*কোন পথে ছুটে চলছি আজ আমরা?*

*কোন পথে ছুটে চলছি আজ আমরা?*

১.

ইতিহাসের পুনারবৃত্তি। এই খেলা আমরা আগেই দেখে এসেছি।

২০১৩ তে যখন কওমী মাদরাসা স্বীকৃতি আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছিলেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা.। তখনও এই পরিস্থিতিই আমাদের সামনে ছিলো। লাখ লাখ লাশ ফেলা হবে। গৃহযুদ্ধ বাঁধবে দেশে। সেদিনের অপরিণামদর্শীতা আর হিংসার ভাটা আমাদের আমাদের টেনে নিয়ে গেছে জনৈক বেদাতী জজ সাহেবের পায়ের তলে।

এবার তো অবস্থা আরো সংগীন। আলেমরা নাকি হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন, ‘গুন্ডামী’ করছেন (আল্লাহ্‌ তা’আলা রক্ষা করুন)।হাজার হাজার ছেলেপেলেকে নাকি প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেভাবে সশস্ত্রবাহিনীকে সরকার প্রধান প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। অন্যরকম পুলক অনুভব হচ্ছে তরুণদের। সেদিনের যে সরকার, আজো সে সরকার। সে ফলাফলই আজো।

কিন্তু এই ‘গুন্ডামির’ অপবাদ জুটল কেমন করে আর মিটবে কেমন করে?

২.

হযরত মাওলানা সা’দ কান্ধলবী দা.বা.-এর মৌলিক অবস্থানকে অনেকে পদপ্রেমী অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত করতে চাচ্ছেন। সেই সাথে ইনিয়ে-বিনিয়ে ‘খান্দান দিয়ে কি হবে?’ এই প্রশ্নও তুলছেন জোরেশোরে।

বিস্তারিত আলোচনা এখানে ফায়দাবিহীন। শুধু একটু ভাবনার খোরাক জুগিয়ে যাই। আল্লাহ্‌ তা’আলা কুর’আনে কারীমে উল্লেখ করেছেন, “যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানসন্তুতিরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের সন্তানসন্তুতিদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করবো না”। ( সূরাঃ আত-তূর, ২১) এই আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস (রাদি.) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা’আলা মু’মিনদের সন্তানসন্তুতিদের অবশ্যই তাদের মর্যাদার স্তরে অভিষিক্ত করবেন, যদিও তাদের আমলে কমতি থাকে। (তবারী ও অন্যান্য কিতাবাদি দ্র.) আমরা নিশ্চয় এখনো হযরত মাওলানা সা’দ কান্ধলবী দা.বা. কে কাফের বানিয়ে দেইনি, দিয়েছি কি?

বিষয়টি যখন একটি কাজ পরিচালনার, একটি সাংঘঠনিক কাঠামোর নেতৃত্বদানের, তখন তো খান্দানের প্রশ্ন অবধারিত ভাবেই এসে পরে। মানুষের প্রাকৃতিক স্বভাবই হলো, সে নেতা খুঁজে নেয়। আর দশটা লোকের চেয়ে উঁচু বংশের বা নেতৃত্ব দিয়ে আসা বংশের লোকের প্রতিই সে ঝুঁকে। দেখুন না, হাজার হাজার যুবক সাহবায়ে কেরামের (রা.) মাঝে জান্নাতের যুবসর্দার হবেন সারওয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পৌত্র। নারীদের নেতৃত্বও তাঁরই সন্তানের হাতে আল্লাহ্‌ তা’আলা দিয়েছেন। কুফাবাসী নেতৃত্ব শূণ্যতায় তাঁর সন্তানের দিকেই ঝুঁকে ছিলো।

আমরা যারা তাবলীগ হযরতজী ইলিয়াস রহ. এর কর্মপন্থায় চলছে না বলে চিন্তিত, দিনশেষে কিন্তু আমাদের কাউকে তাঁর পাশের আসনে দেখা যাবে না। মাওলানা সা’দ কান্ধলবীকেই সেখানে দেখা যাবে।

