“দাওয়াত ও তাবলীগের” বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।fb_img_1518987111843-12876699.jpg

আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,
“একদিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর কাছে ছিলাম এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি, ‘এমন কিছু রয়েছে, যেটির ব্যাপারে আমি আমার উম্মাহর জন্য দাজ্জালের অপেক্ষাও অধিক ভয় করি।’
.
তখন আমি ভীত হয়ে পড়লাম, তাই আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ’র রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি কোন জিনিস, যার ব্যাপারে আপনি আপনার উম্মতের জন্য দাজ্জালের চাইতেও অধিক ভয় করেন?’
.
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘পথভ্রষ্ট আলিমগণ।’ ”
[মুসনাদ আহমাদ, হাদীস ২০৩৩৫]
.
ওপরের কথাগুলো আবার পড়ুন। এবার একটু চিন্তা করুন দাজ্জালের ফিতনা আসলে কতো বড় ফিতনা। আল-মাসীহ আদ-দাজ্জালের ধোঁকায় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিভ্রান্ত হবে। মুসলিমদের অধিকাংশও বিভ্রান্ত হবে। একজন মানুষ নিজেকে মুসলিম মনে করে তাকে দেখতে যাবে, কিন্তু তাকে দেখে কাফির হয়ে যাবে। অথচ তার কপালে “কাফির” লেখা থাকবে। দাজ্জালের সাথে জান্নাত-জাহান্নাম থাকবে, যা দেখে সত্য মনে হবে।
.
সে আকাশকে আদেশ করবে, এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টি হবে। সে যমিনকে আদেশ করবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় জমি ফসল দেবে। তাকে এরকম আরো অনেক অবিশ্বাস্য কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হবে। তাকে দেয়া হবে প্রচন্ড ক্ষমতা। এমন কোন নবী পাঠানো হয় নি, যিনি তাঁর উম্মাহকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেননি। অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আদম আলাইহিস সালাম থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ফিতনাহ, বড় পরীক্ষা হলো দাজ্জাল।
.
অথচ রাসূলুল্লাহই ﷺ আমাদের জন্য দাজ্জালের চেয়েও বেশি ভয় করতেন দুনিয়ালোভী ‘আলিমদের। কেন? কেন এসব ‘আলিমরা উম্মাহর জন্য এতো ক্ষতিকর যে, এ ফিতনাহকে দাজ্জালের সাথে তুলনা করা হয়েছে, এমনকি আরো গুরুতর বলা হয়েছে?
.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এসব ‘আলিমদের জিভ বের করে হাঁপাতে থাকা কুকুরের সাথে তুলনা করেছেন। কুর’আনে আরেক জায়গায় এদের তুলনা করা হয়েছে অনেক বইয়ের ওজন বহন করা গাধার সাথে। কেন এতো কঠিন ভাষা ব্যাবহার করা হল?
.
আপনি যাদেরকে ‘ইলমের কারণে অনুসরণীয় আর সম্মানিত মনে করছেন, তারা কি আসলেই ‘ইলমের হক্ব আদায় করছেন? ‘ইলম অনুযায়ী আমল করছেন? সত্যকে প্রকাশ করছেন না, বরং সত্যকে চেপে রাখছেন? এবং বাতিলের বিরুদ্ধে নিজের নিস্ক্রিয়তার মাধ্যমে এবং বাতিলের অবস্থান নিয়ে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করছেন না? তারা কি তাগুত বর্জনের কথা বলছে? মিল্লাতু ইব্রাহিম আর আল ওয়ালা ওয়াল বারা’র শিক্ষা দিচ্ছে? নাকি তাগুতের প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা দিচ্ছে? দুনিয়ার বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্যে আল্লাহর আয়াতসমূহ বিকৃত করছে? যুগের ফির’আউন, নমরুদ আর হুবালের সামনে অধোমুখে বসে আছে?
.
লালা পড়তে থাকা কুকুর আর গাধার সাথে তুলনীয় এই ‘আলিমরা কারা? তাদের বৈশিষ্ট্য কী কী? চিন্তা করুন তো, আপনি কি এই ভয়ঙ্কর ফিতনা থেকে নিরাপদ?

Advertisements

Leave a Reply