‘শূরা’ পিয়াসী ‘আলমী’ বটিকাসেবী কাজ্জাবদের রঙিন ভুবন।

শূরা’ পিয়াসী ‘আলমী’ বটিকাসেবী কাজ্জাবদের রঙিন ভুবন।

লেখক শামিম হামিদি

কাজ্জাব আব্দুল্লাহ ফারুক সাহেব মনে হয় ইদানীং একটু বেশিই সেবন করছেন। ২০১৫ সালে আবিষ্কৃত ও উৎপাদিত এই মাদকতাময় সঞ্জীবনী ‘শূরা’ এবং ‘আলমী’ বটিকা এক অত্যাশ্চর্য শরাব ও বটিকা। এটি সেবন করলে পুরা দুনিয়াটাই রঙিন লাগে। নিজেকে জগতের বাদশাহ মনে হয়। নিজেকে ছাড়া সব কিছুই অস্তিত্বহীন মনে হয়। নিজেকে হালকা লাগে। মনে হয় যে বাতাসে উড়াল দিলে চলেছে। নিজেকে মনে হয় ঊর্ধাকাশের বাসিন্দা। তাই আশে পাশের কোন কিছু নজরে আসে না। তাই কখনো কখনো এরা চিৎকার দিয়ে বলে বলতে থাকে, “স্পন্দিত হৃদয়ে মনে হয়, আমিই জগতের বাদশাহ।”

এজন্যই বলছিলাম মুহতারাম(!$) কাজ্জাব সাহেব মনে হচ্ছে ইদানীং একটু বেশিই সেবন করছেন। তিনি ইদানীং ক্ষণে ক্ষণে ঊর্ধাকাশে ভ্রমণে যাচ্ছেন। তথায় আশে পাশে কাউকে দেখতে না পেয়ে মনে করছেন জগৎটাই আমার। আর কিছুক্ষন পর পর রঙিন রঙিন স্বপ্নের বুলি আওড়াচ্ছেন।

তিনি শুরুতেই উল্লেখ করেছেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধ্যক্ষ’। তিনি নিজে নেশার জগতে বিরাট মহীরুহ হয়ে গেছেন তো, তাই আশে পাশে সব কিন্ডারগার্টেন দেখতে পান। কিছুদিন আগে ক্বারী তৈয়্যব সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রতিষ্ঠিত ওয়াকফ দেওবন্দকেও পাড়ার ঘুপরীর কিন্ডারগার্টেন এর সাথে তুলনা করেছেন। আলীগড় ইউনিভার্সিটিও হয়তো তার কাছে কিন্ডারগার্টেন। তাই সেখানেও ‘অধ্যক্ষ’ খুঁজে পেয়েছেন।

আমি wikipedia থেকে আলীগড় ইউনিভার্সিটির গঠনপ্রণালী উল্লেখ করছি।

The university’s formal head is the Chancellor, though this is a titular figure, not involved with the day-to-day running of the university. The Chancellor is elected by the members of University Court, a body with members drawn from all walks of life. The university’s chief executive is the Vice-Chancellor, appointed by the President of India on the recommendation of the Court. The Court is the supreme governing body of the University and exercises all the powers of the University, not otherwise provided for by the Aligarh Muslim University Act, the Statutes, the Ordinances and the Regulations of the University.

On 11 April 2015, Mufaddal Saifuddin was elected Chancellor and Ibne Saeed Khan, the former Nawab of Chhatari state, Pro-Chancellor. Habibur Rahman, former vice chancellor of Agra University, was elected Honorary Treasurer.

On May 17, 2017, Tariq Mansoor assumed his office as 39th Vice-Chancellor of the university.

এখানে কোথাও উবাইদুল্লাহ সাহেবের নাম নেই। পরে আমি আলীগড় ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট সার্চ করে তিনজন উবাইদুল্লাহ পেলাম। CSE তে একজন উবাইদুল্লাহ বুখারী। Islamic Studies এ একজন উবাইদুল্লাহ ফাহাদ এবং ইউনানীতে মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ। সম্ভবত শেষ জন কাজ্জাব সাহেবের বর্ণিত ‘অধ্যক্ষ’ হতে পারেন। তাদের ওয়েবসাইট অনুসারে তিনি একজন প্রফেসর। অন্য কোন দায়িত্বে নেই।

বুঝতেই পারছেন, কাজ্জাব সাহেব ইদানীং মিথ্যা ছাড়া কোন কথা বলতেই পারছেন না।

ভিতরে আর যাব কিনা বুঝতে পারছি না। তিনি দাবি করেছেন পরের কথাগুলো নাকি তার নয়। ‘অধ্যক্ষ’ উবাইদুল্লাহ সাহেবের।

