ফেতনায়ে খবিসা পাকি শুরার ওলামাগন কি হযরতজী ইউসুফ সাব(রহ:) এর মূল্যবান বানী ভূলে গেছেন?

www.banglatruenews24.com
উলামা আস-সু

ফেতনায়ে খবিসা পাকি শুরা অনুসারিরা তাশকিল করে যে, ওলামাদের সাথে আছি। ওলামাদের সাথে থাকতে হবে। আসলেই কি তারা ওলামাদের সাথে আছেন? কারন তাদের উপরের যে পাকিস্তানী মুরুব্বি আছেন ভাই হাজী আব্দুল ওহাব সাব, উনি কি ওলামা? মাঝখানে আমাদের দেশের আলমী শুরার জিম্মাদার আমেরিকা প্রবাসী ড. আওয়াল সাহেব, উনি কি ওলামা? বাংলাদেশের আর যারা আছেন রবিউল হক সাব ও ফারুক সাব আলীয়ার ফাজিল পাশ। কারী সাব এর কথা আর কি বলবো, তাদেরকে পরিচালা করছেন নিচে যারা আছেন, ইঞ্জিঃ মাহফুজ হান্নান, ইঞ্জিঃ আনিছ, আজগর, ইঞ্জিঃ মোশারফ, হেদায়েত তারাও ওলামা নন।

যারা আমীরের এতায়েতে আছেন, উপরে হযরতজী শায়খুল হাদিস মাওলানা সা’আদ দাঃ বাঃ। মাঝে আমাদের শুরা হযরত মাওলানা মুজাম্মেল হক সাহেব, মাওলানা মোশারফ সাহেব এবং নিচে যারা আছেন মাওলানা আশরাফ আলী সাহেব, মাওলানা মনির বিন ইউসুব সাহেব ও মাওলানা আব্দুল্লাহ সাহেব । এখন আপনারাই বলেন কারা আলেমদের সাথে আছেন?

এতায়াতে উলামার নামে নিজামুদ্দিন অস্বীকার করতে বলা হচ্ছে, আলমী শূরা মেনে নিতে বলা হচ্ছে?

অথচ আলমী শুরার বাংলাদেশী সদস্যগণ একজনও দেওবন্দী আলেম নন। একজন ক্বারী হাফেজ যুবায়ের সাহেব, অন্যজন আলীয়া মাদ্রাসার ফাযিল রবিউল হক সাহেব। উলামায়ে দেওবন্দ কিভাবে এসব গায়ের আলেমদের অনুসরণ করতে বলেন বুঝি না। এঁদের এতায়াত কিভাবে এতায়াতে ওলামা হয় তাও বুঝি না।ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা সফল ভাবে ধ্বংস করার পরে গরু মেরে জুতা দান হিসাবে ইংরেজরা আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিল। আলীয়া মাদ্রাসা নামক এই বিষবৃক্ষ ইংরেজদের লাগানো। রবিউল হক সাহেব এই গাছেরই ফল। ইংরেজরা দারুল উলুম দেওবন্দ, ওলামায়ে দেওবন্দ পছন্দ করত না। মাওলানা সাদ সাহেব দেওবন্দী আকীদার মানুষ, দেওবন্দী মানহাজের মাদ্রাসা থেকে ফারেগ হয়েছেন। ইংরেজদের লাগানো গাছের ফল রবিউল হক সাহেব, দেওবন্দী আলেম আওলাদে সাহাবা সাদ সাহেবকে পছন্দ করবেন না এতে আমরা অবাক হইনি। ২০০৮ সালে যখন মাওলানা সাদ সাব মারকাজের সব মুরুব্বিদের মারকাজ ছেড়ে ময়দানে মেহনত করার আহবান করেছিলেন, তখন থেকেই আলীয়া ফাযিল রবিউল হক সাহেব সাদ সাহেবকে পছন্দ করতেন না। অকৃতজ্ঞ রবিউল হক ভুলে গেছেন যে ২০০৩ সালে সাদ সাহেবই তাকে কাকরাইলের শুরা বানিয়েছিলেন। সেদিন তিনি শুরা না হলে আজ আলমী শুরা বানানোর জন্য কেউ তাকে গুনত না, আর কেউ তাকে চিনতোও না। আলিয়ার কত ফাযিলই তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। কেই বা কাকে চিনে আর কেই বা কার খবর রাখে।

অথচ মাওলানা সাদ সাব দা: বা: ২০০৭-০৮ সালে সকল ধরণের তবকাওয়ারী মেহনত বন্ধ করতে বলেন। কেননা এটা সাহাবাওয়ালা তরীকা নয়। সাহাবা কেরামদের ছিল দুই ধরণের পরিচয়। আনসার আর মুহাজির। যদিও এটা নকল হরকত তবুও এর অংশ হিসাবে তিনি মুরুব্বী তবকাকে বিলোপ করেন। তিনি জানান মারকাজে কোন মুকীম থাকবে না। সবাই নিজ নিজ মহল্লাতে পাঁচ কাজ করবেন। বিভিন্ন সময়ে তরতীবে অথবা তাকাজায় আসবেন। এতে মুরুব্বীদের মহল্লাতে যেমন কাজ বাড়বে, তেমনি সাথীরা তরতীবে আসার কারণে তাদের যোগ্যতা বাড়বে। নতুন নতুন সাথী মারকাজ সামলানোর যোগ্যতা হাসিল করবে। এর দ্বারা কাজও বাড়বে। এরই অংশ হিসাবে মাওলানা সাদ সাব নিজেও মাঝে মাঝে পাঁচ আমলে সময় দেন। এ তথ্য আমি আলমীদের এক পেজে পেয়েছি। সেখানে অভিযোগের সুরতে তথ্যটি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মাওলানা সাদ আশে পাশে পাঁচ কাজে সময় দেয়ার সময় পান, তো দেওবন্দে যাবার সময় পান না কেন?

