“দূর হোক সংশয়, ইজতেমায়িয়াতের মধ্যেই রহমত”

দূর হোক সংশয়
ইজতেমায়িয়াতের মধ্যেই রহমতBangalwali_Masjid_Nizamuddin_Markaz_India.jpg……

টংগি ইজতেমা ২০১৭তে ১ম ধাপে মাশোয়ারার শেষ পর্যায়ে কুয়েতের শুরা জনাব শেখ মুসলে দাঁড়িয়ে আদবের সাথে কিছু বলার অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর জনাব শেখ মুসলে অত্যন্ত নম্র ও বিনীতভাবে উনার কথা শুরু করেন। নিচে উনার কথার অনুবাদ তুলে ধরা হলো-
হামদ ও সানার পর আমি কথা শুরু করার আগে আপনাদের সবার কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি। মেহেরবানি করে আপনারা সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন, আপনাদের সময়কে দীর্ঘায়িত করার জন্য।
সমস্ত সাহাবা কেরাম রা. এই কথার উপর মোত্তাফেক (এক মত) ছিলেন; যে, ইজতেমায়িয়াত রহমত আর ইখতেলাব বা ইন্তেসার মুসিবত।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা. বলেন, উম্মতের মধ্যে ইজতেমায়িয়াত রহমত আর ইখতেলাফ মুসিবত।
কোনো লোক বা সাথীই নবীওয়ালা এই কাজের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, বড়ত্বকে অস্বীকার করতে পারে না। নিজের ঘরওয়ালাদের জন্য, নিজের মহল্লাওয়ালাদের জন্য, নিজের জন্য, পুরো উম্মতের জন্য কোনো মানুষ এই কাজের আহমিয়াত ভুলতে পারে না, এই কাজ হতে গাফেল হতে পারে না।
আল্লাহ তা‘আলার আজমত এবং কিবরিয়া বয়ান করছি। এই জন্য যে, আল্লাহ পাকের শান বড়। উনি ইসলাহ কারী। এজন্য উনার প্রসংশা করি, উনার বড়াই বয়ান করি। উনার তাজিম বয়ান করি। এভাবে আমরা আমাদের পিতা-মাতাকে সম্মান করি। উনাদের ইজ্জত করি। এভাবে এই আজিম কাজের সিলসিলার মধ্যেও আমাদের সবার দীলে এই কাজের আজমত আছে, আর আজমত হওয়া চাই। এই কাজের আহমিয়াত আমাদের দীলে হওয়া চাই।
হাজী আব্দুল ওহাব সাহেব দা.বা. সারা দুনিয়ার সবাইকে এখন মোতোয়াজ্জ করছেন। বারবার সারা দুনিয়াকে বলছেন, নিজামুদ্দিন যাও। ওখানের চার দেওয়ালের মধ্যে শ্বাস নিলেও তোমার ঈমান বাড়বে। বারবার এই কথা বলছেন।
এই সময় যেখান থেকে এই কাজ সারা দুনিয়া পেয়েছে, সেখানের আজমত সবার দীলে হওয়া চাই। এভাবে সারা দুনিয়ার রুজু ঐ জায়গার প্রতি হওয়া চাই। কারণ আল্লাহ ঐ জায়গাকে মুন্তাখাব (নির্বাচন) করেছেন।
দুই আলেমের মাঝে যে বড় আলেম, যার এই কাজের সাথে তায়াল্লুক নেই; তিনি অন্য জনের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, কী কারণে এই কাজে কবুলিয়াত, এই কাজের আহমিয়াত? সারা দুনিয়ার মধ্যে এই কাজ আম হওয়ার, প্রসার লাভ করার কী আহমিয়াত?
দ্বিতীয় জন বললেন, এই মেহনতের মধ্যে ইত্তেহাদি কলেমা আছে। সবার দীলে ইজতেমায়িয়াত আছে। আপোষে মুহাব্বত আছে। যে কারণে এই কাজে শক্তি অর্জিত হয়। একই জায়গা এবং একই মার্কাজ থেকে কাজ হচ্ছে। এই জন্য এই কাজে শক্তি আছে। এই জন্য এই কাজ সারা দুনিয়াতে আম (সাধারণে প্রসার) হচ্ছে।
মাওলানা ওমর সাহেব পালনপুরি রহ. এবং মাওলানা এনামূল হাসান রহ-এর যুগে আমি নিজামুদ্দিনে লম্বা সময় লাগিয়েছি। এরপর বারবার আমি নিজামুদ্দিন গিয়েছি।
আমার কাছে মাওলানা ওমর সাহেব নিজেই জানতে চেয়েছেন যে, কবে এই কাজে ইন্তেসার আসবে? এরপর তিনিই বলেন, যখন নিজামুদ্দিনের সাথে সাথীদের বা মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।
এখানে এখন আমাদের আরব মাশায়েখ, উলামা, পুরানো সাথী সবাই উপস্থিত। আমরা সবাই এক মত আছি যে, যেখানের সাথে আমাদের সমস্ত বড়রা জুড়ে ছিলেন আমাদের ঐ সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। নিজামুদ্দিনের যে শূরা উনাদের সাথে আমাদের জুড়ে
