গোমরাহ নয়, নতুন শতাব্দীর মুজাদ্দিদ এসে গেছেন।

Photo Editor-20180611_192939.jpgগোমরাহ নয়, নতুন শতাব্দীর মুজাদ্দিদ এসে গেছেন…..

লেখকঃ মুহাম্মদ নাজমুলহক তওফীক।

রসূলুল্লাহ (ছ) বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা এই উম্মাতের প্রতি ১০০ বছরের শিরোভাগে এমন লোকের আবির্ভাব ঘটাবেন, যিনি এই উম্মাতের দীনকে তার জন্য সঞ্জীবিত করবেন” (আবু দাউদ, ছহীহ)।

প্রায় ১৯২০ সালের দিকে দাওয়াত ও তাবলীগের পরিচয়ে ঈমানি এক মেহনত শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল:

১। কালিমার ইয়াকীন হাসিল করা
২। নিজের ইসলাহকে সামনে রেখে উম্মাতের হেদায়েতের ফিকির করা
৩। মৃত সুন্নাতকে জিন্দা করা
৪। নিজের ঈয়াকীন ও আমালকে ছহীহ করা ও উম্মাতের ঈয়াকীন ও আমালকে ছহীহ করার জন্য দাওয়াতের মেহনতকে সারা আলমে জিন্দা করা
৫। সাহাবাদের (রা) যামানায় দীনের যে ফেজা ও মাহল ছিল, তা সারা আলমে কায়েম করা।

আল্লাহ তা’আলা এই তাজদীদের জন্য মৌলভী ইলিয়াস (রহ) কে মনোনীত করেছেন আর তিনি আকীদা ও আমালের ক্ষেত্রে এমন কিছু কথা ও কাজ নিয়ে এসেছেন, যা উম্মাতের কাছে নতুন মনে হয়েছে।

যেমন:
১। মাখলুক থেকে হয় না, আল্লাহ থেকে হয়।
২। দুনিয়ার কোন তরিকায় শান্তি কামিয়াবি নেই, একমাত্র রসূলুল্লাহ (ছ) এর তরিকায় শান্তি কামিয়াবি।
৩। মিটিং নয়, মাশওয়ারাহ করে দীনি ও দুনিয়াবি কাজ করা।
৪। দুনিয়ার কাজ থেকে ফারেগ হয়ে দীনি কাজে ঘোরাফেরা বা গাশত করা।
৫। দীনের জন্য হিজরত ও নুসরত করা।
৬। মাসজিদ ও ঘরে তালিম করা।
৭। বয়ানের আগে বক্তার নাম উল্লেখ না করা ও বয়ান শেষে তাশকিল করা।
৮। আযান ও ছলাতে মাইকের ব্যবহার না করা।
৯। এক দস্তরখানায় ইজতেমায়ীভাবে বসে খানা খাওয়া।
১০। মাস্তুরাতসহ খুরুজ করা।
১১। দীনের জন্য মাল খরচ করা ও মেহমানদারী করা, ইত্যাদি।

মেহনতের বয়স প্রায় ১০০ বছর। হাদীস অনুযায়ী পরবর্তী শতাব্দীর মুজাদ্দিদের জন্ম আগেই হয়ে গেছে এবং এখন তাজদীদ হওয়ার পালা। আমরা লক্ষ্য করে দেখছি, মৌলভী মুহাম্মাদ সা’দ সাহেবও নতুন কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, যেমন:

