“রুজু” নামের বান! ইবলিশ ও তার চেলাদের কথোপকথন!

লেখক : মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।

ইবলিশ শয়তানের নিয়মিত কাজের তদারকিতে ধরা পরলো যে, যাদের কে তাবলীগের বেঘাত ঘটানোর জন্য এবং তাবলীগেরর মেহনত বন্ধ করার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং মানুষ জন যাহাতে তাবলীগে বের না হইতে পারে এইজন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করার দায়িত্ব যাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তারা নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে! শয়তান তো দেখে রেগে ফায়ার।

ইবলিশ শয়তান গর্জে উঠে বলল, কি বোকার দল আহাম্মক, তোরা দায়িত্ব পালন না করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিস? তাহলে তোদের দায়িত্ব কে পালন করবে? কে তাবলীগের মধ্যে ফেৎনা ছড়াবে? কে তাবলীগের মুরুব্বিদের নামে কুৎসা রটাবে? কে মানুষকে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া থেকে বিরত রাখবে?

তখন ইবলিশের চেলারা বলল, লিডার আপনি যেই প্রশ্নগুলা করেছেন তার উত্তর শুনলে আপনিও নিশ্চিন্তে নাক ডেকে ঘুম যাবেন!!

ইবলিশ বলল, তাহলে বলো তোমাদের নাক ডেকে ঘুমানোর রহস্য :

ইবলিশের চেলা বলল, লিডার আমরা আজ একশ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম যে কি ভাবে তাবলীগের মেহনত টাকে বন্ধ করা যায়, কারন এই তাবলীগের কারনেই মানুষ পাপের জিন্দেগী ছেড়ে  হক্বের উপর চলে, সুন্নাতের আমলের জিন্দেগী ঘঠন করে। আমাদের সব মিশন ফেল করে, আমরা আবার বিভিন্ন পন্থা আবিষ্কার করি।
যেমন -: তখনকার কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাদের পিছে লাগিয়ে দেই, এতে কোন কাম হল না, তাবলীগ স্রোতের মত চলতেছিল। তারপর কিছু লোককে বেদাতী গোমড়াহ বানিয়ে তাদের পিছে লেলিয়ে দেই, তারপর এই বেদাতিরা তাদের বিবি- মেয়েদের নিয়ে অনেক কুৎসা রটায়, আজে বাজে মন্তব্য করে, তারপরও তাবলীগ ওয়ালারা মেহনত করতেই চলল, তারপর কিছু বেদাতি ঠিক করলাম তাদেরকে মেরে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য, এই বলে যে এরা নবীর দুশমন এরা মসজিদে ঘুমাইলে মসজিদ নাপাক হয়ে যায়, ঠিক সেটাই করছিল তারা, কিন্তু হইতে লাগলো হিতে বিপরীত! তাবলীগ ওয়ালাদের সবর এবং দোয়ার কারনে উল্টা বেদাতি গুলা দ্বীনদার হয়ে যেতে লাগলো, মসজিদ গুলা তাবলীগের মার্কাজে পরিনত হইতে লাগলো, বেদাত ছেড়ে সুন্নাতের উপর চলতে শুরু করলো।

ইবলীস বলল আসল ঘটনা তারাতারি বল।
বলছি, বলছি, ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন একটা গ্রুফ আবিষ্কার করলাম, সেটা হল লা-মাজহাবির দল, তাদেরকে দিয়ে তাবলীগের সব কাজকে নাজায়েয, হারাম করার করার কৌশল করলাম, লা- মাজহাবিরাও শুরু করে দিল তাদের সব কাজকে হারাম করার কৌশল, তাবলীগের সব কাজগুলাকে কোরান হাদীসে নাই বলে তারা ওয়াজ- সেমিনারে প্রচার করতে শুরু করলো। কিন্তু না কাজ হল না। বরং লা-মাজহাবির মুরিদগুলাও তাবলীগের মেহনতে শামিল হয়ে গেল। তারপর জামাতে ইসলামী দল ঘঠন করে তাবলীগের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিলাম, উল্টা ঐ ইসলামী দলটা বিলুপ্ত হতে লাগলো। এর পর মুশফিক সাহেবকে তাবলীগ থেকে বের করে তাদের একটা গ্রুফ বানিয়ে তাবলীগি সেজে তাবলীগের মুরুব্বিদের নামে অপপ্রচার করাইলাম, সেখানেও ব্যর্থ! তারপর কিছু পীর মুরিদদের কে তাবলীগের বিরুদ্ধে উসকিয়ে দিলাম, বিভিন্ন রকমের কুট- কৌশল পীর মুরিদ দিয়ে চালাইতে লাগলাম সেখানেও ব্যর্থ হলাম, উল্টা পীর মুরিদ গুলাই কোনঠাসা হয়ে পড়ে। তারপর শেষ চালটা চেলে দিলাম।