চলতে হবে। নিজামুদ্দিনের জিম্মাদারের সাথে জুড়ে চলতে হবে। সারা আরবের সবাই আমরা এই ব্যাপারে একমত। অন্য সবার কাছে আমার দরখাস্ত যে, সবাই বাংলাওয়ালী মসজিদ নিজামুদ্দিনের সাথে জুড়ে চলেন। তখন উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলেন, ইনশাআল্লাহ।
এরপর কুয়েত, কাতার এক এক করে তাদের স্বীকারোক্তি দেওয়া শুরু করলে হজরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব উনাদের থামিয়ে দেন। যে, এভাবে এক এক করে বলার কোনো দরকার নেই। আল্লাহ আপনাদের জাজায়ে খায়ের দান করেন।
বিভিন্ন কারণে যারা তখন উপস্থিত থাকতে পারেন নি উনাদের মধ্যে ড. জাহাব, শূরা সুদানও ছিলেন। তিনি ক্ষুদে বার্তায় জানিয়ে দেন–সমগ্র বিশ্বের জিম্মাদাররা আপনার আমিরত্বকে মেনে নিয়েছেন। এই জন্য মোবারক বাদ। আমরাও নিজামুদ্দিনের সাথে আছি। আমাদের মার্কাজও (হেড অফিস) নিজামুদ্দিন।
সুদান, মরক্কো, জর্ডান, ইয়েমেন, লেবানন, ওমান, উগান্ডা ইত্যাদি দেশে এক আমির নেত্রীত্বে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ চলছে। বিভিন্ন কারণে উনাদের মধ্যে কেউ কেউ আসতে পারেন নি। উনাদের মধ্যে অন্যতমহলেন, শেখ জাকারিয়া (আমির, ফিলিস্তিন)। তিনি প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন শেখ রিয়াদকে। উনার মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, আমিও সারা দুনিয়ার সাথে একমত হয়ে হযরত মাওলানা সা‘আদ সাহেবের আমিরত্বকে মেনে নিয়েছি।
পরের দিন সকালে ফজর বাদ ইন্টারন্যাশলান মাশোয়ারার কামরায় সারা দুনিয়ার জিম্মাদার সাথীদের সাথে মোজাকারা করেন হযরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা.। উনার মোজাকারার পর আমেরিকার ডালাসের সাথী আব্দুর রহমান (হায়দারাবাদী) বলেন হযরজতী মাওলানা এনামুল হাসান রহ.-এর সময় থেকেই আমি নিজামুদ্দিন যাচ্ছি। উনার মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০ বছর। এরপর থেকে আমি প্রতি ২ বছর পর পর নিজামুদ্দিন আসা-যাওয়া করছি। নিজামুদ্দিনের আমার আসা-যাওয়া শুধুমাত্র শুধুমাত্র ইউসুফ রহ.-এর মালফুজাত মোতাবেক। সে জন্য আমি যাই।
আমি ১৯৬০ সাল থেকে এই কাজে লেগে আছি। আমি মাওলানা ইউসুফ রহ.-এর যুগকে দেখেছি। মাওলানা এনামুল হাসান রহ-এর যুগকেও আমি দেখেছি। ৪৫ বছর আগে আমি আমেরিকায় গিয়েছি। ঐসময় সেখানে দ্বীনের কোনো পরিবেশ ছিল না। ঐ সময় থেকে দ্বীনের উপর জমে থাকা, দ্বীনের উপর টিকে থাকা, এই কাজের ফিকির নিয়ে চলা, এই কাজের সাথে জুড়ে থাকা-এগুলো একমাত্র একমাত্র নিজামুদ্দিনের সাথে জুড়ে থাকার কারণে সম্ভব হয়েছে।
প্রতি ২ বছর অন্তর নিজামুদ্দিনে যাওয়া-আসার কারণে আমার এবং আমার বাচ্চাদের, আমার ঘরেরও এই কাজের সাথে সম্পর্ক আছে। আমি দেখেছি,এমন অনেক লোক যারা প্রথমে অনেক কোরবানি দিয়েছে। কিন্তু উনাদের সম্পর্ক নিজামুদ্দিনের সাথে না থাকার কারণে উনার নিজের সম্পর্ক এবং উনার ঘরওয়ালাদের সম্পর্ক এই কাজের সাথে আর পরে থাকে নি।
দ্বিতীয় কথা হলো,শুরু থেকে প্রত্যেক যুগে এক আমির ছিল, এক হযরতজী ছিল। এই সময়ও একই আমির থাকা চাই। একই হজরতজী হওয়া বা থাকা চাই। সেই আমির মাওলানা সা‘আদ সাহেব এবং হজরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব। তাই এখন এই কথা বুঝা দরকার যে, এখন থেকে মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা.-কে হজরতজী বলে সম্বোধন করা হবে। আমরা সবাই উনাকে হযরতজী মাওলানা সা‘আদ সাহেব দা.বা. বলে সম্বোধন করব। আমি খুব বিনয়ের সাথে আপনাদের কাছে আরজ করলাম। আপনারা গভীরভাবে একে চিন্তা করবেন। এর দ্বারা আমাদের তরক্কি হবে। এই কাজে আমি জমে থাকব। আল্লাহ আমার এখানে আসাকে কবুল করেন। আমিন।

Advertisements

2 thoughts on ““দূর হোক সংশয়, ইজতেমায়িয়াতের মধ্যেই রহমত”

Leave a Reply