দেওবন্দের সাম্প্রতিক অজাহাত নামা এবং কিছু মুড়ির ঠোঙার গল্প।

www.banglatruenews24.com
উলামা আস-সু

লেখক : শামীম হামিদী।

দেওবন্দের সাম্প্রতিক অজাহাত নামা এবং কিছু মুড়ির ঠোঙার গল্প।

এবার লিফলেটবাজি নয়, ফতোয়াবাজি। গত সপ্তাহে দেওবন্দ থেকে নতুন অজাহাত নামা ইস্যু করা হয়েছে। যথারীতি কাজ্জাব বাহিনী হামলে পড়েছে। এই অজাহাত নামা বিকৃত অনুবাদ এবং ভুল ব্যাখ্যা করে মিথ্যাচার অব্যহত রেখেছে।

নতুন অজাহাত নামায় তিনটি বক্তব্য রয়েছে। একটি বক্তব্যে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন, তাঁদের মধ্যে কোন মতভেদ নেই। বরং তাঁরা সবাই পুরাপুরি একমত রয়েছেন। আরেকটি বক্তব্যে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে তাঁরা আগের বক্তব্যের উপরে সকলে অবিচল রয়েছেন। তৃতীয় একটি বক্তব্যে তাঁরা স্বীকার করেছেন তাবলীগের মেহনতের সাথে তাঁদের কোন মতভেদ নেই এবং বর্তমানে যে কিঞ্চিৎ অস্থিরতা চলছে একে তাঁরা আভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই মনে করেন এবং এ ব্যাপারে তাঁদের কোনই মাথাব্যথা নেই।

এবার আমরা দেখে নিই তাঁদের আগের বক্তব্য কি ছিল?

গত সপ্তাহে দেওবন্দের মুফতীয়ে আযম আল্লামা হাবিবুর রহমান খায়রাবাদী দামাত বারকাতুহুম কোন এক মাদ্রাসার খতমে বুখারীর মজলিসে বলেছেন, দেওবন্দ যে বক্তব্য মাওলানা সাদ সাহেব দামাত বারকাতুহু-এর ব্যাপারে দেয়া হয়েছিল সেটা ফতোয়া আকারে ছিল না। সেটা ছিল একটা সতর্কতামূলক নির্দেশনা।

বর্তমান অজাহাত নামা অনুসারে দেওবন্দের সকল উস্তাদগণই এই ব্যাপারে একমত যে এটা কোন ফতোয়া নয়, বরং সতর্কতা। অর্থাৎ দেওবন্দ সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করলেন যে মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে কখনোই কোন ফতোয়া দেয়াই হয় নি।

এরও কিছুদিন আগে আল্লামা নি’মাতুল্লাহ আজমি দামাত বারকাতুহুম বলেছিলেন, গত জানুয়ারির ওজাহাত নামা থেকেই এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দেওবন্দ মাওলানা সাদ সাহেবের রুজু কবুল করে নিয়েছেন। এবং পরবর্তী বক্তব্য শুধুই ব্যক্তিগত আশঙ্কা এবং সতর্কতা। এরপর তিনি বাংলাদেশের উলামা কেরামদের আচরণের উপরে হতাশা ব্যক্ত করেন। বর্তমান ওজাহাত নামা অনুসারে, দেওবন্দ এই বক্তব্যের ব্যাপারেও সবাই একমত। অর্থাৎ দেওবন্দ সর্বসম্মতিক্রমে রুজু কবুল করেছেন এবং বাংলাদেশের আলেমদের আচরণে অসন্তুষ্ট ও হতাশ।

আরও বেশ কিছুদিন আগে আল্লামা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দামাত বারকাতুহুম মাওলানা সাদ সাহেবকে বলেছিলেন যে আপনিই আমীর। বর্তমান ওজাহাত নামা অনুসারে এটা শুধু সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানীর বক্তব্য নয় বরং দেওবন্দের সর্বসম্মত বক্তব্য। অর্থাৎ দেওবন্দের সর্বশেষ ওজাহাত নামা অনুসারে দেওবন্দের সর্বসম্মত মত হচ্ছে সাদ সাহেবই আমীর।

উল্লেখ্য এই তিনও হযরতের দস্তখত রয়েছে এই ওজাহাত নামাতে।

এবার শেষ অংশ। দেওবন্দ বর্তমান অস্থিরতা তাবলীগের আভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করেন। এবং এই ব্যাপারে তাঁদের কোনই মাথা ব্যথা নেই। অর্থাৎ নিজামুদ্দিন মারকাজ, মারকাজের এতায়াত, মাওলানা সাদ সাহেবের আমীর নির্বাচন ও আমীর হিসাবে সাথীদের মাওলানা সাদ সাহেবকে অনুরসণ এগুলোর ব্যাপারে দেওবন্দের সামান্যতম মাথাব্যথাও নেই। দেওবন্দ উপমহাদেশে ইসলামের রাহবার ও অভিভাবক। উপমহাদেশে তাঁরাই ইলমে মাদারী। দ্বীনের ব্যাপারে কোথাও সামান্য বিচ্যুতি হলেই সেখানে তাঁদের মাথা ব্যথা থাকার কথা। তাহলে নিজামুদ্দিন বা মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে তাঁদের মাথাব্যথা থাকবে না কেন? কারণ খুবই পরিষ্কার। এইসব ব্যাপারে দ্বীনের নুন্যতম বিচ্যুতিও হয় নি।

তাহলে কিছুদিন আগে নিজামুদ্দিনের এতায়াত ‘স্থানপুজা’ এবং সাদ সাহেবের এতায়াত ‘ব্যক্তিপুজা’ আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ থেকে কিছু মুফতি সাহেব নিজামুদ্দিন ও সাদ সাহেবের এতায়াত হারাম বলে ফতোয়া দিলেন সেগুলোর কি হবে? আমি এর আগে এক পোস্টে বলেছিলাম এগুলো তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত হিসাবে শ্রদ্ধা করা যেতে পারে। কিন্তু দেওবন্দের বর্তমান ওজাহাত নামা অনুসারে এই সব ফতোয়াগুলোর সাথে দ্বীনের নুন্যতম সম্পর্কও নেই। দেওবন্দের সর্বশেষ ওজাহাত নামা অনুসারে এগুলোর মুল্য এখন শুধুই একটা কাগজের টুকরা। এখন এই টুকরা কাগজ গুলোর ভবিষ্যৎ কি হবে? ফেলে তো দেয়া যাবে না। অপচয় করা হারাম। না না, এটা কোন মুফতী সাহেবের ফতোয়া নয়। এটা স্বয়ং আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ফতোয়া। অপচয়কারী শয়তানের ভাই। তাই আমার রায় হচ্ছে, আমাদের অনেক গরীব সাথী আছেন যারা ঝাল মুড়ির ব্যবসা করেন। এই কাগজ গুলি তাঁদের দিয়ে দেয়া যেতে পারে। তাঁরা এগুলো মুড়ির ঠোঙা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

আমি ওই সকল ফতোয়া গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। ওগুলো কি আসলেই ওই সকল সম্মানিত মুফতী সাহেবানদের দেয়া ফতোয়া, নাকি কেউ তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে কোন গেম খেলতে চেয়েছে। যেই করে থাকুক, দেওবন্দের সর্বশেষ অজাহাত নামা অনুসারে, এই সকল ফতোয়া উৎপাদন ও বিপননের সাথে যারাই জড়িত হবেন তাঁরা মুড়ির ঠোঙার ব্যাপারী হিসাবে বিবেচিত হবেন।

Advertisements

Leave a Reply