“আলমী শুরা, আলমী মারকাজ, আলমী ফিতনা, আলমী বিদ্রোহী ইত্যাদির ঠিকাদারি”

প্রশংসা, সুনাম ও সম্মানের লোভ কে বলা হয় হুববে জাহ। এই লোভ মনে এলে অন্যের প্রশংসা, সু-খ্যাতি ও সম্মান দেখে মনে আগুন জ্বলে উঠে, হিংসা লাগে এবং অন্যের অপমান বা পরাজয়ের কথা শুনলে মনে আনন্দ জাগে। এমনি ভাবে অন্যের খারাবী এ রোগের কারণে দেখা দেয়।

বর্তমান সময়ে হজরত মৌলানা সাদ কান্দালভী দাঃ বাঃ সাহাব কে নিয়ে স্বনামধন্য কিছু সংখ্যক উলামা এই রোগে আক্রান্ত। কারও জ্ঞান, বুদ্ধি, সম্পদ, মান ইজ্জত, সুখ সাচ্ছন্দ, ইত্যাদি ভালো কিছু দেখে মনে কষ্ট লাগা এবং আকাঙ্খা হওয়া যে, সেটা না থাকুক বা ধ্বংস হয়ে যাক এবং তা হয়ে গেলেই মনে আনন্দ লাগা এই মনুবৃত্তকেই বলা হয় হাসাদ, সাধারণতঃ তাকাব্বুর বা শত্রুতা থেকে এই মনোভাব সৃষ্টি হয় কিংবা কারও মন যদি খবিস হয় তাহলে এই মনোবৃত্তি জেগে থাকে। এই রোগে যাদের থাকে তাদের নেক আমল নষ্ট হয়ে যায় এবং আল্লাহর ক্রুধের পাত্র হতে হয়। হিংসুক বেক্তি চিরকাল মনের কষ্টে কাল যাপন করতে থাকে। জীবনে কখনো শান্তি পায়না। বর্তমান এই রোগের রুগী দৃশ্যমান।

নিঃসন্দেহে হজরত মৌলানা সাদ কান্দালভী দাঃ বাঃ কে আল্লাহ সুবহানাহু তালা আলমী মার্কেজের আলমী জিম্মাদার বানিয়েছেন এটা কিছু সংখকের সহ্য হচ্চে না।

সীরাতে মুস্তাকিমের উপর পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত উলামাদের মাঝে মতপার্থক্য হলেও বিভেদ-বিচ্ছিন্নতার কোন আলামত প্রকাশিত হয়না।
উলামগনের মধ্যে থেকে কিছু সংখ্যক উলামগন বাড়া বাড়ির চরম সীমায় পৌছিয়েছে এবং যাহা দৃশ্যমান।

আল্লাহর রাসূল(সঃ), খোলাফায়ে রাশেদিনদের সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামদের তরিকাকে বিভেদ থেকে বাঁচার মানদন্ড বলেছেন। অথচ তাদের মাঝেও মতপার্থক্য হয়েছে, কিন্তু এ কারণে বিভেদ হয়নি এবং প্রীতি ও সম্পৃতিও নষ্ট হয়নি। তাদের দিল অভিন্ন ছিল।

ঐ ইখতিলাফ তাদের ইজতিয়ামি জিন্দেগীতে কোন প্রকারের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেনি। দলিল ও ইজতিহাদভিত্তিক মতপার্থক্য বিভেদ বিচ্ছিন্নতা নয়। কিন্তু যদি কেউ ইখতিলাফ কে বিভেদের কারণ বানায় তাহলে সেটা তার অজ্ঞতা যা সংশোধন করা ফরজ।
ইখতিলাফে মাজমুম (নিন্দিত ইখতিলাফ) তো গুঁড়াথেকেই বিভেদ-বিচ্চিন্নতার শামিল। এই ইখতিলাফের পর যতই ঐক্যের প্রদর্শনী করা হোক এবং প্রীতি ও সম্প্রীতির আহবান জানানো হোক কিংবা বাস্তবেও তা করা হোক সর্বাবস্থায় তা বিচ্ছিন্নতা। প্রীতি ও সম্প্রীতির দ্বারা দ্বীনের ক্ষেত্রে বিভেদ-বিচ্চিন্নতার খারাবি দূর হয়না; বরং আরো বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে ইখতিলাফে মাহমুদ (নন্দিত ইখতিলাফ) বিভেদ-বিচ্ছিন্নতা নয়, কিন্তু যারা তাকে বানায় সে নিজে বিচ্চিন্নতার শিকার। তার উপর ফরজ ইখতিলাফের নীতি ও বিধান সম্পর্কে জানা এবং সকল ইখতিলাফকে স্ব স্ব পর্যায়ে রাখা।

