“ইহতিসাব ও মূহতাসিব”

“ইহতিসাব ও মূহতাসিব”

সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে বলা হয় ‘ইহতিসাব’। আর যে বেক্তি সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করে তাকে বলা হয় ‘মূহতাসিব’ ।

‘ইহতিসাব’ ও ‘মূহতাসিব’ এর সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি……

যে বেক্তি সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করিবে তার মধ্যে বিশেষ করে তিনটি গুন থাকা আবশ্যক……
১. এলেম
২. পরহেজগারী
৩. সৎ চরিত্র
এলেম এই কারণে আবশ্যক যে উহার ফলে কখন কি পরিমান ও কোন পরিস্থিতিতে আদেশ নিষেধ করিতে হইবে এবং উহার আসবাব ও প্রতিবন্ধক কি এই বিষয়ে যেনো সুস্পষ্ট ধারণা থাকে।

পরহেজগারী এইজন্য আবশ্যক যে, তাহার যাহা কিছু জানা আছে উহার বিপরীত কর্ম যেনো না করে। অর্থাৎ অনেক জ্ঞানী লোককে দেখা যায়, তাহারা নিজেদের এলেম ও জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেনা বরং তাহারা যে বিশেষ শরীয়তের সীমা লঙ্ঘনের ফলে তাহার অসৎ কর্ম দমনের আমলটিই অসৎ কর্মে পরিণত হয়।

রাসূলুল্লাহ সঃ এরশাদ করেছেন, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ওই বেক্তি করিবে যে আদেশ করার সময় নম্রতা অবলম্বন করে এবং নিষেধ করার সময় বিনম্র আচরণ প্রদর্শন করে। আদেশ করার সময় সহনশীল ও নিষেধ করার সময়ও সহনশীলতা অবলম্বন করে। আদেশ করার সময় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় ও নিষেধ করার সময়ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।

আল্লাহর রাসূল সঃ হেদায়াত ও সত্য দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। লোকেরা তিনার আমলে মতানৈক্য ও কলহের সময় তিনার প্রতি রুজু করিতেন। তিনি তাদের মাজে মীমাংসা ও হক ফায়সালা করে দিতেন। এবং তাদের জন্য হক ও সঠিকতা বিবৃত করতেন। তাদের মতবিরোধ কখনো আল্লাহর কালাম বুজা নিয়ে হতো আবার কখনো আল্লাহর আহকমের মধ্যে এমন কুনো হুকুম নিয়ে হতো যার নির্দেশ তখন অবতীর্ণ হয়নি। অতঃপর কুরআন তার বিবৃতি নিয়ে অবতীর্ণ হতো আর মহান আল্লাহ সেই জিজ্ঞাসার সন্তুষজনক উত্তর প্রদান করতেন এবং তা মানুষের নিকট পৌছিয়ে দিতে রাসুল্লাহ সঃ কে আদেশ করতেন।

আমরা সকলেই দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে একথা জানি যে ইলম, আমানত ও দ্বীনদারিতে বিশ্বস্ত উলামা বৃন্দের কেহই ইচ্চাকৃত ভাবে আল্লাহর কিতাব ও তাহার রসূলের সুন্নাহর বিরোধিতা করতে পারেনা যেহেতু যিনি ইলম ও দ্বীনদারীর ভূষণে ভূষিত হবেন। অবস্যকীয় ভাবে তিনার রাহবার (পথ প্রদর্শক) হবে হক। আর যার রাহবার হক হবে আল্লাহ তার জন্য সমস্যা সমাধানের পথ সহজ করে দেন।

সুরাহ কামার এর -১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন উপদেশ গ্রহণের জন্য আমি কুরআন কে সহজ করে দিয়েছি। অত এব কেউ উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি ?

সুরাহ লাইল এর ৫-৭ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, যে বেক্তি দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যা উত্তম বিষয়কে সত্য বলে মেনে নেয় আমি তার সুখদ পরিণামের পথ সহজ করে দি।

কিন্তু উক্ত প্রকার ভুল দ্বীনের দায়ী দের দ্বারাও হয়ে যেতে পারে। যা মানুষের দ্বারা হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক কারণ মানুষ হলো দুর্বল প্রকৃতির; যেমন মহান আল্লাহ নিজেই তার বর্ণনা দিয়েছেন, সুরাহ নিসা এর-২৮ নম্বর আয়াতে,”মানুষ সৃষ্টিগত ভাবেই দুর্বল। আর এ জন্যই কোন কোন বিষয়ে তার ভুল হয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী।

দায়ীর আমল দাওয়াত আর এই দাওয়াত সমুদ্রের মতো যার কোনো কুল কিনারা নাই। তো আমাদের অবস্থান কোথায় হওয়া উচিত ?

কোন দায়ীর বক্তব্য নিয়ে মতপার্থক্য/মতবিরোধ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে দেখে ও শুনে তথা বিভিন্ন উলামার মতভেদের কথা জেনে আওয়ামুন্নাস তো সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে গেছেন তারা যেনো বলছেন …….
“আমরা কার অনুসরণ করবো??”
“কার কথা মানবো”?

‘অসংখ্য হরিণ দেখে গুলোক-ধাঁধায় পড়ে,
না জানে শিকারি কোনটি রে শিকার করে’

এমন সংকট মুহূর্তে আমি বলতে পারি যে যখন এমন কোনো দায়ী/উলামা গনের অপুশে মতভেদের কথা শুনবো যাদেরকে ইলম ও দ্বীনদারিতে বিশ্বস্ত বলে জানি তখন তাদের সঠিক সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার প্রয়াস চালাবো। পক্ষান্তরে যারা আহলে ইলমের অন্তভুক্ত নন তাদের মতানৈক্যে আমরা কোনো প্রকার গুরুত্ব দেবো না ।

কারণ আমরা তাদেরকে উলামা বলে গণ্য করিনা..করিনা..করিনা। এবং তাদের উক্তিকে আহলে ইলমদের উক্তির মতো সংরক্ষনিয় বলে বিবেচনা করিনা।

উলামা ও আহলে ইলম তারাই যারা ওই বিষয়ের মুতাআল্লিক এবং মুসলিম উম্মাহ, ইসলাম ও ইলমের জন্য হিতাকাঙ্খীতায় প্রসিদ্ধ।

Advertisements

One thought on ““ইহতিসাব ও মূহতাসিব”

Leave a Reply