা সাথীদের সাথেই ফাঁপড় লওয়া।

ইতিহাসের শিক্ষা, সাবায়ী গ্রুপের ষড়যন্ত্র।
আমরা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জামানার দ্বন্দ্বের ঘটনা জানি। এতে জড়িত উভয় পক্ষেই ছিলেন বদরী ও আশারা মুবাশশারা সাহাবাকেরামসহ, অসংখ্য সাহাবা। রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। যুদ্ধে লিপ্ত হলেও তাঁরা চেতনা হারান নি। তাঁরা দিনে যুদ্ধ করতেন রাতে অপরপক্ষের শহীদদের দাফন কাফন জানাযায় অংশ নিতেন, আহতদের শুশ্রূষা করতেন, সন্ধির চেষ্টা করতেন। বেশ কয়েকবারই তাঁরা সন্ধির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ও তার দলবলের চক্রান্তের কারণে সম্ভব হয়নি। যখনই কোন একটা সমঝোতার সম্ভাবনা সৃষ্ট হত, তখনই ওরা একেকটা গুজব ছড়াত।

সাহাবাকেরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ছিলেন সবচেয়ে নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। তারাই বিরোধ এবং ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাননি। সাবায়ীরা এখনো আছে। ওরা মরে না। যুগে যুগে নতুন নতুন ভাবে জন্ম নেয়। যুগে যুগে সকল সাবায়ীদেরই একই বৈশিষ্ট্য ছিল, তা হল কপটতা। এরা সমাজে এমন বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে চলত যে কেউ এদের সন্দেহও করতো না। আজও তাই। কেউ ওদের সন্দেহ করে না।

সুপার ফ্লপ অজাহাতি জোড়।
গত ২৮ জুলাই শনিবার তারিখে বাংলাদেশের কিছু উলামকেরাম সমাধানের নামে অজাহাতি জোড় ডেকেছিলেন। এখানে তারা কোন সমাধান দেননি। কোন মাসোয়ারা করেননি। কারো কোন রায় চাননি। বরং আগের কথা গুলোই পুনরাবৃত্তি করেছেন। কিছু পূর্ব প্রিন্ট লিফলেট সবার হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। এগুলো অনেকটা গায়ের জোরে চাপানো সিদ্ধান্ত।

এই জোড় পুরোপুরি ফ্লপ হয়েছে। কাকরাইলের বিদ্রোহী শূরাগণও কেউ ছিলেন না। সাধারণ সাথীদের দেখা যায়নি বললেই চলে। উপস্থিত লোকদের মধ্যে ৯৫%ই ছিলেন তলাবা। এরাও যে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আসে নি এটা বুঝতে পিএইচডি করার দরকার পড়ে না।

এখানে কোন খুরুজ বা মাসোয়ারা দূরে থাক, এই ব্যাপারে কোন আলোচনাই হয়নি। তাই ওই জোড় সম্পূর্ণ ফ্লপ এবং সাধারণ সাথীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত।

মাহফুজুল হক

মিথ্যা তথ্য ধরা খাওয়া।
কথিত এই অজাহাতি জোড়ে দেশের নেতৃস্থানীয় উলামকেরাম অনেকেই ছিলেন। বক্তব্য রেখেছেন। দুঃখজনক যে তাঁদের বক্তব্যে প্রচুর অসত্য তথ্য এসেছে। আরো দুঃখজনক আমাদের অতি সম্মানের পাত্র মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব হাফিজহুমুল্লাহও এই চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। তিনিও দেওবন্দের বরাবর চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।

photo editor-20180729_1628171595469222..jpg

পরবর্তীতে রাতে মুম্বাইয়ের এর সাথীর সাথে দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতারাম মুহতামিম সাহেব আল্লামা আবুল কাসেম নুমানী দামাত বারকাতুহুম এর ফোনালাপ আমাদের কাছে এসেছে। এতে তিনি পরিষ্কার ভাষায় মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এছাড়া ঐ ফোনালাপে আরো কিছু তথ্য এসেছে যা বাংলাদেশে প্রচলিত তথ্যের বিপরীত।

