অরাজনৈতিক তাবলীগ জামাত নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওলামা তথা ধর্মব্যাবসায়ী ও পাকি প্রেমিকেরা একাট্টা, দেওবন্দের নামে চলছে মিথ্যাচার, একের পর এক মারকাজ দখলের পায়তারা।

তাবলীগ জামাত একটি ইসলাম ধর্মভিত্তিক ইমানী আন্দোলন। খেলাফত বা রাজনীতি কোনটাই যাদের লক্ষ্য নয়, যাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা। আম মানুষের ১০০ শত বছরের দাওয়াতের ফসল আজ সারা দুনিয়াতে। যার কেন্দ্র বা মারকাজ ভারতের নিযামুদ্দিন।

ওয়ার্ল্ড এস্তেমা এ যাবৎকাল দাওয়াতে তাবলীগের মারকাজ নিজামউদ্দিনের মাসওয়ারা অনুযায়ী চলছিল, তাই সামান্যতম কোন সমস্যা ছাড়াই, এমনকি টংগি এস্তেমা মাঠে একটি ঢিল ছোড়ার কোন ঘটনা ছাড়াই, গত ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রতি বছর এই সমাবেশ নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছিল আল্লাহতালার মেহেরবানিতে অদ্ভুত এক নিয়মে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে। বিদেশী মেহমানদের উপস্থিতিও দিনে দিনে বাড়ছিল। যখন কাকরাইলের মুরব্বী মাও: যুবায়ের, রবিউল, ফারুক গন আমেরিকা প্রবাসী ডা: আওয়ালের (আলমী শুরার বাংলাদেশী জিম্মাদার) পাকিস্তানী ফরমুলার “আলমী শুরার” ফাদে পা বাড়ালো, তখন তারা এ কাজের আমীরকে (মাও: সাদ) উপেক্ষা করা শুরু করলো। কাকরাইলে হেফাজতের গুণ্ডাদের আমদানী করলো, হেফাজত ইসলাম ও দাওয়াতুল হকের ওলামাদের পরামর্শে ওয়ার্ল্ড এস্তেমা ২০১৮ এর কাকরাইলের মাসওয়ারার মঞ্চায়ন হলো যাএাবাড়ীর মাদ্রাসায়, এ কাজের আমীরকে ঠেঙানো হলো তসলিমা নাসরিনের চেয়েও জঘন্যতম ভাবে। একজন দীনের দায়ীকে এ কেমন উপহার দিল হেফাজত ইসলাম ও দাওয়াতুল হকের রাজনৈতিক, ধর্মব্যাবসায়ী আলেম সমাজ! এর পর আর কি বাকী রইল? উম্মতের মধ্যে বিভক্তিকরণ তথা দাওয়াত তাবলীগের মধ্যে যারা এই বিভক্তির কাজ শুরু করলো তাদের কি আল্লাহতালার কাছে জবাব দিতে হবে না? দেওবন্দের নামে যারা মিথ্যাচার করলো, সত্যকে সাধারন মুসলমানদের থেকে আলাদা করলো, এ কাজের আমীর সম্পর্কে যারা মিথ্যাচার করলো, তাদেরকে অবশ্যই আল্লাহ্‌র বিচারের পাশাপাশি মানুষের কাছে, বিবেকের কাছে অতি নিকট ভবিষ্যতে জবাবদিহি করতে হবে।

