ঈদের বিশেষ রচনাঃ মাওলানা সাদ কান্ধলভি হাফিজাল্লাহুঃ উম্মাহর আলোর মিনার।

ঈদের বিশেষ রচনাঃ

মাওলানা সাদ কান্ধলভি হাফিজাল্লাহুঃ উম্মাহর আলোর মিনার।

লেখকঃ সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ।
================
শায়খুল হাদীস, হাফেজ, মাওলানা সা’দ কান্ধালভি হাফিজাল্লাহু একটি নাম, একটি আর্দশ। একটি চেতনা। বিশ্বব্যাপি মুসলিম উম্মাহর নব জাগরনে এক নিরব বিপ্লব। উম্মাহর মাথার উপর এক সুবিশাল এলেম ও আমালের ছায়াবৃক্ষ। উম্মতে মোহাম্মদীর এক আলোর মিনার। দিকভ্রান্ত কোটি কোটি বনি আদমের পথচলার বাতিঘর। জগতজুড়ে যার চিন্তা-চেতনা আজ ছড়িয়ে আছে জড়িয়ে আছে অগনন আল্লাহর পথের পথিকদের মাঝে। এক বিংশ শতাব্দির ইসলামের নব জাগরনে যিনি অক্লান্ত এক সিপাহসালার। যিনি গোটা উম্মতে মোহাম্মদীকে রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লামের সিরাত ও সাহাবায়ে রাযিআল্লাহু আনহুম আজমাইনদের নকশে কদমের উপর উঠানোর জন্য ১৪শত বছরের পুরানো ত্বরিকাতে উম্মতের হেদায়তের আলো প্রজ্জলন করে চলছেন।

মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রহঃ এর হাতে গড়া এই শিষ্য আজ তারপরবর্তি সময়ে আরব আজমে দ্বীনের মহান এক খাদেম হিসাবে নিজেকে আত্মনিযোজিত করেছেন। যারা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তিন যুগ ধরে গোটা দুনিয়াতে মকবুলিয়তের সাথে দ্বীনী খেদমত গ্রহন করছেন। বিশ্বব্যাপি মুসলমানদের ঈমানী আন্দোলন, দাওয়াত ও তাবলীগের আমীর হিসাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁরদ্বারা কাজ নিচ্ছেন। সাদাসিদা জিন্দেগী আর চলনে বলনে সত্যকারের ওরাসাতুল আম্বিয়ার প্রতিচ্ছবি। ছাহাবাদের মতো সারাক্ষন যার ভিতরে উম্মাহর শান্তি, কামিয়াবী আর সফলতার ফিকির বিদ্যমান। দাওয়াত, তালিম, তাযকিয়ার নববী সকল ধারাতে তিনি এক মহান যুগ নির্মাতা মহান রাহবার হিসাবে নিরলস সাধনা,মেহনত,মোজাহাদা করে যাচ্ছেন। যার সুফল থেকে আলহামদুলিল্লাহ গোটা দুনিয়ার মুসলমানরা উপকৃত হচ্ছেন। খাছ করে সাহাবাদের আওলাদেদের মাঝে আরব বিশ্বে মুসলমানদের মাঝে ঈমানী চেতনার জাগরন ও দাওয়াতি কাজের বিপ্লবীক অগ্রযাত্রা মাওলানা সাদ কান্ধালভির পরিশ্রমের ফসল।

জন্ম ও বেড়ে উঠা

১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৮৫ হিজরিতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে জন্মগ্রহণ করেন। দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ তাবলিগের প্রতিষ্ঠাতা হজরত ইলিয়াস (রহ.)-এর পৈতৃক ভিটায় বড় হয়েছেন। তার বংশধরগণ এখনও দিল্লি মারকাজে বসবাস করছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে খান্দানের মনীষাদের দ্বারা বিগত একশত বছর ধরে পথহারা উম্মহকে পথের দিশা দিয়েছেন। এমন এক মকবুল দ্বীনী খান্দানে জন্ম গ্রহনই আল্লাহ পাকের এক খাছ রহমত। তার মা একজন আবেদা জাহেদা হাফেজা এক দ্বীনদ্বর রমনী ছিলেন। যার দ্বীনী নানান ঘটনাবলী নিযামুদ্দীন মার্কাজে মশহুর ছিল। তার নানা ছিলেন দাওয়াত ও তাবলীগের মহান মুরুব্বি হযরত মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ। বিশ্বব্যাপি দাওয়াতি কাজের মেজাজ ও তরবিয়তে তিনি নিজেকে বড়দের সোহবতে গড়ে তুলেছেন। তাছাড়া একটি বিশ্বব্যাপি দ্বীনী মেহনতের নকশে কদ্বম ও গভীরতাকে তিনি কাছ থেকে পারিবারিকভাবে অবলোকন করেছেন। শৈশব থেকে নিযামুদ্দীন মার্কাজের প্রতি দরদ মহব্বত আর মার্কাজের নানান সময় সংকট, সমস্যা ও নানান সময়ে বড়বড় হাস্তিদের বের হয়ে যাওয়ার মতো জটিল বিষয়কে কাছে থেকে দেখা ও উম্মাহকে আগলে রাখার মতো মেজাজ, মোজাহাদা আর তায়াল্লুক মায়াল্লাহর তররবিয়তে তিনি বেড়ে উঠেছেন।

পরিবার

মাওলানা সাদ কান্ধলভি আল্লাহর পথের অমর দা’য়ী হজরতজী মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)-এর রক্তজা। তার পিতা হজরত মাওলানা হারুন কান্ধলভি (রহ.) ছিলেন দ্বিতীয় হজরতী মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ (রহ.)-এর একমাত্র ছেলে। আর ইউসুফ (রহ.) ছিলেন হজরতজী ইলিয়াস (রহ.)-এর ছেলে। মাওলানা সাদ কান্ধলভি বংশপরম্পরায় ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ জন্য তাদের সিদ্দিকিও বলা হয়। যে খান্দানের দ্বারা আল্লাহ তায়ালা নবীজি সা. এর দ্বীনকে উম্মতের মাঝে যুগে যুগে বিস্তৃত করেছেন। ইসলামে খান্দান ও বংশ পারস্পরা দ্বীনী মেহনতের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

আল্লাহ্‌ তা’আলা কুর’আনে কারীমে উল্লেখ করেছেন, “যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানসন্তুতিরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের সন্তানসন্তুতিদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করবো না”। ( সূরাঃ আত-তূর, ২১) এই আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস (রাদি.) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা’আলা মু’মিনদের সন্তানসন্তুতিদের অবশ্যই তাদের মর্যাদার স্তরে অভিষিক্ত করবেন, যদিও তাদের আমলে কমতি থাকে। (তবারী ও অন্যান্য কিতাবাদি দ্র.)। এছাড়া তারা বাবা দাদা নানাদেরকে কাছে থেকে দ্বীনী খেদমত করার দৃশ্য অবলোকন করে কাজের যে বুঝ, মেহনতের প্রতি যে দরদ ও মহব্বত রক্তের অলিন্দে মিশে আছে এটা এক বিরল ঘটনা। দাওয়াতের মজ্জাগত ফিতরতান স্বভাব দিয়েই আল্লাহ তায়ালা এই খান্দানের মানুষদের জন্ম দান করেছেন বলে অনেক বুজুর্গানে কেরাম বর্ননা করেছেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের কান্ধলা জেলার দিকে সম্পৃক্ত করে তাদের কান্ধলভি বলা হয়। মাওলানা সাদ কান্ধলভির পূর্বপুরুষগণ এ জেলায় বসবাস করতেন। যে পরিবার দ্বীনী, এলমি খেদমত পাক ভারত উপমজাদেশে বিগত কয়েক শতাব্দি ধরে বিস্তৃতির সাথে আঞ্জাম দিয়ে আসছে। আকাবিরে দেওবন্দের অন্যতম সুতিকাগার এই কান্ধালবার পরিবারকে ঘিরেই বিদ্ধম। এছাড়া তারা ছিলেন কান্ধলার অন্যতম ধনাঢ্য মুসলিম পরিবার। জমিদার পরিবার হিসাবে তারা বহুকাল ধরেই বিপুল সম্পদের মালিক। এছাড়া শেষ মুগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের পরিবারের সাথে তাদের আত্মীয়তা ছিল। মাওলানা সাদ কান্ধালভিরর পরদাদা হযরতজী ইলিয়াস রহ পিতা মাওলানা ঈসমাইল ছিলেন মোগল পরিবারের মসজিদের ইমাম।

হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পিতা মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভি দিল্লির নিজামুদ্দিনে এসে বসবাস শুরু করেন। তার হাতেই এই এলাকা আবাদ হয়েছে বলে জানা যায়। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভির ভূমিকা অপরিসীম। এ জন্য নিজামুদ্দিন ও মেওয়াতের বিস্তৃতি এলাকাতে মাওলানা সাদ ও তার পরিবারের দ্বীনী তরবিয়তের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। কান্ধলা থেকে দিল্লিতে বসবাস শুরু করলেও মাওলানা সাদ ও তার পরিবার এখনও কান্ধলার বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তির মালিক।তার জমিদার নন্দিনী নানীর দিল্লীতে ২০০একর জায়গা তার নামে লিখে দেন। হযরতজী সাদ কান্ধালভী সমস্ত জায়গা নিযামুদ্দীন মার্কাজের কাজে ওয়াকফ করে দেন।

শিক্ষা ও সোহবত

মাওলানা সাদ কান্ধলভি দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজের নুরে জ্বলমল রোহানী আল্লাহ ওয়ালাদের এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। শৈশব থেকেই সারা দুনিয়ার জামাতের আনাগোনা আর বুজুর্গদের কোলে কোলে তার বেড়ে উঠা। শৈশবে বাবাকে হারানো বালক নানা তাবলীগের মহান দা’য়ীর একান্ত স্নেহ ছায়াতে পালিত হন। নিযামুদ্দীনের কাশফুল উলুম মাদরাসা লেখাপড়া করলেও বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)-এর কাছে মাওলানা সাদের শিক্ষার প্রথম হাতেখড়ি হয়। তিনি তাকে মসজিদে নববীর রওজাতুম-মিন রিয়াজিল জান্নাতে বসে প্রথম কুরআনের সবক করেন। মাত্র কয়েক মানেই মসজিদে নববীতে বসে তিনি পুনাঙ্গ কুরআনে পাক মুখস্ত করেন।

নিজামুদ্দিন মারকাজে অবস্থিত কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় তিনি ১৯৮৭ সালে তাকমিল (দাওয়ারায়ে হাদীস) সম্পন্ন করেন। ছাত্র জীবনে তার সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন তার আপন নানা মাওলানা ইজহারুল হাসান (রহ.)।তার শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, হযরতজী মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলিয়াভি (রহ.), মাওলানা ইলিয়াস বারাবানকি, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মাওলানা মুঈন (রহ.), মাওলানা আহমদ গুদনা (রহ.), মাওলানা সাব্বির (রহ.) প্রমুখ। এছাড়া আরব আজম ও হিন্দের বড়বড় আকাবিরদের সোহবত ও নিগরানী পেয়েছেন সবব সময়। বিশেষ করে, আল্লমা আবুল হাসান নদবী রহ এর হাতে গড়া তরবিয়ত ও তালিম এবং তার সোহবতে উম্মাকে নিয়ে চলার বিশ্বয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি তিনি আয়াত্ব করেছেন।

কর্মময় জীবন

মাওলানা সাদ কান্ধলভি লেখাপড়া শেষ করে নিজামুদ্দিনের কাশিফুল উলুমে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনানে আবু দাউদ ও হেকায়াতুস সাহাবার পাঠদান করছেন। বর্তমানে সহী বোখারির নিয়মিত সবক পড়ান শায়খুল হাদীস হাফেজ মাওলানা সাদ কান্ধালভি। ১৯৮৮সালে তিনি তাবলীগে সাল লাগান। এরপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তাবলীগের সফর করেন। বিশেষ করে আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে তিনি ব্যাপক সফর করেন। তার হাতে ইউরোপ আফিকা ও আমেরিকা মহাদেশের নানান দেশে অগনিত মানুষ ইসলাম গ্রহন করেন। বিগত ২২বছর ধরে পৃথিবীর নানান দেশে ও ইজেতেমাতে তিনি নিয়মিত বয়ান, হেদায়তি কথা ও মোনাজাত করছেন। এই সময় থেকে দৈনিক ৪ঘন্টা তিনি নিয়মিত তাবলীগের বয়ান করে আসছেন। তার মেহনতের সবচেয়ে উজ্জলতম দিক হল, আরবদের কে ব্যাপকভাবে দাওয়াতের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা। হযরতজী ইলিয়াস রহ বলতেন, আমি চাই আরবের সওগাত আবার আরবদের মাঝে প্রচার ঘটুক। আরবরা এই কাজের নেতৃত্ব দিক। মদীনার সওগাত আবার মদীনা থেকে সারা দুননিয়তে ছড়িয়ে পড়ুক।” হযরতজী ইলিয়াস রহ এর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের তাকে আল্লাহ তায়ালা আরব জাহানের কাজের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে কবুল করেছেন। তার দ্বারা আরবদের মাঝে আল্লাহপাক কল্পনাতিত কাজ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন।

বিয়ে ও পরিবার

১৯৯০ মাওলানা সাদ কান্ধলভি ভারতের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাজাহিরুল উলুম, সাহরানপুরের মুহতামিম আকাবিরে দেওবন্দের উজ্জলতম নক্ষত্র মাওলানা সালমান দা.বা. এর কন্যা বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ২ কন্যার পিতা। তার বড় দুই ছেলে কাশিফুল উলুম থেকে তাকমিল সম্পন্ন করেছেন এবং ছোট ছেলে এখনও অধ্যয়নরত।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও খেলাফত লাভ

প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি মাওলানা সাদ কান্ধলভি আধ্যাত্মিক সাধনায়ও আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দু’জন মহান ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে খেলাফত লাভ করেন। তারা হলেন, সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.) ও মুফতি ইফতিখারুল হাসান কান্ধলভি। তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুফাক্কিরে ইসলাম, শায়খুল আরব ওয়াল আজম মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রহ’র কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। আলী মিয়া রহ এর হাতে গড়া এই ছাত্র তার সর্বকনিষ্ঠ খলিফা হিসাবে স্বীকৃতি ও আরব আজমের বড়বড় উলমাদের স্নেহধন্য লাভ করেন।

এ ছাড়া তিনি মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.), মাওলানা সাইয়েদ আহমদ খান মক্কি (রহ.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলিয়াভি, হাজি আবদুল ওয়াহাব, মুফতি যাইনুল আবিদিন প্রমুখের সান্নিধ্য লাভ করেন।

বৈশ্বিক তাবলিগের নেতৃত্বে যে ভাবে

পারিবারিক সূত্রে মাওলানা সাদ কান্ধলভি তাবলিগি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শৈশব থেকেই তিনি তাবলিগের কাজে মেহনত করছেন।
আলেম হয়ে দাওয়াতের কাজে লাগার পর তাবলিগের কাজে তার অক্লান্ত মোজাহাদা, শ্রম ও নিষ্ঠার কারণেই হজরত ইনামুল হাসান (রহ.) ১০ সদস্যের শূরা কমিটির অন্তর্ভুক্ত করেন এবং অনেক প্রবীণ ও বিজ্ঞ লোকের উপস্থিতিতে তাকে ৩ জন আমীরে ফায়সালের একজন মনোনীত করেন। হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ আমীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুন্নাতে ফারুকী অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। তাকে এ পরামর্শ দিয়েছেন মাওলানা ওবাইদুল্লাহ সাহেব রহঃ। তাই আমীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি তাই করলেন, যেমনটি খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে করেছেন দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক রাঃ। হজরত ওমর রাঃ ছয়জনের এক শুরা বানিয়েছিলেন পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য। সেই শুরাই পরামর্শ করে হজরত ওসমান গনি রাঃকে তৃতীয় খলিফা নির্বাচন করে।

হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃও ঠিক সেভাবে পরবর্তী আমীর নির্ধারণ করার জন্য দশজনের শুরা বানিয়ে যান। তাঁর সেই শুরার সদস্য ছিলেন হজরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান সাহেব রহঃ, হজরত ইজহারুল হাসান সাহেব রহঃ, হজরত জোবায়রুল হাসান রহঃ, হজরত মিয়াজি মেহরাব সাহেব রহঃ, হজরত মোহাম্মদ সাহেব রহঃ, হজরত সাদ সাহেব, হজরত আজহার সাহেব রহঃ, ইঞ্জিনিয়ার হাজী আব্দুল মুকিত সাহেব রহঃ, ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দামাত বারাকাতুহু তাঁরা সবাই হজরতজীর ইন্তিকালের পর তিনদিন নিজামুদ্দীনে অবস্থান করেন। কিন্তু একক আমীর নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন। অবশেষে তাঁরা তিনজন ফায়সাল নির্বাচন করেন, যারা পালাক্রমে আমীরে হিসেবে ফায়সালা দেবেন।

লক্ষণীয় বিষয়, হজরতজী রহঃ কিন্তু শুরা বানিয়েছিলেন একজন আমীর নিযুক্ত করার জন্য, কিন্তু তাঁরা তা করতে সক্ষম হন নি। একজনের পরিবর্তে তিন আমীর বা ফয়সাল নির্বাচন করা নিঃসন্দেহে একটা বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। যা হজরত আল্লামা ত্বকী ওসমানী হাফিজাহুল্লাহ মাওলানা মুসা সাহেবকে লিখা পত্রে উল্লেখ করেছেন। যাই হোক, তাঁরা মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ, মাওলানা জোবায়রুল হাসান রহঃ ও মাওলানা সাদ হাফিজাহুল্লাহকে তিন আমীর কাজের জন্য নির্ধারণ করে যান। হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ কর্তৃক বানানো শুরাই এই তিনজনকে আমীরে ফয়সাল হিসেবে নির্ধারণ করে গিয়েছেন। আর সেভাবেই ধারাবাহিকভাবে তারা ফয়সাল হিসেবে ফয়সালা করে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হজরত মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ ইন্তিকাল করেন। আমীর ছাড়া শুধু শুরা প্রদ্ধতি সুন্নতের খেলাফ ও তাবলীগের আকাবিরদের নীতি বিরোধী হওয়ায় এখানে তার স্থলা ভিষক্ত কাউকে করা হয়নি বিগত ১৮বছর। এরপর হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেব ও হজরত সাদ সাহেব পালাক্রমে ফয়সালা দিতে থাকেন। এভাবে ফয়সাল বানানোর পর থেকে আটারো বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। এই প্রদ্ধতি ছিল রাসুল সা এর জঙ্গে তবুকে একের পর এক তিনজন আমীর নির্ধারনের মতো।

যতোদিন যুবায়রুল হাসান রহ জীবিত ছিলেন, বিশ্ব ইজতেমার দোয়া আমিরে হিসাবে তিনিই করতেন। আবার নিজামুদ্দীন মারকাজে পুরো রমজান মাস হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেবের অনুপস্থিতিতে হজরত সাদ সাহেব ফয়সালা করতেন। হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেবের ইন্তিকালের পর থেকে শুধু একজনই আমীরে ফয়সাল বেঁচে আছেন, তিনি মাওলানা সাদ সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। তিনি নিজে নিজে আমীর হন নি। বরং হজরতজী ইনায়মুল হাসান সাহেব রহঃ এর বানানো শুরার নির্ধারিত তিন ফয়সালের একজন। স্বাভাবিকভাবেই ওখানে কোন আলমি শুরা ছিলো না। বরং পরামর্শক্রমে বানানো ফয়সাল বর্তমান থাকায় তিনিই শরঈ দৃষ্টিকোন থেকে বর্তমান আমীর। হজরত ওসমান রাঃকে বিদ্রোহীরা খেলাফতের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেছিলো, কিন্ত তিনি তা ছাড়েন নি। কারণ তিনি তো ছিলেন হজরত ওমর রাঃ এর বানানো শুরার নির্ধারিত খলিফা।

এখানেও বিষয়টি অনুরূপ। আর নিজামুদ্দীনে ঠিক ঐভাবে শুরা আছে, যেভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনেরও শুরা থাকতো। এই শুরার সাথে পরামর্শ করেই খলিফা সিদ্ধান্ত দিতেন। নিজামুদ্দীনের নয়জনের শুরা যা গতবছরের শেষ দিকে তাকমিল করা হয়েছে, সে শুরাও এমনই। কিন্তু ফয়সাল বা জিস্মাদারতো সাদ সাহেবই। এখন যে আলমি শুরার নামে নতুন শুরা তাসলিম করার জন্যে তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে, তা তাসলিম না করার এটিই কারণ। কারণ আগে থেকেও কোন আলমি শুরা ছিলো না, বরং তিন ফয়সালের একজন এখনও জীবিত থাকা অবস্থায় এর কোন যৌক্তিকতাও নেই। তাকে এজন্যই চাপ দেয়া হচ্ছে, যেন প্রস্তাবিত আলমি শুরা থেকে পালাক্রমে আমীর বানানো হয়, অথচ ফয়সাল তো হজরতজী রহঃ কর্তৃক বানানো শুরার নির্ধারিত তিনজনের একজন এখনও জীবিত আছেন। আর এই যে আলমি শুরা তাসলিমের জন্য তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে তাও তিনি এবং ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের অনুপস্থিতিতে নিযামুদ্দীনে উমুর পেশ না করে পাকিস্তানে বসে কিছু লোক চক্রান্তকরে বানিয়েছে। শতবর্ষী বয়েসী বযোবৃদ্ধ ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের সামনে পেশ করার পর একশতবার আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি বলে তিনি তাতে সাক্ষর করেছেন, কিন্তু আমীরে ফয়সাল তা এই বলে গ্রহন করেন নি, আমাদের এখানে তো আলমি শুরা ছিলো না, আর হজরতজীর বানানো শুরার নির্ধারিত ফয়সাল তো এখনও জীবিত আছেন। নীচের ভিডিওতে বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। সবার প্রতি কথাগুলো নিজ কানে শুনে নেয়ার অনুরোধ। https://m.youtube.com/watch?v=UOKppsQ6OfY

একই বিষয়ে শায়খুল হাদীস দারুল উলুম আফ্রিকার বক্তব্য শুনুন।

https://m.youtube.com/watch…

বিশ্ব আমীর যেভাবে

গত ২২জানুয়ারী ২০১৭ রবিবার টঙ্গির বিশ্বইজতেমার ময়দানে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের সারা দুনিয়ার জিম্মাদার সাথীদের আলমী পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়। পরামর্শের শুরুতে কাতার, কুয়েত, জর্ডান, দুবাই, সৌদিআরব, সুদান, মরোক্কস, ওমান, এয়ামান, লেবানন, উগান্ডা, ফিলিস্তিন সহ আরব জাহানের নানা দেশের জিম্মাদারগন সর্ব প্রথম আলাদা আলাদাভাবে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধালভী (দামাত বারাকাতুহুম) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, দাওয়াতের মেহনতের শায়খুল আরব ওয়াল আজম হিসাবে হযরতজির কাছে বাইয়াতের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে এক এক করে ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন সহ সকল দেশের জিম্মাদার হযরতগন সারা দুনিয়ার আমির হিসাবে মাওলানা সাদ কান্ধালভী হাফি: কাছে বাইয়াত গ্রহন করেন। ১২০টি দেশের কাজ নিয়ে চলনেওয়ালা সাথীদের পরামর্শে তাকে দাওয়াতের কাজের বিশ্ব আমির হিসাবে মনোনিত করা হয়। কাজের পুরানো সাথীদের এমন আহাম মাশোয়ারাকে এবাউট করে যারা আজ তার ইমারত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের নিয়ে উম্মাহকে নতুন করে ভাবতে হবে।