কথিত ‘আলমী শূরা’র নামে তারা যা দাবি করছে এটা হল যৌথ নেতৃত্ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আনসারদের থেকে একজন এবং মুহাজিরদের থেকে একজন, এভাবে একবার যৌথ নেতৃত্বের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সিদ্দিকে আকবর আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু দৃঢ়তার সাথে নাকচ করে দেন। যৌথ নেতৃত্ব শরীয়তে নেই। এটা সম্পূর্ণ বিদআত। এবং সম্প্রতি মুফতী মুনসুরুল হক সাহেব হাফিজহুমুল্লাহ সহ অনেক আলেমের পর্যবেক্ষণ হল এটা কুফুরী তরীকা।

এরপর দাবি করেছেন সকল ধরনের আকাবিরে হিন্দ আলমী শূরার সঙ্গে আছেন। অর্থাৎ সকল ধরনের আকাবির উলামাদের তারা বিদআতী এবং কুফরী আকিদগ্রস্থ প্রমাণে প্রয়াস পেয়েছেন। তাদের মুখোশ দিনে দিনে উম্মোচিত হচ্ছে। আমরা বারবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি যে, মাওলানা সাদ সাহেব শুধুই অজুহাত। প্রকৃত পক্ষে এরা ইসলামের ছদ্মাবরণে ইসলামের শত্রু। ইসলামের সকল ধরণের প্রতিষ্ঠান এবং আকাবিরদের কলঙ্কিত ও বিতর্কিত করাই এদের উদ্দেশ্য।

চলুন দেখি ‘শূরা’ ও ‘আলমী’ বটিকা সেবনকারীদের রঙের কলসিতে কি কি শরাব ও বটিকা রয়েছে।

  • জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ আলমি শূরার সঙ্গে আছে।
    —- জমিয়তের কয়জনকে চিনে কে জানে? নাকি বটিকা সেবনের প্রভাবে ঘোরের মধ্যে নিজেকেই মনে হয় ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’। ফ্রান্সের শেষ স্বৈরাচারী রাজা ষোড়শ লুই বলতেন আমিই রাষ্ট্র। এদের অবস্থাও একই রকম। ভারতের জমিয়ত এই দুই ভাগ। এক ভাগের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানী। আপাতত অবস্থা দৃষ্টিতে এটাই মূল ধারা। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে তাবলীগের সংকটকে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। অপর ভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী। তিনি বহুবার মাওলানা সাদ সাহেবকে আমীর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সম্প্রতি এক বয়ানে তিনি দাবি করেছেন হযরত মাওলানা সাদ সাহেব যে কথা গুলো বলেছেন এগুলো নতুন কোন কথা নয়। এগুলো অনেক আগের কথা। কিতাবে ছাপা হয়েছে। তিনি দাবি করেন ভিতরের ইখতিলাফের কারণে কেউ দেওবন্দের কাছে ফতোয়া চেয়েছে। দেওবন্দ তো মাজুর, ফতোয়া চাইলে তো ফতোয়া দিবেই। তিনি আরো আশ্চার্য হন যে দেওবন্দ তো ফতোয়া দেয় নি। বিস্তারিত নীচে একটা লিঙ্ক দিচ্ছি।
  • থানভি মাসলাকের সকল বুযুর্গানে দ্বীন আলমি শূরার সঙ্গে আছেন।
    —- কয়েকদিন আগে আমরা লাল দ্বীন থানুভি দামাত বারকাতুহুম এর বক্তব্য শুনেছি। তিনি হরদুঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহির সুহাবত প্রাপ্ত। এছাড়া মুফতি মুনসুরুল হক সাহেব যৌথ নেতৃত্ব কুফরী তরীকা হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
  • মাদানি মাসলাকের সকল বুযুর্গানে দ্বীন আলমি শূরার সঙ্গে আছেন।
    —- মাদানী সিলসিলার দুই বুযুর্গের নাম উপরেই উল্লেখ হয়েছে।
  • শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. এর সকল খলিফা ও মুজায আলমি শূরার সঙ্গে আছেন।
    —- কত জোরে হাসবো বুঝতে পারছি না। নীচে একটা লিঙ্ক দিব ইনশাআল্লাহ।
  • সকল দ্বীনি মাদারিস আলমি শূরার সঙ্গে আছে।
    —- হ্যা, ‘সূরা’ সমেত ‘আলমী’ বটিকা সেবন করলে কল্প জগতের হুর পরীদের সাথে কত রকম জলকেলী খেলা যায়! সত্য কথা হচ্ছে দেওবন্দসহ কোন মাদ্রাসাই কথিত আলমী শূরা অনুমোদন করে নি।
  • আলীগড় ইউনিভার্সিটির সকল মেহনতি প্রফেসর আলমি শূরার সঙ্গে আছে।
    —- প্রফেসর আব্দুল আলীম সাহেব।
  • নিযামুদ্দিনের সবচেয়ে প্রবীণ ও মেহনতের সবচেয়ে পুরনো পাঁচ মুরুব্বি আলমি শূরার সঙ্গে আছে।
    —- আমাদের গ্রাম দেশে একটা কথা আছে বুড়ো মানুষের বয়স প্রতি বছর দু তিন বছর করে বাড়ে। এক মুরুব্বী ছিলেন। চাচা বয়স কত? তা বাবা বয়সের কি হিসাব আছে? আমরা বুড়ো মানুষ, আমাদের খবর কে রাখে। আমাদের সময় কি আর কেউ লিখে রাখত? তবে বড় স্বাধীন দেখেছি। তখন মনে কর, হাফ প্যান্ট ছেড়ে লুঙ্গি ধোরিচি। এরপর কয়েক মাস পরে আবার জিজ্ঞেস করবেন। উত্তর দিবে, বয়স যে কত… তা আশি তো হয়েছেই। পরের বছর জিজ্ঞেস করবেন। বলবে, এই ধর আশি পচাশি। কিছুদিন গেলে আবার জিজ্ঞেস করবেন। বলবে, নব্বুই এখনো হয়নি। হয়ে যাবে মনে হয়। পরের বছর জিজ্ঞাসা করবেন। কনফিডেন্টলি বলবে একশ।
    কাজ্জাব সাহেব এভাবেই সবচেয়ে প্রবীণ সবচেয়ে পুরাতন পাঁচ মুরুব্বী সাজিয়ে নিয়ে আসবে। এসব পুরাতন মুরুব্বীদের কিছুদিন আগে তাদের কথিত এক ইজতেমায় প্রকাশ্যে চেয়ার টেবিলে খাওয়া দাওয়া তথা পিকনিক করতে দেখা গেছে। তাঁরা ইলিয়াস রহ. এর মাসলাকেই সুন্নত জিন্দা করবেন বৈকি!!!
  • বাকি আছেন ভারতের আওয়াম। দিন দিন তাদের মাঝেও পরিবর্তন আসছে।
    —- জ্বি, এটা ঠিক বলেছেন। কিছুদিন আগে আপনাদের আওয়াম সাথীরা মাইকিং করে, পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়ে তাবলীগ করছেন। মন্দিরের হল রুমে জোড় করছেন। বাংলাদেশেও দেখেছি শাহবাগী স্টাইলে বিরিয়ানি প্যাকেট এবং মোবাইল জ্যামার নিয়ে পরিবর্তিত তাবলীগ করে চলেছেন।

কাজ্জাব সাহেব অবশ্য দাবি করেছেন এগুলো তার কথা নয়, কথিত আলীগড় ‘কিন্ডারগার্টেন’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধ্যক্ষ’ ডা মাও উবাই দুল্লাহ সাহেবের কথা। কাজ্জাব সাহেব অবশ্য যেভাবে একের পর মিথ্যার বিশ্ব রেকর্ড গড়ে যাচ্ছেন তাতে তার কোনটা যে সত্য আর কোনটা মিথ্যা এটা বুঝতেই তিনি আরেকটা মিথ্যা বলে ফেলেন। তবে হতেও পারে। এই সঞ্জীবনী ‘শূরা’ এবং ‘আলমী’ বটিকা যে সেবন করেছে তারই এই অবস্থা হয়েছে। নিজেকেই মনে হয়েছে সকল সিলসিলার সকল মাদারিসের একমাত্র স্বত্বাধিকারী।

ভালোই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়েছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই। আমরা পেয়েছি আব্দুল্লাহ এবং উবাই দুল্লাহ।

তাদের বর্ণিত ‘সকল’দের সাথে একটা লিস্ট দিচ্ছি নিচের লিঙ্কে। মিলিয়ে দেখি কতটুকু মিলে।

https://m.facebook.com/groups/166781497381515?view=permalink&id=223387705054227

শায়খুল হাদিস রহমাতুল্লাহি আলাইহির সিলসিলার কথিত ‘সকল’ বুযুর্গদের মধ্যে একজনের বিস্তারিত ভাষ্যঃ
https://m.facebook.com/groups/166781497381515?view=permalink&id=223772981682366

Advertisements

Leave a Reply