বাংলাদেশের বে-ফাক, হেফাজত, দাওয়াতুল হক ও নব্য আলমী শুরাগন যখন একটা গোপন মিটিং করে কাকরাইল মারকাজ দখল করার জন্যে এবং কাকরাইলে যারা নিযামুদ্দিনের পক্ষে, তাদেরকে কাকরাইল মারকাজ থেকে বের করে দেওয়া জন্য, ঘটনার ২ মাস আগে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর যখন সত্যিই গত এপ্রিলে কাকরাইল মারকাজ দখলের নিমিওে সিনেমার স্টাইলে তাবলীগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে অবৈধভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে জ্যামার বসানো হয়েছিল, এর পরও ঘটনার সংগে জড়িতদের গ্রেফতার না করে, বরং পাকি আলমী শুরার নেতাদের বিষয়ে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় ও আওয়ার ইসলাম নামক অনলাইন নিউজের ব্যাপক কভারেজ দেখে অবাক লাগে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দাওয়াতুল হকের যাএাবাড়ীর এক বড় আলেমকে মহব্বত করেন এবং বিভিন্ন সভাতে উক্ত আলেমের নাম বলেন। যে কারনে দাওয়াতে তাবলীগের কাকরাইলের মাসওয়ারার মঞ্চায়ন হয় কাকরাইলের পরিবর্তে যাএাবাড়ীর যাএামঞ্চে। তাছাড়া বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় হেফাজত নেতাকে জাতীয় মুরব্বী আখ্যায়িত করায়, হেফাজত ইসলাম হাটহাজারীতে বসে তাবলীগ নিয়ন্ত্রন করতে চায়। তেতুল হুজুরেরা এখন আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক। সম্প্রতি তেতুল হুজুর ফেসবুকের প্রয়োজনীয়তার উপর বয়ান করেছেন। শাপলা চওরের ঘটনার বেচা-কেনা শেষ। এখন তাবলীগের উপর কিছু ফতোয়া বানিজ্য করে দেখা যাক কি হয়! হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় এ বিষয়ে অবগত নয় যে, রাজনৈতিক ওলামা তথা ধর্মব্যাবসায়ী ও পাকি প্রেমিকেরা তাদের ভোট দুর্বলতাকে ব্যাবহার করছে এবং আম মানুষের তাবলীগের অতি বড় ভোট ব্যাংক হারাতে বসেছে। আওয়ার ইসলাম অতিমাএায় চামচামি করছে, যেন আলমী শুরার মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন তাদের কাজ।

মাওঃ সা’দ সাহেবের (দামাত বারাকাতুহুম) প্রসংগে কতিপয় ওলামা উনার মাক্বাম সম্পর্কে অনবগত হওয়ার কারনেই আজ তারা উনার বিরুদ্ধে অপ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং এটা যে ইসলামের শত্রুদের এক বিশাল ষড়যন্ত্র এটাও তারা বুঝতে চেষ্টা করছেনা। কারন উনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যদি উনাকে কোন ভাবে কলংকিত করা যায় তাহলে এ দাওয়াতের
মেহনতকে ও কলংকিত করা তাদের পক্ষে সহজ হবে। এলক্ষ্যে তারা কতিপয় ওলামাদের কে হাত করে নিয়েছে। ইনশাল্লাহ তারা সফল কাম হবেনা। বিগত নিজামুদ্দীনের জোড়ে বাংলাদেশের কিছু জিম্মদার সাথী মাও: সাদ সাহেবকে প্রস্তাব দিলেন, হজরত কাকরাইল মার্কাযের কিছু শুরার সদস্যদেরকে আপনি পরিবর্তন করে দিন, যারা নিজামুদ্দীনের এতায়াতে নেই। তখন তিনি বললেন, না ভাই এমন করা যাবেনা , কারন আমি হলাম এ মেহনতের কর্মচারী, উনারা ও কর্মচারী। এক কর্মচারী অন্য কর্মচারীকে পরিবর্তন করতে পারেনা। যিনি এ মেহনতের মালিক (আল্লাহপাক) তিনিই পরিবর্তন করবেন।