এতোকিছুর পরও মাওলানা সা’দ দা.বা.-এর কাজের সাথে জুড়ে থাকার কারণ উপলব্ধি করতে হলে আমাদের ইতিহাসের আশ্রয় নিতে হবে। এ কথা পরিষ্কার, আমরা আকাবিরের জীবন থেকে নজীর খুঁজি, তুলনা করি না। নিতান্তই পাগল না হলে কেউ সাহাবায়ে কেরামের সাথে তুলনা দিতে যাবে না। অবশ্য আজকাল যেহেতু বাংলাদেশের আলেমরা একেঅপরকে পাগল আখ্যা দিচ্ছেন, তাই আগেই দায়মুক্তি দিয়ে নেয়া ভাল।

হযরত উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু। সাধারণ মানুষের মাঝে তৃতীয় শ্রেষ্ঠতম মানব। আজকাল যেভাবে মাদরাসার ছাত্ররা কাকরাইল মসজিদ ঘেরাও করে রেখেছে, সেযুগেও মুনাফিক আর ফেতনাবাজরা হযরত উসমান (রাদি.) কে ঘেরাও করে রেখেছিলো। তিনি কিন্তু পারতেন সবকিছু ছেড়েছুড়ে মদিনার বাইরে চলে যেতে। কিন্তু তিনি মৃত্যুর মুখেও দায়িত্ব ত্যাগ করে যাননি।

চতুর্থ শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি হযরত আলী (রাদি.)। তিনিও তাঁর খিলাফতে অনাস্থা প্রকাশ পাওয়ার পরও কার্যভার ছেড়ে দেননি। এখন কেন যাননি, কেন ছাড়েন নি এসব আলোচনার একে তো এখানে প্রয়োজন নেই, দ্বিতীয় এসব আলোচনা করতে গেলে পা হড়কানোর ঝুঁকি থাকে। এখানেও কিন্তু খান্দানের কথা চলে আসে। অবরোধের এক পর্যায়ে হযরত উসমান (রা.) কে রক্ষা করতে হযরত আলী (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই নাতিকে পাঠান। তাঁদের দেখে সেদিন আর কেউ পা বাড়াতে সাহস পায়নি। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ফেতনার সূচনা একদিন পিছিয়ে গিয়েছিলো পবিত্র রক্তের বাহক, স্রেফ খান্দানের কারণে।

মাওলানা সা’দ সাহেবকে সরিয়ে দিয়ে আমরা কি আরো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় টেনে আনছি না?

৩.

‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ কিংবা ‘দুধের দেওবন্দের চেয়ে ঘোলের দেওবন্দের আজ্ঞা বেশি’- গোটা পরিস্থিতিই আজ এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের কথা চিন্তা করুন। মাওলানা সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে তখন সদ্য জারী হওয়া ফতওয়া। দারুল উলূম দেওবন্দ এই ফতওয়া প্রদান করেছে। মাওলানা সা’দ সাহেবের সুস্পষ্ট কোন রুজুও নেই, দেওবন্দ তখনো কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও তওবা তো কেবল রাব্বুল ইজ্জাতের কাছে। এবং, দেওবন্দ তাঁকে বাঁধাও দেয়নি বাংলাদেশের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে। দেওবন্দ তাঁকে ইজতেমায় বয়ান করতে নিষেধ করেনি। দেওবন্দ তাঁকে কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে মুনাজাত করতেও নিষেধ করেনি। তখনোও না, এখনও না। এবছর ভারতের সবচে বড় ভূপাল ইজতেমায় মাত্র দিনকয়েক আগে মাওলানা সা’দ সাহেব অংশগ্রহণ, বয়ান ও মুনাজাত করে এসেছেন। দেওবন্দ কোন কিছুতেই তাঁকে নিষেধ করেনি। নিষেধ তবে করলো কারা?

