একজন মুফতি মুনসুরুল হকের মিথ্যাচার ও আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা।

FB_IMG_1528219147083.jpg

(ছবিঃ মুফতি উসামা ইসলাম)

লেখকঃ মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ ।

মুফতি উসামা ইসলাম। একজন তরুন আলেম। মুবাল্লিগ। বহুভাষাবিদ। বিদগ্ধ ইসলামী স্কলার। উসামা একটি নাম। একটি আর্দশ। এদেশের হাজারো তারুণ্যের আইডল। চিন্তা চেতনা ও আদর্শের পথ প্রদর্শক। মুফতি উসামা বাংলাদেশের গর্ব ,মুসলিম উম্মাহর গর্ব ,দাওয়াতের মেহনতের গর্ব ,লাখো চিন্তক তারুন্যের রাহবার, যে সবসব জায়গাতে আমরা কাজ করতে পারিনা ,যেখানে অনেকেই ইসলামের আলো পৌছাতে সাহস পান না ;সেখানে মুফতি উসামাকে দেখা যায় দাওয়াত নিয়ে মেহনত করতে।

বাংলাদেশের যে কোন জেলায় মুফতি উসামা হাজির হলে, তিনি আসছেন, ব্যাস এতটুকো জানলেই, শতশত দ্বীনদ্বার মানুষ হাজির হয় দেখার জন্য। এই যে তার প্রতি মানুষের এতো টান, এতো ভালবাসা এটা আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে থাকা ও তাদের দোয়ার ফসল। শুধু কি দেশে! বিশ্বের বহু দেশ তিনি দাওয়াতের মেহনতের নিসবতে সফর করেছেন। লক্ষ, কোটি মানুষের মজমায় দেশে দেশে ইজতামাতে বয়ান করেছেন। ইউরোপ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আরববিশ্বসহ প্রায় অর্ধশত দেশে, দুনিয়ার কোনায় কোনায় দ্বীনের ফেরি করে এই বয়েসেই সফর করেছেন।

আধুনিক তরুন সমাজ যাদেরকে আইডল মনে করে, শোবিজের নায়ক, ক্রিক্রেট তারকা। সেই তারকাদের কাছে উসামা ভাই নিজেই আরেক তারকা। ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের তিনি সম্মানীত খতিব। তার মসজিদে দেশের অসংখ্যা তারকাখ্যাত মানুষজন হাজির হন তার বয়ান শুনতে। আজকের সাকিব খান, মিশা শওদাগার, অনন্ত জলিল, অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, আশরাফুল, রাজিন সালেহদের দাওয়াতি মেহনত করে তাদের তাবলীগে নিয়ে যাওয়া। তাদের হেদায়তের ফিকির করা। তাদের আলোর পথে, সত্যের পথে ধাবিত করতে রাতদিন যিনি ব্যায় করেন ক্লান্তিহীন তিনি উসামা।

যে নাজনীন আক্তার হ্যাপি উরপে আমাতুল্লাহ বোনের প্রশংসা করা হয়, তাকে নিয়ে বই লেখা হয়; সে বোনও হেদায়েত পেয়েছে উসামা ভাইয়ের বাসার মাস্তুরাতের তালিমের উসিলায়। সমাজে উচ্চ সোসাইটির অগনিত অসংখ্য মানুষ তার নিরলস মেহনতে আজ আলোর পথে দ্বীনের সারথী।

সারাদিন ফেইসবুকে যখন আমরা তর্ক বিতর্কে সময় কাটায়; উসামা ভাই তখন উম্মতের দুয়ারে দুয়ারে ঈমানি আমলিতে লিপ্ত। আমরা প্রাই একটি সংবাদ শুনি নায়ক অনন্ত জলিলের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন চিত্রনায়ক, তারকারা তাবলীগ জামাতে গিয়েছেন। তাদের মসজিদে নিয়ে আসার পেছনে যার অক্লান্ত সাধনা তিনি নিরলস এই মেধাবী দায়ী, মুফতি উসামা নামেই সবার কাছে পরিচিত।

আপনি যে জায়গাটায় দাওয়াতের কাজ করছেন সেখানে অন্য কেউ পারে না। অন্তত এই অভাগা দেশে তারিক জামিলের প্রতিচ্ছবি কেবল আপনি। নিরবে কাজ করে যাওয়া, দ্বীনী চেতনার অনন্য আইডল উসামা। চিন্তক তারুণ্যের অহংকার উসামা আজ অসংখ্য অন্তত জলিল আর হ্যাপিদের আধারের আলোর শারথি।

