“উষ্ট্রীর যুদ্ধ ও সিফফীনের যুদ্ধের”…মতই কিনা তাবলীগ ও দেওবন্দ এর বর্তমান সংকট; নেপথ্যে মুনাফিক চক্র!

জংগে জমলের মত তাবলীগ ও দেওবন্দি মাদ্রাসা এর মধ্যে মুনাফিকরা লেগেছে।
তাই বিচক্ষণতা কাজে লাগাতে হবে।
মুনাফিকরা জানে যে, আমরা বিচক্ষণ হবই,
তাই তারাও কঠোর বিচক্ষণতা অবলম্বন করে চলছে।

জংগে জামালের ইতিহাস সবাইকে বেশি বেশি আলোচনা করা উচিৎ।

জঙ্গে জামাল:
৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ইরাকের বসরায় সংঘটিত হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম গৃহযুদ্ধ ‘ জামালের যুদ্ধ বা উটের যুদ্ধ’।
এই যুদ্ধের একদিকে ছিলেন নবীর বালিকা বধু, প্রিয়তমা স্ত্রী, উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা (রা:),
নবীর দুই প্রিয় সাহাবী, দীর্ঘদিনের সুহৃদ হযরত তালহা (রা:), হযরত যুবায়ের (রা:)।
যুদ্ধের অপর দিকে ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা নবীর জামাতা ও আপন চাচাত ভাই, আল্লাহর সিংহ, জ্ঞানের দরজা, হযরত আলী (রা:)।

মাত্র ছয়মাস আগে এক দু:খ জনক বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে অবরুদ্ধ ও নিহত হন তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা:)। এই উত্তাল অরাজক সময়ে খেলাফতের দায়িত্বে আসেন হযরত আলী (রা:)।
৬৫৬ সালের ২৩ জুন। খেলাফতের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই হযরত আলী (রা:) প্রশাসনে ব্যপক রদবদল করেন। ফলে দানা বাধে নতুন বিদ্রোহ।
অন্যদিকে দাবী উঠতে থাকে ‘ উসমানের হত্যাকারিদের বিচার করতে হবে’।
পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তোলে নবীর আরেক সাহাবী আবু সুফিয়ান পুত্র মুয়াবিয়া (রাঃ)। হযরত উসমানের রক্তাক্ত জামা ও তাঁর স্ত্রী নায়েলার কর্তিত আংগুল প্রদর্শন করে সিরিয়ার পথে পথে মানুষকে উত্তেজিত করে তোলে।
আরো কিছু সমস্যা ছিল।

হযরত তালহা এবং হযরত যুবায়ের নতুন খেলাফতে তাদের কাংক্ষিত সুযোগ সুবিধা পাননি।
ফলে খলিফা নির্বাচনে তাঁরা আলীর পক্ষে সম্মতি দিলেও অচিরেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেন।
হযরত আয়েশা (রা:) তখন মক্কায় হজ্জ্বব্রতে। ফিরে এসে দেখেন এই অবস্থা। নবীর উম্মতেরা একাংশ ক্ষিপ্ত হযরত আলী (রা:) এর উপর এজন্য যে তিনি হযরত উসমান (রা:) এর হত্যাকারিদের বিচার তো করছেনই না উপরন্তু ঐ বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান মদদদাতা ইবনে সা’বা খলিফার প্রশাসনে বিশেষ সুবিধা ভোগী হয়ে বসে আছেন। অনেকেই সাধারণ ক্ষমা নিয়ে খলিফার বাহিনীতে পদ পদবী নিয়ে বহাল আছেন।

আসলে ত্রিমুখী সমস্যার কারণে হযরত আলী (রা:)র পক্ষে উসমান হত্যার বিচার করা সম্ভব হচ্ছিলনা।
এই অবস্থায় বিদ্রোহ করে বসেন হযরত তালহা (রা:) ও হযরত জুবায়ের (রা:)। তাদের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেন উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা (রা:)। তিনি মদিনায় ফিরে এসেই রণ রংগিনী হয়ে ওঠেন। হযরত আলীর সাথে তাঁর পুরনো একটি বৈরিতা ছিল। সেই ইতিহাস থাক।
তালহা এবং জুবায়ের ৩০০০ জন পেশাদার সৈন্য নিয়ে বসরায় এসে শহরটি দখল করে নেন। পথে যোগ দেয় স্থানীয়রা।

খলিফা আলী কুফার পথে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠান। কারবালা নামক স্থানে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। হযরত জুবায়ের হজরত আলীর বাল্যবন্ধু। হজরত তালহা সর্ব্জন শ্রদ্ধেয় সাহাবী একদা নবীর মৃত্যুর পর যার কাঁধে মাথা রেখে কেঁদে ছিলেন হযরত আলী (রা:)।
স্বীয় বন্ধুর সৈন্যদলের হাতে শহীদ হন হযরত জুবায়ের (রা:)। একই দিনে শহীদ হন হযরত তালহা (রা:)।

দুই সিপাহ সালার শহীদ হওয়ার পর উটের হাওদায় থেকে সৈন্যদের উদ্দেশ্যে উদ্দীপক বক্তব্য রাখেন হযরত আয়েশা (রা:)। যতক্ষণ উম্মুল মুমেনীনকে উটের পিঠে আসীন দেখা যাবে ততক্ষন লড়তে থাকবে এই শপথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে তাঁরা। খলিফা আলী ঘোড়ায় চড়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করে যুদ্ধ বন্ধের অনুরোধ করতে থাকেন। উম্মুল মুমেনীন কর্ণপাত করেননা। অবশেষে বিবি আয়েশার উটের পা কেটে ফেলা হয়। উটের হাওদাও আস্তে করে অবনমিত হয়। যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়।
হযরত আলী (রা:) সম্মানের সাথে পরাজিত বিবি আয়েশাকে সম্ভাষণ করেন এবং তাঁর ভাই মুহম্মদ বিন আবু বকরের মাধ্যমে মদীনায় ফেরত পাঠান।

স্বল্পসময় স্থায়ী এই যুদ্ধে প্রাণ যায় ৪৭০০ সৈন্যের।
প্রাণ যা গেছে সে তো গেছেই। কিন্তু এই যুদ্ধের ভেতর দিয়ে শুরু হয় উম্মতে মুহম্মদের নিজেদের ভেতরের সহস্র বছরের অন্তর্দ্বন্দ্বের। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে এক চিরস্থায়ী ফাটল সৃষ্টি হয়।

এই যুদ্ধের পর হযরত আলী (রা:) নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি রাজধানী মদীনা থেকে সরিয়ে কুফায় নিয়ে যান। এরপর আর কখনো তিনি মদীনায় সফরেও আসেননি। এভাবে সৃষ্টি হয় নতুন আরেক জটিলতা।
সেই কাহিনী আরেকদিন।

সৈয়দ সৈয়দ কামরুল হাসান রাহিদ।

Advertisements

One thought on ““উষ্ট্রীর যুদ্ধ ও সিফফীনের যুদ্ধের”…মতই কিনা তাবলীগ ও দেওবন্দ এর বর্তমান সংকট; নেপথ্যে মুনাফিক চক্র!

Leave a Reply