যে দেওবন্দ উম্মতের তরে তাঁর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়েছে, সেই দেওবন্দের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য তাঁকে বাঁধা দেয়া ও নিষেধ করা। ইতিহাস সাক্ষী, দেওবন্দ কখনো তাঁর দায়িত্ব আদায়ে, কর্তব্য পালনে পিছপা হয়নি। দেওবন্দ মনে করেছে মাওলানা সা’দ সাহেবের বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে হবে, দেওবন্দ করেছে। দেওবন্দ মনে করেনি মাওলানা সা’দ সাহেব ইজতেমায় অংশগ্রহন করতে পারবেন না, দেওবন্দ নিষেধ করেনি। করলো তবে কারা?

আমরা। আমরা করেছি। দেওবন্দ তাঁর নিজের ফতওয়া বুঝেনি, বুঝেছি আমরা। দেওবন্দ তাঁর ফতওয়ার আজ্ঞা পালন করেনি, করেছি আমরা। আর তা করছি দেওবন্দের নামে।

দেওবন্দের অপমান, দেওবন্দের প্রতি অনাস্থা, অশ্রদ্ধা আর তাচ্ছিল্য প্রকাশ করলেন কে? দেওবন্দের অনাপত্তি মেনে-অনুসরণ ইজতেমায় যোগ দিতে এসে হযরত মাওলানা সা’দ কান্ধলবী দা.বা. নাকি দেওবন্দের নাম ভাঙিয়ে তাঁকে আটকে দিয়ে আমরা?

৪.

জামায়াতে ইসলামী। উলামায়ে কেরাম বলেন, সমস্ত বাতিলের সম্মিলন এই জামায়ত। দেওবন্দ ও দেওবন্দী মাদরাসাগুলোর চিরশত্রু। এদের ইন্ধনে মাদরাসার ছেলেপেলেরা জামায়াতের মোকাবেলায় উৎসর্গপ্রাণ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. এর বিরুদ্ধে তাদের কলম ধরেছিলো। এদের প্রশ্রয় দেয়ার জন্যও অনেকে ছিলেন। তখন সবসময় বলা হতো, এদের অবুঝ শিশুসুলভ আচরণকে প্রশ্রয় দিয়ে গোটা কাঠামোর বিপদ ডেকে আনছেন। কেউ কথা শোনেনি। তেত্রিশ বছর পার হয়নি, তার আগেই একদিন এদের কলম ক্ষুর হয়ে হানা দিলো হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী দা.বা. এর সত্ত্বায়। আর আজ তো বড় বড় আলেমদের দিল চেরা ছেলেদের হাতের খেলা। শব্দের মোড়ক পরানোর দরকার নেই, কোন কাজের সমালোচনা এক জিনিস, ব্যাক্তি সমালোচনা এক, আর গালাগালি আরেক জিনিস। আমাদের ছেলেরা এখন ব্যাক্তি সমালোচনার পার হয়ে আলেমদের গালাগালিতে অভ্যস্ত। এমনটা তো হওয়ার কথা ছিলো না। কর্ম-সমালোচনা আগেও ছিলো, থাকবে। এটা মানুষের প্রবৃত্তি। তারপর এদের গুরু ও ইন্ধনদাতাদের কলম যেদিন একজন খলীফায়ে মাদানীর বিরুদ্ধে চললো, সেদিন সবার উপলব্ধি হলো। কিন্তু ততোদিনে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। মানুষের জীবনে কিছু আড় থাকে। লজ্জার আড়, মুখের আড়। এগুলো কখনো ভাঙ্গতে নেই। একবার ভেঙ্গে গেলে এগুলো মেরামত করা প্রায় অসম্ভব।

এমনি এক বিপদ এখন আমাদের সামনে। আমরা আমাদের ছেলেদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছি একজন আহলে হক আলেমে দীনের বিরুদ্ধে। এর পরিণাম কখনোই ভাল হওয়ার নয়, কখনোই না।