============================

(মুফতি মুনসুরুল হকের নিজ জবানীতে পেশ করা ভয়ংকর মিথ্যাচার)

মুফতি মনসুরুল হক বলেছেন যে, উনি নাকি খোজ নিয়ে জেনেছেন মুফতি উসামা ইফতা না পড়েই মুফতি হয়েছেন। আবার এও বলেছেন যে, মুফতি উসামা নাকি দাওরা পরীক্ষায় কয়েক বিষয়ে ফেল করেছেন।

মুফতি মনসুরুল হকের মত এত বড় আলেম ; যার বয়ান হবার কথা এসলাহি বিষয়ে, এলম আমল নিয়ে, তিনি মুফতি উসামাকে নিয়ে যে ভাষা আর যে ভুল বানোয়াট তথ্য দিয়ে তাকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন তাতে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এতে এই কথা পরিষ্কার যে – বড় আলেম বলে আন্ধভাবে আজ কাওকে মানার সুযোগ নাই। কারন আমাদের বড়দের কিছু লোক বিশেষ করে তার চারপাশের হাওয়ারিনরা সব সময়ই ভুল তথ্য পরিবেশন করে, তাদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এমনকি মিথ্যা বলতে বাধ্য করেন। অসত্যের দিকে ধাবিত করতে প্ররোচিত করেন। কিছু স্বার্থপর মানুষ মূলত তাদের নিজেদের স্বার্থে এই অপকর্মগুলো করানোর চেষ্টা করে থাকে। শাপলা চত্তরের মতো ট্রাজেডি এর উৎকৃষ্ট প্রমান।

কোথায় পড়েছিলাম, পরশ্রীকাতরতা এটা কেবল বাঙ্গালিদের একটি স্বভাব। অন্যের শ্রী (সৌন্দর্য) দেখে কাতর (হিংসা) হওয়া। মুফতি উমামাকে নিয়ে কিছু উগ্র কওমিয়ানদের এই হিংসা, নির্লজ্জ-মিথ্যাচার। যা দেখে হয়তো শয়তান লজ্জা পায়। কারোদ্বারা যদি আল্লাহ দ্বীনের কাজ নেন। তার কাজ করানোর জন্য কবুল করেন। তাহলে মিথ্যাচার, তহমত আর অপপ্রচার করে তার সম্মান কমানো যাবে না।

আমার দাদাজান রহ. বলতেন, জগতের সকল জিন ইনসান মিলে তোমার পায়ে ধরে নিচে নামানোর জন্য যদি অবরত টানতে থাকে আর আল্লাহ যদি কানে ধরে তোমাকে উপরে তুলতে চান তাহলে তুমি কেবল উপরেই উঠবে। নবীজি সা. এর কথাতে মানুষ প্রভাবিত হত। তখন ওরা মানুষকে নবীর কথা শুনা থেকে ফিরাতে মানু্ষকে বলত মোহাম্মদ পাগল, উম্মাদ, জাদুগির…

আমাদের আকাবির হযরত, নায়বে নবীদের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে, যখন মানুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কথা শুনেছে, দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। তখন তারা আকাবীরদের কাছ থেকে মানুষকে ফিরাতে তাদের উপর মিথ্যাচার আর অপপ্রচার করেছে।

কিন্তু মুফতি মনসুরুল হক সাহেবের মতো বড় মাপের আলেমদের যদি ভুল তথ্য দিয়ে বিব্রন্ত করা হয় তাহলে কষ্ট লাগে। জাতি তাহলে আস্থা রাখবে কার উপর। তিনি তো মিথ্যা বলতে পারেন না।

মুফতি উসামা ভাই মাদীনা মুনাওয়ারায় হিফজ পড়েছেন শায়খ হুজায়ফির কাছে। জামেয়া রাহমানীয়া থেকে দাওরায়ে হাদীস পাশ করেন। পরিবর্তে পাকিস্তানে জামেয়া ফারুকীয়া থেকে মাওলানা সালিমুল্লাহ খান এর কাছে হাদীসের দ্বীতিয়বার সনদ লাভ করেন। মারকাযুল ইসলামী থেকে দুই বছর ইফতা পড়েন। তার ইফতার ওস্তাদগন ছিলেন, হযরত মুফতি দেলাওয়ার হোসেন সাহেব, হযরত মুফতি হিফজুর রহমান সাহেব, হযরত মুফতি মুইন সাহেব, হযরত রুহুল আমিন সাহেব দা.বা.। তারা এখনো জীবিত আছেন।

