ইশ্ যদি তাবলীগ জামাতটা কোন ফসলী জমি হতো!

#সাথিরা_পড়ার_অনুরোধ_শেষ_পর্যন্ত

মাওলানা সাদ সাহেব দাঃ বাঃ কে নিয়ে আর কত ”””” ????

আগে বললেন, উনি আলেম নয়।

এখন শুনি, উনি বড় আলেম। আগে পড়াতেন আবু দাউদ শরীফ, এখন পড়ান বুখারী শরীফ।

আবার বললেন, উনিতো কারো থেকে খেলাফত পাননি, অথচ বয়াত করেন ?

এখন শুনি, উনি সর্বোচ্য সিলসিলার সবর্জন স্বীকৃত দুইজন মহান বুজর্গ ব্যক্তিত্বের খেলাফত প্রাপ্ত ।

বলা হলো উনি ফাঁকি দিয়ে টোরিষ্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন।
সর্বোচ্য তাহ্কিক করে দেখা গেলো, না, উনি তাবলিগী ভিসা নিয়েই এসেছেন।

শুনলাম, , উনি মনগড়া জঘন্য কথা বলে ফেলেছেন, কি বলেছেন? কোরআন শিক্ষাদানের বিনিময় গ্রহনকারীর চেয়ে নাকি ফাহেসা মহিলা আগে জান্নাতে চলে যাবে !
কি জঘন্য কথা!!!!
এখন শুনি, না, এটা উনার কথা না, বরং হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন।

আরেকটা কথা বলে ফেলেছেন, কি সেটা? হযরত মুসা আঃ এর ব্যাপারে !
এটাও উনি কোন্ প্রেক্ষাপটে কোথায় কাকে বলেছেন? কি বুঝাতে
চেয়েছেন? তাহ্কিক করেছেন কি একটু?
এক বড় আলেম বললেন, আল্লাহ তাআলাই মুসা আঃ কে কালামেপাকে বলেছেন, ‘তোমাকে কিসে ত্বরা করেছে ‘? হজরত মুসা আঃ- এর ঘটনা বলা ভুল, যারা বলেন তাদের কথায় ১৫টা তাফসির কিতাব ও হজরত ইবনে আব্বাস রাঃ সহ আরও অনেকেই ভুল হয়ে যেতে পারে । বিজ্ঞ আলেম বলেন, হজরতের এক একটি কথা অনেক অনেক কিতাব এ আছে।
অর্থাৎ এটাও উনার নিজস্ব কথা নয়।

ভারতের বিখ্যাত মাদ্রাসা সাহারাণপুর থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উনার তথাকথিত বিতর্কিত কথার জবাব উনার পক্ষেই দিয়েছেন।
হ্যাঁ, বলতে পারেন প্রেক্ষাপট আবার কি?
শুনোন তাহলে, কাকরাইলের ২য় তলায় আমি মিম্বরের কাছাকাছি বসা। এশা বাদ হাফেজ মাওলানা যোবায়ের সাহেব দাঃবাঃ হায়াতুস সাহাবা পড়ে তর্জমা করলেন, ‘ আমার যতটুকু মনে আছে —
‘ রমজান মাসে এক সাহাবি দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছেন। আফসোস করতে করতে রাসুল সাঃ এর নিকট আসলেন। রাসুল সাঃ বললেন, তোমাকে কাফ্ফারা হিসাবে একাধারে ৬০ টি রোজা রাখতে হবে। হুজুর এটাতো আমার দ্বারা সম্ভব না। তাহলে ৬০টি ফখির খাওয়াও। হুজুর এটাও আমার সামর্থ্য নাই। তাহলে এই পরিমাণ দান কর। হুজুর এই পরিমান দান করারওতো আমার সামর্থ্য নাই। হুজুর সাঃ নিজের ঘর থেকে কিছু আটা বা খাদ্য বের করে তাঁর হাতে দিয়ে বললেন, এগুলো গরীবদের মধ্যে বিতরণ কর । – হুজুর মক্কা মদিনাতে আমার মত গরীব মনে হয় আর কেউ নাই। ঠিক আছে তাহলে তুমিই খাওগা। বুঝা গেলো, একই মসলা ব্যক্তির অবস্থাভেদে পরিবর্তন হয়।

