আলেম বনাম তাবলীগ; কয়েকটি প্রশ্ন ও অপ্রিয় উত্তরঃ

www.banglatruenews24.com
উলামা আস-সু

লেখকঃ আব্দুল বাকী আরজান।

কিছু বাস্তবতা যা আমরা সবাই জানি !! কিন্তু বলার বা বুঝার কেউ নাই, সব দোষ নাকি হযরতজী মাওঃ সাদ সাহেবের।😰😰😰 তাহলে এতো গুলি গুণ কাদের!!!


আলেম বনাম তাবলীগ; কয়েকটি প্রশ্ন ও অপ্রিয় উত্তরঃ

প্রশ্নঃ প্রথাগত আলেমদের চেয়ে কি গাইরে আলেমরা তাবলীগ বেশি বুঝে? নইলে তারা এই সমস্ত আলেমদের কথা মেনে নিচ্ছে না কেন?

উত্তরঃ আসলে এখানে কমবেশির কোন ব্যপার নাই। বরং নিঃসংকোচে আপনি বলতে পারেন ” এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা তাবলীগের ‘ত’ও বুঝে না”।

প্রশ্নঃ বলেন কি? তাহলে এত বছর মাদরাসায় পইড়া তারা কী শিখেছেন?

উত্তরঃ কী শিখেছেন সেটার তালিকা হয়তো অনেক বড়। তবে তাদের না শেখা ছোট তালিকার কয়েকটি লাইন হলোঃ
তারা ‘আখলাক’ শিখেন নি। অথচ যার ‘আখলাক’ নাই তার কিছুই নাই।
তারা ‘সবর’ শিখেন নি। অথচ ‘সবর’ হলো শত্রুর মোকাবেলায় শক্তিশালী ঢাল।
তারা ‘একতা’ শিখেন নি। তাই প্রতি বছরই মুহতামিমদের টানাপোড়ণে নতুন নতুন মাদ্রাসার প্রজনন হচ্ছে। আর ইসলামী দলগুলি ভেঙ্গে ভেঙ্গে নতুন নতুন দলের প্রজনন হচ্ছে।
অথচ ঐক্য ছাড়া আল্লাহর মদদ ও নুসরত অসম্ভব।
অথচ দেখুন, ৯৮ বছর তাবলীগ চলে আসছে ‘আখলাক’ দ্বারা। অথচ এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা তাবলীগ দখল করতে চাইছে ফতুয়া ও গালাগালি দ্বারা।
তাবলীগিরা এযাবৎ সকল বিরোধিতার মোকাবেলা করেছে ‘সবর’ দ্বারা। অথচ এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা নিজেদের দাবী চাপিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার ছাত্র ভাড়া করে সহিংস কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
প্রায় ১ শতাব্দীকাল ধরে টুকরো টুকরো দলমতকে একতার বন্ধণে বেঁধে এক উম্মত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছিলো। আর তখনি এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা একের পর এক ফতুয়া মেরে উম্মতকে আবারো খণ্ড-বিখণ্ড করার অপচেষ্টা শুরু করা হয়েছে।

এই সবগুলো সমস্যা নিয়ে যদি একটু ভাবেন তাহলে সুস্পষ্ট বুঝতে পারবেন যে, আসলে এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা ১০-১৫ বছর মাদরাসায় কাটালেও তারা দ্বীন ও দ্বীনের মেযাজ শিখে নাই। শিখতে পারে নাই।

প্রশ্নঃ কেন? যে শিক্ষা একজন সাধারণ মানুষ ৪ মাসে শিখে ফেলছে সেখানে এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা এটা ১৫ বছরেও শিখতে পারছে না কেন?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর “তাফসীরে উসমানী”তে সুন্দরভাবে দেওয়া আছে।
সুরা আনকাবূতের শেষ আয়াতের তাফসীরে লেখা হয়েছে “যারা দ্বীনের জন্য মেহনত করবে তাদের সামনে আল্লাহ তা’আলা দ্বীনের এমন কিছু জিনিস খুলবেন যা আর কেউ বুঝবে না”।
এখানেও তাই ঘটেছে।

সর্বশেষ প্রশ্নঃ এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরাও কিছুনা কিছু মুজাহাদা তো করছেন। ‘কওমী মাদরাসার ডাল’ তো মুজাহাদার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

উত্তরঃ হ্যাঁ। তারাও কষ্ট করেন এটা সত্য। কিন্তু উক্ত আয়াত বলছে “যারা আমার (আল্লাহর) জন্য মুজাহাদা করবে…..। অথচ তাদের মুজাহাদা হয়ে থাকে ‘ভালো আলেম হয়ে একটি ভালো বেতনের চাকুরীর জন্য’। আল্লাহর জন্য নয়। সাহাবাদের জিন্দেগী থেকে যদি মুজাহাদার উদাহরণ খুঁজি তাহলে দেখা যাবে তারা নিজের জান-মাল কুরবানীর মাধ্যমে মুজাহাদা করেছেন।

পক্ষান্তরে এই আলেমরা মাদরাসা থেকে পাশ করার পর জান-মাল কুরবানীর পরিবর্তে জান-মাল কামানোর ধান্দায় মালকোঁচা দিয়ে নামেন। মুহতামিমের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা, শাইখুল হাদীসের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা (সপ্তাহে ৩দিন), সুরেলা বক্তার হেলিকপ্টার ও অন্যান্য খরচ বাদে ২ ঘন্টার সর্বনিম্ন রেট ৫০ হাজার টাকা।
সকল সমীকরণ মিলিয়ে আপনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য হবেন যে, এই সমস্ত প্রথাগত আলেমরা যতটুকু কোরবানী ও মুজাহাদা করেন সেটা নিছক বিনিয়োগ মাত্র। উদ্দেশ্য থাকে, খালি কোনমতে পাশটা করতে পারলেই সুদে-আসলে সব উসূল করে ছাড়বো।
তাই বলা যায়, তাদের অধিকাংশই কখনো আল্লাহর জন্য মুজাহাদা করেন না। তবে যারা ছাত্রজীবন থেকেই আল্লাহ জন্য জান-মাল কুরবানী দিয়ে আসছেন কিংবা ইখলাসের সাথে কুরবানীর নিয়ত করে নিজেদেরকে গড়ে তুলেছেন তারাই বর্তমানে এই পৃথিবীতে নায়েবে নবী ও ওয়ারিছে নবীর প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাঁরাই ওলামেই হাক্ক।
তাই আসুন, আলেম দেখলেই লাফ মেরে তোয়াজ শুরু না করে দেই। বরং তাহকীক করে দেখি, তিনি কি রক্ষক আলেম নাকি ভক্ষক?

তোমরা ঐসমস্ত লোকের কথা শুন যারা বিনিময় নেয়না। 💵
এই কথাটা কোন মাহফিলে শুনা যায়না। কারন……😜😜
👌
আর””?
এখন হেতেরাই বলে বেড়াইতেছে যে””?
হজরত ইলিয়াস রহঃ দেওবন্দের আলেম ছিলেন,,
তাই এ’ দাওয়াতের কাজ আলেমরাই চালাবে”!😇😇😇

Advertisements

Leave a Reply