মূলতঃ এই কারণে তখন থেকেই কিছু কিছু মুকিমের বিরাগভাজন হন। এর মধ্যে রয়েছেন ড. খালিদ, ভাই ফারুক। ভাই ফারুক মাঝে মাঝেই সাদ সাহেবের ব্যাপারে আপত্তিকর কথা বলতেন। যারা ব্যাঙ্গালোরে পড়াশুনা করেছেন তারা এসব আগে থেকেই জানতেন।

ঠিক একই কারণে আলিয়ার ফাযিল পাশ রবিউল হক সাহেব ২০০৮ থেকে সাদ সাহেবের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।

লাখো মানুষের কুরবানীর বরকতে কাকরাইল আজ এক মৌচাক। এখানে মৌ-লোভীরা কি মৌ সংগ্রহ করতে পড়ে থাকতে চান, কেন তারা মৌচাক ছেড়ে মহল্লায় গিয়ে ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে মৌ সংগ্রহ করতে চান না, তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

প্রশাসনের নির্দেশে কাকরাইল ছেড়ে বর্তমানে মাওলানা যুবায়ের আহমদ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসায় আছেন।

দীর্ঘদিনের মায়া আর ভালোবাসার কাকরাইল ছেড়ে কীভাবে দিনাতিপাত করছেন মাওলানা যুবায়ের আহমদ? এ সম্পর্কে তার ছেলে মাওলানা হানযালা বলেন, সারাদিন মুতালাআ, পড়াশোনা আর তেলাওয়াতের মাধ্যমে সময় কাটছে তার।আগে কাকরাইল থেকে রাতে বাসায় ফিরে ঘরের মেয়েদের পড়াতেন। এখন নিয়মিত ঘরে মেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছেন। আর তাবলিগের কোনো সাথী যেন তার সঙ্গে দেখা না করেন সে ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন। এমনকি কাউকে তিনি দেখা করতেও দিচ্ছেন না। মাওলানা হানযালা আরও বলেন, আব্বাজানের একটাই বক্তব্য, ‘আমি ফেতনা ও ঝগড়ার তাবলীগ করবো না। যতদিন পর্যন্ত তাবলীগের এ অস্থিরতা না কাটবে ততদিন কাকরাইলেও যাবো না। মহল্লার মসজিদে তাবলীগের কাজ করবো। বাসার পাশে মাদরাসা আছে সেখানে পড়াবো। মহল্লার সাথীদের সাথে দাওয়াতের কাজে জোড়বো।

আল্লাহপাকের মকবুল বান্দা হযরতজী ইউসুফ সাব (রহ:) বলতেন, “সূর্য আলোকিত। তাতে আলো আছে। সে যখন এ আলো নিয়ে ঘুরতে থাকে তখন পৃথিবীতে আলো ছড়িয়ে পড়ে।
যদি সূর্যের নিজের আলো না থাকত তাহলে তা হত অন্ধকার ছড়ানোর কারণ। আপনারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে বের হচ্ছেন। কাছের-দূরের বিভিন্ন জায়গায় আপনারা ঘুরে বেড়াবেন। যদি আপনাদের মধ্যে আলো থাকে তাহলে আপনাদের মাধ্যমে চারদিকে আলো ছড়াবে আর যদি আপনাদের মধ্যে অন্ধকার থাকে তাহলে চারদিকে অন্ধকার ছড়াবে।
এজন্য চেষ্টা করতে হবে যেন আপনাদের মধ্যে নূর ও আলো থাকে এবং আপনারা নূরানী ও আলোকিত হয়ে যান। সত্ত্বাগতভাবে মানুষের মধ্যে নূর নেই; মানুষের মধ্যে নূর পয়দা হয় নূরানী আমলের দ্বারা। তাই আপনাদেরকে নূরানী আমল করতে হবে। যেন আপনাদের মধ্যেও নূর আসে এবং আপনাদের মাধ্যমে চারদিকে নূর ছড়ায়।তেমনি যেসব কাজে জুলমত ও অন্ধকার আছে তা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যেন আপনারা জুলমত ও অন্ধকার ছড়ানোর কারণ না হয়ে যান।”

কারো ইমাম আবু হানিফা বা অন্য মাযহাবের এতায়াত করার অর্থ এটা না যে, সে কোরআন হাদীসের অনুসরণ না করে আবু হানিফার এতায়াত করে। বরং এর অর্থ হলো ইমাম আবু হানিফা, কোরআন ও হাদীসের আলোকে শরীয়তের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটার অনুসরণ বা এতায়াত করে। সাদ সাহেবের এতায়াতেরও একই ব্যাখ্যা। যারা এটা নিয়ে ফেতনা করছেন তারাও এটা ভালো করে জানে। যেহেতু ফিতনাই তাদের মাকসাদ, সেহেতু তারা এটা বলবেই। বাকী কোন সাথী এদের ফেতনায় না পড়লেই হয়। অচিরেই আল্লাহ ফেতনাকারীদেরকে পাকড়াও করবেন ইন্শাআল্লাহ্।

আল্লাহতালা আমাদের মাফ করে দেন। আবারও সহী নাহাজে নিজামুদ্দিন এর মাশোয়ারা মোতাবেক এবং আমীরের এতায়েতে আমাদের চলার তাওফিক দান করেন।

Advertisements

Leave a Reply