মো. ফারুক কাকরাইল শুরা বাংলাদেশ ২৩ রবিউল সানি ২২ জানুয়ারী ২০১৭ এর চিঠি

হযরত মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা. ১২-০১-২০১৭ ইংরেজি বৃহস্পতি বার, মাগরিবে টঙ্গি ময়দানে পৌঁছেন। ঐদিন এশা বাদ টঙ্গি ইজতেমার ময়দানের মাশোয়ারায় পরের দিনের আমলসমূহ ফায়সালা করেন। এভাবে বৃহস্পতিবার এশা বাদ ইজতেমার পরবর্তী দিনের আমলসমূহের মাশোয়ারা শেষ করেন।

এরপর হযরতজী দা. বা. সমস্ত দুনিয়ার আমির বা জিম্মাদার বা শুরাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রত্যেক দেশের হযরতরা যেন মেহেরবানি করে উনাদের দেশের তাকাজাসমূহ উমর হিসেবে লিখে যান। যাতে করে নিজামুদ্দিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হযরতরা উনাদের মার্কাজের এবং আলমী তাকাজাসমূহ সমন্ময় করে নিতে পারেন। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের ইজতেমা ও জোড়সমূহ।

এই ঘোষণার পর পরই কুয়েতের শুরা জনাব শেখ মুসলে দাঁড়িয়ে আদবের সাথে কিছু বলার অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর জনাব শেখ মুসলে অত্যন্ত নম্র ও বিনীতভাবে উনার কথা শুরু করেন। নিচে উনার কথার অনুবাদ তুলে ধরা হলো-

হামদ ও সানার পর আমি কথা শুরু করার আগে আপনাদের সবার কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি। মেহেরবানি করে আপনারা সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন, আপনাদের সময়কে দীর্ঘায়িত করার জন্য।

সমস্ত সাহাবা কেরাম রা. এই কথার উপর মোত্তাফেক (এক মত) ছিলেন; যে, ইজতেমায়িয়াত রহমত আর ইখতেলাব বা ইন্তেসার মুসিবত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা. বলেন, উম্মতের মধ্যে ইজতেমায়িয়াত রহমত আর ইখতেলাফ মুসিবত।

কোনো লোক বা সাথীই নবীওয়ালা এই কাজের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, বড়ত্বকে অস্বীকার করতে পারে না। নিজের ঘরওয়ালাদের জন্য, নিজের মহল্লাওয়ালাদের জন্য, নিজের জন্য, পুরো উম্মতের জন্য কোনো মানুষ এই কাজের আহমিয়াত ভুলতে পারে না, এই কাজ হতে গাফেল হতে পারে না।

আল্লাহ তা‘আলার আজমত এবং কিবরিয়া বয়ান করছি। এই জন্য যে, আল্লাহ পাকের শান বড়। উনি ইসলাহ কারী। এজন্য উনার প্রসংশা করি, উনার বড়াই বয়ান করি। উনার তাজিম বয়ান করি। এভাবে আমরা আমাদের পিতা-মাতাকে সম্মান করি। উনাদের ইজ্জত করি। এভাবে এই আজিম কাজের সিলসিলার মধ্যেও আমাদের সবার দীলে এই কাজের আজমত আছে, আর আজমত হওয়া চাই। এই কাজের আহমিয়াত আমাদের দীলে হওয়া চাই।

হাজী আব্দুল ওহাব সাহেব দা.বা. সারা দুনিয়ার সবাইকে এখন মোতোয়াজ্জ করছেন। বারবার সারা দুনিয়াকে বলছেন, নিজামুদ্দিন যাও। ওখানের চার দেওয়ালের মধ্যে শ্বাস নিলেও তোমার ঈমান বাড়বে। বারবার এই কথা বলছেন।

এই সময় যেখান থেকে এই কাজ সারা দুনিয়া পেয়েছে, সেখানের আজমত সবার দীলে হওয়া চাই। এভাবে সারা দুনিয়ার রুজু ঐ জায়গার প্রতি হওয়া চাই। কারণ আল্লাহ ঐ জায়গাকে মুন্তাখাব (নির্বাচন) করেছেন।

দুই আলেমের মাঝে যে বড় আলেম, যার এই কাজের সাথে তায়াল্লুক নেই; তিনি অন্য জনের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, কী কারণে এই কাজে কবুলিয়াত, এই কাজের আহমিয়াত? সারা দুনিয়ার মধ্যে এই কাজ আম হওয়ার, প্রসার লাভ করার কী আহমিয়াত?

