ওয়ার্ল্ড তাবলীগ আমীরের ভূপাল এস্তেমার হেদায়েতি বয়ান।

ভুপাল ইজতেমায় হেদায়তি বয়ানে, তাবলীগ জামাতের বিশ্বের প্রধান আমির শায়খুল ইসলাম,
শায়খুদ্দা’য়ী মাওলানা সা’দ কান্দালভি হাফিঃ যা বললেন…………..আমাদের আত্মার খোরাক হবে ইনশাল্লাহ।

আমাদের আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাতকে, যিয়ারতকে ইবাদত মনে করা উচিত। কারণ আলেমদের মজলিসে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় বিষয় মনে করা জরুরি। কারণ মাসআলা-মাসাঈল আলেমদের কাছ থেকেই শিখতে হবে।

আমাদের গাশত, বয়ান, মোলাকাতসহ সব কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো, উম্মতকে ইলমের প্রতি আকৃষ্ট করা। সাধারণ মানুষকে আলেমদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। নিজের সন্তানাদিকে এ উদ্দেশ্যেই মাদরাসায় ভর্তি করাতে হবে যে, ইলমের তালিম মাদরাসাতেই হয়। মাদরাসার এই শিক্ষাই হলো ইলম। দুনিয়ার বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বড় মনে করে এগুলো পড়ানো এটা মূর্খতা ছাড়া আর কী?

দ্বীনী ইলমই দুনিয়া আখেরাতের সফলতার মাপকাঠী। এজন্য আমি খুব তাকিদের সঙ্গে আপনাদের বলছি, সন্তানদের মাদরাসাতেই ভর্তি করান, দুনিয়াবি জ্ঞানকে ইলম মনে করা জাহালত। এই ইলম অর্জন করতে হবে আলেমদের মজলিস থেকে। কারণ শুধু কিতাব পড়ে জীবন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এটি সাহাবাদের তরীকাও না। কারণ সাহাবাগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়াসাল্লামের সুহবতে ইলম অর্জন করেছেন। তাই আমরা ইলম শিখতে আলেমদের কাছ থেকে। আর তরবিয়্যাত অর্জন করবো আহলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহওয়ালাদের সান্নিধ্য থেকে।

আহলুল্লাহদের সান্নিধ্য থেকে যে ইলম হাসিল করা হয় সেটি উপকারী ইলম। এ দুটি জিনিসই আমাদের পাথেয়। এ ছাড়া যে ইলম হাসিল করা হয় তা আমলের জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য আলেমদের সঙ্গে বেশী বেশী সম্পর্ক রেখে চলা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ইলমের মজলিস ও আলেমদের ছোট মনে করা সবচেয়ে বড় ফিতনা ও জাহালত, এটি বড়ই মাহরুমীর কথা। মসজিদগুলোতে কুরআন শিক্ষার যে মজলিস হয় এটি আল্লাহর অনেক বড় রহমত। এগুলোর মাধ্যমে উম্মতের অনেক ফায়দা হচ্ছে। এগুলোকে ছোট মনে করা অথবা এগুলোর উপকারিতাকে ছোট করে দেখা, বড়ই মূর্খতা। আপনারা এ মজলিসগুলোর ইহতেমাম করুন। সবসময় উলামায়ে হক্কানীর অনুসরণই আমাদের করতে হবে। এ কথা খুব ভালোভাবে ইয়াদ রাখুন যে, আমরা ভিন্ন কোনো জামাত নই। আামাদের মেহনত নতুন কোনো মেহনতও নয়। আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত।

আমাদের সকলের রাহবারী এবং আমরা যে থে পরিচালিত হবো, ইলমি ফায়দা অর্জন, দীনি ও দুনিয়াবি সব বিষয়ে আমাদের আদর্শ, এই মাদরাসাগুলোই। বিশেষ করে ইউপিতে আল্লাহ যে প্রতিষ্ঠানকে মারকাজী অবস্থান দিয়েছেন, এটিই আমাদের মারকায। মাসআলা মাসায়েলের ক্ষেত্রে আমরা তাদের উপরই নির্ভর করবো। দেওবন্দ ও আহলে দেওবন্দই আমাদের কেন্দ্রস্থল। তাদের মাসলাকই আমাদের মাসলাক। দীনি অথবা দুনিয়াবি সামান্য কোনো বিষয়ে অতীতে না আমরা তাদের ভিন্ন অন্য কিছু চিন্তা করেছি না ভবিষ্যতে এরকম করার কোনো অবকাশ আছে। আমাদের এ মেহনত তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকাতেই পরিচালিত হবে। কিন্তু মাসআলা ও আকিদার ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দই আমাদের মারকায। তাবলীগের সাথীদের ভিন্ন কোনো মত কায়েম করাটাই বড় গোমরাহী ও জাহালত। বরং এটি অসংখ্য ফিতনার কারণ। এ কথাটি দীলে ভালোভাবে গেঁথে রাখুন। কখনো আলেমদের ব্যাপারে খারাপ চিন্তা আনা যাবে না। কারণ জীবনের সব ক্ষেত্রেই আমরা আলেম ওলামা ও এই মাদরাসাগুলোর মুখাপেক্ষী।মাদরাসা আমাদের দ্বীনের প্রধান বুনিয়াদ মারকাজ বা ভিত্তি। এই মারকাজি প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন কোনো মাসলাকের ব্যাপারে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।