হযরতজীর স্বার্থক উত্তরসুরী

হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস রহ এর কাজের ক্ষেত্রে যে অভিন্ন লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল, তা তিনি দাওয়াতের কাজে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছেন। হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ মালফুজাত, দাওয়াতের কাজের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি, অন্ত নিহিত কথাগুলোকে তিনি খোলাসা করে স্ববিস্তারে উম্মতের সামনে বিগত কয়েক যুগ ধরে তুলে ধরছেন। হযরতজীর মালফুজাত ও আবুল হাসান আলী নদভী রহ লেখা কিতাব “হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস আওর উনকি দ্বীনী দাওয়াত”কে তাবলীগের সাথীদের আবশ্যকীয় পাঠ্য করেন।

যাতে হযরতজী ইলিয়াস রহ এর নকশে কদমের উপর ও মেজাজের উপর এই কাজের মূল স্রোতধারা চলতে পারে। কেউ কেউ বলে থাকেন, তিনি তাবলীগে হযরতজীর কথার বাহিরের কিছু কথা বলে থাকেন, যা হযরতজী বলেন নি। এই কথার সহজ জবাব, মাওলানা ইলিয়াস রহ মূর্খ মেওয়াতিদের দিয়ে তাবলীগের কাজ প্রাইমারি লেভেলে শুরু করেছিলেন, যাদের কালেমাই জানা ছিল না। ফলে তিনি বলতেন, এই দাওয়াতের মোবারক কাজ আমাকে যতোটা বুঝানো হয়েছে তার একশ ভাগের এক ভাগ আমি বুঝেছি, আর যতটুকো বুঝেছি তার একশভাগের এক ভাগ তোমাদের বুঝাতে পেরেছি। কারন সেই মেওয়াতি লোকজন এতোটাই মূর্খ ছিল যে, সফরেও তারা হুক্কা তামুক সেবন করতে করতে তাবলীগ করত।

আলহামদুলিল্লাহ আজ দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ ইলিয়াস রহ এর জামানা থেকে আজ একশত বছরে এসে বিশ্বব্যাপি এক ছাতার উপর উঠেছে। কাজ করতে করতে আজ শিক্ষিত মানুষের মাঝে কথা নেয়া ও বুঝার মতো গোটা দুনিয়াতে সাথীদের মাঝে একটি যোগ্যতা এসেছে। তাই ছাহাবাদের জীবন ও সীরাত থেকে তিনি খুলে খুলে উম্মতের সামনে কাজের সুন্নত ও দ্বীনের হাকীকী মেজাজ তুলে ধরছেন। হযরতজী রহ এর মেজাজে সাহাবাদের নকশে ক্বদম ত্বরিকায় মসজিদ আবাদির মেহনতকে বিশ্বব্যাপি মজবুত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি কারো কোন সমালোচনা না করে কাজের ক্ষেত্রে জযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ এর জুবহু পদাঙ্ক অনুসরন করে নিরবে সারা দুনিয়াতে মেহনতকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ইলিয়াস রহ নীতি ছিল….
হে নবিজী!_____’
বড় হযরতজী কাতরকণ্ঠে বললেন,
‘আমাকে প্রশ্ন করা হবে। আমি কী জবাব দেবো?’
উত্তর এলো, ‘ মাওলানা আখতার ইলিয়াস! তুমি বোবা থাকবে।
আমাকে যদি ভুল বুঝে রুখে দেড়ানো হয়? জবাব এলো “তুমি চুপ থাকবে। আমাকে যদি আক্রমন করা হয়? তুমি নিরবতা অবলম্বন করবে। তোমার কাজে গায়েব থেকে সাহায্য করা হবে। জবাব দিলে কাজ কেড়ে নেয়া হবে।…”

এমনি গোপন আর সংবেদন ভড়া স্পর্সকাতর কাজ এই তাবলীগ। বড় হযরতজী বোবা হয়েই থাকলেন। ঠোঁটে কুলুপ,পা চললো জোরে। ছুটলেন তিনি দেশ দেশান্তরে আর তাঁর দল। পাঁচ মহাদেশজুড়ে। কথা কম। কাজ বেশি।

যেখানে অভিযোগ, প্রশ্ন শুনবে কে? জবাব দিবেন কে?
বড় বড় শায়খুল মাশায়েখদের অভিযোগ, তৎপরতার তুফান তোড়ে উড়ে গেলো সব কোন অজানায়। কত ফতোয়া মাটি চাপা হল কাজের নিচে। বদলে যাবার বন্যায় সবপ্রশ্ন খাবি খেতে খেতে ভেসে গেলো কোথায়।…

কাফেলার সেই থেকে আজ পর্যন্ত পথহারা সারা দুনিয়ার অগনিত বনি আদমের জন্য, যে দম ফেলার সময় নেই। এভাবেই চলছে চুপ চাপ শত বছর। মাশোয়ারেতে বসে কাজ আর কাজের চাপ। এর বাহিরে কথা বলার বা ভাবনার সুযোগ নেই কারো। এভাবেই দেশে দেশ কত বিপত্তি,আপত্তি, প্রশ্ন, আর ভয়াবহ সংকট এর ভিতর দিয়ে নিরব কাজের মাধ্যমে হযরতজীর কাছে আসা সেই নির্দেশের আলোকেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

তারপর ছাহেবজাদা হযরতজী ইউসুফ রহ, হযরতজী এনামুল হাসান রহ. হযরত জহিরুল হাসান রহ. হযরত জুবাইর হাসান রহ. হযরত মাওলানা সাদ কান্ধালবী দা.বা.সহ সকল জিম্মাদারগন “চুপ” থাকার একই আমল করে যাচ্ছেন দাওয়াতের মোবারক মহান কাজের উত্তরসুরী হিসাবে। নেই কারো প্রতি কোন অনুযোগ, অভিযোগ, গিবত, শেকায়ত, বা মোকাবিলা ও লড়াই করার মানসিকতাটুকোও। তাবলীগের চিরচারিত নিয়মে তারা হেরে গিয়েই বিজয়ী হওয়াকে পছন্দ করেছেন। হালতের মোকাবিলায় সব অভিযোগ কাজের মালিকের দরবারে। সব কষ্ট তারই দরগাহে। সব হালত রাব্বে করিমের দরবারে পেশ করা। তারই কাছে সকল সমস্যার সমাধান চাওয়া। সেই আমলি বিশ্বব্যাপি নিরব এই বিপ্লবের প্রধান হাতিয়ার।

দাদার স্বপ্নের সারথী

তার দাদা তাবলীগের দ্বীতিয় আমীর হযরতজী ইউসুফ রহ. কে বলা হয়েছিল, আপনি আমাদের এই কাজ পরিচালনার জন্য একটি উসুলি কিতাব, গঠনতন্ত্র বা কাজের মূলনীতি লিখে যান। তিনি জবাব দিলেন, আমাদের কাজের উসুল হায়াতুস সাহাবা। আমি উসুলের কিতাব লিখে গেলে,সেটা হবে আমার উসুল। আর এই কাজ কোন দল নয়, যে এর জন্য আলাদা কোন সংবিধান বা উসুলি নিয়ম হবে। এই কাজের উসুল চলবে সাহাবাদের পদাঙ্ক অনুসরন করে। আমি তোমাদের কাজের উসুল হিসাবে “হায়াতুস সাহাবা” গ্রন্থ লিখে দিলাম।”

মাওলানা সাদ কান্ধালভি দা.বা. দাদার সেই মূলনীতিকে কাজের উসুল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রানপন চেষ্টা করছেন। উলামায়ে দেওবন্দের সেরেতাজ আলী মিয়া নদভী রহকে দিয়ে ভুমিকা লিখিয়ে সুবিশাল “হায়াতুস সাহাবা” গ্রন্থ প্রকাশ করে উম্মতের সামনে পেশ করেছেন। যা কাজের উসুল ও আরব জাহানে কাজের অগগ্রতির ক্ষেত্রে বিপ্লবিক ভুমিকা পালন করছে। তাছাড়া যারা সারা বিশ্বে নানান জোড় ইজতেমা ও মার্কাজে তাঁর বয়ান শুনে থাকেন তারা ভাল করেই যানেন, কাজের ক্ষেত্রে তিনি সীরাতে নববী ও সীরাতে সাহাবাকে কতোটা খুলে খুলে গভীরভাবে উম্মতের সামনে পেশ করেন। কাছাড়া তার দাদাজান মাওলানা ইউসুফ রহ লেখা ছয় সিফাতের উপর হাদিসের দলিল গ্রন্থ “মুন্তাখাব হাদীস” কে ফাজায়েলে আমল ও ফাজায়েলে সাদাকাত এর পাশাপশি তাবলীগের নেসাব ভুক্ত করেন। এই গ্রন্থটির ভুমিকাও লিখেছেন, মুফাক্বিরে ইসলাম, শায়খুল আরব ওয়াল আজম সাইয্যিদ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রহ। এক কথায় তার দাদাজান রহ যে উসুল ও ছাতার উপর কাজকে দেখতে চেয়েছিলন, তিনি ইউসুফ রহ মালফুজাত থেকে অধ্যায়ন করে দাওয়াতের কাজকে তাবলীগের আকাবিরদের সেই ছাতার উপর তোলার চেষ্টা করছেন।