দ্বিতীয় জন বললেন, এই মেহনতের মধ্যে ইত্তেহাদি কলেমা আছে। সবার দীলে ইজতেমায়িয়াত আছে। আপোষে মুহাব্বত আছে। যে কারণে এই কাজে শক্তি অর্জিত হয়। একই জায়গা এবং একই মার্কাজ থেকে কাজ হচ্ছে। এই জন্য এই কাজে শক্তি আছে। এই জন্য এই কাজ সারা দুনিয়াতে আম (সাধারণে প্রসার) হচ্ছে।
মাওলানা ওমর সাহেব পালনপুরি রহ. এবং মাওলানা এনামূল হাসান রহ-এর যুগে আমি নিজামুদ্দিনে লম্বা সময় লাগিয়েছি। এরপর বারবার আমি নিজামুদ্দিন গিয়েছি।

আমার কাছে মাওলানা ওমর সাহেব নিজেই জানতে চেয়েছেন যে, কবে এই কাজে ইন্তেসার আসবে? এরপর তিনিই বলেন, যখন নিজামুদ্দিনের সাথে সাথীদের বা মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

এখানে এখন আমাদের আরব মাশায়েখ, উলামা, পুরানো সাথী সবাই উপস্থিত। আমরা সবাই এক মত আছি যে, যেখানের সাথে আমাদের সমস্ত বড়রা জুড়ে ছিলেন আমাদের ঐ সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। নিজামুদ্দিনের যে শূরা উনাদের সাথে আমাদের জুড়ে চলতে হবে। নিজামুদ্দিনের জিম্মাদারের সাথে জুড়ে চলতে হবে। সারা আরবের সবাই আমরা এই ব্যাপারে একমত। অন্য সবার কাছে আমার দরখাস্ত যে, সবাই বাংলাওয়ালী মসজিদ নিজামুদ্দিনের সাথে জুড়ে চলেন। তখন উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলেন, ইনশাআল্লাহ।

এরপর কুয়েত, কাতার এক এক করে তাদের স্বীকারোক্তি দেওয়া শুরু করলে হজরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব উনাদের থামিয়ে দেন। যে, এভাবে এক এক করে বলার কোনো দরকার নেই। আল্লাহ আপনাদের জাজায়ে খায়ের দান করেন।

বিভিন্ন কারণে যারা তখন উপস্থিত থাকতে পারেন নি উনাদের মধ্যে ড. জাহাব, শূরা সুদানও ছিলেন। তিনি ক্ষুদে বার্তায় জানিয়ে দেন–সমগ্র বিশ্বের জিম্মাদাররা আপনার আমিরত্বকে মেনে নিয়েছেন। এই জন্য মোবারক বাদ। আমরাও নিজামুদ্দিনের সাথে আছি। আমাদের মার্কাজও (হেড অফিস) নিজামুদ্দিন।

সুদান, মরক্কো, জর্ডান, ইয়েমেন, লেবানন, ওমান, উগান্ডা ইত্যাদি দেশে এক আমির নেত্রীত্বে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ চলছে। বিভিন্ন কারণে উনাদের মধ্যে কেউ কেউ আসতে পারেন নি। উনাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, শেখ জাকারিয়া (আমির, ফিলিস্তিন)। তিনি প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন শেখ রিয়াদকে। উনার মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, আমিও সারা দুনিয়ার সাথে একমত হয়ে হযরত মাওলানা সা‘আদ সাহেবের আমিরত্বকে মেনে নিয়েছি।