-: ইবলিশ বলল,শেষ চালটা কি?
-: রুজু..
-: ইবলীস, রুজু!! এইটা আবার কি? এইটা আবার কোন শয়তান জন্ম নিল?
-: না লিডার, এইটা নতুন শয়তান না, রুজু হল আমাদেরই নতুন একটা কৌশল আবিষ্কার, লোহা কাটতে হলে যেমন লোহা লাগে, তেমনই হক্বকে বন্ধ করতে হলে আরেকটা হক্ব লাগে, আর সেই হক্বটা হল আলেম ওলামা গন। আলেমের ফিকিরেই তাবলীগের মেহনত শুরু হয়, আবার আলেমদের দিয়েই এই মেহনত বন্ধ করাবো। এই আলেমগনদেরকে অনেক চেষ্টা করেও তাবলীগের বিরুদ্ধে আনতে পারিনাই। তো ইস্যু বানাইলাম মাওঃ সা’দ সাহেবকে, আর গুটি বানাইলাম “রুজু”” সব আলেমদের মাথায় ডেলে দিলাম রুজু, ব্যাস শুরু হয়ে গেল এই মহতি মোবারক মেহনেতর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, প্রতিবাদ, হিংসা। আলেমরাই আজ ওয়াজে ফেসবুকে, ইন্টারনেটে তাবলীগ বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে, রাজপথ অবরোধ করছে, মারকাজ ঘেরাও করছে, বিভিন্ন রকমে হক্বের সুরুতে মিটিং করে তাবলীগের বিরোধীতা করছে। আর কিছু আলেমকে লাগিয়ে দিলাম সাধারন সথীদের মধ্যে আর আলেমদের মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি করার কৌশল। আজ আর বেদাতি, লা-মাজহাবি, পীর- মুরিদদেরকে তাবলীগের বিরোধীতা করা লাগবেনা, এমনকি আমাদের মত শয়তানদেরও আর মাথা ভাংতে হবে না, রুজু নামে যে ডোস চলতেছে এইটাই যথেষ্ঠ!!!

-: তো মানুষ কিভাবে দেখবে, জানবে যে তাবলীগের মধ্যে এই দুরঃঅবস্থা চলছে?
-: সেটাও এই আলেমগন করছে। মিডিয়া, সাংবাদিক ব্যবহার করে সারা বিশ্বে প্রচার করতেছে, আর বিভিন্ন ওয়েব সাইটতো আছেই, সেটাও আবার ইসলামের নামে ওয়েবসাইট! আবার কেও কেও লিফলেট প্রচার করে প্রকাশ করতেছে। তারা মিডিয়ার সামনে দাড়িয়ে যে সকল মুরুব্বিরা সুখ শান্তি ফেলে, বিবি বাচ্চার মায়া কোরবানী করে আজীবন তাবলীগে সময় দিয়েছে, তাদের কাওকে পাকিস্তানের দালল বলে গালি দিতেছে! আর কাওকে ইন্ডিয়ার দালাল বলে গালি দিতেছে!!
-: ইবলীস খুশি হয়ে তার চেলাকে কোলে তুলে নিল, বাহবা দিতে লাগলো, গালে চুমা দিতে লাগলো আর বলল, তাহলে যা নাকে তেল দিয়ে ঘুমা।
-: ইবলীসের চেলা বলল, তবে…..
-: ইবলীস বলল, ‘তবে’ কি আবার?
-: চেলা বলল, তাবলীগের মুহিব্বীন ওলামা হজরতগন এবং তাবলীগের সাধারন সাথীগন যে ভাবে ছবর আর দোয়া কান্না কাটি করে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতেছে, জানি না এই ” রুজু” নামের ডোস কয় দিন চলবে।
-: ইবলীস, হুঁম……………………….

Advertisements

Leave a Reply