বিশ্বব্যাপি উলামাদের আনুগত্য

বিশ্বব্যাপি উলামায়ে কেরামের সাথে মাওলানা সাদ কান্ধালভিরর রয়েছে সুগভীর সম্পর্ক। পৃথিবীর নানান দেশে তাঁর মজলিসে যে পরিমান আলেম -উলামাগন অংশ গ্রহন করে থাকেন তা নজির বিহীন। সম্প্রতি রমজান ১৮ইং এর কয়েকদিন পূর্বে দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ) এর নতুন ভবন উদ্বোধন করেন মাওলানা সাদদ কান্ধালভি। সাহারানপুর মাদরাসা, পাকিস্তানের জামেয়া ফারুকীয়া, আফ্রিকার জামেয়া দারুল উলুম জাকারিয়ার মতো বড়বড় কওমি মাদরাসার সবকের ইফতিতা এখনো হযরতজী কে দিয়ে করানো হয়। ভারতের দ্বীতিয় বৃহত্তম দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাহরানপুর মাদরাসার খতমে বোখারির সবক নেন। এমনকী মদীনা মনওয়ারাতে হজ্ব ও উমরার সময় তার মজলিসে নিয়মিত আরব ও আজমের বড়বড় আলেমরা তার কাছ থেকে ইলমি ইস্তেফাদা নিয়ে থাকেন। মাত্র কয়েক মাস আগে ভারতের দিল্লীর আওরঙ্গবাদে তাবলীগের আলমি ইজতেমা অনুষ্টিত হয়ে গেল সেখানে ৫০/৬০হাজার আকাবিরে দেওন্দের উলামাগন উপস্থিত ছিলেন তার বয়ান শুনতে।

তিনি সব সময়, তার বয়ানে গুরুত্বের সাথে বলে থাকেন,”আমাদের আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাতকে, যিয়ারতকে ইবাদত মনে করা উচিত। কারণ আলেমদের মজলিসে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় বিষয় মনে করা জরুরি। কারণ মাসআলা-মাসাঈল আলেমদের কাছ থেকেই শিখতে হবে।আমাদের গাশত, বয়ান, মোলাকাতসহ সব কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো, উম্মতকে ইলমের প্রতি আকৃষ্ট করা। সাধারণ মানুষকে আলেমদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। নিজের সন্তানাদিকে এ উদ্দেশ্যেই মাদরাসায় ভর্তি করাতে হবে যে, ইলমের তালিম মাদরাসাতেই হয়। মাদরাসার এই শিক্ষাই হলো ইলম। দুনিয়ার বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বড় মনে করে এগুলো পড়ানো এটা মূর্খতা ছাড়া আর কী? সাদরাসা হল মানুষ গড়ার কেন্দ্র। মানুষ গড়ার চেয়ে বড় কোন খেদমত দুনিয়াতে নেই।”

দেওবন্দের স্বার্থক উত্তরসুরী

হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভি দা.বা গত ভূপাল ইজতেমাতে বলেছেন, (যে কথাগুলো নিয়মিত বিভিন্ন মজলিসে বলে থাকেন)”ইলমের মজলিস ও আলেমদের ছোট মনে করা সবচেয়ে বড় ফিতনা ও জাহালত, এটি বড়ই মাহরুমীর কথা। মসজিদগুলোতে কুরআন শিক্ষার যে মজলিস হয় এটি আল্লাহর অনেক বড় রহমত। এগুলোর মাধ্যমে উম্মতের অনেক ফায়দা হচ্ছে। এগুলোকে ছোট মনে করা অথবা এগুলোর উপকারিতাকে ছোট করে দেখা, বড়ই মূর্খতা। আপনারা এ মজলিসগুলোর ইহতেমাম করুন। সবসময় উলামায়ে হক্কানীর অনুসরণই আমাদের করতে হবে। এ কথা খুব ভালোভাবে ইয়াদ রাখুন যে, আমরা ভিন্ন কোনো জামাত নই। আামাদের মেহনত নতুন কোনো মেহনতও নয়। আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত।

আমাদের সকলের রাহবারী এবং আমরা যে থে পরিচালিত হবো, ইলমি ফায়দা অর্জন, দীনি ও দুনিয়াবি সব বিষয়ে আমাদের আদর্শ, এই মাদরাসাগুলোই। বিশেষ করে ইউপিতে আল্লাহ যে প্রতিষ্ঠানকে (দারুল উলুম দেওবন্দ) মারকাজী অবস্থান দিয়েছেন, এটিই আমাদের মারকায। মাসআলা মাসায়েলের ক্ষেত্রে আমরা তাদের উপরই নির্ভর করবো। দেওবন্দ ও আহলে দেওবন্দই আমাদের কেন্দ্রস্থল। তাদের মাসলাকই আমাদের মাসলাক। দীনি অথবা দুনিয়াবি সামান্য কোনো বিষয়ে অতীতে না আমরা তাদের ভিন্ন অন্য কিছু চিন্তা করেছি না ভবিষ্যতে এরকম করার কোনো অবকাশ আছে। আমাদের এ মেহনত তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকাতেই পরিচালিত হবে। কিন্তু মাসআলা ও আকিদার ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দই আমাদের মারকায। তাবলীগের সাথীদের ভিন্ন কোনো মত কায়েম করাটাই বড় গোমরাহী ও জাহালত। বরং এটি অসংখ্য ফিতনার কারণ। এ কথাটি দীলে ভালোভাবে গেঁথে রাখুন। কখনো আলেমদের ব্যাপারে খারাপ চিন্তা আনা যাবে না। কারণ জীবনের সব ক্ষেত্রেই আমরা আলেম ওলামা ও এই মাদরাসাগুলোর মুখাপেক্ষী । মাদরাসা আমাদের দ্বীনের প্রধান বুনিয়াদ মারকাজ বা ভিত্তি। এই মারকাজি প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন কোনো মাসলাকের ব্যাপারে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।”

দেওবন্দের সতর্কবার্তা প্রসঙ্গ কথা

মাওলানা সা’দ কান্ধালভী দেওবন্দের রূহানি সন্তান। প্রচলিত তাবলিগের সূচনাকারী মাওলানা ইলিয়াসও দেওবন্দের প্রডাক্ট। তারমানে, তাবলিগ দেওবন্দেরই একটি প্রশাখা। তাবলিগের আমীর মাওলানা সা’দ সাহেবের বয়ানাত থেকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কথাবার্তা পছন্দ হয়নি দেওবন্দের। আর দেওবন্দ নামক ইন্সটিটিউট সত্য বলে এবং নির্দ্বিধায়ই বলে। দেওবন্দ যখন বলে, আপন-পর দেখে না। মুসলিহত খুঁজে না। সত্যের শরীরে মুসলিহতের চাদর জড়িয়ে মিনমিন করা দেওবন্দের কালচারে নাই। এ জন্য দেওবন্দ অনন্য উচ্চতায়। দেওবন্দদ তার সন্তানকে সর্তক করেছে। এটা দেওবন্দের অধিকার। মাওলানা সাদ কান্ধালভীর কাছে দেওবন্দের এই সর্তকবার্তা আসার পরে মাজাহেরুল উলুম সাহরানপুর, দারুল উলুম (ওয়াকফ) দেওবন্দসহ অনেক বড়বড় দ্বীনী প্রতিষ্ঠান থেকে এর জবাব ও বয়ানাতের ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বড়বড় উল্মায়ে কেরাম,কিন্তু সাদ কান্ধালভি সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলেছেন, আমি কে, যে আমি জিতে যাব, আর দেওবন্দের মতো আমাদের আত্মার সুতিকাগার হেরে যাবে, সারা দুনিয়াতে ভুল বার্তা যাবে, বরং দেওবন্দ জিতে যাক আর আমি নগন্য হেরে যাই। আজ পর্যন্ত তার সমালোচনাবারীদের ব্যাপারে তিনি একটি টু শব্দও করেন নি কোথাও।