পরের দিন সকালে ফজর বাদ ইন্টারন্যাশলান মাশোয়ারার কামরায় সারা দুনিয়ার জিম্মাদার সাথীদের সাথে মোজাকারা করেন হযরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা.। উনার মোজাকারার পর আমেরিকার ডালাসের সাথী আব্দুর রহমান (হায়দারাবাদী) বলেন হযরজতী মাওলানা এনামুল হাসান রহ.-এর সময় থেকেই আমি নিজামুদ্দিন যাচ্ছি। উনার মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০ বছর। এরপর থেকে আমি প্রতি ২ বছর পর পর নিজামুদ্দিন আসা-যাওয়া করছি। নিজামুদ্দিনের আমার আসা-যাওয়া শুধুমাত্র শুধুমাত্র ইউসুফ রহ.-এর মালফুজাত মোতাবেক। সে জন্য আমি যাই।

আমি ১৯৬০ সাল থেকে এই কাজে লেগে আছি। আমি মাওলানা ইউসুফ রহ.-এর যুগকে দেখেছি। মাওলানা এনামুল হাসান রহ-এর যুগকেও আমি দেখেছি। ৪৫ বছর আগে আমি আমেরিকায় গিয়েছি। ঐসময় সেখানে দ্বীনের কোনো পরিবেশ ছিল না। ঐ সময় থেকে দ্বীনের উপর জমে থাকা, দ্বীনের উপর টিকে থাকা, এই কাজের ফিকির নিয়ে চলা, এই কাজের সাথে জুড়ে থাকা-এগুলো একমাত্র একমাত্র নিজামুদ্দিনের সাথে জুড়ে থাকার কারণে সম্ভব হয়েছে।

প্রতি ২ বছর অন্তর নিজামুদ্দিনে যাওয়া-আসার কারণে আমার এবং আমার বাচ্চাদের, আমার ঘরেরও এই কাজের সাথে সম্পর্ক আছে। আমি দেখেছি,এমন অনেক লোক যারা প্রথমে অনেক কোরবানি দিয়েছে। কিন্তু উনাদের সম্পর্ক নিজামুদ্দিনের সাথে না থাকার কারণে উনার নিজের সম্পর্ক এবং উনার ঘরওয়ালাদের সম্পর্ক এই কাজের সাথে আর পরে থাকে নি।

দ্বিতীয় কথা হলো,শুরু থেকে প্রত্যেক যুগে এক আমির ছিল, এক হযরতজী ছিল। এই সময়ও একই আমির থাকা চাই। একই হজরতজী হওয়া বা থাকা চাই। সেই আমির মাওলানা সা‘আদ সাহেব এবং হজরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব। তাই এখন এই কথা বুঝা দরকার যে, এখন থেকে মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা.-কে হজরতজী বলে সম্বোধন করা হবে। আমরা সবাই উনাকে হযরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা. বলে সম্বোধন করব। আমি খুব বিনয়ের সাথে আপনাদের কাছে আরজ করলাম। আপনারা গভীরভাবে একে চিন্তা করবেন। এর দ্বারা আমাদের তরক্কি হবে। এই কাজে আমি জমে থাকব। আল্লাহ আমার এখানে আসাকে কবুল করেন। আমিন।

এসব বক্তব্যের পর সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের শুরা হযরত, হযরতে ওলামা কেরামা এবং পুরানো কাজ করনেওয়ালা সাথিরা বারবার মাশোয়ারা করে নিম্ম লিখিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। যেটির আরবি, উর্দু এবং ইংরেজি কপি সংশ্লিষ্ট ভাষাভাষি জিম্মাদার সাথীদের দিয়ে দেওয়া হয়। আশাকরি এরপর তাবলিগের মেহনত নিয়ে সব রকম দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান হবে। চিঠির অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো

২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরি
২২জানুয়ারি

শ্রদ্বেয় ভাই ও বুজুর্গ!