১। এই উম্মাতের হেদায়েত, ইসলাহ, তরবিয়ত, তাযকিয়া, তাওয়াল্লুক মা’আল্লাহ ইত্যাদি সবকিছুই মূলত দাওয়াত ইলাল্লাহ এর মধ্যে।
২। দীলের ইয়াকীন ছহীহ করা, তরিকার ইয়াকীন ছহীহ করা ও জজবার ইয়াকীন (মাল আসবাবমূখী জজবাকে আমালমূখী করা, দুনিয়ামূখী জজবাকে আখিরাতমূখী করা) ছহীহ করা।
৩। নুসরত অর্থ উম্মাত হেদায়েত পাওয়া। আর আল্লাহর নুসরত ইনফেরাদীভাবে দাওয়াত ইলাল্লাহ এর মধ্যে।
৪। আল্লাহর গায়েবী খাযানা বা কুদরত থেকে ফায়দা নেওয়ার মাধ্যম হল আমাল আর এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল ছলাত।
৫। ইলম অর্থই হল আসমানি ইলম। দুনিয়াবি শিক্ষা ইলম নয় বরং তা পেশাজীবী বিদ্যা।
৬। যিকিরের উদ্দেশ্য হল দিলের মধ্যে ছিফাতে ইহসান পয়দা করা।
৭। ইহসানের বদলায় ইহসান করা হুসনে আখলাক নয়, বরং যুলমের বদলায় ইহসান করাকে হুসনে আখলাক বলে।
৮। বেহায়া সে নয় যে প্রকাশ্যে গোনাহ করে বরং সে বেহায়া যে গোপনে গোনাহ করে। (প্রকৃত লজ্জাতো আল্লাহকেই করা উচিত)
৯। দায়ীর মাউত হয় ছবরের ময়দানে আর ফাসেকের মাউত হয় খাহেশাতের ময়দানে।
১০। বাজারে, দোকানে, পার্কে কথা বলা না নাবীওয়ালা তরিকা, না সাহাবাওয়ালা তরিকা। বরং সংক্ষিপ্ত দাওয়াত দিয়ে মাসজিদে নিয়ে এসে কথা বলা সুন্নাত তরিকা।
১১। দাওয়াত তালিম ইস্তেকবালের সুরতে মাসজিদ আবাদের মেহনত।
১২। ঘরে তালিমে পাঁচ কাজ-সূরা কিরা’আতের মশক, কিতাবি তালিম, ছয় ছিফাতের মুজাকারা, তাশকিল, মাশওয়ারাহ।
১৩। মোবাইল দ্বারা ছবি তোলা হারাম। যারা জায়েজ বলবে, তারা উলামায়ে ছূ।
১৪। ক্যামেরাওয়ালা মোবাইলে কুর’আন শোনা বা পড়া, কুর’আনের আজমতের খেলাফ। এ যেন প্রস্রাবের পাত্র থেকে দুধ পান করা।
১৫। কুর’আন বুঝে পড়া ওয়াজিব।
১৬। প্রত্যেক মাসজিদে মক্তব চালু করা, ইত্যাদি।

এরকম আরো বহু বিষয় রয়েছে, যেগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করলে, সেগুলো সঠিক বলেই আমাদের কাছে মনে হয়। অথচ এসবের কারণে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে ও গোমরাহ প্রতীয়মান করার চেষ্টা করা হচ্ছে! এবং যারা তাকে সমর্থন দিচ্ছে, তাকেও গোমরাহ বলা হচ্ছে!

যাই হোক, তাঁর বক্তব্যগুলো যে সঠিক, তা হয়তো সময়ই একসময় প্রমাণ করবে। তবে একটা বিষয়ে আমাদের খটকা আছে, তা হল: আমাদের এই ভারত উপমহাদেশে যারা কট্টর হানাফি, তারা তাদের নিজস্ব মাযহাবের উপর থেকে ভিন্ন মতকে প্রশস্ত দিলে মেনে নিতে পারেন না। তারা যদি দেখেন, ইমাম মাহদী এসে চার মাযহাব থেকে বিশুদ্ধ সুন্নাতগুলো নিয়ে এক মাযহাব বানিয়ে আমাল করছেন, তাহলে তারা তাকে মেনে নিতে পারবেন কি??

হয়তো এ প্রক্রিয়ার সূচনা হিসাবে মৌলভী সা’দ তাজদীদ করা শুরু করে দিয়েছেন এবং মৃত সুন্নাতগুলো জিন্দা করতে চাচ্ছেন, যার প্রারম্ভিকতা হিসাবে হয়তো জানাজার প্রত্যেক তাকবীরে ঈদের তাকবীরের ন্যায় রফউল ইয়াদাঈন করেছেন।

যাই হোক,
আমরা কট্টর হানাফিরা এগুলো মানতে প্রস্তুত আছি কি??

তবে নিশ্চিত থাকুন, এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ এসে গেছে, ব্যক্তি ভুল হতে পারে কিন্তু হাদীস মিথ্যে নয়।

Advertisements

Leave a Reply