তিনি দেওবন্দ থেকে সর্তক বার্তা পাওয়ার পর তা থেকে পরিস্কার ভাষায় রুজু করে নেন। বক্তব্য লিখিত মৌখিক প্রত্যাহার করেছেন। সাথে সাথে দেওবন্দকে লিখিতভাবে সেদিন বলেছেন (যার বিস্তারিত কপি ও অডিও লেখকের কাছে সয়গ্রহিত আছে) এবিষয়ে প্রথমতঃ আমি অধম কোন প্রকার চিন্তা- ভাবনা ছাড়াই স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি মনে করি যে, আমি আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সমস্ত আকাবির উলামায়ে দেওবন্দ ও সাহারানপুর এবং তাবলিগ জামায়াতের আকাবির মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ ও মাওলানা মুহাম্মাদ ইনআমুল হাসান রহঃ এর মাসলাক ও আদর্শের উপর কায়েম আছি এবং এর থেকে সামান্য পরিমাণ বিচ্যুতিও পছন্দ করি না। লিখিত পত্রে যেসব পুরাতন বয়ানের হাওয়ালা উল্লেখ করা হয়েছে আমি অধম দ্বীনী দায়িত্ব মনে করে সেগুলো থেকে পরিষ্কার শব্দে ‘রুজ’’ করছি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাদের মাশায়েখ– বুজুর্গদের রীতি এই ছিলো যে, যখন কোন বিষয়ে নিজেদের ভুলের কথা জানতে পারতেন তখনই তার থেকে রুজু করতেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বুজুর্গদের নকশে কদমের উপর চলার তাওফিক দিন এবং ভুলভ্রান্তি থেকে হেফাযত করেন।”

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সা’দ সাহেবের ব্যাপারে দেওবন্দের সতর্কবার্তা বাজারজাত করে পানি ঘোলা করছে একটি বিশেষ প্রজাতি। অনেকদিন হল গলা তাদের শুকিয়ে আছে। গলা ভেজানো দরকার। আর বিশেষ প্রজাতি পানি ঘোলা করেই খায়; জানা কথাই তো।

৪ ডিসেম্বর ২০১৬ স্বাক্ষরিত ‘জরুরি ওয়াজাহাত’ শিরোনামে প্রকাশিত দেওবন্দের সেই গেজেটের নিচে দুই লাইনের একটি নোটে বলা আছে,
===ঐ লেখা লেখা (এখানেও ‘ফতওয়া’ বলা হয়নি। ‘লেখা’ বলা হচ্ছে) উলামায়ে কেরাম ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে এটি স্যুশাল মিডিয়ায় প্রচার হয়ে গেছে। লোকজন বিভ্রান্ত হচ্ছে। তাই দেওবন্দের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তুলে ধরাহল।”
দারুল উলুমের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যাসহ সবগুলো চিঠি এবং সিদ্ধান্তপত্রটি আপলোড করে রাখা আছে। তারমানে, দেওবন্দ সেগুলো প্রচার করেনি। প্রচারের পর ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে মাত্র।

এখন স্বভাবিকই প্রশ্ন জাগে স্যোসাল মিডিয়াতে তা প্রচার করলো কারা। কারা দারুল উলুম দেওবন্দ আর তার রুহানী আলমি সন্তান মাওলানা সাদ কান্ধালভীর মাঝে দুরত্ব তৈরি করতে চায়। ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সেই অপশক্তি কারা?

গত বছরের ১৭সালের কথা চিন্তা করুন। মাওলানা সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে তখন সদ্য জারী হওয়া সতর্কবার্তা। দারুল উলূম দেওবন্দ এই সতর্কীকরণ করেছে। মাওলানা সা’দ সাহেবের সুস্পষ্ট কোন রুজুও তখনও এখনকার মতো প্রকাশ্যে আসে নি, দেওবন্দ তখনো কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও তওবা তো কেবল রাব্বুল ইজ্জাতের কাছে। এবং, দেওবন্দ তাঁকে বাঁধাও দেয়নি বাংলাদেশের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে। দেওবন্দ তাঁকে পৃথাবীর কোনন মার্কাজ বা ইজতেমায় বয়ান করতে নিষেধ করেনি । দেওবন্দ তাঁকে কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে মুনাজাত করতেও নিষেধ করেনি। তখনোও না, এখনও না। এবছর ভারতের সবচে বড় ভূপাল ও আওরঙ্গবাদ ইজতেমায় মাত্র দিনকয়েক আগে মাওলানা সা’দ সাহেব অংশগ্রহণ, বয়ান ও মুনাজাত করে এসেছেন। দেওবন্দি অর্ধ লক্ষ আলেমের মজমায় বয়ান করেছেন দেওবন্দ কোন কিছুতেই তাঁকে নিষেধ করেনি। নিষেধ তবে করলো কারা?

যে দেওবন্দ উম্মতের তরে তাঁর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়েছে, সেই দেওবন্দের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য তাঁকে বাঁধা দেয়া ও নিষেধ করা। ইতিহাস সাক্ষী, দেওবন্দ কখনো তাঁর দায়িত্ব আদায়ে, কর্তব্য পালনে পিছপা হয়নি। দেওবন্দ মনে করেছে মাওলানা সা’দ সাহেবের বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে হবে, দেওবন্দ করেছে। দেওবন্দ মনে করেনি মাওলানা সা’দ সাহেব ইজতেমায় অংশগ্রহন করতে পারবেন না, দেওবন্দ নিষেধ করেনি। করলো তবে কারা?

আমরা। আমরা করেছি। দেওবন্দ তাঁর নিজের ফতওয়া বুঝেনি, বুঝেছি আমরা। দেওবন্দ তাঁর ফতওয়ার আজ্ঞা পালন করেনি, করেছি আমরা। আর তা করছি দেওবন্দের নামে।একজন সা’দ দেওবন্দের সন্তান সন্তানের প্রতি দারুল উলুমের সতর্কবার্তা কি ঘিরে এটা নিসংকোচে বলা চলে বাতিলদের “টার্গেট যখন তাবলিগ এবং দারুল উলুম দেওবন্দ।”

বড়দের চোঁখে হযরতজী সা’দ কান্ধালভী

হজরত মাওঃ সা’দ সাহেবের যখন জন্ম হলো, তখন দাদা হজরতজী মাওঃ ইয়ুসুফ সাহেব রহঃ বললেন ,এখন আমার বদল( স্হলাভিষিক্ত) এসে গিয়েছে !

হজরত মাওঃ এনামুল হাসান সাহেব রহঃ একদিন উনার প্রতি ইংগিত করে বললেন “এ একদিন বলবে সারা দুনিয়া শুনবে !