সন্মানিত সচেতন বন্ধুগণ! হজরতের একথা থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, মাওঃ সা’দ সাহেবের মাক্বাম আল্লাহ পাক কত উর্ধে রেখেছন এবং উনার ফিকির কত গভীরে। আর দেওবন্দ নিয়ে আমাদের কতিপয় ওলামাদের মিথ্যাচারের জবাবে আজ ৭ই মে ২০১৮ইং রোজ সোমবারের নিযামুদ্দিনে দেওবন্দের একটি ওলামা জামাতের কারগুজারি, “প্রতিদিনের মত বিশ্বমারকাজ নিযামুদ্দীনে বয়ানের মিম্বরের সামনে বসে ফজরের নামাজের ইন্তেজারে কুরআন তেলাওয়াত করছি। জামাতের মাত্র ৩মিনিত বাকী। তেলাওয়াত শেষে কুরআন রাখতে গিয়ে দেখি, আশপাশে কয়েক কাতার জুড়ে শুধু মাদরাসা ছাত্রদের ভীড়। বুঝে নিলাম, গত দু’দিন আগের মত আজকেও বয়ানের সময় মিম্বরের সামনে একটা বড় হুজ্জুম হবে। মনে মনে ঠিক করলাম, নামাজ শেষে খুব দ্রুত জায়গা নিয়ে নিতে হবে। কিন্তু হায়!!! সালাম ফেরানোর সাথে সাথে চতুর্দিক থেকে ছাত্ররা যেন উড়ে এসে মিম্বরের সামনে বসে পড়লো। শুধু বয়ান শুনলেই হবে না। বক্তার সামনে বসে তার চেহারা দেখে দেখে শুনতে হবে। সুদীর্ঘ ২ঘণ্টার বয়ান এক বসায় অপলক চাহনিতে শুনা অত সহজ নয়। কিন্তু তারা হযরতজ্বীর (মাও: সাদ) দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে। মাঝে মাঝে কিছুকিছু বিষয় ডাইরীবদ্ধও করছে। আজকের আলোচ্য বিষয়ও ছিলো খুব জটিল। “সুন্নত বনাম রেওয়াজের সিটিস্ক্যান” বলা যেতে পারে। বয়ানটি সংগ্রহ করতঃ প্রত্যেকের শোনা উচিৎ।অবশেষে তাশকীলের পালা। একে সব ছাত্র দাঁড়িয়ে সাল, ৩ চিল্লা ও ১ চিল্লার জন্য নাম লেখাতে শুরু করেছে। প্রত্যেকেই নিজের নামের সাথে ঠিকানাস্বরূপ ‘দারুল উলূম দেওবন্দ’ বলছে। সামনে থেকে আমরা কয়েকজন তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। স্বপ্ন দেখছি না তো? ঘাঁড় ঘুড়িয়ে হযরতজ্বীর দিকে তাকালাম। তিনি স্বভাবসূলভ মুচকি হাসিতে তাকিয়ে আছেন তাদের দিকে। যারা সালের জন্য নাম লেখাচ্ছে তাদের নামও জিগ্যেস করছেন। অবিরাম তাশকীল চলছে। হযরতজ্বী উঠে যাওয়ার পর ডানপাশের ছাত্রভাইটিকে জিগ্যেস করলাম “আপনারা কতজন আসছেন?” বললো, আমরা দেওবন্দ ও ওয়াকফ দেওবন্দ মিলে ২০০ জন এখন মারকাযে আছি। আগামী কয়েকদিনে আরো কয়েকশ আসবে ইনশাআল্লাহ।”

বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তবতা। তাইতো হযরতজ্বীর রাহবারী একটাই। “সবর করো। সবর করো।” তিনি আরো বলেন “এসব কেবলই ‘হাসাদ’ এর কারণে হচ্ছে। ‘হাসাদ’ একপ্রকার আগুন। এই আগুনে যখন সব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে তখন সব হালতও দুরুস্ত হয়ে যাবে। অনুরূপ ‘সবর’ও একটা আগুন। পার্থক্য হলোঃ ‘হাসাদ’ জ্বালিয়ে দেয় স্বয়ং হাসাদকারীকে। পক্ষান্তরে ‘সবর’ জ্বালিয়ে দেয় ঐ যালেমকে, যার যুলুমের উপর ‘সবর’ করা হয়েছে।

আলহামদুলিল্লাহ, ধীরেধীরে প্রতিয়মান হচ্ছে, হযরতজ্বীর ‘সবর’এর ফলে হিংসুক ও যালেমরা জ্বলেপুঁড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান রইলোঃ চলুন, আমরাও চলমান পরিস্থিতিতে অশান্ত না হই। হালতে মুতাআচ্ছির না হয়ে সবরের অস্ত্র ব্যবহার করে যাই। ইনশাআল্লাহ, শেষ হাসি সবরকারীরাই হাসবে। আল্লাহ সবরকারীদের সাথেই আছেন।

Advertisements

Leave a Reply