হ্যাঁ মানুষ মাত্রই ভুল হতেই পারে। ৫ জন প্রতিনিধি দলের মধ্যে একজন আমার কাছের শ্রদ্ধাভাজন আলেমের সহিত কথা বলে যা বুঝলাম। উনি উত্তম তরিকায় রুজু করেছেন। এই প্রতিনিধি দল দারুল উলুম দেওবন্দ এবং নিজামুদ্দিনে যা দেখে এসেছেন ও বলে এসেছেন, বাংলাদেশে এসে রহস্যজনক কারণে ইনারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
আমাদের জামালপুর জেলার অন্যতম আলেম, আল্লামা শফি দাঃবাঃ সাহেবের এর সুযোগ্য খলিফা, জামালপুরের জেলা তাবলিগের শুরা, জামিয়া দারুল উলুম, পুলিশ লাইনের সুযোগ্য মোহতামিম, বড় মসজিদ জামালপুরের সম্মানীত খতিব, জামালপুরের সবচেয়ে বড় ও ছোট প্রায় ৮০ টি কওমী মাদ্রাসার সুযোগ্য সভাপতি জনাব মুফতি আব্দুল্লাহ সাহেব দাঃবাঃ বলেন যে, আমি এক আলেমকে বললাম , যেহেতু উনি আপনাদের মতে আপত্তিকর কথার উপর রুজু করেছেন, তাহলে এখন সমস্যা কি? উত্তরে ঐ জিদখোরা আলেম নাকি বলেছেন, না তাঁর রুজু আদায় হবে না, তাহলে কি করতে হবে? তাকে নিজামুদ্দিন থেকে চলে যেতে হবে। মুফতি সাহেব তাকে নাকি বলেছেন, কিতাবে তৌবা /রুজুর কথা শুনেছি, কিন্তু তা করতে নিজের বাড়ী ছেড়ে দিতে হবে এরকম কথাতো কিতাবে পাইনি !!
উনি হাটহাজারী মাদ্রাসার এক উস্তাদের নিকট ফোন করেছেন, উস্তাদ বলেছেন, আল্লামা শফি সাহেব দাঃবাঃ বার্ধক্যজনীত কারণে তিনজন খাদেমের নিকট বন্দী। কেমন? ঐ তিন জন খাদেম যা বলবে তাই করবেন। মেখল মাদ্রাসার মোহতামিম সাহেবও গিয়ে সাক্ষাত লাভ করতে পারেন নাই, ফিরে যেতে হয়েছে । হেলিকপ্টার দাড়ানো, ঐ তিনজন যদি বলে, আপনাকে এখন উঠা যাবে না, ঐটাই ঠিক। সারা দুনিয়ার মানুষ মিলেও উঠাতে পারবেনা। উস্তাদ বিজ্ঞ আলেম বলেন, কি পরিমাণ টাকার খেলা যে চলতেছে কল্পনা করতে পারবানা ! এই মাজুর ব্যক্তি কিছুই জানেননা, অথচ খাদেমদের ব্যবসা গরম!
মুফতি আব্দুল্লাহ সাহেব আরো বলেন যে, এক আলেমকে দেখলাম, হযরত মাওঃ সাদ সাহেব দাঃবাঃ এর কুৎসা রচনার একটা বই হাসিমুখে বিতরণ করছে, তো আমি বললাম, হাসতেছেন কারণ কি? দরকার ছিলতো কাঁদার ! উনি বুঝালেন পরে খুব আফসোস করলেন।

আমাদের জামালপুর জেলা মার্কাজের ইমাম ও খতীব, জামালুল উলুম পাথালিয়া মাদ্রাসার সুযোগ্য মোহতামিম, ২২ গ্রামের কোযগর ঈদগাহ মাঠের ইমাম এবং মরহুম আল্লামা মুফতি আমিনী রঃ এর একসময়কার কাছের মানুষ জনাব মুফতি মুনিরুল ইসলাম সাহেব দাঃবাঃ বলেন যে, ‘মিলন ভাই আসলে কি বলমু, আপনিত যানেন সারা দুনিয়ার যে কয়টা দেশে আমাকে আল্লাহ পাক সফর করতে দিছেন, সব জায়গায় হযরত মাওলানা সাদ সাহেবের ক্বওলই বেশী বলি, আপনিওতো আমার সাথে দুই একটা দেশে সফরে গেছেন। উনি বলেন, ‘ ওয়াসীবুল ইসলাম ভাই বলেন আর মাওলানা যোবায়ের সাহেব হুজুর বলেন এবং আহলে শুরা হযরতদের মধ্যে যারাই আছেন তাঁদের পাহাড়সম কোরবানির কাছে আমার মত তিন টেহার মুফতির কাম বাজে নাই। আর নিজামুদ্দিনে যারা আছেন ও ছিলেন তাঁদের কোরবানির কথা আমরা বলে কখনো শেষ করতে পারবো না। তাদের ব্যাপারে যারা সমালোচনা করে, আসলে তাঁরা চরম বেয়াদব।