শায়েখ যাকারিয়া রহ এর মদিনা মনোয়ারার বার্তা লেখক ও জীবিত খলিফা শায়েখ ইসুফ মুত্বালা হাফি কে বলেন- তুমি ইজহারুল হাসান রহ কে আমার কথা বলবে যে -সে সাদ কে এমন ভাবে যেন তরবিয়ত দিয়ে গড়ে তোলে , যেন সে পুরো দুনিয়ার তাকাজা সামলাতে পারে ”

সায়্যিদ মাওঃ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রহঃ মদীনার মসজিদে নব্বীর রিয়াজুল জান্নাতে বসিয়ে মাওঃ সা’দ সাহেবের জীবনের লেখা-পড়ার প্রথম সবক্ব দান করলেন ,যেন একদিন সাদ পুরো পৃথিবীতে দাওয়াতের কাজ কে আলোকিত করতে পারে l

পরবর্তিতে ও, সায়্যেদ মাওঃ নদভী রহঃ এবং মাওঃ সা’দ সাহেবের দাদা বংশীয় সু-প্রসিদ্ধ বুযুর্গও মুহাদ্দিস মাওঃ ইফতেখারুল হাসান রহঃ এ দুই বুযুর্গের আধ্যাত্মিক তরবিয়ত উনি হাসেল করেন,এবং উপরোক্ত দুই মহান ব্যাক্তিত্ব খিলাফতের তাজ উনার মাথায় পরিয়ে দেন এবং আজ দীর্ঘ ত্রিশ বৎসর যাবত উনি কোটি-কোটি উম্মতের রাহবরী করে আসছেন।

১৯৯৫ সালে যখন আমির নির্ববাচন করা হচ্ছিল ,তখনো তৎকালিন হজরতজীর পুরো নজর সাদ সাহেবের উপর ছিল l

শুদু তাই নয় তৎকালিন ১০ জনের শুরা তরুন সাদ সাহেবের ফয়সাল বানানোর মত ঈমানি নূর খুজে পেলেন এবং তাকেও ৩ জন আমিরের একজন বানিয়ে দিলেন l

কুয়েতর আমির শায়েখ মুসলেহ বলেছেন, আমি ২০বছর ধরে প্রতি বছর নিযামুদ্দীন যাই। হযরতজী সাদের চেয়ে বিনয়ী কাউকে জগতর দেখিনি। তার বিরোধীতাকারীদের ব্যাপারে কখনো তিনি টু শব্দও করেন নি। কারো ব্যাপারে কোন শেকায়ত কেউ তার জবানে শুনেনি। বিনয়, সবর আর ধর্য্যেরর পাহার তার মজ্জাগত স্বভাব। রাসুলে পাক সা. এর সাথে হযরতজী সাদ কান্ধালভী কে আরবের একাদিক বুজুর্গ মোবাল্লিগ বহুবার স্বপ্নে দেখেছেন এবং কাজের তরবিয়ত লাভ করেছেন।

দিল্লীর মার্কাজের প্রবীন আলেমেদ্বীন মাওলানা শামিম সাহেব দা.বা (যিনি তাবলীগের সকল পুরানো সাথীদের জোড়ে বয়ান করেন) বলেছেন, আমি তার সাথে ২৮বছর ধরে সফরে, হজরে কাজ করছি, কিন্তু এক মুহুর্তের জন্যও কাজের কথা ছাড়া তার জবান দিয়ে কারো গীবত করতে শুনিনি। এবং এটা কেউ কখনো শুনেছে সেটাও বলতে পারবে না। এটাই ছিল বড় হযরতজির এই কাজকে আগে বাড়ানোর সবচেয়ে বড় আমল।

সুতরাং আজ কতিপয় লোক যারা মাওলানার আকাশ চুম্বি মান-সন্মান ও উনার যোগ্যতা কে নিয়ে রাস্তা-ঘাটে ছিনি-মিনি খেলতেছে, তারা শুধু উনাকেই অপমান করছেনা, বরং উনার সম্পর্কে উপরোক্ত মহামনিষীদের ভবিষ্যত বাণী এবং উনাদের তালীম-তরবিয়ত কে ও প্রশ্নবিদ্ব করে তোলছে, এতে করে দ্বীনের এ মহান রাহবরের কোন ক্ষতি তো তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যুগে যুগে স্বগ্রোত্রীয়দের দ্বারা এভাবে ভুল বুঝাবুঝি ও নানান বিরোধীতাতে স্বীকার হয়েছেন আমাদের পূর্ববতি সকল আকাবিরানে হযরত।

এটাই পৃথিবীর ইতিহাস

কেবল বিশ্ব ইতিহাস নয়, এই উপমহাদেশের ইতিহাসের দিকে চোঁখ দিলেও দেখা যায়, জামানার বিচক্ষন, দুরদর্শী মুজাদ্দেদ আলেমরা সবসময়ই স্বগোত্রের লোকদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। স্বগোত্রের আহলে হক আলেমদের দ্বারা বা তাদের ভুল ফতোয়া কিংবা এখতেলাফি/ মতানৈক্যের কারনে, আকাবির হযরাতদের অনেক সেরেতাজ আলেমরা কতোটা নির্মম নির্যাতিত হয়েছিলেন তা পাঠ করলে আৎকে উঠতে হয়। নির্যাতন এমনভাবে হয়েছে যে, আমীরে হিন্দ শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহ হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কাটা হয়েছিল ফতোয়া দিয়ে। তিনিই আজ আমাদের আকাবির। আমাদের এলেম ও তাসাউফের প্রধান বাতিঘর। সব আকাবিরদের সুতিকাগার থাকে ঘিরেই। এজামানায় এমন নির্যাতন কারো উপর কল্পনাও করা যায় না। সেক্ষেত্রে আজ যারা মাওলানা সাদ কান্ধালভিরর বিরোধীতা করছেন তা কিছুই না।

ইতিহাস এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সবার স্থান হয় না। যুগ-জমানা পাল্টে দেয়া ব্যক্তিরাই সেখানে স্থান পায়। এজন্য তাদের উপর দিয়ে বারোধীতার স্লাইকোন চলে। ধর্য্যের সাথে যারা এসব মোকাবিলা কনে যান, তারাই একদা ইতিহাস হন। আমরা ইতিহাসের পাতায় সে সব ইতিহাসে কেবল পড়েছি, কিন্তু আমরা এজামানায়ও এমন একজন আকাবিরকে পেয়েছি যিনি জুলুমে স্বীকার হয়েছেন তাদের মতোই। এর রাজসাক্ষি হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। আকাবিরদের মতোই তার জীবনী এভাবে পাঠ করবে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম। শুনাতে পারব পরবর্তি প্রজন্মকে এযুগের এমন এক মজলুম মনীষার কথা।

উপমহাদেশের অন্যতম মুহাদ্দিস যফর আহমাদ উসমানী রহ:বলেন
ان الرجل لا يبلغ درجة الصديقين حتي يرميه سبعون صديقا مثله بالكفر والزندقةوهكذا سنةالله في اولياإه
মানুষ তখনই সর্বোচ্ছ বুযুর্গ হয়,যখন তার মত কম্পক্ষে আরো ৭০জন বুযুর্গ বলবে,আরে ওতো কাফের মুরতাদ।আওলিয়ায়ে কেরামের বেলায় এটিই আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম। (ই’লাউস সুনান 3/28) (মুকাদ্দমায়ে মুসনাদে ইমাম আজম 1/38)

নিজের অজ্ঞতা দূর করুন। আমি কঠিন কোন কিতাবের নাম বলছিনা, বেফাকের নেসাব ভুক্ত মেশকাত জামাতের ‘দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য ও অবদান’ গ্রন্থ খুলে দেখেন। যারাই উম্মতের জন্য কাজ করেছেন, তাদের প্রায় সবারর বিরোদ্ধেই নানান ফতওয়া দেয়া হয়েছে। আরো শুরু থেকে দেখলে ইমাম আবু হানীফা রহ. থেকে শুরু করে ইমাম বুখারী রহ. সহ কে বাদ পড়েছেন দেখুন।

কে যেন বলেছিলেন, ওলীদের দুইটি স্তর আছে।
(১) মাকামে ওয়ীলায়াহ,
(২) মাকামে নবুওয়াহ।
যারা মাকামে ওয়ীলায়াতে থাকেন তারা সর্বজন নন্দিত হন, দুনিয়ার কুটচাল থেকে মুক্ত থেকে খানকায় বসে দ্বীনের খেদমত করেন। আর যারা মাকামে নবুওয়াতে থাকেন, তাদের জাতির বেশির ভাগ মানুষই পছন্দ করে না। কিন্তু জাতির জন্য তাদের ত্যাগই সবচেয়ে বেশি। তারা সমালোচনায় রক্তাক্ত চামড়া খুলে মেলে দেন সমালোচকদের মাথার উপর রোদের তাপ থেকে বাঁচাতে…। এমন যুগের নকীব, জামানার মুজাদ্দেদ উলামায়ে কেরাম আগেও যেমন এমন ফতোয়াতে স্বীকার হয়েছেন তেমনি আজো তারা সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তাদের বিবরণ বিস্তারিত লিখলে বেশ বড় একখানা কিতাব লেখা যাবো।