বাংলাদেশে এক আলেমের অপর আলেমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করার রেওয়াজ আছে। তারপরও অর্পিত দ্বীনি দ্বায়িত্ব পালণার্থে অবাঞ্ছিত অঞ্চলে সবাই যায়। বলাবাহুল্য, ঘোষনা দেয়া সেই আলেমেদ্বীন নিজেও চাননা কেউ সত্যিই অপরজনকে প্রতিহত করুক, কখনোই চাননা কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নামুক। সদ্য বিভক্ত হওয়া একটি রাজনৈতিক দলের বিভাজনের হাওয়া সবে তখন বইতে শুরু করেছে। একপক্ষের দুই কর্মী একদিন কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলো। বলছিলো, পার্টি অফিস আমাদের দখলে। ‘উনি’ যদি পার্টি অফিসে আসেন তবে পা ভেঙ্গে দেবো। ঐযে, মুখের আড় ততোদিনে ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু সে কখনোই এটা করতে সাহস পেতো না। তার ভেতর থেকেই জিনিসটা আসত না। কারণ সেই ‘উনি’ একজন আলেম। কিন্তু আজ, সে এরচেয়ে বড় একজন আলেমের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে গেছে। তার সেই আড়টা ভেঙ্গে গেছে। এখন সে সত্যিই ঘৃন্যকাজটা করতে অগ্রসর হতে পারে, অন্তত তার সুকোমলবৃত্তি এখন আর তাকে বাঁধা দিবে না।

এই আশংকাকে আপনার আমলে নেয়ার কোনই প্রয়োজন নেই। তবে একান্তই যদি নিতে চান, তবে আপনাকে সহায়তা করবে এই পাথেয়তেই সপ্তাহখানেক আগে প্রকাশিত একটি লেখা যেখানে, যারা মাওলানা সা’দ সাহেবের রুজুর পর সব ঠিক হয়ে গিয়েছে বলে ভাবছিলেন, তাঁদের বলা হয়েছিলো ‘না, ঝামেলা করা হবে’। আর যারা ভাবছিলেন মাওলানা সা’দ সাহেব কোনমতেই বাংলাদেশে আসতে পারবেন না, তাঁদের বলা হয়েছিলো ‘অবশ্যই আসবেন’। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা অনেক লেখা, যেখানে দেয়া পর্যবেক্ষণগুলো প্রায়ই সঠিক হয়। পর্যবেক্ষণ কখনো সত্য বা মিথ্যা হয় না, সঠিক কিংবা ভুল হয়।

কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণের কোনই কি উপায় নেই?

৫.

আছে। দুটো উপায় আছে।

এক, যেটা আমাদের মনের খায়েশ পূরণ করবে। তাবলীগের ধংস ডেকে আনবে। সর্বোপরি আমাদের কাজের বৈধতা দিবে, একজন আলেমের বিরুদ্ধে তো সবার এভাবে উঠেপড়ে লাগা শোভা পায় না। সেই সাথে মাওলানা সা’দ সাহেব কে আকাবীরদের মিছিলে শ্রেষ্ঠ কাতারে শামিল করে দেবে। কে না জানে, সমস্ত শ্রেষ্ঠ আকাবীরদের বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়ে ছিলো।

হযরত মাওলানা সা’দ কান্ধলবী দা.বা. কে দ্বীনত্যাগী মুরতাদ নিদেনপক্ষে গোমরাহ ঘোষণা দেয়া। এর উপর আনুষ্ঠানিক ফতওয়া প্রকাশ করা। তাঁর সাথে তাঁর রবের ফয়সালা হবে। কিন্তু আমাদের ছেলেদের বাঁচিয়ে দিতে পারবো। তখন আর তাঁর অবচেতন মনে এই ধারণা আসবে না যে, আমি ওমুক ব্যাক্তিকে ঠেকিয়ে দিয়েছি। সে ভাববে, ওমুক আদর্শকে ঠেকিয়ে দিয়েছি। সেই সাথে উপরি পাওনা হলো, মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের উপর ‘গুন্ডামি’র যে অপবাদ সে থেকেও দায়মুক্তি ঘটবে। কারণ তখন তার মনোজগতে এবং বাস্তবজীবনেও একে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে গ্রহণ করা হবে। এটা সফলতাও পাবে।

ইতিহাস সাক্ষী, জনমানুষের মাঝে এই মূলার যথেষ্ট কাটতি সবমসময়ই ছিলো, এখনও আছে।

আর নয়ত, একটি কল্যাণমন্ডিত সমাপ্তির পথে যাত্রা।

একটা ছেলেকে তার এই অনুভূতিই পরিচালিত করবে যে, আমি করেছি ইতিপূর্বে। আমি পেরেছি। তাঁর বোধশক্তিই নষ্ট হয়ে যাবে। ঘৃণ্যতা উপলব্ধির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে।

কিন্তু কি হবে যদি সে না পারত?