এই জন্যই হযরত ইলিয়াস রহ. বলেন, ব্যক্তিগত অথবা সামষ্টিক যে কোনো প্রয়োজনে আমাদের মারকাজ ও আশ্রয়স্থল এই দারুল উলূম দেওবন্দই। আমি খুব তাকিদের সঙ্গে এ কথাটি আপনাদের বলছি, কেননা মুসলমানদের ইত্তেহাদের সময় শয়তান মনে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে। মুসলমানদের মনে আলেমদের ভক্তি নষ্ট করার জন্য শয়তান সদা তৎপর। যদ্বারা আলেমদের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ ভাব চলে আসে। আলেম থেকে বিচ্ছিন্ন হলেই আপনি নানা ফেৎনা ও জেহালতি জড়িয়ে পড়বেন। শয়তান আপনাকে নানাভাবে প্রররুচিত করবে নেক ছুরতে। দ্বীনের নামে বদ্বদ্বীনে আপনি চলতে থাকবেন। তাই আলেমদের অনুসরন করে আমাদের এই কাজ করতে হবে।

এ জন্যই ইলিয়াস রহ. বলতেন, তাবলীগ এটি আলাদা কোনো জামাত নয়। কারণ জামাত তো বলে, যাদের আলাদা কোনো নিজস্ব লক্ষ্য ও কর্মসূচি আছে। তাবলীগের কাজ তো উম্মতের সবার। কে কোন তরীকায় করছে সেটি ভিন্ন কথা। আমার তরীকাতেই কাজ করতে হবে এমন ধারণা ভুল। দাওয়াতের মেহনত উম্মতের সকলের, উলামাগণ নিজস্ব তরীকায়, মুফাসসিরীন তাদের তরীকায় কাজ করছে। এভাবে প্রত্যেকেই নিজেরা দ্বীনের কাজে লেগে আছে। অবশ্য একথাটিও স্মরণ রাখা যায় যে, চেষ্টাফিকিরের মাধ্যমে উম্মতকে দ্বীনের সঙ্গে জোড়ানো, সাধারণমানুষদের আলেমদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণতরুণীদের দ্বীনী ইলমের সঙ্গে যুক্ত করা যে কোনো মেহনতকারীর মৌলিক দায়িত্ব।

আপনাদের কাছে আমার আরজ এই যে, একথা গুলো খুব ভালোভাবে অনুধাবন করুন, আল্লাহ যদি তাওফিক দান করে, এখানে যারা আসতে পারেনি তাদের কাছের এ কথাগুলো পৌঁছে দেবেন।

আমি আবারও বলছি, দ্বীনের কাজ বিভিন্নভাবে চলছে, কোথাও তাফসীর হচ্ছে, কোথাও হাদীসের দরস হচ্ছে, কোথাও সিয়াসতির মাধ্যমে বা জিহাদ করে হচ্ছে। এভাবে বিভিন্নভাবে দ্বীনের কাজ চলছে। এগুলোর ব্যাপারে কোনো বিরূপ ধারণা পোষণ করা ঠিক নয়।

সবার উদ্দেশ্যেই ইলম। অবশ্য সব দ্বীনী কাজে অংশগ্রহণ করতে এ বিষয়টি খেয়াল করতে হবে যে, এ হালকাটি যেনো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত এবং মাসলাকে দেওবন্দের হয়। তাহকীক ছাড়া যে কোনো মজলিসে বসা যাবে না। কারণ আপনি বাজার থেকে কোনো কিছু ক্রয় করতেও দেখেশোনে ক্রয় করেন। সামান্য একটি জিনিস কিনতে কত কিছু জিজ্ঞেস করেন। তাহলে দ্বীনের ব্যাপারে কি আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত নয়?

এ দ্বীনী বিষয়গুলোই পুরো জীবনের সফলতার মূল উৎস ও মাপকাঠী। এ জন্য আমরা বিশুদ্ধ তরীকায় ইলম হাসিল করবো ইনশাআল্লাহ। অনেকে বিভিন্ন মসজিদে গাশত এবং কুরআন শিক্ষা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এটা কীভাবে ঠিক হতে পারে? মূলত গাশতের উদ্দেশ্যই হলো, মানুষকে কুরআনমুখী করা।

শয়তানের বড় এক ফেতনা হলো, উম্মতকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে দেওয়া। এটা অমুক গ্রুপ, ওটা এদের, এইটা তাদের, এভাবে বিভক্ত করে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখে। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

মসজিদগুলোতে কুরআনের মজলিস হওয়া বড়ই খুশির কথা। যতক্ষণ পর্যন্ত মসজিদে মাদরাসার মতো ইলমি কাজ শুরু না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত উম্মতের মধ্যে আমভাবে ইলমের ঘ্রাণ ছড়াবে না। তাই মসজিদগুলোতে এবিষয়টির খুব খেয়াল রাখা জরুরি।

[২৭ নভেম্বর ২০১৬ ভূপাল ইজতেমার হিদায়েতি বয়ান]Photo Editor-20180524_201329.jpg
শ্রুতিলিখন : তানজিল আমির

হে আল্লাহ, উম্মাহর এই মহান রাহবারকে হকের উপর চলার এবং এই কথাগুলোর উপর সবাইকে আমল করে চলার তৌফিক দান করুন।

Advertisements

2 thoughts on “ওয়ার্ল্ড তাবলীগ আমীরের ভূপাল এস্তেমার হেদায়েতি বয়ান।

  1. এত ভালো ভালো আলেম ছেড়ে দেউবন্দীর কথা কেনো বলছেন ওরা ভন্ড

Leave a Reply