মূলতঃ এই ধরা খাওয়া জনিত অস্বস্তি কাটাতেই জাল ফতোয়া নাটক সাজানো হয়।

ফতোয়া নাটকের রহস্য, এক ঢিলে বহু পাখি।
যতদূর জানা গেছে এই জাল ফতোয়ার সূত্রপাত পাকিস্তান থেকে। কোন এক পাকিস্তানী ইন্ডিয়ান whatsapp গ্রুপে প্রথম পাকিস্তানী এক সাথী এটি পোস্ট করে। সেখানে সৌদি প্রবাসী এক বাংলাদেশী সাথী প্ৰথম এটি পান এবং সরল বিশ্বাসে ভাইরাল করে দেন।

কসম খেয়ে বলা যায় এই জালিয়াতি কোন তাবলীগের সাথী করেননি। কেননা আল্লামা আবুল কাসেম নুমানী সাহেবের ফোনালাপের অডিওই যথেষ্ট ছিল, এরপর আর নতুন করে ফতোয়া জাল করার দরকার নেই। এটা সন্দেহাতীত ভাবে সাবায়ী গ্রুপের কাজ যারা মুসলমানের ঐক্য চায় না।

● এর দ্বারা ওরা এক ঢিলে বহুপাখি শিকার করতে চেয়েছে:
১. আল্লামা নুমানী দামাত বারকাতুহুম এর ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ার পরে মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের মিথ্যাচার ধরা পড়ে যায়। এর থেকে মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়াই এই জালিয়াত চক্রের উদ্দেশ্য।

এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক একটা কৌশল। রাজনীতিতে সাধারণত সরকার কোন অস্বস্তির মুখে পড়লে অন্য আরেকটি ঘটনা ঘটায় যাতে মূল ঘটনা থেকে মনোযোগ অন্য দিকে যায়। এ কারণেই লন্ডনের মাওলানা মেহবুব সাহেব বরাবরই এই ফিৎনায়ে খবিসা আলমী শূরা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক চক্র হিসাবে অভিহিত করে আসছেন।

২. তাদের ফ্লপ অজাহাতি জোড় থেকে নজর হঠান।

৩. উল্টা চোরের মায়ের বড় গলার মত, তাবলীগের সাথীদেরই দোষী সাব্যস্ত করা।

৪. তাবলীগের সাথীদের আগের অকাট্য দলীল গুলোকেও এখন ওরা মিথ্যা প্রমাণে প্রয়াস পাবে।

৫. ওদের মিথ্যা গুলোকেও এই সুবাদে সত্যের রঙ মাখিয়ে আরো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাশ করার প্রয়াস পাবে।

৬. বিভিন্ন মহল্লায় সাথীদের কোনঠাসা করার চেষ্টা করবে।

এখন দেখবেন ওরা মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের ব্যাপারে বা ফ্লপ অজাহাতি জোড়ের ব্যাপারে কোন কথাই বলবে না। সামনের কিছুদিন ওদের পোস্ট বা কমেন্টে এই জালিয়াতি নিয়েই কথা বলবে এবং সাথীদের আক্রমণ করবে। মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের মত ব্যক্তিত্ব দেওবন্দের নাম ভাঙিয়ে যে মিথ্যাচার করলেন সেটা নিয়ে কেউ আর কিছুই বলবে না। এটা ওদের গভীর চক্রান্তেরই অংশ।

img-20180729-wa00081897177546.jpg

সাথীদের করণীয়
সাথীদের করণীয় হল ইয়াকীন ও ইখলাসের সাথে মেহনত করা।

ইয়াকিনের মাকসাদ হল শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালা। বাকি সব মাখলুক। ইয়াকীনওয়ালার কাছে সকল মাখলুকই বরাবর। মাটির চাকা আর সোনার চাকা বরাবর। কেননা দুটোই মাখলুক। মাখলুকের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। মাখলুক সব সময় আল্লাহর হুকুমের মোহতাজ। তাই সোনা এবং মাটি বরাবর তারা কেউই নিজে থেকে কারো কোন উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না।

আমাদের মাকসাদ ও ভরসা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালাই। দেওবন্দও মাখলুক। দেওবন্দের ফতোয়ার উপর নির্ভর করে আমাদের কাজ চলবে না। তাদের উপরে আমাদের ভরসা নয়। ইলমী ব্যাপারে আমরা তাঁদের রাহবারী নিব।