হাদীসে ক্বুদসীতে ‘আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন ,
من عادي لي وليا فاذنته الحرب
যারা আমার কোন ওলীর সাথে সত্রুতা রাখবে ,তাদের সাথে আমার যুদ্ধ চলবে ,অতএব যাদের সাথে আল্লাহ পাকের যুদ্ব চলবে তাদের আর খয়রিয়ত নেইl
আরেকটি বর্ননা এই যে -তোমরা ঈমানদারদের দূরদৃষ্টি কে ভয় কর , কারন তারা তো আল্লাহ পাকের নূরের আলোকে দেখতে পায়l

ইতিহাস অামাদের যে চমকপ্রদ তথ্যটি দিচ্ছে তা হলো, মানুষ এসব ফতোয়াবাজ বা বিরোধীতাকারী ফরৎনাবাজ লোকদের মনে রাখেনি। কিন্তু জুলুমে শিকার ব্যক্তিগণের নাম ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে। শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রহ. মাওলানা কাসেম নানুতাবি রহ. মাওলানা স্যায়িদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি রহ. অাল্লামা ইকবাল রহ. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাওলানা জামাল উদ্দিন আফহানী রহসহ অসংখ্য যুগের নকীবদের উপর উপমহাদেশে সময়ে সময়ে ভয়ংকর কুফরি ফতোয়া আরোপিত হয়েছে। তাদের উপর কে বা কোন কোন প্রতিক্রিয়াশীল ওলামা ফতোয়া দিয়ে ঘায়েল করতে চেয়েছেন সেটি অাজ অার কেউ মনে রাখেনি।

আরেক ভাবে বললে, যাদের নামই ইতিহাসে পরবর্তীতে সোনালী কালিতে লেখা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই এই পরিবেশ মোকাবেলা করেছিলেন। হুজুগী ফেৎনা আর নানান সমালোচনার কটিন পাহাড় অতিক্রম করে তারা অমর হয়েছেন। ইমাম বুখারী রহ. তো শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার কাছে যাওয়ার আর্জী পেশ করেছেন। মিশকাতের শরাহ মিরকাতুল মাফাতিহের মাকতাবায়ে রশীদিয়া সংস্করনে ইমাম বুখারীর জীবনী দেয়া আছে। সংক্ষেপে এতো সুন্দর আলোচনা আর দেখিনি। পড়ে দেখুন, চোখ দিয়ে অঝোর ধারার কান্না বের হবে।

এভাবেই। যুগে যুগে এসবই ঘটেছে। এবং ঘটবে। ফেৎনাবাজরা হারিয়ে যাবেন যুগের অন্তলোকে। আর চিন্তাশীল যুগ শেষ্ট মনীষা গন যাদের বিরোধীধীতা করা হয়েছিল, নানান বাহানা আর গায়েল করার ফতোয়া নামক হাতিয়ার ব্যবহার করে, তারাই ইতিহাসে অমর হয়ে রবেন যুগ যুগান্তরে। আকাবিরদের ইজ্জত হননের নষ্ট খেলায় মেতে উঠেছিল স্বগোত্রের লোকজন তারাই একদিন ঘৃনীত হয়ছে ইতিহাসের কাটগড়ায়। আর যারা স্রোতের সাইক্লোন মোকাবিলায় পাহারসম ধর্য্য নিয়ে তাদের আনুগত্য করে গেছেন শত আক্রমনের মোকাবিলায় তাদেরকেই আজ শ্রদ্ধা করা হয়, শ্রদ্ধা করবে আগামি পৃথিবী।

বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র

আন্তর্জাতিক ইহুদীলবি যখন দেখছে শায়খুদ দাওয়াত হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্ধালভী দা.বা এর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপি মানুষ ইসলামে প্রবেশের জয়জয়কার। তার একক নেতৃত্বে দুনিয়াব্যাপি আগামি পৃথিবীর নেতৃত্ব দিতে হযরত ইমাম মাহদী আ.এর কাফেলার জান্দাদিল মর্দে মুমিন তৈরি হচ্ছে দলে দলে।

তখন থেকেই থাকে নেতৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিতে তারা শুরু করে ঘরে বাইরে ষড়ন্ত্র ও চক্রান্ত। একের পর এক মিথ্যাচার, অপবাদ আরোপ করে তাদের এজেন্ট ও চরদের মাধ্যমে সুকৌশলে। কিন্তু তাবলীগের ভিতর হযরতজীর প্রতি আস্থা, বিশ্বাস আনুগত্যে কোন ফাটল তৈরি করতে না পেরে তারা নতুন পথ বেঁচে নিয়েছে। তাকে অন্তত্য ১১বার নিযামুদ্দীন মার্কাজের ভিতরে ও বাহিরে আক্রমন করে হত্যার চেষ্টা করে দূর্বিত্তরা। এমনকি তার খাদেমকে ব্যবহার করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। একরাতে হযরতজীর নিজ খাদেম ঘুমন্তবস্থায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোদ্ধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বিফল হয়। পরে ঐখাদেমের ব্যাগ তাল্লাশি করে ইসরাইলি পার্সপোট পাওয়া যায়। এছাড়া তাকে বারবার জাদু বা সেহের করে ঘায়েলের চেষ্টা করা হয়।

সা’দ সাহেবকে ইহুদীরা সেহর (জাদু) করেছে। নবীজি সা. এর উপর এরা তাই করেছিল। হযরত সিদ্দিকে আকবর রা. কে সরিয়ে দিতে সেটাই করেছিল। বার বার জাদু কাটার পর আবার করছে। হঠাৎ বয়ানের মাঝে হযরতজি অসুস্থ হয়ে পড়েন মারত্নকভাবে। অনেক আমল ও তদ্ববিরের পর স্ববাভিক হন।

ইসরাঈলরা চায় হযরত আবুবকর রাঃ এর রক্তধারায় মাওলানা ইলিয়াস সাহেব রহঃ এর বংশ আর দুনিয়াতে না থাকুক। তাদের হাতে সারা পৃথিবীর জিম্মাদারীর দায়িত্ব না থাকুক । আর এই জন্য তারা অনেক আগে থেকে হযরতজীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। বেশ কয়েকবার সা’দ সাহেবকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে নানাভাবে। আল্লাহ নেক বান্দাদের দোয়ার বরকতে হেফাজত করেছেন। তবে সে চেষ্টা আজো চলছে, এজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।

১৯৯৫ সালে একজন ব্যক্তি সাআদ সাহেবকে গলা টিপে হত্যা করতে চেয়েছিল বলে জানাযায়। চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে ধরা পড়লে পরে তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে ইসরাঈলের থেকে ৫০ লাক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিল এই হত্যার জন্য। এরা সরাসরি যখন কিছু করতে বারবার ব্যার্থ হচ্ছে তখন তাদের চরদের মাধ্যমে নানা রূপ ধারন করে উম্মাহর নেতৃত্ব থেকে দূরে সরাতে মুসলমানদের ভিতর চক্রান্ত করে। তারপরও সফল না হয়ে এখন সেহের (জাদুর) মতো ভংকর পথ বেঁচে নিয়েছে।

দোয়া করি, আল্লাহ যেন হযরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধালভী হাফিজাল্লাহুকে সুস্থতার সাথে জিম্মাদারীতে অক্ষুন্ন রেখে দীর্ঘ হায়াত দান করুন। আর বাতিলের সকল চক্রান্ত থেকে দাওয়াতের মোবারক মেহনত ও গোটা উম্মতকে আল্লাহ হেফাযত করেন। আমাদের মাথার উপর তার ছায়াকে দীর্ঘ করুন। আমীন। ছুম্মা আমিন…

Advertisements

One thought on “ঈদের বিশেষ রচনাঃ মাওলানা সাদ কান্ধলভি হাফিজাল্লাহুঃ উম্মাহর আলোর মিনার।

Leave a Reply