পাকিস্তানের ওলীয়ে কামেল হাকীম আখতার রহ এর সাথে তার সুগভীর ইসলাহি তায়াল্লুক ছিল। বর্তমানে মাওলানা তারিক জামিল দা.বা এর একান্ত কাছের একজন হিসাবেই জগতজুড়ে পরিচিত।

আমি তখন ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর দ্বায়িত্বশীল। শায়েখ পরিবার ও মামুন ভাইদের সাথে সুগভীর সম্পর্ক। তখন শুনতাম মুফতি মনসুরুল হক সাহেব তার হাওয়ারিনদের প্ররোচনায় শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ এর মতো মহান বুজুর্গের সাথে চরম বেয়াদবী ও শায়েখকে রাহমানীয়া থেকে বের করে দিয়ে মাদরাসা দখলের কাহিনী। শায়খুল হাদীস নাকি উনার হাদীসের সনদও কেটে দিয়েছিলেন। তারপর রাহমানীয়া উদ্ধার। এরপর জামেয়া রাহমানীয়ার কত কাহিনী সবইতো আমাদের জানা। সে সব বলল লেখা দীর্ঘ হবে। অনেক ব্যাথা আর কান্নার কাহিনী। অনেক দীর্ঘস্বাস আর কষ্টের ইতিহাস।

====================

ভেবেছিলাম এই বয়েসে হাওয়ারিনদের পাল্লায় পরে অসত্য বলার অভ্যাস থেকে তিনি বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু হতাশ হলাম…

মুফতি মনসুরুল হক সাহেবের এই ভুল বয়ানকে একটি কুচক্রি মহল, দ্বীন ধ্বংসকারী দল, গত কয়েকদিন ধরে ইউটেব, ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রচার করে মানুষকে বিব্রন্ত করছে। তখন উসামা ভাই মনসুর সাহেবকে ফোন করেন। নিচে তাদের ফোনালাপ তুলে ধরা হল..

মুফতি উসামা: হুজুর আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই?

মুফতি মনসুরুল হক: এখন দেখা করে কি হবে?তখন আমি বলি: আমি ব্যক্তিগত কিছু কথাবার্তার জন্য আপনার সাথে দেখা করতে চাই? উনি দেখা করতে অপারগতা জানান! তখন আমি ওনাকে বলি হুজুর!তাহলে আমি আপনাকে ফোনেই বলি! উনি বলেন :ঠিক আছে।

মুফতি উসামা: আপনি একটি বয়ানের মধ্যে আমার বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন!! যে আমি ইফতা পড়িনি! অথচ হুজুর আমি আল-মারকাযুল ইসলামী থেকে দুই বছর ইফতা পড়ে جيد جدا মানে পাস করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছি। এবং আমার কাছে সার্টিফিকেট আছে! আমি যখন ইফতা করেছি, আমার ওস্তাদগন ছিলেন, হযরত মুফতি দেলাওয়ার হোসেন সাহেব,হযরত মুফতি হিফজুর রহমান সাহেব,হযরত মুফতি মুইন সাহেব,হযরত রুহুল আমিন সাহেব এবং আমি আরো বলি, দাওরায়ে হাদিস আমি ফেল করিনি জামেয়া রাহমানীয়া (শায়খুল হাদীস সাহেবের) মাদ্রাসা থেকে جيد মানে দাওরায়ে হাদিস পাশ করে বের হই।

মুফতি মনসুরুল হক :তাহলে পত্রিকায় এরকম ফতোয়া কেন দিলে?

মুফতি উসামা: পত্রিকায় আমি দেইনি। আমার বয়ানের কিছু অংশ নিয়ে আরেক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত কিছু মতামত তার মধ্যে দিয়ে সেটা আমার নামে পত্রিকায় ছাপিয়ে দেয়। এবং পরবর্তীতে পত্রিকার পক্ষ থেকে সেই লেখার সংশোধনী আসে!!!