পরিস্থিতির কারণে যদি কখনো তাঁদের কোন মতামত আমাদের বিরুদ্ধে যায় এতে আমাদের কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই, বরং তখন আমল হল সবর করা। কষ্ট পেয়ে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করা বা কোন আলেমের ব্যাপারে দিলে কোন কালিমা রাখা কোন আমল নয়। একই রকম ভাবে যদি কখনো আমাদের পক্ষে কোন মতামত আসে তাহলেও আমল হল শুকরিয়া। এত ভাইরাল করার কিছু নেই। ভাইরাল কোন আমল নয়। এমন আমল সীরতে পাওয়া যায় না।

আমরা আমাদের মেহনত করে যাব, কোথাও থেকে বাঁধা এলে উত্তম আখলাকের সাথে প্রামাণ্য দলীলগুলো পেশ করা যেতে পারে।

দ্বিতীয় হল ইখলাস। ইখলাসের সার কথা হল আমরা যা কিছু করি ‘শুধুমাত্র’ আল্লাহ তায়ালাকে রাজি খুশি করার জন্যই করি। আমাদের ‘একমাত্র’ উদ্দেশ্য আমার আল্লাহ আমার উপরে রাজি হয়ে যান। অন্য কেউ রাজি হল, নাকি নারাজ হল, তাতে আমাদের কিচ্ছু আসে যায় না। তাই মাখলুকের কোন পুরষ্কার বা তিরষ্কারের পরোয়া আমরা করি না।

কত লোক কত কথাই বলবে। ওদের কথা শুনাই বা কি দরকার, আর ওদের উত্তর দেয়ারই বা কি দরকার। উত্তর দেওয়ার জযবা থেকেই দেখানোর প্রবণতা আসে। যা পাই তাই দেখাই। একবার যাচাই করারও প্রয়োজন বোধ করি না। সাইয়্যিদিনা উমার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু একবার অধিক ইলম হাসিলের নিয়তে তাওরাতের কপি নিয়ে এসেছিলেন। একবার এই আমলটি ঠিক হচ্ছে কিনা তাহকীক করারও প্রয়োজন বোধ করলেন না। এর প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত গোস্বা করেছিলেন যে তাঁর মোবারক চেহারায় আলামত ফুটে উঠে। আনসারগণ হাতিয়ার নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। তাহকীক না করা এহেন গুরুতর অপরাধ!

ভাই ওয়াসিফুল ইসলাম দামাত বারকাতুহুম বারবার বলছেন – আমাদের মেহনত ময়দানে। তথ্য আদান প্রদানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে। ময়দানে মেহনতের সাথীরা ৯৫% ই নিজামুদ্দিনের সাথে আছেন। ফিৎনাকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলছে। ওরা ময়দানে নেই। ওদের কথা শোনারও দরকার নেই, জবাব দেওয়ারও দরকার নেই।

পরিশেষে ঈশপের একটা গল্প বলে বিদায় নিই। বাঘ এক লাফে যায় ১২ হাত, হরিণ যায় ১৩ হাত। এরপরও হরিণ বাঘের শিকার হয়। কারণ জানেন? কারণ হল হরিণ বারবার পিছনে তাকায়, তার সামনে কোন লক্ষ্য নেই। পক্ষান্তরে বাঘের লক্ষ্য আছে। তার নজর তার লক্ষ্যের দিকে। তো, মুহতারাম ভাই দোস্ত ও বুযুর্গ, আমাদের লক্ষ্য তো আল্লাহ তায়ালা। আমরা সেই লক্ষ্যে মেহনত করব। হরিণের মত কারো হামলা থেকে বাঁচা তো আমাদের মাকসাদ নয়। হামলা আসবেই। হামলা হলে আরো জোরে দৌড়াবো। অর্থাৎ মেহনত বাড়াবো। এই মেহনতে কোন পরাজয় নেই। কোন বিশ্রামও নেই বরং আমরণ সাঁতার কাটবো।

শেষ কথা হল ভাই তাহকীক।

পদে পদে বাতিলের ফাঁদ পাতা আছে।

তাই খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে।

Advertisements

One thought on “সাবা গ্রুপ জানান দিচ্ছে ওরা এখনো মরে নি।

  1. ji beshak, ei jomhurder ke aamra ajke theke prottakhan korlam, fitnakarider Allah ta’la posondo korenna

Leave a Reply