এই বছর টঙ্গি বিশ্ব ইজতিমায় সারা বিশ্বের পুরনো সাথিরা এবং শুরা হযরতরা মাশোয়ারায় একত্রিত হয়ে পারস্পরিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যাার পরিপ্রেক্ষিতে উনাদের উপস্থিতিতে নিম্ন লিখিত ব্যাখ্যা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান সাহেব রহ.-এর ইন্তেকালের পর নিম্মলিখিত বড়রা কাজ পরিচালনার জন্য জিম্মাদার সাথী নির্ধারণের জন্য একত্রিত হোন।
১. হযরত মাওলানা ইজহারুল হাসান কান্ধলভী রহ.
২. হযরত মাওলানা যুবায়ের হাসান কান্ধলভী রহ.
৩. হযরত মাওলানা সাআদ সাহেব কান্ধলভী দা.বা.
৪. হযরত মিয়াজী মেহরাব রহ.
৫. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ওমর পালনপুরী রহ.
৬. হযরত মাওলানা সাঈদ আহমেদ খান সাহেব রহ.
৭. হযরত মাওলানা জয়নুল আবেদীন সাহেব রহ.
৮. হযরত হাজি আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দা.বা.
৯. হযরত হাজি আব্দুল মুকিত রহ.

উপরোল্লোখিত হযরতরা ফয়সালা করেছিলেন যে নিচের তিনজন হযরত এই কাজের জিম্মাদারীর দায়িত্বে থাকবেন।
১. মাওলানা ইজহারুল হাসান সাহেব রহ.
২. মাওলানা যুবায়ের হাসান সাহেব রহ.
৩. মাওলানা মুহাম্মদ সাআদ সাহেব কান্ধলভী দা.বা.

উপরোক্ত সিদ্ধান্তনুযায়ি সম্মানিত তিন মুরব্বি আপোষে পুরো কাজকে চালিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে মাওলানা ইজহার সাহেব রহ.-এর ইন্তেকালের পর বাকি দুই হযরত মাওলানা যুবায়েরুল হাসান সাহেব রহ. এবং মাওলানা সা’আদ সাহেব সাহেব দা.বা. দায়িত্ব নিয়ে এই কাজের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। ২০১৪ সালে মাওলানা যুবায়েরুল হাসান সাহেবের ইন্তিকালের পর মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. এই মহতি কাজের জিম্মাদারী আদায় করে আসছেন।

১. ২০১৭ সালের টঙ্গি এস্তেমায় বিপুল সংখ্যক দেশের শুরা হযরতরা উনাদের দেশের মেহনতের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়িয়ে মেহনতের স্বার্থে মাওলানা সা’আদ সাহেবকে তাবলিগের মেহনতের বিশ্ব জিম্মাদার হিসেবে রায় পেশ করেন। সারা আলমের এই ইজতেমায় ফয়সালা হয় যে, মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. হবেন তাবলিগ মেহনতের জিম্মাদার এবং ফায়সাল।

২. সব সময়ই নিজামুদ্দিন তাবলিগ মেহনতের বিশ্ব মার্কাজ এবং প্রাণকেন্দ্র। সারা পৃথিবীতে তবলিগের মেহনতের যে কোনো পরামর্শ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সেখান থেকেই হয়ে এসেছে। এই রীতি মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব রহ.-এর যুগ থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তারপর থেকে এযাবৎ পর্যন্ত সমস্ত আমির এভাবেই চলে এসেছেন। এর উপরই উনারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখনো নিজামুদ্দিনই তাবলিগের বিশ্ব মার্কাজ। ২০১৬ রাইবেন্ড ইজতেমায় হযরত হাজি আব্দুল ওহাব সাহেব দা.বা. আগত সমস্ত বড়দের উদ্দেশ্য করে জোর দিয়ে বলেন যে, দাওয়াতের মেহনতের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত উমর এবং উমরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে নিজামুদ্দিন মার্কাজ।