আমি মনে করি, ইনারা যাতে না মিলে যায়, সেজন্য ইনাদের মাঝখানে কিছু তৈলাক্ত মানুষ আছে, যাদের কাজ তেল মারা। বড়দের বিভক্তির কারণে তৈলাক্তদের একটা পজিশন হইছে। এরা উনাদের মত উঁচু তবকার বুজুর্গদের সামনে বেয়াদবের মত বসতে পারে। কিন্তু বড়রা মিলে গেলে এই সমস্ত দালালদের উনাদের জুতার উপরেও বসার জায়গা হবে না। তাই তারা মিলতে দিচ্ছে না।

শুনেন মিলন ভাই একটা বাস্তব কথা বলি, নব্বইয়ের দশকে আমিনী সাহেব রঃ এর লালবাগ মাদ্রাসা এবং আল্লামা আজিজুল হক সাহেবের মাদ্রাসার মাঝামাঝি জায়গায় এক ভন্ড পীরের মজমা হবে, হযরতদ্বয় বললেন, না এটা হতে দেয়া যায় না। প্রতিহত করা হবে।
মুফতি মুনির সাহেব বলেন যে, আমরা সাত আট হাজার ছাত্র অমুক জায়গায় অবস্থান করতে ছিলাম, মুফতি আমিনী রঃ আমাকে নাস্তার আগে আগে গিয়ে বললেন যে, তোরা কত জন আইছস? নাস্তার জন্য কত লাগবো? আমি একটা এমাউন্ট বললে উনি আরো বাড়তি এমাউন্ট আমাকে দিয়ে দিলেন।
এরই মধ্যে আল্লামা আজিজুল হক রঃ উক্ত মসজিদে আসলেন, উনি যেমনি জুতা খুলে মসজিদে পা রাখছেন, মুফতি আমিনী সাহেব দৌড়িয়ে গিয়ে আল্লামা সাহেবের জুতা হাতে নিলেন। আল্লামা সাহেব বললেন, এই ফজলু তুমি জুতা হাতে নিছ কেন? একটা ছাত্রকে দেও। অামিনী সাহেব বলেছেন, না হুজুর আজকে একটা সুযোগ পাইছি!
আল্লামা আজিজুল হক সাহেব তখন আবেগে মুফতি আমিনী সাহেবকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন , আসলে দেখ ফজলু, আমার বুকটা যদি ফাইড়া দেখাইতে পারতাম, তুমাকে আমি কতটুকু ভালবাসি ! তাহলে ঠিকই বুঝতা। শুন তোমার আর আমার মাঝখানে কিছু লোক আছে, যারা আমাদের মিলে যাওয়া পছন্দ করেনা।

এখন এক ভাইয়ের এক গল্প বলে লেখা শেষ করি —

উনি এলাকার বড় ভাই।

ছেলেরা ও ছেলেদের বাবারা সকলেই উনাকে বড় ভাই বলে ডাকেন।
মহান আল্লাহ উনাকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দান করেছেন।

তিনি কোন ফসল বা গৃহ পালিত পশুর দিকে তাকিয়ে যদি বলেন, বাহ্ ফলনটা তো বেশ হয়েছে! বলদটাতো খুব সুন্দর! তাহলেই খাল্লাস !! কাম হইছে!!!

পরদিন দেখা যাবে ফসলটা আগুনে জ্বলসে গেছে! হালের বলদটা মরে মরে অবস্থা।
এমনি উনার কেরামতি!
এমন বড় ভাই সব এলাকাতে দু’এক পিস থাকেন।
গ্রামের মানুষ তাদের বদ নজর থেকে ফল ফসল রক্ষা করতে ফসলী ক্ষেতে পুরাতন ঝাড়ু, ভাঙ্গা পাতিল, ছেড়া জুতা ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখেন।

সৌভাগ্য বশতঃ! আমাদের ””””” অঙ্গনে এমনসব বড় ভাইদের উৎপাৎটা একটু বেশী।

এবার এদের সু নজর(!) পড়েছে তাবলীগ জামাতের উপর।

বড় ভাইয়েরা যখন দেখেই ফেলেছেন, কিছু একটা হবেই। এমনটা বিশ্বাস না করলে তাদের প্রতিভার প্রতি অবিচার করা হবে।

ইশ্ যদি তাবলীগ জামাতটা কোন ফসলী জমি হতো!

দু একটা ঝাড়ু গোটা বিশেক ভাঙ্গা হাড়ি পাতিল তুরাগ তীরে লটকিয়ে দেয়া যেতো!!

#কালেক্টেড

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম মিলন

Advertisements

One thought on “ইশ্ যদি তাবলীগ জামাতটা কোন ফসলী জমি হতো!

Leave a Reply