এমন মনে হচ্ছে যে আলমী শুরা, আলমী মারকাজ, আলমী ফিতনা, আলমী বিদ্রোহী ইত্যাদির ঠিকাদারি বাঙালী ড. আওয়ালকে গত আনুমানিক ২ বছর আগে আমেরিকার নিউইয়র্কে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জন্য দেওয়া হয়েছে। যখন থেকে আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়েছে, তখন থেকে দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে ভালবাসা, মহব্বত ও যোগাযোগ কমতে শুরু করেছে। মাসওয়ারার আগে ও পরে মাসওয়ারা না করার বিধান রসূল(সাঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত। যা দাওয়াতে তাবলীগে সব সময় চলে আসছে। এর ফলে দাওয়াতে তাবলীগে সামান্য ৩ দিন সময় দিয়ে এক নতুন সাথীর দিলও আল্লাহতালার রহমতে পরিবর্তন হয়, তার দিলে অচেনা আর এক সাথীর জন্য ভালবাসা, মহব্বত পয়দা হয়। অথচ যখন গত ২ বছর আগে প্রথম নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড প্রথম আলমী শুরার ফেৎনা শুরু হয়, তখন অবস্থা দেখা গেল আইয়ামে জাহেলিয়াত এর যুগ এসেছে। নিউইয়র্কে নিযামুদ্দিনের মারকাজ “মসজিদ আলফালাহ” রাতারাতি বনে গেল আলমী ফেৎনার প্রথম ওয়ার্ল্ড মারকাজ। মসজিদ আলফালায় তরতিবের বাইরে মাসওয়ারার আগে-পরে মাসওয়ারা। নিউইয়র্কের ব্রনক্স, ওজোনপার্ক, কুইন্স এলাকার সদ্য আলমী শুরা বনে যাওয়া দাওয়াতের সাথীগন নিযামুদ্দিনের অনুসারী বলে চলা সাথীদের সহিত এক মসজিদে একই কাতারে পাশাপাশি দাড়িয়ে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিল। ভালবাসার পরিবর্তে মুসলমানে, ভাইয়ে-ভাইয়ে ঘৃনা শুরু হলো। বক্তব্য- পাল্টা বক্তব্য, মারকাজ দখল তথা মসজিদ দখল, হিংসা, চোখরাঙানী, গীবত, মিথ্যাচার ইত্যাদি হয়ে উঠলো নিত্য দিনের আমল। মুখথুবড়ে পড়ল ১০০ বছরের মোবারক মেহনত। তরতিবের বাইরে আগাছার মতো আলমী শুরা ঘরনার নতুন মারকাজ হিসাবে খ্যাতি পেল ব্রনক্স সেন্ট পিটারসের “বাইতুল মামুর” মসজিদ, যেখানে আলফালাহর মতো অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হলো নিযামুদ্দিনের সাথীদের।

এর পর ২০১৮ তে একই নিয়মে ড. সাহেবের বাংলাদেশ মিশন শুরু হলো। যার রেশ কোথায় যেয়ে শেষ হবে?

Advertisements

4 thoughts on ““আলমী শুরা, আলমী মারকাজ, আলমী ফিতনা, আলমী বিদ্রোহী ইত্যাদির ঠিকাদারি”

Leave a Reply