৩. শুরু থেকেই সমস্ত দুনিয়ার নির্বাচিত শুরা হযরতরা উনাদের উমুরসমূহ সমাধানের জন্য নিজামুদ্দিন পাঠাচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যহত বা বলবত আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আলহামদুলিল্লাহ এই সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো সব সময়ই রাইবেন্ডে পাঠানো হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ এভাবেই তা অব্যহত থাকবে।

৪. আন্তর্জাতিকভাবে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ এই তিন দেশের বড়রা নিম্ম লিখিত সময়ে একত্রিত হবেন এবং বিভিন্ন উমুরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

১.রাইবিইন্ড ইজতেমা

২.টঙ্গি ইজতেমা

৩.প্রতি দুই বছরে হজ্ব মৌসুমের মেহনত

ইনশাআল্লাহ এই বিষয়গুলো এভাবেই হবে। এটিই আলমি পরামর্শ। এর জন্য কোনো আলমি শুরার প্রয়োজন নেই।

৫. ২০১৫ সালের রাইবেন্ড ইজতেমা থেকে ফিরে নিজামুদ্দিনে ইন্ডিয়ার পুরনো সাথিদের ত্রিমাসিক মাশোয়ারায় মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. সম্মানিত আট জনের সমন্বয়ে একটি শুরার জামাত গঠন করেছিলেন। নিজামুদ্দিনে যে আট জনের সমন্বয়নে মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. সম্মানিত শুরার জামাত গঠন করেছিলেন উনারা হলেন-
>১. মাওলানা ইব্রাহিম দেউলা সাহেব
২. মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব
৩. মাওলানা ইয়াকুব সাহেব
৪. মিয়াজী আজমত সাহেব
৫. মাওলানা আব্দুস সাত্তার সাহেব
৬. প্রফেসর আব্দুল আলিম সাহেব
৭. মাওলানা যুহারুল হাসান সাহেব
৮. মৌলভি মোহাম্মদ ইউসুফ সাহেব

মার্কাযে প্রতিদিন সকালে পরামর্শ হয়। উপরোল্লোখিত সম্মানিত শুরার হযরতদের সাথে মার্কাযের মুকিমিন হযরতরা শরিক হয়ে পরামর্শ করেন। আপোষে রায় পেশ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবেই কার্যক্রম চলতে থাকবে।

৬. হযরতজি মাওলানা এনামুল হাসান সাহেব যখন সুস্থ ছিলেন সে সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, প্রতি দুই বছর অন্তর বিশ্বের সমস্ত পুরান সাথিরা নিজামুদ্দিনে পরামর্শ এবং মোজাকারার জন্য একত্রিত হবেন। যদ্দরুণ সারা বিশ্বের মেহনত একটি নকশার উপর চলা নিশ্চিত করবে। এই নকশাকে মেনে চলা হবে।

৭. বিভিন্ন দেশের পুরানো সাথীদের জোড় এবং ইজতেমাসমূহে তিন দেশের সমন্বিত জামাত অংশগ্রহণ করবেন। এই জমাতসমূহের আমির বা জিম্মাদার সব সময় নিজামুদ্দিন হতে হয়ে আসছে। এই স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা এভাবেই চলতে থাকবে।

৮. পুরনোদের জোড়ে অংশগ্রহণের জন্য তিন দেশের সমন্বয়নে যে জামাত আসে ওনাদের বিষয়টি টঙ্গি মাশোয়ারাতে উত্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টি ছিল যে, ঐ জামাতকে কিভাবে ইস্তেগবাল এবং ব্যবহার করা যায়? মাশোয়ারার পর ফয়সালা হয় যে, নির্দিষ্ট দেশের জামাতকে ইস্তিকবাল এবং ব্যবহারের জন্য প্রত্যেক জামাতের পৃথক পৃথক জামাত পত্র থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য ইন্ডিয়ার জামাতের সাথে নিজামুদ্দিন থেকে একটি চিঠি প্রেরণ করা হবে।

মো. ফারুক
কাকরাইল শুরা বাংলাদেশ
২৩ রবিউল সানি
২২ জানুয়ারী।

Advertisements

Leave a Reply