মুফতি মনসুরুল হক: তোমার ছবি তো দেওয়া ছিল?

মুফতি উসামা: হুজুর! এটাতো আপনার নামেও আপনার ছবি দিয়েও যে কেউ চালিয়ে দিতে পারে!! তখন হুজুর আর কিছু বলেননি,

মুফতি উসামা: হুজুর আপনার সাথে তো আমার সম্পর্ক আছে! আমার মোবাইল নাম্বার আপনার কাছে আছে। আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন? আপনি এত বড় কথা এত বড় মজমায় বয়ানের মধ্যে বলে দিলেন!!! তাহকীক না করে? যাচাই-বাছাই না করে? আপনার কথা তো সব জায়গায় এখন চলতেছে!! আপনি কিভাবে যাচাই-বাছাই না করে এত বড় কথা বলে দিলেন?? অথচ আল্লাহ রসুলের হাদিস আছে كفى بالمرء كذبا أن يحدث بكل ما سمع কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট, যে, সে যাহা শুনে তাই বলে!!!

মুফতি মনসুরুল হক: ঠিক আছে এরপরের থেকে তোমার ব্যাপারে কিছু শুনলে আমি তোমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে নেব। যদি কষ্ট পেয়ে থাকো আমাকে মাফ করে দিও!!!

মুফতি উসামা: আপনি আমার অনেক বড় আপনি আমার কাছে মাফ চাবেন কেনো? এটা তো আমার জন্য সৌভাগ্য যে আপনার মূল্যবান বয়ানের মধ্যে আপনি আমার বিষয় পাচ মিনিট আলোচনা করেছেন!

(মুফতি উসামার দাওরায়ে হাদীস ও ইফতা সহ সকল সনদ দেয়া হল)

FB_IMG_1528219153561.jpgFB_IMG_1528219156648.jpgFB_IMG_1528219159835.jpgFB_IMG_1528219163341.jpgFB_IMG_1528219167952.jpgFB_IMG_1528219171125.jpg

উনি (মুফতি মুনসুরুল হক) কি এখন রুজু করবেন?

অথচ এই সব কথা গুলো ডাহা মিথ্যা। মুফতি উসামা এই বিষয়ে তার পেইজে সব ক্লিয়ার করেছেন। কোথায় পড়েছেন, কে কে উস্তাদ ছিলেন, পরিক্ষায় পাশের মান কেমন, সার্টিফিকেট এই সব বিষয় পরিষ্কার করেছেন।

(মুফতি উসামা ইসলাম এর ভেরিফাইড ফেসবুক হোম পেজ)

20180606_115205.pngScreenshot_20180606-115106.png

যাই হোক মুফতি মনসুরুল হকের মত এলিট আলেম লোকের দারা মুসলিম সমাজ এটা আশা করে না। যিনি নিজামুদ্দীনের জামাত সম্পর্কে একই মুখে পরস্পর বিরোধী কথা বলেছেন। একবার বলতেছেন, আমির ছাড়া শূরা কল্পনাও করা যায় না। আরেক বার বলতেছেন একক আমির হল কমিউনিজম।

উনার এইসব কথার মাধ্যমে উম্মতকে উনি কি মেসেজ দিচ্ছেন?? কি তার উদ্দ্যেশ্য???

এখন কি আমরা তাকে এই সকল বিষয়ে রুজু করতে বলতে পারি?? নাকি সেই প্রশ্ন তুললে আবার আমাদেরকে ফতোয়ার কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দালাল থেকে শুরু করে অমুসলিম বানিয়ে দিবেন?????

আল্লাহ সবাইকে সুমতি দান করুন। জাতীকে সকল বিভ্রান্ত ও মিথ্যাচার থেকে হেফাজত করুন। দয়াময় মুফতি উসামা ভাইকে আপনি নেক হায়াত দান করুন এবং আমাদের মেহনতকে কবুল করুন। আমিন।

Advertisements

One thought on “একজন মুফতি মুনসুরুল হকের মিথ্যাচার ও আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা।

  1. আমাদের কওমী মাদ্রাসায় যে বেফাক পরীক্ষার উপযুক্ত না হয় , তাকে উলামারা আলেম বলেন না।আর উসামার তো শরম নাই, সে বেফাকের পরীক্ষা দিতে পারে নাই, আবার মাদ্রাসার সনদ প্রকাশ করে ।

Leave a Reply