আমাদেরকে দারুল উলূম দেওবন্দের কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হবে। এতেই মুক্তি, এতেই শান্তি, এতেই শৃঙ্খলা। মুহতামীম সাহেব ইতোমধ্যেই অনানুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশে ঘটা এসব কর্মকান্ড থেকে দেওবন্দের দায়মুক্তি ঘোষণা করেছেন। মাওলানা সা’দ সাহেবকে আমাদের ইজতেমার ময়দানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেকোন ভাবেই হোক। তিনি যেতে না চাইলেও নিজেদের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি চাই-ই তাঁর ইসলাহ হোক, তবে এমন প্রতিরোধ ও বিরূপ পরিস্থিতিতে নিপতিত হওয়ার পর মানুষের কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। সে আর ‘সে’ থাকে না। তার সবকিছু বিলীন হয়ে যায়। একমাত্র বান্দার সাথে তাঁর খালেকের সম্পর্ক ছাড়া। এমন সংকীর্ণতার মুখে খালেকের প্রতি বান্দার অসহায় আত্মসমর্পণ তাঁকে সদ্যজাত সন্তানের মতই নিষ্কলুষ পবিত্র বানিয়ে দেয়। তাঁর যা কিছু নিয়ে আপত্তি, সবই হুকুকুল্লাহ সম্পর্কিত। তিনি তো আর কারো জায়গাজমি বেচে খাননি। সেই সাথে আমাদের গ্রাস করে নিতে যাওয়া বিপদও দূর হবে। একটা ছেলে যখন দেখবে, তার মুকতাদা সেই লোকটিকে সসম্মানে স্থান ছেড়ে দিচ্ছেন, তখন তার মাঝে অনুতাপের যে উতরোল সৃষ্টি হবে, সেই দগ্ধ হৃদয়ই তার বোধশক্তিকে জাগিয়ে তুলবে। একজন যদি মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠে, তবে আমার তো কোন আপত্তি নেই।

এটা যদি বাস্তবে রূপ দিতে না পারি, তবে এই একটি অবদমন গোটা বাংলাদেশকে আচ্ছাদিত করে ফেলবে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে জ্ঞানীগুণী ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তাদের সবাই আহলে হক। তাঁদের সবার থেকেই উম্মতের কিছু পাওয়ার আছে। কিন্তু সবাই যে আমাদের মাসলাক-মাশরাবের তা নন। তাঁরা এখন বাংলাদেশে আসতে বিব্রত বোধ করবেন। হয়ত আমাদের কেবল একটা অংশই আজ মাঠে, তবে এধরণের চিন্তাধারা বাতাসের আগে ছোটে। পুরো জাতিগোষ্ঠীর উপরই এই কর্মধারা ভর করবে।

এই অশুভ চর্চা থেকে যদি প্রত্যাবর্তন করতে না পারি, তবে যারা আমাদেরই, স্রেফ কিছু বিষয়ের কারণে তাঁরাও দূরে থাকবেন বা আমরাই তাঁদের বিরুদ্ধে মাঠে নামবো। এমন একটা নাম আমি এখনই দিতে পারি। হযরত মাওলানা পীর জুলফিকার নকশবন্ধী দা.বা.। নিশ্চিত থাকতে পারেন, কাল আমাদের কেউ না কেউ বাংলাদেশে তাঁর আগমনকে প্রতিহত করতে মাঠে নামবে। তাঁর পর একজন, আরো আরেকজন।

আমরা কি সে দিনের ভাগ্যবরণ করে নিতে প্রস্তুত আছি?

Advertisements

2 thoughts on “*কোন পথে ছুটে চলছি আজ আমরা?*

Leave a Reply